একই ধরনের অনেকগুলো ছোট অণু পরপর যুক্ত হয়ে যে বৃহৎ অণু সৃষ্টি হয় তাই পলিমার।
তুলা, লিনেন, পশম ইত্যাদি তন্তু থেকে সুতা তৈরির এক পর্যায়ে কার্ডিং করা হয়। কার্ডিং একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে এসব তন্তু থেকে ধুলাবালি, অন্যান্য ময়লা, অতিরিক্ত ছোট আঁশ ইত্যাদি দূরীভূত করা হয়। এর ফলে তন্তু পরিষ্কার হয়।
উদ্দীপকের তৃতীয় পলিমারটি হলো রেশম কাপড়। কারণ, রেশমের কাপড়কে দীর্ঘক্ষণ সূর্যালোকে রাখলে তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়। তন্তু থেকে রেশম সুতা তৈরির প্রক্রিয়াটি নিচে দেয়া হলো-
রেশম পোকা থেকে তৈরি হয় একধরনের গুটি। একে কোকুন (Cocoon) বলে। পরিণত কোকুন বা গুটি সাবান পানিতে লোহার কড়াইয়ে সেদ্ধ করা হয়। এতে কোকুনের ভেতরকার রেশম পোকা মরে যায় এবং গুটি কেটে বের হয়ে রেশমের গুটি নষ্ট করতে পারে না। সিদ্ধ করার কারণে কোকুন নরম হয়ে যায় এবং ওপর থেকে খোসা খুব সহজেই আলাদা হয়ে যায়। খোসা উঠে গেলে রেশমি তন্তুর প্রান্ত বা নাল পাওয়া যায়। এই নাল ধরে আস্তে আস্তে টানলে লম্বা সুতা বের হয়ে
আসে। চিকন বা মিহি সুতার জন্য ৫-৭টি কোকুনের নাল আর মোটা সুতার জন্য ১৫-২০টি কোকুনের নাল একত্রে করে টানা হয়। এ কাজে চরকা ব্যবহার করা হয়। চরকার সাহায্যে কোকুন থেকে সুতা তৈরি করা হয়। নালগুলো একত্রিত করলে এদের গায়ে লেগে থাকা আঠার কারণে একটি আরেকটির সাথে লেগে গিয়ে সুতার গোছা তৈরি হয়।
উদ্দীপকের চিত্র Y ও Z সুতিতত্ত্ব ও রেয়ন তন্তুকে দেখানো হয়েছে। অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে এই তন্তু দুটিকে এরূপ দেখা যায়। তন্তুদ্বয়ের মধ্যে সুতি তন্তু দিয়ে তৈরিকৃত পোশাক গরমের দিনে বেশি উপযোগী। তুলার আঁশ থেকে কঠিন বা সুতি সুতা তৈরি হয়। সুতি সুতার তল মসৃণ হওয়ায় বাইরের বাতাস এ কাঁপড়ের মধ্যে সহজেই প্রবেশ করতে পারে বলে আরাম অনুভূত হয়। তাছাড়া সুতি কাপড়ের তাপ পরিবহন ও পরিচলন ক্ষমতা বেশি। তাই গরমকালে কটন সুতার কাপড় ব্যবহার করা বেশি আরামদায়ক। অপরদিকে রেয়ন এক ধরনের কৃত্রিম তন্তু। উদ্ভিজ্জ সেলুলোজ ও প্রাণিজ পদার্থ থেকে প্রস্তুত রেয়ন থেকে সংগ্রহকৃত সুতা দিয়ে তৈরি পোশাকের চেয়ে সুতির তৈরি পোশাক গরমের দিনে বেশি উপযোগী।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!