পৃথিবীর অভ্যন্তরভাগ উত্তপ্ত ও গলিত অবস্থায় রয়েছে। এ সকল উত্তপ্ত বস্তুর মধ্যে তাপ ও চাপের পার্থক্য হলে ভূত্বকে যে আলোড়ন ঘটে তাকে ভূআলোড়ন বলে।
উত্তাপের তারতম্য যান্ত্রিক বিচুর্ণীভবনের অন্যতম কারণ।
দিনরাত্রির উষ্ণতা ও ঋতুভেদে উষ্ণতায় যে তারতম্য হয় তার কারণে শিলাসমূহ অসমভাবে প্রসারিত ও সংকুচিত হয়। শিলার এ সংকোচন প্রসারণের ফলে শিলাসমূহ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়। এভাবে উত্তাপের পার্থক্যের যান্ত্রিক বিচূর্ণীভবন সংঘটিত হয়।
উদ্দীপকে 'ক' অঞ্চলটি হলো পার্বত্য অঞ্চল যেখানে যান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিচূর্ণীভবন সংঘটিত হয়।
বিভিন্ন প্রকার প্রাকৃতিক শক্তিসমূহের দ্বারা শিলাস্তর ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ হওয়াকে যান্ত্রিক বিচূর্ণীভবন বলে।
পার্বত্য অঞ্চলে তুষার, বরফ, বৃষ্টিপাত, শিলাস্তরের চাপ প্রভৃতি কার্যের ফলে কখনো কখনো শিলাসমূহ ফেটে খণ্ডবিখণ্ড হয়। উচ্চ পর্বতগাত্র হতে শিলাখণ্ড ভেঙে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে নিচে পড়ার সময় সেই খণ্ডিত শিলার সংঘর্ষে পর্বতগাত্রের অন্যান্য শিলাখণ্ড ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়। আবার মরু অঞ্চলে বছরের বিভিন্ন ঋতুতে এবং দিনরাত্রির বিভিন্ন সময়ে তাপের যথেষ্ট পার্থক্য ঘটে। এ পার্থক্যের কারণে শিলাস্তরের সংকোচন ও সম্প্রসারণের ফলে শিলাসমূহ ভেঙে খণ্ডবিখণ্ড হয়। এভাবে পার্বত্য অঞ্চলে যান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিচূর্ণীভবন সংঘটিত হয়।
উদ্দীপকে 'ক' চিহ্নিত অঞ্চলটি হলো পার্বত্য অঞ্চল এবং 'খ' চিহ্নিত অঞ্চলটি হলো মালভূমি অঞ্চল। এ দুটি অঞ্চলের গঠনগত ভিন্নতার পাশাপাশি জলবায়ুগত তারতম্যও পরিলক্ষিত হয়।
প্রাকৃতিকভাবে গঠিত প্রকৃতির প্রতিটি উপাদান সংশ্লিষ্ট অঞ্চলেই ভিন্ন ভিন্ন জলবায়ু বিরাজ করে। পার্বত্য অঞ্চলে যে জলবায়ু বিরাজ করে মালভূমি অঞ্চলে সে একই জলবায়ু বিরাজ করে না। পর্বতের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে পার্বত্য অঞ্চলের জলবায়ু গঠিত হয়। পর্বত বায়ুর গতি, তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাত নিয়ন্ত্রণ করে। যেমন-পর্বতময় অঞ্চলে বেশিরভাগ শৈলোৎক্ষেপ প্রক্রিয়ার বৃষ্টিপাত সংঘটিত হয়। মধ্য এশিয়ায় শীতল বায়ু শীতকালে হিমালয় পর্বতে বাধা পায় বলে বাংলাদেশ ও ভারতে বৃষ্টিপাত প্রবল হতে পারে না। আবার পার্বত্য অঞ্চলের উপরিভাগে বায়ু খুব হালকা, ধূলি ও পানিযুক্ত হয়।
এমন অবস্থায় তাপ দ্রুত বিকিরণ হয় তাই পার্বত্য এলাকায় তাপমাত্রা কম থাকে। ভূমির বন্ধুরতা এবং জলবায়ুর প্রতিকূল অবস্থার কারণে এখানে মানুষের বসতি কম। অন্যদিকে মালভূমি অঞ্চলে ভিন্ন প্রকৃতির জলবায়ু বিরাজ করে। মালভূমির জলবায়ু সাধারণত নাতিশীলতোষ্ণ বা শীতল হয়ে থাকে। তবে পর্বত মধ্যবর্তী মালভূমির মধ্যে জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু প্রবেশ করতে পারে না। তাই সে অঞ্চলে বেশি বৃষ্টিপাত হয় না। ফলে কৃষিকাজ ব্যাহত হয় এবং কম জনবসতি লক্ষ করা যায়।
তাই বলা যায়, পার্বত্য অঞ্চল ও মালভূমি অঞ্চলের অর্থাৎ ক ও খ অঞ্চলের জলবায়ুগত তারতম্য বিদ্যমান।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allযান্ত্রিক, রাসায়নিক ও জৈবিক প্রক্রিয়ায় ভূপৃষ্ঠের শিলারাশি চূর্ণ-বিচূর্ণ বা বিশ্লিষ্ট হলে তাকে বিচূর্ণীভবন বলে।
সমুদ্রতলদেশের ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিধস, নভোজাগতিক ঘটনা প্রভৃতি কারণে সুনামির সৃষ্টি হয়।
সাধারণত সমুদ্রতলদেশের ভূমিকম্প আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের
সাধারণত সমুদ্রতলদেশের ভূমিকম্প আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে সমুদ্রের তলদেশের বিশাল জলরাশি সরে যায় এবং সমুদ্রের পানিতে প্রচণ্ড ঢেউয়ের সৃষ্টি হয় যা সুনামি নামে পরিচিত। এছাড়া পাত সঞ্চালনের কারণে সৃষ্ট ভূমিকম্পের কারণেও সমুদ্রের বিশাল জলরাশি সরে যায় এবং মাধ্যাকর্ষণ শক্তি দ্বারা পানি আরও ফুলে ওঠে লক্ষ লক্ষ টনের বিশাল ঢেউ তৈরি করে উপকূলের দিকে ধেয়ে আসে যা সুনামি নামে পরিচিত।
উদ্দীপকে বিবিসি এর প্রচারিত দুর্যোগটি হলো ভূমিকম্প।
ভূঅভ্যন্তরে দ্রুত বিপুল শক্তি বিমুক্ত হওয়ায় পৃথিবীপৃষ্ঠে যে ঝাঁকুনি বা কম্পনের সৃষ্টি হয়, তাকে ভূমিকল্প বলে। নিচে ভূমিকম্প সংঘটিত হওয়ার কারণ বর্ণনা করা হলো- ভূত্বক তাপ বিকিরণ করে সংকুচিত হলে ভূনিম্নস্থ শিলাস্তরে ভারের সামঞ্জস্য রক্ষার্থে ফাটল ও ভাঁজের সৃষ্টির ফলে ভূকম্পন অনুভূত হয়।
ভূআলোড়নের ফলে ভূত্বকের কোনো স্থানে শিলা ধসে পড়লে বা শিলা চ্যুতি ঘটলে ভূমিকম্প হয়। আবার সমগ্র পৃথিবী ৭টি প্লেটের সমন্বয়ে গঠিত এবং এসব প্লেট সঞ্চরণশীল। যার কারণে একটি প্লেটের সাথে অন্য প্লেটের সংঘর্ষ বা ধাক্কা লাগে এবং শিলাস্তরের মধ্যে কম্পন অনুভূত হয়। জাপানের পূর্ব পার্শ্বে একটি প্লেট থাকায় এখানে ভূমিকম্প বেশি অনুভূত হয়। তবে মূলত প্লেটগুলোর সঞ্চরণশীলতার কারণেই শিলাস্তরের মধ্যে কম্পনের সৃষ্টি হয়, যা ভূমিকম্প নামে পরিচিত।
উদ্দীপকে হারিস সাহেবের পরের দিন দেখা দুর্যোগটি হলো আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত।
আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে লাভা উপরের দিকে ওঠে এবং বহুদূরে লাভার ঢল ছড়িয়ে পড়ে বহু নগর, গ্রাম ইত্যাদি ধ্বংস করে। এর দাহ্য ও বিষাক্ত গ্যাস উদগিরণে নিকটবর্তী এলাকার হাজার হাজার লোকের নিমেষে প্রাণহানি হয়। অনেক সময় আগ্নেয়গিরি থেকে উদগীরিত লাভা, ভস্ম ও ধূলিকণা আকাশের উপরের দিকে স্ট্রাটোমণ্ডলে ওঠে যায় এবং তা দ্রুত পৃথিবীপৃষ্ঠে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে পৃথিবীপৃষ্ঠে আবার যেসব আগ্নেয়গিরি উঁচু পার্বত্য এলাকায় অবস্থিত সেসব পর্বত বরফে ঢাকা থাকলে অগ্ন্যুৎপাতের সময় তা গলে পাদদেশীয় এলাকায় বন্যার সৃষ্টি করে ও জীবনহানি ঘটে এবং বায়ুদূষণের সৃষ্টি করে।
উদ্দীপকের প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপটিও অগ্ন্যুৎপাতের ফলেই সৃষ্টি হয়েছে। অর্থাৎ শুধু তাই নয়, এর ফলে মালভূমিও সৃষ্টি হয়। লাভার সাথে অত্যন্ত মূল্যবান খনিজ ভূপৃষ্ঠে ওঠে আসে। ফলে উক্ত এলাকা খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ হয়।
ভূগর্ভস্থ গলিত লাভা, বাষ্প, ভস্ম, গ্যাস, ধূম্র প্রভৃতি পদার্থ ভূপৃষ্ঠের ফাটল বা ছিদ্রপথের মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠে নির্গত হলে তা জমাট বেঁধে যে পদার্থ বা গিরির সৃষ্টি করে তাকে আগ্নেয়গিরি বলে।
ভূপৃষ্ঠের পরিবর্তন সৃষ্টিকারী শক্তিসমূহের মধ্যে ধীর পরিবর্তন অন্যতম। ধীরগতির শক্তিসমূহের ভূমিরূপের পরিবর্তন দীর্ঘ সময় ব্যাপি সংঘটিত হয়। ধীর গতির শক্তিসমূহ প্রধানত প্রাকৃতিক শক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এ প্রাকৃতিক শক্তিসমূহ বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্নভাবে কাজ করে। ধীরগতির শক্তিসমূহ চারটি প্রক্রিয়ায় সংঘটিত হয় যেমন-
১. বিচূর্ণীভবন,
২. অপসারণ,
৩. নগ্নীভবন ও
৪. অবক্ষেপণ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
