বঙ্গবন্ধু জাতিসংঘের ২৯তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো বাংলায় ভাষণ দেন।
বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধন করতে হলে জাতীয় সংসদের মোট সদস্যসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের ভোটের প্রয়োজন হয়।
বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধন একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়। এক্ষেত্রে সংবিধান সংশোধনের জন্য সংশোধনী বিল রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য পেশ করতে হয়। বিলে রাষ্ট্রপতি ৭ দিনের মধ্যে সম্মতি দেবেন। ৭ দিন অতিক্রান্ত হয়ে গেলে রাষ্ট্রপতি সম্মতি দিয়েছেন বলে ধরে নেওয়া হয়। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধন করা যায়।
উদ্দীপকের চিত্রটি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ঘটনাকে ইঙ্গিত করে।
বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি ব্রিটিশ রাজকীয় কমেট বিমানে ভারতের দিল্লি হয়ে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। ঢাকায় মহান নেতাকে জানোনো হয় অভূতপূর্ব অভিনন্দন। অবিসংবাদিত নেতার প্রতি জনগণের অভিনন্দন ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। পুরাতন বিমানবন্দর থেকে রমনার রেসকোর্স ময়দান পর্যন্ত লক্ষ লক্ষ জনতা উপস্থিত হয় প্রিয় নেতাকে এক নজর দেখার জন্য। রেসকোর্স (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ময়দানে | বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর বক্তৃতায় সদ্য স্বাধীন রাষ্ট্রের আশুকরণীয় ও নীতিনির্ধারণী বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি রাষ্ট্রের প্রকৃতি এবং ভিত্তি সম্পর্কে স্পষ্ট বক্তব্য দেন। তিনি রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতার উল্লেখ করেন।
উদ্দীপকের চিত্রটিতে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধুকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করা হয়েছে। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু যখন দেশে ফিরে আসেন তখন এদেশের জনগণ তাকে এভাবেই ফুল দিয়ে অভিবাদন জানিয়েছিলেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের চিত্রটি মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বঙ্গাবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ঘটনার ইঙ্গিত করছে।
উক্ত ঘটনা তথা বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ফলে যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনর্গঠন ত্বরান্বিত হয়। কেননা, তিনি দেশে ফিরেই সদ্য স্বাধীন রাষ্ট্রের আশুকরণীয় ও নীতিনির্ধারণী বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরে যুদ্ধবিধ্বস্ত সদ্য স্বাধীন রাষ্ট্রকে পুনর্গঠন করার জন্য ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে পড়ায় তিনি রেডক্রস সোসাইটি এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কমিটির মাধ্যমে জেলা থেকে গ্রাম পর্যায়ে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন। ১৯৭২ সালের শুরুতে পুনর্বাসন কার্যক্রমের জন্য সরকারি হিসেবে মাসিকভিত্তিক এক চাহিদাপত্র তৈরি করা হয়। তিনি কৃষির উন্নয়নে ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মওকুফসহ পূর্বের সমস্ত খাজনা মওকুফ করে দেন। শিক্ষাক্ষেত্রেও বঙ্গবন্ধু জরুরি ভিত্তিতে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি ৯০০ কলেজ ভবন ও ৪০০ হাইস্কুল পুনঃর্নিমাণ করেন। এছাড়া নতুন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে পুনর্গঠনের লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে সরকার পরিকল্পনা কমিশন গঠন করে। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের পুনর্গঠন, দারিদ্র্য হ্রাস, প্রবৃদ্ধির হার ৩% থেকে ৫.৫% এ উন্নীত করার জন্য পরিকল্পনা কমিশন গঠন করা হয়।
উপরের আলোচনা শেষে তাই বলা যায়, বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ফলেই যুদ্ধ। বিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনর্গঠন ত্বরান্বিত হয়।
Related Question
View Allবঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন।
বঙ্গবন্ধু স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পরদিনই অর্থাৎ ১৯৭২, সালের ১১ জানুয়ারি অস্থায়ী সংবিধান আদেশ জারির মাধ্যমে দেশে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার প্রবর্তন করেন। যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড পরিচালনা এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের মাধ্যমে বহির্বিশ্বে দেশের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য বঙ্গবন্ধু সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
রবার্ট এর দেশে '৭২ সালের সংবিধানের 'সমাজতন্ত্র' বৈশিষ্ট্যটি লক্ষ করা যায়।
১৯৭২ সালের সংবিধানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সমাজতন্ত্র। কারণ বঙ্গবন্ধু তার রাজনৈতিক জীবনের সব সময় সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির কথা এবং দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য সংগ্রাম করেছেন। আর মুক্তিযোদ্ধাদের একটি বড় অংশ ছিল নিম্ন পরিবারের সন্তান। স্বাধীনতার পর দেশের মানুষের স্বপ্ন ছিল সামাজিক-অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে মৌলিক চাহিদা পূরণে রাষ্ট্র প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তাই সংবিধানে সমাজতন্ত্রকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
উদ্দীপকে রবার্ট-এর দেশেও শোষণহীন সমাজ গঠনের ব্যবস্থা করা হয়। এই ব্যবস্থা সমাজতন্ত্রের প্রতীক। রবার্টের দেশের জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ করে সরকার এবং তার দেশে শোষণহীন সমাজ গঠন করা হয়। ঠিক একইভাবে '৭২-এর বাংলাদেশের সংবিধানেও রবার্টের দেশের সমাজতন্ত্রের রূপ আংশিক পরিলক্ষিত হয়। তাই বলা যায় যে, রবার্টের দেশে ৭২-এর সংবিধানের সমাজতন্ত্র বৈশিষ্ট্যটি পরিলক্ষিত হয়।
রাসেলের কথায় '৭২-এর সংবিধানের আংশিক বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে। কেননা মানবাধিকার, স্বাধীনতা, ভোটাধিকার, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ছাড়াও '৭২-এর সংবিধানে আরও অনেকগুলো বৈশিষ্ট্য রয়েছে
গণপ্রজাতন্ত্রী 'বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন হলো বাংলাদেশের সংবিধান। '৭২-এর সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে গ্রহণ করা হয় এবং ভাষা ও সংস্কৃতির ভিত্তিতে বাঙালি জাতীয়তাবাদের জন্ম হয়। '৭২-এর সংবিধানে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ রাষ্ট্রটি হবে একটি গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র। রাষ্ট্রে প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকবে। আর রাষ্ট্র কোনো ধর্মকে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করবে না এবং প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় অধিকার ও আচার অনুষ্ঠান পালনের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেবে। এই সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশে এককেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। এই সংবিধানে মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার এবং এক কক্ষবিশিষ্ট আইন পরিষদের কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও '৭২-এর সংবিধানে একটি স্বাধীন নিরপেক্ষ বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার উল্লেখ আছে।
উদ্দীপকে শুধু মানবাধিকার, ভোটাধিকার এবং প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার কথা বলা হয়েছে। যেখানে '৭২-এর সংবিধানের আংশিক প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। তবে '৭২-এর সংবিধানে রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের জন্য ও রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য যথার্থ সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা রাখা হয়।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস ২৬ মার্চ।
মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের চূড়ান্ত বিজয়ের পর ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরে এলেন। অবিসংবাদিত নেতার প্রতি জনগণের আবেগময় অভিনন্দন ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। পুরাতন বিমানবন্দর হতে রেসকোর্স ময়দান পর্যন্ত লক্ষ লক্ষ জনতা উপস্থিত হয়ে প্রিয় নেতাকে অভিনন্দন জানায়। এদিন জনগণের ভালোবাসায় সিক্ত হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!