উত্তরঃ

জেন্ডার হলো নারী-পুরুষের মধ্যে অনুভূত পার্থক্যের ভিত্তিতে গঠিত সামাজিক সম্পর্কের উপাদান।

উত্তরঃ

সামন্ত উৎপাদন ব্যবস্থায় ভূমিদাস বলতে মূলত কৃষক শ্রেণিকে বোঝানো হতো।

কৃষি উৎপাদনে যে শ্রমের দরকার, তা ভূমিদাসদের কাছ থেকে যোগান দেওয়া হতো। ভূমিদাসরা নিজে জমির মালিক নয়, বরং ভূমির মালিক হলো সামন্ত প্রভু। ভূমিদাসরা কতগুলো নির্দিষ্ট শর্তে নিজস্ব চাষের জমি ভোগদখল করতে পারত। ভূমিদাস ছিল পরাধীন তথা জমির সাথে বাঁধা। জমি এক সামন্ত প্রভুর কাছ থেকে আরেক সামন্ত প্রভুর কাছে বিক্রি হলে ভূমিদাসও জমির সাথে বিক্রি হয়ে যেত।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে ভূমি মালিকানার ভিত্তিতে সামাজিক স্তরবিন্যাসের ধরনটি দেখানো হয়েছে।

গ্রামীণ ধনী কৃষক বেশিরভাগই কৃষি জমির মালিক। আর্থিক ক্ষমতার কারণে শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবা, স্থানীয় ক্ষমতা কাঠামো ইত্যাদিতে তারাই সবচেয়ে বেশি সুযোগ পায় এবং সমাজের উচ্চ স্তরে আসীন হয়। প্রান্তিক চাষিদের জমির পরিমাণ এত কম যে, এদের কোনো রকম ভরণ-পোষণ চলে কিন্তু কোনো উদ্বৃত্ত থাকে না। এরা নিজের জমি চাষাবাদ করে। বর্গা চাষিরা ভূমি মালিকদের জমি চাষাবাদ করে বিনিময়ে কিছু পরিমাণ টাকা এবং কিছু পরিমাণ ফসল পায়। তবে এদের নিজস্ব কিছু জমি আছে কিন্তু এর ভিত্তিতে এদের অন্ন সংস্থান হয় না। ফলে তারা ভূ- মালিকদের জমি ভাগে চাষ করে। অন্যদিকে দরিদ্র বা ভূমিহীন কৃষকদের জমির মালিকানা নেই। এরা গ্রামীণ সমাজ ব্যবস্থার একেবারে নিম্নস্তরে অবস্থান করে। এরা স্বল্প মজুরির বিনিময়ে ভূমি মালিকদের জমি চাষাবাদ করে।

উদ্দীপকের ছকে ধনী কৃষক, মাঝারি কৃষক, প্রান্তিক কৃষক এবং দরিদ্র কৃষকের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা ভূমি মালিকানার ভিত্তিতে সামাজিক স্তরবিন্যাসকেই ইঙ্গিত করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে ভূমি মালিকানার ভিত্তিতে সামাজিক স্তরবিন্যাস প্রতিফলিত হয়েছে।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে 'ক' ধনী কৃষক এবং 'খ' দরিদ্র কৃষক। এই দুই কৃষকের মধ্যে অসমতার কারণ হলো মূলত উৎপাদন উপকরণের মালিকানা।

সামাজিক অসমতা সৃষ্টির অন্যতম একটি উপাদান হলো ভূমি মালিকানা এবং এর সঙ্গে জড়িত উৎপাদনের উপকরণ। বিশেষ করে বাংলাদেশের গ্রামীণ সমাজব্যবস্থায় এসব উপাদান এখনো অসমতার নির্ধারক হিসেবে কাজ করে। দেখা যায়, গ্রামীণ সমাজ ব্যবস্থায় এসব উপাদানের মালিকরাই বেশি সম্মানের অধিকারী।

মূলত গ্রামীণ সমাজে যারা অধিক জমির মালিক এবং যারা ভূমির উপর নির্ভর করে যথেষ্ট সচ্ছলভাবে দিনযাপন করে তারাই ধনী কৃষক। এদের নিয়ন্ত্রণে একাধিক বর্গাচাষী থাকে, যারা এদের জমিতে চাষাবাদ করে। আর্থিক ক্ষমতার কারণে তারা শিক্ষা,' স্বাস্থ্য সেবা, স্থানীয় ক্ষমতা কাঠামো ইত্যাদিতে সবচেয়ে বেশি সুযোগ পায় এবং সমাজের উচ্চ স্তরে আসীন হয়। গ্রামের অনেক ধনী কৃষক আবার মহাজনী কারবার অর্থাৎ ঋণ প্রদান বা বন্ধকী কারবারের সাথে জড়িত। অন্যদিকে দরিদ্র কৃষকদের জীবনধারণের জন্য এসব ধনী কৃষকদের উপর নির্ভর করতে হয়। কেননা, উৎপাদনকার্য পরিচালনা করতে গিয়ে তাদেরকে এসব ধনী কৃষকদের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়।

উপরের আলোচনা শেষে তাই এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়, উৎপাদনের উপকরণের মালিকানা ধনী কৃষক ও দরিদ্র কৃষকদের মধ্যে অসমতা সৃষ্টি করে।

143
**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View All
উত্তরঃ

Caste শব্দের অর্থ বংশ বা বংশগত গুণাবলি। এর দ্বারা জাতিবর্ণ প্রথাকে বোঝায়।

1.1k
উত্তরঃ

সামাজিক পরিবর্তনে 'তথ্য প্রযুক্তির' গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব অপরিসীম। তথ্য প্রযুক্তি সামাজিক পরিবর্তনের অন্যতম উপাদান হিসেবে ভূমিকা রেখে চলছে। এর উন্নতি ও প্রসার সামাজিক মনোভাব, প্রথা বা প্রতিষ্ঠানকে ধারাবাহিকভাবে প্রভাবিত করে। বর্তমানে স্যাটেলাইট প্রযুক্তি আবিষ্কার, কেবল প্রযুক্তি, ডিজিটাল প্রযুক্তি, অপটিক্যাল ফাইবার, ইন্টারনেট প্রভৃতি আবিষ্কার বিশ্বব্যাপী তথ্য যোগাযোগের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধন করেছে। তাই বলা যায় যে, তথ্য প্রযুক্তি সামাজিক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

1.9k
উত্তরঃ

জাউদ্দীপকে ছকের'?' চিহ্নিত স্থানে অন্যতম সমাজতাত্ত্বিক প্রত্যয় সামাজিক স্তরবিন্যাস নির্দেশিত হয়েছে।

সামাজিক স্তরবিন্যাস হচ্ছে এমন এক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে সমাজের ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে অন্যান্য আরও কিছু বৈশিষ্ট্যের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন স্তরে বিন্যস্ত করা হয়। এককথায় সামাজিক স্তরবিন্যাস হলো সমাজের বিভিন্ন গোষ্ঠী বা শ্রেণির উঁচু-নীচু অবস্থান বা বিন্যাস ব্যবস্থা। সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার এবং পেজ বলেন, 'সামাজিক স্তরবিন্যাস বলতে মর্যাদা অনুযায়ী স্তরবিভাগকে বোঝায়। দার্শনিক কার্ল মার্কস-এর মতানুসারে অর্থনীতির মানদণ্ডে সমাজের মানুষের যে ভেদাভেদ সেটাই সামাজিক স্তরবিন্যাস। অথবা উৎপাদনের উপকরণের মালিকানার ভিত্তিতে মানুষ যে ভেদাভেদ সেটাই সেটাই সামাজিক স্তরবিন্যাস। সামাজিক স্তরবিন্যাস সমাজ বা কালভেদে আলাদা হতে পারে। ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে সামাজিক স্তরবিন্যাসের ধরণগুলোকে পর্যালোচনা করে সমাজবিজ্ঞানীরা চারটি ধরনের কথা বলেছেন যথা: ১. দাসপ্রথা, ২. এস্টেট প্রথা, ৩. জাতিবর্ণ, ৪. সামাজিক শ্রেণি ও মর্যাদা গোষ্ঠী।

উদ্দীপকে উল্লিখিত ছকে সামাজিক স্তরবিন্যাসের এ চারটি প্রকারভেদই বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং বলা যায় যে, উদ্দীপকের "?" স্থানে সামাজিক স্তরবিন্যাস প্রত্যয়টিই নির্দেশিত হয়েছে।

445
উত্তরঃ

"উক্ত সমাজতাত্ত্বিক প্রত্যয় তথা সামাজিক স্তরবিন্যাস ছাড়া পৃথিবীর কোনো সমাজকে কল্পনা করা যায় না'- আমি এ বক্তেব্যের সাথে একমত।

সামাজিক স্তরবিন্যাস হলো চিরন্তন ও সর্বজনীন। সমাজজীবনের সূচনা থেকেই সামাজিক স্তরবিন্যাসের উদ্ভব ঘটেছে। মানব সভ্যতার ইতিহাসে এমন কোনো সমাজব্যবস্থার পরিচয় পাওয়া যায় না যা পরিপূর্ণভাবে সাম্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। আদিম অধিবাসীদের জীবনেও দলপতির প্রভাব প্রতিপত্তি প্রতিষ্ঠিত ছিল। এসব প্রভাব প্রতিপত্তিকে কেন্দ্র করে কিছুসংখ্যক ব্যক্তি অধিকতর সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতো। এজন্য স্তরবিন্যাসমুক্ত সমাজ কল্পনাতীত। কালের বিবর্তনের ধারায় সামাজিক স্তরবিন্যাসের আকৃতি প্রকৃতিতে পরিবর্তন ঘটছে। যুগে যুগে স্তরবিন্যাসের রূপরেখা পরিবর্তিত হচ্ছে। কিন্তু স্তরবিন্যাস কথনো বিলুপ্ত হয়নি। বাস্তবে বৈষম্যহীন বা শ্রেণিহীন সমাজব্যবস্থা কল্পনা করা যায় না। সব সমাজেই কম-বেশি স্তরবিন্যাস লক্ষ করা যায়। প্রাচীন তথা আদিমযুগের যূথবদ্ধ সমাজ থেকে বর্তমানের আধুনিক শিল্পসমাজ সর্বত্র সামাজিক স্তরবিন্যাস প্রক্রিয়াটি বিদ্যমান ছিল এবং আছে। স্তরবিহীন কোনো সমাজ নেই। অর্থ-সম্পদ, মেধা, বংশ, পেশা, বয়স, লিঙ্গ, ক্ষমতা, শিক্ষা এর কোনো না কোনো একটির ভিত্তিতে সমাজকে স্তরায়িত করা যায়। এ সম্পর্কে জন মিলার বলেন- শ্রেণি, পদমর্যাদা, সামাজিক উঁচুনিচু ভেদাভেদ সর্বজনীন। ক্রমান্বয়ে সামাজিক আবর্তন-বিবর্তন ও পরিবর্তনের ফলে তা সম্পত্তির মালিকানা ও পদমর্যাদার ওপর নির্ভর করে।

উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, সামাজিক স্তরবিন্যাস। চিরন্তন ও সর্বজনীন। আর এটি সব সমাজেই বিদ্যমান। সুতরাং প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ ও সঠিক।

495
উত্তরঃ

সামাজিক পরিবর্তনের একটি প্রক্রিয়া হলো উন্নয়ন।

325
উত্তরঃ

বংশমর্যাদা ও সম্পত্তির উত্তরাধিকার সন্তান সন্ততি যদি পিতার কাছ থেকে পায়, সেক্ষেত্রে এ ধরনের পরিবারকে পিতৃসূত্রীয় পরিবার বলে।

পিতৃসূত্রীয় পরিবারের নেতৃত্ব, সম্পত্তি, বংশমর্যাদা ইত্যাদি উত্তরাধিকারসূত্রে পিতা থেকে পুত্রের কাছে আসে। এখানে দাদা, বাবা, পুত্র ও নাতিকে নানা, মাতা, মেয়ে ও নাতনির চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। আমাদের প্রচলিত সমাজ ও চাকমা সমাজে এ ধরনের পরিবার প্রচলিত।

1.5k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews