দুর্যোগ হচ্ছে এরূপ ঘটনা, যা সমাজের স্বাভাবিক কাজকর্মে প্রচণ্ড বিঘ্ন ঘটায় এবং জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।
সামুদ্রিক প্রবাল তাপমাত্রার প্রতি খুব সংবেদনশীল। সাধারণত (২২-২৮)°C তাপমাত্রা প্রবালের জীবনযাপনের জন্য উপযোগী। এই তাপমাত্রা ১০-২০০ বেড়ে গেলেই তা প্রবালের জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে কাজ করে। এই প্রভাবকে সামুদ্রিক প্রবাল ঝুঁকি বলে।
চিত্রে 'ক' চিহ্নিত স্তরটি হলো গ্রিন হাউস গ্যাসের একটি স্তর। কার্বন ডাইঅক্সাইড, ওজোন, সি.এফ.সি, নাইট্রাস অক্সাইড, জলীয়বাষ্প ইত্যাদি গ্রিন হাউস গ্যাস নামে পরিচিত।
গ্রিন হাউস গ্যাসগুলোর মূল উৎস হলো যানবাহন, কলকারখানার ধোঁয়া, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, দাবানল, প্রাকৃতিকভাবে গাছপালার ক্ষয়, রেফ্রিজারেটরের ধোঁয়া, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ইত্যাদি। জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে যানবাহন, কালকারখানা, বিদ্যুৎ ইত্যাদির চাহিদা বাড়ছে এবং গ্রিন হাউস গ্যাসও বাড়ছে। এসব গ্যাস বায়ুমণ্ডলে মিশে গিয়ে একটি ভারি স্তর তৈরি করে যা চিত্রে 'ক' চিহ্নিত স্তর দিয়ে দেখানো হয়েছে।
উদ্দীপকের প্রক্রিয়াটি হলো গ্রিন হাউস প্রতিক্রিয়া। এর ফলে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা ক্রমশ বাড়ছে। এতে খুব দ্রুত জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটছে। বাস্তুসংস্থানের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে প্রাণিকূল। গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়ার ফলে গড়ে ১০০ বছরে পৃথিবীর তাপমাত্রা ০.৭৪° সেলিসিয়াস বেড়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রতি বছরে ১.৮ সেন্টিমিটার বাড়ছে। ফলে উপকূলীয় অঞ্চল পানিতে ডুবে যাচ্ছে। লোনা পানির জলবদ্ধতার ফলে কৃষিকাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাপমাত্রা
বৃদ্ধির ফলে সামুদ্রিক প্রবাল ঝুঁকির সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে সামুদ্রিক ইকোসিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বাড়ছে খরা ও বন্যা। এতে করে মারাত্মক পানি দূষণ ঘটছে। পানি, বায়ুবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। দ্রুত তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে ব্যাপক হারে সাইক্লোন, টর্নেডোসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিচ্ছে।
সুতরাং, বলা যায় গ্রিন হাউস প্রক্রিয়া পরিবেশ ও মানসভ্যতার জন্য বিশাল হুমকিস্বরূপ।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!