কোনো দ্রবণের মধ্যে তড়িৎ প্রবাহিত করে এর অণুগুলোকে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক অংশে বিভক্ত করার পদ্ধতিকে তড়িৎ বিশ্লেষণ বলে।
তড়িৎকোষ এবং তড়িৎ বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে ধনাত্মক তড়িৎদ্বারকে | অ্যানোড বলা হয়। এটি ধনাত্মক আধানবিশিষ্ট হয় এবং দ্রবণের ঋণাত্মক আয়নসমূহ এর প্রতি আকৃষ্ট হয়।
বউদ্দীপকের চিত্র-১২.১২ তে 'B' চিহ্নিত অংশটি দ্বারা বর্তনীতে চাবি নির্দেশ করা হয়েছে। বর্তনীর এই চাবিতে কীভাবে ইলেকট্রন প্রবাহিত হয় তা ব্যাখ্যা করা হলো-
উদ্দীপকের ১২.১২ চিত্রে দুইটি তার দ্বারা একটি সুইচ ও দুটি বাতি শ্রেণী সংযোগ করা হয়েছে। এই তার দুটির একটি হলো জীবন্ত তার এবং অপরটি নিরপেক্ষ তার। এই জীবন্ত তারে তড়িৎ ভোল্টেজ থাকে এবং নিরপেক্ষ তারে তড়িৎ ভোল্টেজ বেশী থাকে না। কেননা এটি মাটির সাথে সংযোগ করে দেওয়া হয়।
সুইচ হতে তার দুটি মেইন বক্সে যায়। সেখান থেকে তার দুটি বিভিন্ন শাখা লাইনে বিভক্ত হয়ে যায়। প্রত্যেক শাখা লাইনের জন্য পৃথক পৃথক ফিউজ থাকে। এই ফিউজ জীবন্ত তারের সাথে সংযোগ দেওয়া হয় তাহলে সুইচ এর ভেতর দিয়ে ইলেকট্রন প্রবাহিত হবে। আর যদি নিরপেক্ষ তারের সাথে সংযোগ দেওয়া হয় তাহলে সুইচে ইলেকট্রন প্রবাহ চলবে না।
চিত্র ১২.১২ এর সংযোগটি হলো সিরিজ সংযোগ এবং চিত্র ১২.১১ এর সংযোগটি হলো সমান্তরাল সংযোগ। বাড়িতে সংযোগের ক্ষেত্রে সমান্তরাল সংযোগটি বেশি সুবিধাজনক
সিরিজ সংযোগের ক্ষেত্রে প্রতিটি বর্তনী উপাদান আলাদাভাবে সুইচের মাধ্যমে অন/অফ করা যায় না, বরং একটি মাত্র সুইচের মাধ্যমে সবগুলো বর্তনী উপাদান একসাথে বন্ধ বা চালু করা যায়। রাস্তায় সোডিয়াম বাতির মাধ্যমে আলো সরবরাহের কাজে এরূপ সংযোগ বেশ সুবিধাজনক। একটি মাত্র সুইচের মাধ্যমে সবগুলো বাতি জ্বালিয়ে বা নিভিয়ে সুবিধা পাওয়া যায়। কিন্তু বাসাবাড়িতে আমরা এভাবে সবগুলো বাতি বা পাখা একসাথে চালু করি না।
পক্ষান্তরে সমান্তরাল সংযোগের ক্ষেত্রে প্রতিটি বর্তনী উপাদান চালু বা বন্ধ করার জন্য আলাদা সুইচ থাকে। ফলে প্রয়োজন ও সুবিধামতো যে কোনো বর্তনী উপাদান (যেমন-বৈদ্যুতিক বাতি, পাখা প্রভৃতি) বন্ধ বা চালু করা যায়। একটি যন্ত্রকে বন্ধ বা চালু করলে এর কোনো প্রভাব অপর যন্ত্রগুলোর উপর পড়ে না। ফলে প্রতিটি যন্ত্রের সুইচিং ব্যবস্থা স্বতন্ত্র থাকে। সমান্তরাল সংযোগের প্রতিটি শাখায় আলাদাভাবে ফিউজ ব্যবহার করা যায় বলে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির সুরক্ষা ব্যবস্থা অধিকতর সক্রিয় থাকে। এছাড়া সমান্তরাল সংযোগে কোনো একটি বর্তনী উপাদান নষ্ট হয়ে গেলেও অপরগুলোর উপর এর কোনো প্রভাব পড়ে না, অর্থাৎ অপর যন্ত্রগুলো স্বাধীনভাবে চলতে থাকে।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে, সবদিক বিবেচনায় বাসাবাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগের ক্ষেত্রে ১২.১১ বর্তনীর সংযোগ বা সমান্তরাল সংযোগ বেশি সুবিধাজনক
Related Question
View Allকোনো তড়িৎ যন্ত্র প্রতি সেকেন্ডে যে পরিমাণ তড়িৎ শক্তি ব্যয় করে বা অন্য শক্তিতে (তাপ, আলো, যান্ত্রিক ইত্যাদি) রূপান্তরিত করে তাই তড়িৎ ক্ষমতা।
একটি বান্ধের গায়ে ২২০ ভোল্ট- ৬০ ওয়াট লেখা আছে। এর অর্থ হলো, ২২০ ভোল্ট বিভব পার্থক্যে বান্ধটিকে সংযুক্ত করলে বাল্বটি সবচেয়ে বেশি উজ্জ্বলভাবে জ্বলবে এবং প্রতি সেকেন্ডে ৬০ জুল বৈদ্যুতিক শক্তি আলো ও তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হবে।

আমরা জানি, সাধারণ বাল্ব প্রচুর তাপ উৎপন্ন করে আলো তৈরি করে, যার ফলে অনেক বেশি বিদ্যুৎ খরচ হয়। অন্যদিকে, এনার্জি সেভিং বাল্ব, যেমন সি.এফ.এল বা এলইডি বাল্ব, কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করে একই পরিমাণ বা তার চেয়েও বেশি আলো দেয়।
এখন আমরা হিসাব করে দেখি মনসুরা খানম ঠিক কতটা লাভবান হলেন:
- আগের বিদ্যুৎ ব্যবহার:
- প্রতিদিন ৫টি বাল্ব, প্রতিটি ১০০ ওয়াট করে।
- মোট ওয়াট: ৫×১০০=৫০০ ওয়াট।
- প্রতিদিন মোট বিদ্যুৎ খরচ: ৫০০ ওয়াট×৬ ঘণ্টা=৩০০০ ওয়াট-ঘণ্টা=৩ ইউনিট (কারণ ১০০০ ওয়াট-ঘণ্টা = ১ ইউনিট)।
- বর্তমান বিদ্যুৎ ব্যবহার:
- প্রতিদিন ৫টি এনার্জি সেভিং বাল্ব, প্রতিটি ২০ ওয়াট করে।
- মোট ওয়াট: ৫×২০=১০০ ওয়াট।
- প্রতিদিন মোট বিদ্যুৎ খরচ: ১০০ ওয়াট×৬ ঘণ্টা=৬০০ ওয়াট-ঘণ্টা=০.৬ ইউনিট।
দৈনিক সাশ্রয়: ৩ ইউনিট−০.৬ ইউনিট=২.৪ ইউনিট।
এই হিসাব থেকে বোঝা যায়, মনসুরা খানম প্রতিদিন ২.৪ ইউনিট বিদ্যুৎ সাশ্রয় করছেন। এর ফলে মাসিক বিদ্যুৎ বিল অনেক কমে আসবে। সাধারণ বাল্বের তুলনায় এনার্জি সেভিং বাল্ব ৮ থেকে ১৫ গুণ বেশি দিন টিকে থাকে। তাই মনসুরা খানমকে ঘন ঘন বাল্ব পরিবর্তন করতে হবে না, যা তাঁর অর্থ এবং সময় দুটোই বাঁচাবে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!