অভাবের তুলনায় সম্পদের স্বল্পতা বা অপর্যাপ্ততাকে অর্থনীতিতে দুষ্প্রাপ্যতা বলে।
মিশ্র অর্থব্যবস্থায় সাধারণত স্বয়ংক্রিয় দামব্যবস্থায় বাজারমূল্য নির্ধারিত হয়। তবে মূল্য নির্ধারণে মুদ্রাস্ফীতি বা মুদ্রাসংকোচনের সময় সরকারি হস্তক্ষেপ পরিলক্ষিত হয়।
মিশ্র অর্থব্যবস্থায় ক্রেতা-বিক্রেতার পারস্পরিক ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়ার দ্বারা বাজারে দাম নির্ধারিত হয়। এক্ষেত্রে বাজারে চাহিদা ও যোগান ভূমিকা রাখে। দ্রব্যের দাম তার চাহিদা ও যোগান দ্বারা নির্ধারিত হলেও দামস্তরের অতিরিক্ত ঊর্ধ্বগতি সরকারি হস্তক্ষেপে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এছাড়া অত্যাবশ্যকীয় দ্রব্যের দাম সরকারি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। অর্থাৎ মিশ্র অর্থব্যবস্থায় স্বয়ংক্রিয় দামব্যবস্থার মাধ্যমে দাম নির্ধারিত হলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে সরকারি হস্তক্ষেপ লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত উৎপাদন সম্ভাবনা রেখা (PPC)-এর মাধ্যমে অর্থনীতির মৌলিক সমস্যা 'নির্বাচন' এর কথা উপস্থাপিত হয়েছে।
উৎপাদন সম্ভাবনা রেখা হলো এমন একটি রেখা, যার প্রতিটি বিন্দুতে নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ ও চলতি প্রযুক্তির সাপেক্ষে দুটি উৎপন্ন দ্রব্যের সম্ভাব্য বিভিন্ন সংমিশ্রণ নির্দেশিত হয়। তাই এই রেখার মাধ্যমে কোন দ্রব্য কতটুকু উৎপাদন করা হবে, তা ব্যাখ্যা করা যায়।
উদ্দীপকের চিত্রে লক্ষ করা যায়, উৎপাদন সম্ভাবনা রেখা (PPC)-এর B বিন্দুতে 'Y' দ্রব্য OY, ও 'X' দ্রব্য OX, পরিমাণ এবং C বিন্দুতে 'Y' দ্রব্য OY₂ ও 'X' দ্রব্য OX₂ পরিমাণ উৎপাদন করা যায়। এখন, প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে উৎপাদককে নির্বাচন করতে হবে সে কোন বিন্দুতে উৎপাদন করবে। যেমন- 'X' দ্রব্যের প্রয়োজন বেশি হলে C বিন্দুতে এবং 'Y' দ্রব্যের প্রয়োজন বেশি হলে B বিন্দুতে উৎপাদন করতে হবে। এভাবে PPC-এর মাধ্যমে মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যা 'নির্বাচন' এর বিষয়টি উপস্থাপিত হয়।
উদ্দীপকের চিত্রে উল্লিখিত E বিন্দু অদক্ষ অঞ্চল এবং F বিন্দু অ-অর্জনযোগ্য অঞ্চলে বিদ্যমান থাকায় E ও F বিন্দুতে উৎপাদন করা যথাক্রমে অযৌক্তিক ও অসম্ভব।
সাধারণত উৎপাদন সম্ভাবনা রেখার নিচে বা বামদিকে যে কোনো বিন্দুতে উৎপাদন সম্পদের অদক্ষ ব্যবহার নির্দেশ করে। এজন্য এই অঞ্চলকে অদক্ষ অঞ্চল বলে। আর উৎপাদন সম্ভাবনা রেখার ডানদিকে যে কোনো বিন্দুতে বর্তমান প্রযুক্তিতে উৎপাদন সম্ভব নয়। এজন্য এই

চিত্রে লক্ষ করা যায়, E বিন্দুতে উৎপাদন করা হলে 'X' দ্রব্য OX_{1} এবং 'Y' দ্রব্য OY_{2} পরিমাণ উৎপাদন করা যায়। এখন, প্রাপ্ত সম্পদের ভিত্তিতে 'X' দ্রব্যের উৎপাদন স্থির রেখে 'Y' দ্রব্যের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। অথবা 'Y' দ্রব্যের উৎপাদন স্থির রেখে 'X' Y_{1}*Y_{2} উৎপাদন X_{1}*X_{2} পরিমাণ বাড়ানো যায়। কাজেই E বিন্দুতে উৎপাদন করার ক্ষেত্রে সম্পদের অদক্ষ ব্যবহার নির্দেশ করে। তাই 'E' বিন্দুতে উৎপাদন করা যৌক্তিক হবে না।
আবার, F বিন্দুর ক্ষেত্রে 'X' দ্রব্য OX_{2} এবং 'Y' দ্রব্য OY_{1} পরিমাণ উৎপাদিত হবে। অর্থাৎ, F বিন্দুটি B ও C বিন্দুর চেয়ে উৎপাদন নির্দেশ করে। কিন্তু, বর্তমান প্রযুক্তিতে F বিন্দুতে উৎপাদন সম্ভব নয়। অর্থাৎ, F বিন্দুতে উৎপাদন কাম্য হলেও বর্তমান প্রযুক্তিতে উৎপাদন করা অসম্ভব।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allমানুষের ক্রয়ক্ষমতার সাপেক্ষে বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজন মেটাতে পারে এমন ধরনের পণ্য ও সেবা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা বা ইচ্ছাকে অভাব বলে।
বিদ্যমান প্রযুক্তি ও নির্দিষ্ট পরিমাণ উপকরণ দ্বারা উৎপাদিত দুটি দ্রব্যের সম্ভাব্য বিভিন্ন সংমিশ্রণ, যে রেখার বিভিন্ন বিন্দুতে নির্দেশ করা হয় তাকে উৎপাদন সম্ভাবনা রেখা (PPC) বলে।
মনে করি, একটি সমাজ তার সীমাবদ্ধ সম্পদের সাহায্যে ১ লক্ষ বই অথবা ১ কোটি কলম তৈরি করতে পারে। সমাজ ইচ্ছা করলে কলম উৎপাদন হ্রাস করে বই উৎপাদন বৃদ্ধি করতে পারে। আবার একই পরিমাণ সম্পদের সাহায্যে বই ও কলমের বিভিন্ন সংমিশ্রণ উৎপাদন করতে পারে। এভাবে সীমিত সম্পদের সাহায্যে দুটি দ্রব্যের বিভিন্ন সংমিশ্রণ উৎপাদন সম্ভাবনা রেখার (PPC) সাহায্যে দেখানো যায়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত তিনটি দেশ A, C ও B-তে যথাক্রমে ধনতান্ত্রিক, সমাজতান্ত্রিক ও মিশ্র অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান রয়েছে।
যে অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানসমূহ ব্যক্তিগত মালিকানায় পরিচালিত হয় তাকে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বলে। অন্যদিকে, সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা হলো এমন এক ধরনের অর্থব্যবস্থা যেখানে সকল অর্থনৈতিক কার্যক্রম কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হয়। আর এই দুই অর্থব্যবস্থার সমন্বয়ে গড়ে ওঠে মিশ্র অর্থব্যবস্থা যেখানে ব্যক্তি মালিকানার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ সরকারি উদ্যোগে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হয়।
উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, 'A' দেশে সবকিছু ব্যক্তি উদ্যোগে উৎপাদন ও বিক্রয় হয় ফলে দ্রব্যাদির দাম বেশি। অর্থাৎ সংজ্ঞানুসারে 'A' দেশে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। পক্ষান্তরে, 'C' দেশে সকল সম্পদের মালিক হলো 'কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ বা সরকার'। এখানে সরকারের অধীনে সকল পণ্যসামগ্রী উৎপাদিত হয়। তাই বলা যায়, 'C' দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। অন্যদিকে 'B' দেশে লক্ষ করা যায়, সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতেই দ্রব্যসামগ্রী উৎপাদিত হয়। প্রয়োজনীয় খাতে সরকারি হস্তক্ষেপ লক্ষণীয়। সুতরাং 'B' দেশে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান।
ধনতান্ত্রিক কিংবা সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার তুলনায় জনগণের কল্যাণের জন্য মিশ্র অর্থব্যবস্থাই উত্তম। নিচে তা উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করা হলো-
ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় শুধু ব্যক্তি মালিকানা বিদ্যমান থাকায় উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও শ্রেণিবৈষম্য সৃষ্টি হয়। আর সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় শ্রেণিবৈষম্য না থাকলেও ভোক্তার স্বাধীনতা থাকে না এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার উদ্ভব হয়। অন্যদিকে, মিশ্র অর্থব্যবস্থায় উক্ত দুটি অর্থব্যবস্থার দোষগুলো পরিহার করে গুণগুলো গ্রহণ করা হয়। এজন্য মিশ্র অর্থব্যবস্থায় জনকল্যাণ সর্বাধিক গুরুত্ব পায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, 'A' দেশে সকল কিছু ব্যক্তি উদ্যোগে উৎপাদিত হওয়ায় ভোক্তাকে উচ্চ মূল্যে দ্রব্য বা সেবা ভোগ করতে হয়। অন্যদিকে উৎপাদনকারী অধিক মুনাফার উদ্দেশ্যে উৎপাদন পরিচালনা করে। এর ফলে জনকল্যাণ প্রাধান্য পায় না। এ অর্থব্যবস্থায় শ্রমিক শোষণ ও শ্রেণিবৈষম্য পরিলক্ষিত হয়। আবার, 'C' দেশে এর বিপরীত অবস্থা পরিলক্ষিত হলেও ব্যক্তি স্বাধীনতা থাকে না। অর্থাৎ, সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তি স্বার্থ বাদ দিয়ে সমাজের স্বার্থ বিবেচনা করা হয়। কিন্তু বাস্তবে তা আদৌ সম্ভব নয়। এজন্য বিশ্বে কোথাও বিশুদ্ধ সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা দেখা যায় না।
আর 'B' দেশে সম্পত্তিতে ব্যক্তিগত মালিকানার পাশাপাশি কিছু কিছু কারখানা সরকারি উদ্যোগে পরিচালিত হয়। এই অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তি উদ্যোগ স্বীকৃত বলে যেমন অবাধ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার হয়, তেমনি সরকার জনকল্যাণের জন্য প্রয়োজনবোধে দামব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এর ফলে জনকল্যাণ সর্বাধিক হয়। তাই একটি দেশের জনগণের কল্যাণের কথা বিবেচনা করে বলা যায়, 'A' ও 'C' দেশের অর্থব্যবস্থার তুলনায় 'B' দেশের অর্থব্যবস্থা তথা
উৎপাদন সম্ভাবনা রেখা হচ্ছে এমন একটি রেখা যার বিভিন্ন বিন্দুতে সীমিত সম্পদ ও চলতি প্রযুক্তি সাপেক্ষে দুটো উৎপাদিত দ্রব্যের সম্ভাবনাময় বিভিন্ন সংমিশ্রণ প্রকাশ পায়।
অভাবের তুলনায় সম্পদ সীমিত হওয়া অর্থনীতিতে সকল অভাব একসাথে পূরণ করা সম্ভব হয় না।
অসীম অভাব পূরণের জন্য মানুষের প্রয়োজনীয় সম্পদ সীমিত। সৃষ্টির আদিকাল থেকে আজ পর্যন্ত সমাজের প্রতিটি মানুষ অভাবের সাথে সংগ্রাম করে আসছে। একটি অভাব পূরণ হলে আর একটি অভাব নতুনরূপে দেখা দেয়। মানুষ এসব নতুন অভাব সম্পদের সাহায্যে পূরণ করে। কিন্তু অসীম অভাব পূরণের জন্য প্রাপ্ত সম্পদের পরিমাণ সীমিত। সীমিত এ সম্পদ দিয়ে মানুষ তার অসংখ্য অভাবের সামান্যই মেটাতে পারে। এজন্য মানুষের পক্ষে সব অভাব একসাথে পূরণ করা সম্ভবপর হয় না।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!