উত্তরঃ

সাদা আমেরিকানদের প্রতি ঘৃণাবোধ থেকে 'মুক্তি' গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র কুন্টা মুখ ফিরিয়ে নেয়।

মানব সভ্যতার ইতিহাসে এক অন্ধকার অধ্যায় দাসব্যাবসার প্রতিচ্ছবি তুলে ধরা হয়েছে 'মুক্তি' গল্পে। দাসপ্রথার ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সাদা আমেরিকানরা আফ্রিকার কালো মানুষদের মানুষ হিসেবে গণ্য করত না। তাদেরকে ব্যবহার করত পণ্যের মতো। সেই সঙ্গে দাসদের ওপর চালাত অমানবিক নির্যাতন। 'মুক্তি' গল্পে তরুণ কুন্টাকে সাড়ে আটশ ডলার দিয়ে দাস হিসেবে ক্রয় করে এক সাদা আমেরিকান। কুন্টাকে শিকল দিয়ে বেঁধে একটা বাক্সে বন্দি করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। বিস্তৃত শস্যখেতের পথ ধরে যেতে যেতে একসময় কুন্টাকে ক্রয় করা সাদা মানুষটি ও তার সঙ্গের কালো মানুষটি শুকনো রুটি আর মাংস ছিঁড়ে খেতে শুরু করে। কুন্টারও খুব খিদে পেয়েছিল। খাদ্যের সুগন্ধে তার জিভে জল চলে আসে। কালো লোকটি তাকে এক টুকরো রুটি দিতে চাইল। কিন্তু কুন্টা ঘৃণাভরে মুখ ফিরিয়ে নিল।

উত্তরঃ

'মুক্তি' গল্পের পটভূমিতে রয়েছে দাসপ্রথা। দাস ব্যবস্থার এক করুণ প্রতিচ্ছবি উঠে এসেছে এ গল্পে। দাস ব্যবস্থা হচ্ছে এমন এক শোষণযুক্ত অর্থনৈতিক প্রক্রিয়া যেখানে মানুষকে বন্দি করে, তাদের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে তাদের পণ্য হিসেবে বিক্রি করা হতো।

'মুক্তি' গল্পের ভেতরে প্রবেশ করলে দেখা যায়, আফ্রিকা মহাদেশের গাম্বিয়া দেশের জুফরে নামক গ্রামের অধিবাসী কুন্টা। কালো এ মানুষটিকে সাদা আমেরিকানরা ধরে এনেছে দাস হিসেবে বিক্রি কবার জন্য। তাকে পোশাক পরিয়ে পরিপাটি করে বাজারে তোলা হয়। তরুণ কুন্টাকে দিয়ে সব কাজ করানো যাবে বিধায় বাজারে তার দাম বেশি। সাড়ে আটশত ডলার দিয়ে তাকে কিনে নেয় এক সাদা মানুষ। কুন্টার সঙ্গে তারা দুর্ব্যবহার করার পাশাপাশি নিপীড়নও চালায়। কুন্টা লক্ষ করে তার মতোই অনেক কালো মানুষ রয়েছে সাদাদের বাড়িতে। তারা সাদা মানুষদের প্রয়োজনে দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যায়। কিন্তু কুন্টার মনে পালানোর ইচ্ছা। সে সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। সাদা লোকটি তাকে কিনে নিয়ে যখন বাড়ি পৌছাল তখন রাত্রিবেলা। সাদা লোকটি গাড়ি থেকে নেমে বাড়ির ভেতর প্রবেশ করলে কুন্টা হায়েনার মতো হিংস্র হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে গাড়িচালকের ওপর। প্রচন্ড আক্রোশে শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে আঘাত করল তাকে। একসময় লোকটির নিথর দেহটা মাটিতে লুটিয়ে পড়লে সেখান থেকে দ্রুত পালিয়ে যায় কুন্টা। তার শরীর ও মনে তখন মুক্তির প্রবল আনন্দ।

দাসপ্রথার ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, আফ্রিকার ইতিহাসে এমন এক সময় ছিল যখন সাদা মানুষরা কালোদের বন্দি করে বিভিন্ন দেশে দাস হিসেবে বিক্রি করে দিত। আলোচ্য 'মুক্তি' গল্পে দাসব্যাবসার সেই প্রতিচ্ছবি তুলে ধরা হয়েছে বাস্তবতার নিরিখে। মূলত গল্পটির মধ্য দিয়ে জাতিগত ও বর্ণগত নিপীড়ন থেকে মুক্ত হওয়ার তীব্র বাসনার প্রকাশ ঘটেছে।

49

সকালের খাবার দেবার পর দুজন সাদা মানুষ একবোঝা জামা কাপড় হাতে ঘরে ঢুকল। ভীত বন্দিদের বাঁধন খুলে দিয়ে সেগুলো কী করে পরতে হয় দেখিয়ে দেওয়া হলো। একটা বস্ত্রে পা থেকে কোমর পর্যন্ত, অন্য একটায় ঊর্ধ্বাঙ্গ ঢাকতে হয়। কুন্টার ঘা-গুলো সেরে এসেছিল। জামা-কাপড় পরামাত্র সেগুলো চুলকাতে শুরু করল। বাইরে লোকজনের কথাবার্তার কোলাহল ক্রমে বাড়ছিল। ক্রমশই লোক জমছিল। কুন্টারা জামাকাপড় পরে বিমূঢ় হয়ে বসেছিল- কী জানি এর পরে কপালে আছে!
সাদা মানুষদুটো ফিরে এসে প্রথমে রাখা বন্দিদের মাঝে তিনজনকে বার করে নিয়ে গেল। তারপরেই বাইরের আওয়াজের ধরনটা বদলে গেল। কুন্টা অবাক হয়ে কতকগুলো অবোধ্য চিৎকার শুনছিল। "নিখুঁত স্বাস্থ্য ! অফুরন্ত কর্মশক্তি।' অন্য কোনো সাদা মানুষের গলা

‘তিনশো পঞ্চাশ!’
‘চারশো !’
প্রথম সাদা মানুষটির চিৎকার শোনা গেলো, ‘ছয়! কে ছয় বলবেন? তাকিয়ে দেখুন। দুর্দান্ত কর্মক্ষমতা !” কুন্টা ভয়ে শিউরে উঠছিল। তার মুখ বেয়ে দরদর করে ঘাম ঝরছিল । নিঃশ্বাস রুদ্ধ হয়ে আসছিল । যখন চারজন সাদা মানুষ ঘরে ঢুকল—সে যেন অসাড় ! কুন্টাকে স্পর্শ করতে সে রাগে ভয়ে দাঁত খিঁচিয়ে উঠল ।
তখনই মাথায় একটা প্রবল আঘাত পেয়ে তার বোধশক্তি লুপ্ত হয়ে গেল। সচেতন হয়ে উঠতে দেখতে পেল—উজ্জ্বল দিবালোকে আরো দুজনের সঙ্গে সেও বাইরে লাইন করে দাঁড়িয়ে আছে। চারদিকে শত শত সাদা মানুষ হা-করে তাকিয়ে আছে। তারই মাঝে দুটো কালো মানুষ শিকল হাতে দাঁড়িয়ে। মুখের ভাব দেখে মনে হয়, পারিপার্শ্বিক অবস্থা সম্পর্কে তারা একান্ত উদাসীন। চোখের দৃষ্টি সম্পূর্ণ নির্লিপ্ত, লক্ষ্যহীন। ‘সদ্য গাছ থেকে পেড়ে আনা ৷'
‘বাঁদরের মতো তীক্ষ্ণবুদ্ধিসম্পন্ন !
‘সবকিছু শিখিয়ে নেওয়া যাবে !”
সাদা মানুষটা পায়চারি করতে করতে হাত নেড়ে কুন্টার আপাদমস্তক নির্দেশ করে কথাগুলো চিৎকার করে বলছিল। তারপর কুন্টাকে জোর করে ঠেলে সামনে একটা বেদির মতো উঁচু জায়গায় ওঠাল। ‘একেবারে সরেস! নিজের ইচ্ছামতো গড়ে নেওয়া যাবে!
কুন্টা ভয়ে হতবুদ্ধি হয়ে লক্ষও করেনি কখন চারদিকের লোকজন এগিয়ে এসে তার সর্বাঙ্গে হাত বুলিয়ে পরীক্ষা
করছে।
‘তিনশো ডলার!’-‘তিনশো পঞ্চাশ!’
‘পাঁচশো!” “ছয়!’
সাদা মানুষটা ক্রুদ্ধ গর্জনে বলে উঠল—'বাজারের সেরা। তরুণ যুবা । কেউ কি সাড়ে সাত বলবেন? একজন চেঁচিয়ে উঠল—
“সাড়ে সাত!’
‘আট ! আট !’
ডাক উঠল—‘আট!' আর কেউ কিছু বলে ওঠার আগেই আবার শোনা গেল—'সাড়ে আট ।’ ডাক আর চড়ল না।
যে সাদামানুষটা এদিক থেকে চেঁচাচ্ছিল, সে কুন্টার শিকল খুলে নিয়ে তাকে সামনে একজনের দিকে ঠেলে দিল । এই নতুন সাদা মানুষটার পেছনে একজন কালো লোক। শিকলের প্রান্তটা তারই হাতে দেওয়া ছিল। তার প্রতি কুন্টার অনুনয়পূর্ণ চাহনি সম্পূর্ণ ব্যর্থ হলো। সে লক্ষ্যহীন নির্বিকার দৃষ্টিতে কুন্টাকে শিকলসুদ্ধ টেনে একটা চার চাকার বাক্সের সামনে নিয়ে এল। বাক্সটার সামনে একটা বিরাট গাধাজাতীয় পশু। কালো লোকটা রূঢ়ভাবে কুন্টাকে বাক্সের মেঝেতে ঠেলে ফেলে দিয়ে শিকলটা কোথায় আটকে দিল। কিছুক্ষণ পরে কুন্টা গন্ধে অনুভব করল-সাদা মানুষটা ফিরে এসেছে। সে গাড়ির ওপরে চড়ে বসতে, কালো লোকটিও সামনের সিটের মাথায় উঠে বসে একটা চামড়ার ফিতে পশুটার পিঠে আছড়ে ফেলল । অমনি বাক্সটা গড়িয়ে চলতে শুরু করল।

কুন্টা শিকলটা ভালো করে পরীক্ষা করে দেখল । বড়ো ক্যানুতে তাদের যে শিকল দিয়ে বাঁধা হয়েছিল, তার থেকে এটা হালকা ধরনের। প্রাণপণে চেষ্টা করলে কি ছেঁড়া যাবে না? কিন্তু এখন গাড়ি থেকে লাফাবার উপযুক্ত সময় নয়।
কুন্টা একবার মাথা তুলে সাদা মানুষটার দিকে তাকাল। সেই মুহূর্তে সেও পেছন ফিরে তাকাতে তাদের চোখাচোখি হয়ে গেল । ভয়ে কুন্টার দেহ হিম। কিন্তু সাদা মানুষটার মুখে ভাবের লেশমাত্র ছিল না ।
পথের ধারে বিস্তৃত শস্যক্ষেত্র। বিভিন্ন রঙের শস্য দেখা যাচ্ছে। তার মাঝে ভুট্টা সে চিনতে পারল। জুফরেতে ফসল কাটবার সময় যেমন দেখতে হয়, তেমনি। খানিকক্ষণ পর সাদা মানুষ এবং কালোটি দুজনেই শুকনো রুটি আর মাংস বের করে ছিঁড়ে ছিঁড়ে খেতে লাগল । কুন্টার খুবই ক্ষিধে পেয়েছিল। খাদ্যের সুগন্ধে তার জিভে জল এসে গেল । তবুও সামনের কালো লোকটি যখন পেছন ফিরে তাকে এক টুকরো রুটি দিতে চাইল, সে তার মুখ ফিরিয়ে নিল।
সূর্য অস্ত যাচ্ছিল। তাদের গাড়ির পাশ দিয়ে আর একটি গাড়ি বিপরীত দিকে ছুটে গেল। গাড়িটির পেছনে চরম ক্লান্তিভরে দ্রুত পদক্ষেপে চলছিল মোটা কাপড়ের পুরোনো ছেঁড়া পোশাক পরা সাতটি কালো মানুষ। তাদের মুখে গভীর হতাশার ছাপ। ক্রমে অন্ধকার ঘনিয়ে আসতে কুন্টাদের গাড়িটা পাশের ছোটো রাস্তায় ঢুকে পড়ল । দূরে গাছের ফাঁকে একটা বিরাট সাদা বাড়ি দেখা যাচ্ছে। এবার কী হবে? এখানেই কি তাকে হত্যা করে খাওয়া হবে?
বাড়িটার কাছে এসে কুন্টা আরো কালো মানুষের গন্ধ পেল। অন্ধকারের ভেতর তিনটি মানুষের আকার বোঝা যাচ্ছিল। একজনের হাতে আলো ঝোলানো। বড়ো ক্যানুর অন্ধকার খোলের ভেতর এ ধরনের আলো কুন্টা দেখেছে। কেবল এটার চারপাশে একটা স্বচ্ছ চকচকে আবরণ, তার ভেতর দিয়ে অবশ্য স্পষ্ট দেখা যায়। কালো লোকগুলোর পাশ দিয়ে একটা সাদা মানুষ এগিয়ে এল। গাড়িটা থেমে যেতে একজন আলোটা উঁচু করে ধরল। ভেতরের সাদা মানুষটা নেমে এসে নতুন লোকটার সঙ্গে করমর্দন করল। তারপর দুজনে হাসিমুখে বাড়ির দিকে চলে গেল ।
কুন্টার মনে একটু আশা হলো । এবার কালো লোকেরা তাকে ছেড়ে দেবে না? কিন্তু এ কেমন কালো লোক? তারা তাকে দেখে বিদ্রূপের হাসি হাসছে! নিজের স্বজাতির লোক নিয়ে এরা পরিহাস করছে? ছাগলের মতো সাদা মানুষের হুকুমে কাজ করে? এদের আফ্রিকাবাসীর মতো দেখাচ্ছে বটে, কিন্তু এরা কখনো তা হতে পারে না । গাড়িটা কুন্টাকে নিয়ে এগিয়ে গেল । অন্য কালো লোকগুলো হাসাহাসি করতে করতে পাশে পাশে চলল। কিছুদূর গিয়ে গাড়িটা থামতে, চালক নেমে এসে শিকলের অপর প্রান্ত খুলে রূঢ় ভঙ্গিতে টান মেরে কুন্টাকে নামতে ইঙ্গিত করল।
লোকগুলো জোর করে তাকে নামাল । তারপর একটা খুঁটির সঙ্গে শিকলটা আবার বেঁধে দিল । কুন্টা দৈহিক যন্ত্ৰণা, ত্রাস, ক্রোধ ও ঘৃণাতে কাতর হয়ে সেখানে পড়ে থাকল। একজন তার সামনে এক পাত্র জল ও এক পাত্র খাদ্য নামিয়ে রাখল। খাদ্যটা যেমন অদ্ভুত দেখতে, তেমনি অদ্ভুত তার গন্ধ । তবুও তা দেখেই কুন্টার রসনা

লালায়িত হয়ে উঠল। কিন্তু কুন্টা মুখ ফিরিয়েই থাকল। কালো লোকগুলো তা দেখে আবারও বিদ্রূপের হাসি হাসল। গাড়ির চালক আলোটা তুলে ধরে মোটা খুঁটির কাছে গিয়ে শিকলটা জোরে টেনে কুন্টাকে দেখিয়ে দিল—ওটা ছেঁড়া যাবে না। তারপর খাবারের দিকে ইঙ্গিত করে শাসানির ভঙ্গি করল। সবাই হাসতে হাসতে চলে গেল ।

 

কুন্টা অপেক্ষা করতে লাগল—কখন সবাই ঘুমোবে, কখন সে পালাবার সুযোগ পাবে। এরই মধ্যে একটা কুকুর এসে তার খাবারের পাত্র খালি করে দিয়ে গেল। রোষে কুন্টার সর্বাঙ্গ জ্বলে গেল। সে খানিকটা জলপান করে নিল। কিন্তু তাতে শারীরিক অবস্থার বিশেষ উন্নতি হলো না ।
পালাবার অদম্য ইচ্ছা অতি কষ্টে দমন করে সারারাত সে জেগে কাটাল। সে জানে শিকল ভাঙবার চেষ্টা করলেই ঝনঝনানির শব্দে পাশের কুটিরের লোক ছুটে আসবে। ইতোমধ্যেই কুকুরের ডাকে গাড়ির চালকটি একবার বেরিয়ে এসে শিকল পরীক্ষা করে গিয়েছে।

 

পুবের আকাশ ধীরে ধীরে পরিষ্কার হয়ে আসছিল । কুন্টা আর একটু জল পান করল । এমন সময় সেই কালো লোক চারটে দ্রুত পায়ে এসে কুন্টাকে টেনে তুলে আবার সেই গড়ানো বাক্সের মতো গাড়িটাতে চড়ে বসল। তারপর গাড়ি বড় রাস্তা দিয়ে আগের দিনের মতই চলল । কুন্টার দুই চক্ষু অপরিসীম ক্রোধ ও ঘৃণায় সামনের মানুষগুলোর পিঠের ওপর অগ্নিবর্ষণ করতে থাকল । যদি এদের খুন করা যেত! কিন্তু বুদ্ধি স্থির রাখতে হবে । মাথা গরম করলে চলবে না। অযথা শক্তি ক্ষয় করে লাভ নেই ।
কিছু দূর গিয়ে ঘন বন দেখা গেল। কতক জায়গায় গাছ কেটে জঙ্গল সাফ করা হয়েছে। আবার কিছু জায়গায় জঙ্গল পোড়ানো হচ্ছে। ধূসর বর্ণ ধোঁয়ার রাশি উঠছিল। সাদা মানুষরাও কি জুফরের মতো গাছপালা পুড়িয়ে জমির ফলন শক্তি বৃদ্ধি করে?

আরো খানিকটা দূরে কাঠের তৈরি একটি ছোট্ট চৌকো কুটির, আর তার সামনে পরিষ্কার একখণ্ড জমি । একটা ষাঁড়ের পেছনে বাঁকানো হাতলওয়ালা কী একটা মস্ত জিনিস। একজন সাদা মানুষ হাতল দুটো চেপে ধরেছে। তাতে পেছনের মাটি বিদীর্ণ হয়ে যাচ্ছে। আরো দুটো রোগামতন সাদা মানুষ গাছের নিচে উবু হয়ে আছে। তিনটে রোগা-পটকা শুয়োর আর কিছু মুরগি চারপাশে ছুটোছুটি করছে। কুটিরের দরজায় একটি লাল চুলের সাদা মেয়ে মানুষ। তিনটে সাদা বাচ্চা খেলে বেড়াচ্ছিল। তারা গাড়িতে কুন্টাকে দেখে হাত নেড়ে চেঁচাতে লাগল । কুন্টার ভাব দেখে মনে হলো সে হায়েনা শিশু দেখছে! এতদিনে সে সত্যি একটি সাদা মানুষের পুরো পরিবার দেখতে পেল। পথে যেতে যেতে আগেকার মতো আরো দুটি মস্ত সাদা বাড়ি দেখা গেল । প্রত্যেকটির ওপর দিকে একটার ওপর আর একটা চাপানো—দুটো বাড়ির সমান। প্রত্যেকটিরই কাছাকাছি বেশ কিছু ছোটো ছোটো অন্ধকার কুটির। কুন্টা আন্দাজ করল—সেগুলোতেই কালো লোকেদের বাস। আর চারপাশ ঘিরে বিস্তীর্ণ তুলোর খেত ৷ অল্পদিন আগে ফসল তোলা হয়েছে। তখনও গোছা-গোছা তুলো চারদিকে ছড়ানো-ছিটানো ।

 

Related Question

View All
উত্তরঃ

'মুক্তি' গল্পে দাস ব্যবস্থার নির্মম দিকগুলো ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। পৃথিবীতে এমন একটা জঘন্য সময় ছিল যখন মানুষ মানসিকতার দিক থেকে এতটাই নিকৃষ্ট ছিল যে, আফ্রিকার কালো মানুষগুলোকে ধরে এনে বন্দি করে রাখত। আর তাদেরকে বাজারে বিক্রি করার জন্য নিলামে তুলত। এ গল্পে আফ্রিকার গাম্বিয়া দেশের জুফরে নামক গ্রামের অধিবাসী কুন্টাকে আমেরিকানরা ধরে এনে বন্দি করে রাখে। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন বন্দিও ছিল। পায়ে তাদের শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা। একদিন সকালে খাবার পর দুজন সাদা মানুষ একবোঝা জামা-কাপড় হাতে ঘরে ঢুকল। কুন্টা ও অন্য বন্দিরা জামা-কাপড় পরে বিমূঢ় হয়ে বসে ছিল। বাইরে লোকজনের কথাবার্তার কোলাহল শোনা যাচ্ছিল। সাদা মানুষ দুটো ফিরে এসে প্রথমে রাখা বন্দিদের মাঝে তিনজনকে বের করে নিয়ে গেল। তারপরেই বাইরের আওয়াজের ধরনটা বদলে গেল। বন্দিদের আসলে বাইরে নেওয়া হয়েছিল নিলামে তুলে বিক্রি করার জন্য। সাদা আমেরিকানরা কালো লোকগুলোকে পণ্যের মতোই বাজারে তুলে বিক্রির জন্য তাদের গুণ বর্ণনা করতে থাকে। তারা চিৎকার করে বলতে থাকে যেসব বন্দি তারা বিক্রির জন্য বাজারে তুলেছে তাদের স্বাস্থ্য নিখুঁত, আর কর্মশক্তিও অফুরন্ত।

154
উত্তরঃ

"কুন্টার মধ্যে জাতিগত ও বর্ণগত নিপীড়ন থেকে মুক্ত হওয়ার তীব্র বাসনা প্রকাশিত হয়েছে।"- মন্তব্যটি পুরোপুরি সত্য। 'মুক্তি' গল্পে কুন্টা এক স্বাধীনতাকামী তরুণ যুবক। তাকে আফ্রিকার গাম্বিয়ার জুফরে নামক গ্রাম থেকে ধরে এনে দাস হিসেবে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। সাদা আমেরিকানরাই তাকে ধরে এনে বিক্রি করে দেয় আরেক সাদা মানুষের কাছে। কুষ্টা ছিল তরুণ যুবক; তাই বাজারে তার মূল্যও ছিল বেশি। ফলে সাড়ে আটশ ডলারে তাকে বিক্রি করা হয়। তবে কুন্টা প্রতিটি মুহূর্তে পালিয়ে যেতে চেয়েছে তার প্রিয় জন্মভূমি জুফরেতে। সে কোনোমতেই দাস হিসেবে বন্দি থাকতে চায়নি। তার মনের মধ্যে স্বাধীনতা অর্জনের তীব্র বাসনা লক্ষ করা যায় গল্পজুড়ে।

'মুক্তি' গল্পে আফ্রিকান কালো নির্দোষ মানুষগুলোর প্রতি সাদা আমেরিকানদের জাতিগত ও বর্ণগত নিপীড়নের নির্মম চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে। কুন্টা ও অন্য কালো মানুষগুলোকে কথিত সাদা মানুষগুলো ধরে এনে পশুর মতো শিকল দিয়ে বেঁধে বন্দি করে রাখে। কুন্টার শরীরে একসময় শিকলের বাঁধনে ঘা হয়ে যায়। তাদের ওপর সাদারা নির্মম নির্যাতন ও নিপীড়ন করে, যা আলোচ্য গল্পের বিভিন্ন ঘটনায় ফুটে উঠেছে। কুন্টাদের যখন ডেকে ডেকে দাম বলে বিক্রির জন্য ঘোষণা করা হচ্ছিল তখন কুন্টা ভয়ে শিউরে উঠেছিল। তার মুখ বেয়ে দরদর করে ঘাম ঝরছিল। নিশ্বাস রুদ্ধ হয়ে উঠেছিল। যখন চারজন সাদা মানুষ কুন্টাকে স্পর্শ করে তখন সে রাগে ভয়ে দাঁত খিঁচিয়ে ওঠে। আর তখন সাদা অমানুষগুলো তার মাথায় প্রবল আঘাত করে তার বোধশক্তি লোপ করে দেয়।

কুন্টাকে যখন বিক্রির জন্য বাজারে তোলা হয় তখন সে দেখতে পায় সেখানে আরও কালো মানুষ লাইনে দাঁড়ানো। চারদিকে শত শত সাদা মানুষ হাঁ-করে তাকিয়ে আছে। আর সাদা মানুষগুলো কালো মানুষগুলোর বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করে বলতে থাকে তারা নাকি সদ্য গাছ থেকে পেড়ে আনা, বাঁদরের মতো তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন, আর তাদেরকে সবকিছুই শিখিয়ে নেওয়া যাবে। কালোদের প্রতি এমন নির্মম নির্যাতন ও নিপীড়ন থেকে মুক্তি পাওয়ার প্রবল বাসনা লক্ষ করা যায় কুন্টার মধ্যে।

কুন্টা একজন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন সাহসী তরুণ। সে দাস হিসেবে থাকতে চায় না। প্রতি মুহূর্তে সে সাদা মানুষগুলোকে ঘৃণা করেছে। তাদের প্রতি রাগান্বিত হয়েছে কখনো সরাসরি আবার কখনোবা গোপনে। বন্দি অবস্থা থেকে মুক্তি ছাড়া তার আর কোনো লক্ষ্য ছিল না। তাই প্রতিটি মুহূর্তে সে সুযোগ খুঁজেছে পালিয়ে যাওয়ার। যেকোনো মূল্যে যেকোনো উপায়ে সে এটি করতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছে। তার কাছে মুক্তির আনন্দ ছাড়া আর কোনো উদ্দেশ্যই যেন ছিল না। ফলে সে তার বুদ্ধি, শক্তি ও সাহস দিয়ে স্বাধীন হওয়ার জন্য প্রবল চেষ্টা চালায়।

কুন্টাকে সাদা লোকগুলো যখন খাবার খেতে দেয় সেই খাবারও সে খায়নি। বারবার সে মুখ ফিরিয়ে নেয় সেই খাবার দেখে। অথচ পেটে তার ভীষণ খিদে ছিল। এখানে তার প্রবল ব্যক্তিত্ব ফুটে উঠেছে। সে বুঝিয়েছে তাকে পশুর মতো বন্দি রেখে আবার খাবার দিয়ে সাদা লোকগুলো যে দরদ দেখাতে চায় তার বিন্দুমাত্র গুরুত্ব তার কাছে নেই। বরং সে চায় বন্দি অবস্থা থেকে মুক্তি। এভাবেই তার প্রতিটি কর্মকাণ্ড ও আচরণে জাতিগত ও বর্ণগত নিপীড়ন থেকে মুক্ত হওয়ার তীব্র বাসনা প্রকাশিত হয়েছে।

123
উত্তরঃ

"তার প্রতি কুন্টার অনুনয়পূর্ণ চাহনি সম্পূর্ণ ব্যর্থ হলো।"-এখানে কুন্টার ক্রেতার সঙ্গে আসা কালো লোকটিকে দেখে কুন্টার চাহনিকে বোঝানো হয়েছে। কুস্টার মতো কিছু কালো মানুষকে আফ্রিকার জুফরে গ্রাম থেকে ধরে এনে বন্দি করে রাখে সাদা আমেরিকানরা। কুন্টাদের ওপর তারা নির্মম নির্যাতন চালায়। শিকল পরিয়ে তাদেরকে বিক্রি করার জন্য বাজারে তোলা হয় আর চিৎকার করে তাদের দাম ঘোষণা করা হয়। সে এগুলো কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেনি। যেকোনো মূল্যে সে বন্দি অবস্থা থেকে মুক্ত হতে চায়। কেননা তার শরীর ছিল শিকলে বাঁধা। এমন অবস্থা দেখে কুন্টা খুবই অস্বস্তিতে ভোগে। কুন্টাকে একসময় সাড়ে আটশ ডলার দিয়ে কিনে নেয় এক সাদা আমেরিকান। সেই সাদা লোকটির সঙ্গে আসে একজন কালো লোক। আর তাকে দেখেই কুন্টা নতুন আশায় বুক বাঁধে। সে মনে করে লোকটি যেহেতু তার স্বজাতির তাই হয়তো সে কুন্টার প্রতি করুণা দেখাবে। কিন্তু লোকটি তাকে আশাহত করে। কেননা সেই কালো লোকটি কুন্টার প্রতি কোনো করুণা দেখায়নি। বরং সে লক্ষ্যহীন নির্বিকার দৃষ্টিতে কুন্টাকে শিকলসুদ্ধ টেনে একটা চার চাকার বাক্সের সামনে নিয়ে গেল। কালো লোকটা রূঢ়ভাবে কুন্টাকে বাক্সের মেঝেতে ঠেলে ফেলে দিয়ে শিকলটা কোথায় যেন আটকে দেয়। তাই তার প্রতি কুন্টার অনুনয়পূর্ণ চাহনি সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়।

194
উত্তরঃ

দাস ব্যবস্থা বলতে মূলত সেই ব্যবস্থাকে বোঝায় যেখানে মানুষকে পণ্য হিসেবে ক্রয়-বিক্রয় করা হয় এবং জোরপূর্বক শ্রমে নিয়োজিত করা হয়। এটি মানব ইতিহাসের একটি অন্ধকার অধ্যায় যা বিশেষভাবে প্রসারিত হয়েছিল ঔপনিবেশিক যুগে। দাস ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে লাখ লাখ মানুষকে তাদের মাতৃভূমি থেকে জোর করে ধরে নিয়ে গিয়ে অমানবিক নির্যাতন করে কাজ করতে বাধ্য করা হয়। দাস ব্যবস্থার সেই নির্মম চিত্রের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরা হয়েছে 'মুক্তি' গল্পে।

কুন্টা নামের এক দাসের জীবনকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে 'মুক্তি' গল্পের কাহিনি। গল্পের শুরুতেই দেখা যায়, মাতৃভূমি গাম্বিয়ার জুফরে নামক গ্রাম থেকে জোর করে ধরে এনে শিকলবন্দি করে রাখা হয়েছে কুন্টাকে। তার সর্বাঙ্গে নির্যাতনের চিহ্ন। জামা-কাপড় পরিয়ে সভ্য করে বাজারে তোলা হবে কুন্টাকে। সেখানে সাদা মানুষেরা পণ্যের মতো পরীক্ষা করে কিনে নেবে তাকে। তরুণ কুন্টাকে দেখে সাদা মানুষেরা বলে উঠেছে, "নিখুঁত স্বাস্থ্য। অফুরন্ত কর্মশক্তি।" অর্থাৎ তাকে দিয়ে সব ধরনের কাজ করানো যাবে। বাজারের মধ্যে শিকল হাতে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয় তাকে। চারদিকের লোকজন এসে তার সর্বাঙ্গে হাত বুলিয়ে পরীক্ষা করে। পণ্যের মতো যাচাই-বাছাই করে এক সাদা আমেরিকান তাকে সাড়ে আটশত ডলারে ক্রয় করে। মানুষের প্রতি মানুষ কতটা অমানবিক হলে এরূপ চিত্র দেখতে পাওয়া যায় তার প্রমাণ 'মুক্তি' গল্পটির প্রতিটি পাতায় ছড়িয়ে আছে। সেখানে কুন্টার প্রতি সাদা মানুষদের অমানবিক নির্যাতনের চিত্রই দাস ব্যবস্থার নির্মম বাস্তবতাকে তুলে ধরে।

গাম্বিয়ার জুফরে নামক গ্রামের অধিবাসী কুন্টা সাদা মানুষদের পাশবিক নির্যাতনের সম্মুখীন হয়। তাকে সব সময় শিকল দিয়ে বেঁধে রেখে নির্যাতন করা হয়। তাকে যে খাবার দেওয়া হয় সেটাও একসময় এক কুকুর এসে খেয়ে যায়। সে পালাতে চায়। জীবনে আর কখনো সে যদি নিজ গ্রামে যেতে পারে তবে প্রত্যেক ঘরে ঘরে সাদা মানুষের এই অবিশ্বাস্য নিষ্ঠুরতার কাহিনি সে শোনাবে বলে সংকল্প করে। সে অসীম ধৈর্য, সাহস ও বুদ্ধিমত্তা নিয়ে পালানোর সুযোগ পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। একসময় সে তাতে সক্ষম হয়। মূলত দাস ব্যবস্থার নামে আমেরিকান সাদা মানুষেরা আফ্রিকার কালো মানুষদের ওপর যে পাশবিক নির্যাতন চালাত সেটিই তুলে ধরা হয়েছে 'মুক্তি' গল্পে।

তাই বলা যায়, মানব ইতিহাসের অন্ধকার অধ্যায় দাস ব্যবস্থার নির্মম চিত্র তুলে ধরা হয়েছে 'মুক্তি' গল্পে।

250
উত্তরঃ

'মুক্তি' গল্পে ফুটে উঠেছে দাস ব্যবস্থার করুণ ইতিহাস। দাস ব্যবস্থা মানব ইতিহাসের এক অন্ধকার অধ্যায়। যেখানে নির্দিষ্ট কিছু মানুষকে সম্পূর্ণভাবে অন্য মানুষের সম্পত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হতো। দাসদের নিজস্ব স্বাধীনতা, অধিকার ও ব্যক্তিগত ইচ্ছার কোনো মূল্য ছিল না। তাদেরকে জোরপূর্বক কাজ করানো হতো এবং অনেক সময় অমানবিক নির্যাতন চালানো হতো। মূলত আফ্রিকার কালো মানুষদের দাস হিসেবে ব্যবহার করত শ্বেতাঙ্গ আমেরিকানরা। বাজারে অন্য পণ্যের মতো কেনা-বেচা করা হতো দাসদের। 'মুক্তি' গল্পে কুন্টা ছিল একজন দাস। বাজারে তোলা হলে তাকে কেনার জন্য চারদিকে লোকজন এসে ভিড় করে। যুবক কুন্টাকে কেনার জন্য লোকজন তার সর্বাঙ্গে হাত বুলিয়ে পরীক্ষা করে। কারণ দাসরা ছিল বাজারের অন্য পণ্যের মতোই। যেকোনো পণ্য ক্রয় করতে গেলে ক্রেতা যেমন পণ্যটিকে ভালোভাবে যাচাই করে নেয় তেমনই দাস কুন্টাকেও কেনার জন্য শ্বেতাঙ্গ মালিকেরা তার সর্বাঙ্গে হাত বুলিয়ে পরীক্ষা করে নেয়।

তাই বলা যায়, দাস কুন্টাকে ক্রয় করার জন্য চারদিকের লোকজন এগিয়ে এসে তার সর্বাঙ্গে হাত বুলিয়ে পরীক্ষা করছিল।

67
উত্তরঃ

অ্যালেক্স হ্যালির বিখ্যাত উপন্যাস 'Roots' এর বঙ্গানুবাদ করেন গীতি সেন। তাঁর অনুবাদকৃত গ্রন্থ থেকে অংশবিশেষ নিয়ে রচনা করা হয়েছে 'মুক্তি' গল্পটি। এখানে মুক্তি বলতে মূলত গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র দাস কুস্টার মুক্তিকে বোঝানো হয়েছে। আমেরিকান শ্বেতাঙ্গদের কাছে বন্দি তরুণ কুন্টা তার অসাধারণ বুদ্ধি, সাহস ও শক্তি দিয়ে নিজেকে মুক্ত করতে পেরেছে।

'মুক্তি' গল্পের কেন্দ্রে যে চরিত্র রয়েছে তার নাম কুন্টা। সে আফ্রিকার গাম্বিয়া দেশের জুফরে নামক গ্রামের অধিবাসী। তরুণ কুন্টাকে আমেরিকার সাদা মানুষেরা ধরে এনে দাস হিসেবে বাজারে তোলে। গল্পের পটভূমির সময়ে প্রচলিত দাস ব্যবস্থা ছিল মানব ইতিহাসের এক করুণ অধ্যায়। সেই সময়ে আফ্রিকার কালো মানুষদের তুলনা করা হতো পণ্যের সঙ্গে। পণ্যের মতোই তাদের বাজারে বিক্রি করা হতো। সাদা মানুষেরা তাদের নিজেদের প্রয়োজনে এই কালো মানুষদের ব্যবহার করত। অমানবিক নির্যাতন ও পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হতো তাদের জীবন। তবে মাঝেমধ্যে ঘটনাক্রমে নিজের বুদ্ধিমত্তায় কোনো কোনো দাস তার দাসত্ব জীবন থেকে পালিয়ে মুক্তি পেত। সেরকমই একজন ভাগ্যবান ছিল কুন্টা। সাদা আমেরিকানরা কুন্টাকে ধরে নিয়ে গিয়ে জামা-কাপড় পরিয়ে সভ্য করে তোলে। তারপর বাজারে তোলে বিক্রির জন্য। কুন্টাকে তুলনা করা হয়েছে সদ্য গাছ থেকে পেড়ে আনা তীক্ষ্ণ বৃদ্ধিসম্পন্ন বানরের সঙ্গে। যাকে সবকিছু শিখিয়ে নেওয়া যাবে। তরুণ কুন্টাকে সাড়ে আটশ ডলারে কিনে নিয়ে এক সাদা আমেরিকান বাড়ির দিকে যাত্রা করে। তবে কুন্টার মনের মধ্যে সর্বদা বিরাজ করেছে পালানোর চিন্তা। সে কাউকে কিছু বুঝতে না দিয়ে নির্মোহ দৃষ্টিতে সর অত্যাচার মুখ বুজে সহ্য করে গেছে। অযথা শক্তি ক্ষয় না করে সে সুযোগের অপেক্ষায় থেকেছে।

তার অসম ধৈর্যের গুণে সে একসময় সুযোগ পেয়ে যায়। সাদা লোকটি তাকে কিনে নিয়ে যখন বাড়ি ফিরল তখন রাত্রিবেলা। সাদা লোকটি যখন গাড়ি থেকে নেমে বাড়ির ভেতর ঢুকে পড়ে তখন সে প্রচণ্ড আক্রোশে ঝাঁপিয়ে পড়ে গাড়িচালকের ওপর। সে প্রচন্ড পরাক্রমে হায়েনার শক্তিশালী চোয়ালের মতো কঠিন হাতে তার কণ্ঠনালি টিপে ধরল। একসময় গাড়িচালকের শক্তিহীন নিঃসাড় দেহ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। কুন্টা সেখান থেকে দ্রুতবেগে সরে পড়ে। খেতের অসমান কর্কশ জমির ওপর দিয়ে সে নিচু হয়ে দৌড়াতে থাকে। সেই সময় মুক্তির আনন্দে তার সর্বদেহ ও মন আতশবাজির মতো ফেটে পড়তে চাইছিল।

পরিশেষে তাই বলা যায়, তরুণ কুন্টা তার বুদ্ধি, শক্তি ও সাহস দিয়ে নিজেকে মুক্ত করতে পেরেছে। বুদ্ধি খাটিয়ে সাহস করে উদ্যোগ নিয়েছে বলেই সে একসময় উপভোগ করতে পেরেছে মুক্তির আনন্দ।

109
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র

Related Question

মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews