বুদ্ধ তিন প্রকার। যথা-
১. সম্যক সম্বুদ্ধ
২. প্রত্যেক বুদ্ধ ও
৩. শ্রাবক বুদ্ধ।
বোধিসত্ত্ব তিন প্রকার।
যথা-
১. শ্রাবকবোধিসত্ত্ব
২. প্রত্যেকবোধিসত্ত্ব ও
৩. সম্যকসম্বোধিসত্ত্ব।
বুদ্ধের গুণ অচিন্তনীয়। কারণ, বুদ্ধ অসীম গুণের অধিকারী। বুদ্ধের ঐ গুণসমূহ অর্জন সাধারণের পক্ষে সম্ভব নয়। এমনকি গুণরাশির গুরুত্ব' উপলব্ধি করাও কঠিন। বুদ্ধ গুণাবলির যে কোনো একটি গুণ যার পক্ষে অর্জন সম্ভব, কেবল 'তিনিই ঐ গুণের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে সমর্থ হন। এজন্যই বলা হয় বুদ্ধগুণ অচিন্তনীয়।
বোধিসত্ত্ব জীবনের কাহিনি জাতকে বর্ণিত আছে। গৌতম বুদ্ধের পূর্ব জন্মের কাহিনিই হলো জাতক। জাতক পাঠে গৌতম বুদ্ধের পূর্ব জন্মের কাহিনিগুলো জানা যায়।
যিনি চরিত্রের চরম উৎকর্ষ সাধন করে সম্যক জ্ঞানের অধিকারী হন তিনি বুদ্ধ নামে অভিহিত হন। অপরদিকে যিনি বুদ্ধত্ব লাভের জন্য ব্রত পালন করেন তিনি বোধিসত্ত্ব নামে পরিচিত।
জীবনচর্যার মাধ্যমে বুদ্ধ ও বোধিসত্ত্ব উপাধি অর্জন করতে হয়। একাগ্র সাধনা ও কঠিন অধ্যবসায়ের দ্বারাই এই দুই অবস্থানে উন্নীত হতে হয়। মানবজীবনে এগুলো সর্বোত্তম মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান।
বোধি' শব্দের অর্থ পরম জ্ঞান। এই পরম জ্ঞান সাধারণ বা শুধু জাগতিক জ্ঞান'নয়। বহুবিধ বিষয়ের সমন্বিত জ্ঞান। বিশেষত চার আর্যসত্য অধিগত জ্ঞান। এই জ্ঞানকে পরমার্থ জ্ঞানও বলা যায়। জাতিস্মর জ্ঞান ও পরচিত্ত অবগতি জ্ঞান এর অধীন।
কঠোর ত্যাগ-তিতিক্ষা ও গভীর একাগ্রতায় রাজপুত্র সিদ্ধার্থ গৌতম বোধি বা পরমার্থ জ্ঞান লাভ করেছিলেন। তাই তিনি জগতে বুদ্ধ নামে খ্যাত হয়েছেন।
বুদ্ধ নিজের এবং অন্যের অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বলতে পারতেন। কাকে, কখন এবং কীভাবে উপদেশ দেওয়া উচিত তিনি তা জানতেন।
জগতে বুদ্ধের আবির্ভাব অত্যন্ত দুর্লভ। বুদ্ধত্ব-লাভের পথ সবার জন্য উন্মুক্ত। জন্ম-জন্মান্তরের একনিষ্ঠ সাধনায় বুদ্ধত্ব লাভ করা যায়। সর্ববিধ তৃষ্ণা বিনাশপূর্বক বিশুদ্ধ জ্ঞানসাধনায় পূর্ণতা সাধিত হলেই বুদ্ধত্ব নামক মানবোত্তম অভিধা অর্জিত হয়। তাই সকলের পক্ষে বুদ্ধত্ব লাভ করা সম্ভব হয় না।
অনিত্য, দুঃখ ও অনাত্ম- জগতের এই তিন লক্ষণ যিনি সম্যকরূপে উপলব্ধি করতে সমর্থ হন তিনিই বুদ্ধত্বলাভে অগ্রসর হন। বুদ্ধ চতুরার্য সত্য উপলব্ধি করে আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ সাধনায় নিয়োজিত হন।
পারমী' অর্থ পূর্ণতা। দশ পারমী হলো- দান, শীল, নৈষ্ক্রম্য, ক্ষান্তি, বীর্য, সত্য, অধিষ্ঠান, মৈত্রী, উপেক্ষা ও প্রজ্ঞা। পারমী ও উপপারমী এবং পরমার্থ পারমীভেদে এগুলো আবার ত্রিশ প্রকার।
বোধিসত্ত্ব' বলতে দুঃখমুক্তির পথ অন্বেষণে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ সত্ত্বকে বোঝানো হয়। তিনি জ্ঞান অর্জনের পথে বা দুঃখমুক্তির পথ অন্বেষণে নিজেকে উৎসর্গ করতে সমর্থ হয়েছেন। সরল অর্থে বোধিসত্ত্ব হলো বুদ্ধত্বলাভে অনুপ্রাণিত প্রজ্ঞাবান সত্ত্ব বা বোধি'র লালনকারী সত্ত্বই বোধিসত্ত্ব।
বোধিসত্ত্ব চেতনার উৎসাহ জাগ্রত হয় সাধনকারীর স্বতঃস্ফূর্ত অভিপ্রায় থেকে। কিন্তু আচরণ রীতি হয় অঙ্গীকারাবদ্ধ। এটি আবেগ ও কৌতূহলের বিষয় নয়। চিন্তাশীল সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে সচেতনভাবে অনুশীলনের বিষয়।
বুদ্ধের বিশাল গুণ রাশি একসাথে প্রকাশ করা দুঃসাধ্য। এগুলোকে শ্রেণিভিত্তিক বিভাজন করলে নয়টি পর্যায়ে ভাগ করা যায়। সে হিসেবে বলা যায় বুদ্ধের গুণ নয়টি।
বুদ্ধের গুণসমূহ অর্জন সাধারণের পক্ষে সম্ভব নয়। এমনকি এই গুণরাশির গুরুত্ব উপলব্ধি করাও কঠিন। বুদ্ধ গুণাবলির যেকোনো একটি গুণ যাঁর পক্ষে অর্জন সম্ভব, কেবল তিনিই এই গুণের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে সমর্থ হন। এজনাই বলা হয় বুদ্ধগুণ অচিন্তনীয়।
বুদ্ধের নয়টি গুণের প্রত্যেকটি স্তর বহুবিধ বিষয়ে সমন্বিত ও সমৃদ্ধ। যেমন- অর্থৎ বা সর্ববিধ শত্রুশূন্য বলতে আট পর্যায়ের সমাধিচর্যায় উত্তীর্ণ হওয়াকে বোঝায়। রাগ, দ্বেষ, মোহ ও তৃষ্ণাকে সম্পূর্ণ পরিত্যাগ করে বুদ্ধের গুণগুলো ক্রমান্বয়ে অনুশীলন করতে হয়।
সম্যকসম্বুদ্ধগণ জন্ম-জন্মান্তরের সাধনায় দশ পারমী পূর্ণ করেন। তারা শেষজন্মে মানবকুলে উপযুক্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পূর্বের অনন্ত জন্মের সুকর্মের প্রভাবে এই জন্মে তিনি অর্হত্ব ফল বা সর্বজ্ঞতা অর্জন করে বুদ্ধ হন।
সম্যকসম্বুদ্ধগণ শুধু নিজের জন্য বুদ্ধ হন না। তাঁরা জগতের সর্বসত্তার পরম মুক্তির দ্বার উন্মোচনের ব্রত নিয়েই বুদ্ধ হন। এজন্যে সকল জীবের কল্যাণে তাঁরা দুঃখমুক্তির পথ ও নির্বাণলাভের উপায় প্রচার করেন। এ কারণে সম্যকসম্বুদ্ধকে বুদ্ধগণের মধ্যে সর্বোত্তম বলা হয়।
জগতে সম্যকসম্বুদ্ধের আবির্ভাব অতীব দুর্লভ। কারণ একই সময়ে পৃথিবীতে দুজন সম্যকসম্বুদ্ধের আবির্ভাব ঘটে না'। একজন সম্যকসম্বুদ্ধের পরিনির্বাণ লাভ করার হাজার হাজার বছর পর অন্য এক সম্যকসম্বুদ্ধের আবির্ভাব হয়।
পৃথিবীতে এ পর্যন্ত আটাশজন সম্যকসম্বুদ্ধের আবির্ভাবের কথা জানা যায়। 'বুদ্ধবংস' নামক গ্রন্থ পাঠে এ তথ্য জানা যায়। এ গ্রন্থের বিবরণ অনুযায়ী গৌতম বুদ্ধই হলেন সর্বশেষ সম্যকসম্বুদ্ধ।
প্রত্যেকবুদ্ধগণ সম্যক সম্বুদ্ধের দেশিত সাধনপ্রণালি অনুশীলন করে সর্ব তৃষ্ণা ক্ষয় করেন। এভাবে স্বীয় সাধনাবলে অর্হত্ব ফল লাভকরে তাঁরা বুদ্ধ হন।
অর্হত্ব ফললাভী এবং নির্বাণগামী অসংখ্য প্রত্যেকবুদ্ধ পৃথিবীতে উৎপন্ন হয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও হবেন। এজন্য বৌদ্ধরা বিশ্বাস করেন, জগৎ অর্হৎ বা বুদ্ধশূন্য নয়।
নির্বাণগামী বিমুক্ত পুরুষকে বলা হয় শ্রারকবুদ্ধ। শ্রাবকবুদ্ধ হলো সম্যকসম্বুদ্ধের অনুশাসন, অনুশীলনে পারঙ্গম পুণ্যপুরুষ। এঁরা সম্যকসম্বুদ্ধের নির্দেশিত পথ অনুসরণ করে মুক্তি সাধনায় রত থাকেন। এঁদের মধ্যে অনেকে অর্হত্ব ফল লাভ করেন। তাঁরা আর জন্মগ্রহণ করে দুঃখভোগ করবেন না।
গৌতম বুদ্ধের অনেক শিষ্য শ্রাবকবুদ্ধ ছিলেন। তাঁদের মধ্যে অগ্রশ্রাবক সারিপুত্র ও মৌদগল্যায়ন, মহাকশ্যপ, বিনয়ধর উপালি, ধর্মভান্ডারিক আনন্দ, লাডীশ্রেষ্ঠ সীবলী প্রমুখের নাম উল্লেখযোগ্য।
বোধিসত্ত্বের অনুশীলনীয় মুখ্য বিষয় হলো পারমীর পূর্ণতা সাধন। এই পারমীসমূহ চর্চার ফলে বোধিসত্ত্বের জীবনাচরণে স্বাভাবিকভাবে অনেক পরিবর্তন সাধিত হয়, যা অন্য মানুষদের থেকে বোধিসত্ত্বকে অনন্য ও অসাধারণ করে তোলে।
বোধিসত্ত্ব চেতনা সকলের অন্তরে বিরাজমান হলেও সকলেই বোধিসত্ত্ব পদবাচ্য নয়। যিনি বুদ্ধত্বলাভে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে পারমী পূর্ণতার সাধনায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছেন, তিনিই প্রকৃত অর্থে বোধিসত্ত্ব।
মানুষ সহজে বোধিসত্ত্বব্রত অনুশীলন করতে পারে না। কারণ,-মানুষের সহজাত স্বার্থচিন্তা মানুষকে সহজ প্রাপ্তির দিকে ধাবিত করে। পরম মুক্তির কথা মানুষ ভাবতে পারে না।
স্ব-উদ্যোগে ও স্বাধীনভাবে কোনো গুরুর অধীন না হয়ে বুদ্ধ প্রদর্শিত পথে' বোধিজ্ঞান লাভের সাধনায় নিয়োজিত সাধককে প্রত্যেকবোধিসত্ত্ব বলে। প্রত্যেকবোধিসত্ত্বগণ বোধিজ্ঞানের সর্বাঙ্গীণ গুণে গুণান্বিত হলেও তাঁরা নিজ গুণ প্রভায় অন্যকে প্রভাবান্বিত করতে পারেন না।
প্রজ্ঞাধিক বোধিসত্ত্বগণ সর্বক্ষেত্রে বিশ্লেষণধর্মী হন। তাঁরা প্রজ্ঞার আলোকে প্রত্যেকটি বিষয় বিচার-বিশ্লেষণ করেন। অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে গৃহীত সিদ্ধান্তের আলোকে তাঁরা স্বীয় পথ পরিক্রমায় অগ্রসর হন।
বিভিন্ন কুলে জন্ম নেওয়ার সময় বোধিসত্ত্বগণকে দশ উপপারমী, দশ পারমী ও দশ পরমার্থ পারমী পূর্ণ করতে হয়। অর্থাৎ জন্ম-জন্মান্তরের কর্মের ধারাবাহিকতায় দশ পারমীর প্রত্যেকটি ত্রি-পর্যায়ে অনুশীলন করে আত্মশুদ্ধির সাধনায় পরিপূর্ণতা অর্জন করতে হয়।
দীপঙ্কর বুদ্ধের সময় অমরাবতী নগর ধনধান্যে পরিপূর্ণ হলেও এর যোগাযোগ ব্যবস্থা তেমন উন্নত ছিল না। বর্ষাকালে বৃষ্টিতে পথঘাট কর্দমাক্ত থাকত।
দীপঙ্কর বুদ্ধ সুমেধ তাপসের মানসচেতনা উপলব্ধি করলেন সুমেধ তাপসের মধ্যে তিনি অভীষ্ট সিদ্ধির সম্ভাবনা দেখতে পেলেন তাই দীপঙ্কর বুদ্ধ তাঁর অনুরোধ রক্ষা করলেন।
বুদ্ধ- সম্যক জ্ঞানে ও গুণে পূর্ণতা বিষয়ক অভিধা বা উপাধি। পক্ষান্তরে, বোধিসত্ত্ব- সম্যক জ্ঞান চর্চাকারীর অভিধা বা উপাধি।
বুদ্ধগণ সর্বজ্ঞ। তাঁরা সকল পার্থিব ও লোকোত্তর বিষয় সম্পর্কে জানেন। মানুষসহ সকল জীবের ইহকাল ও পরকাল সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারেন।
অনন্ত জন্মের কর্মপ্রচেষ্টায় বোধিসত্ত্বগণের পারমী চর্চা গতিশীল হয়। বোধিসত্ত্ব অবস্থায় কারো পক্ষে নির্বাণলাভ সম্ভব নয়।
নাম বাচক শব্দ।
বুদ্ধ ও বোধিসত্ত্ব হচ্ছে উপাধি বা অভিধা।
বুদ্ধ' মানবোত্তম এক অভিধ্যবিশেষ।
জ্ঞানী
যারা স্বীয় সাধনা বলে অর্হত্ব ফল লাভ করেন।
জাতিস্মর জ্ঞান হলো পূর্ব জন্মবৃত্তান্ত স্মরণ করতে পারা।
চার আর্যসত্য হলো- জগতে দুঃখ আছে, দুঃখের কারণ আছে, দুঃখের নিরোধ আছে এবং দুঃখ নিরোধের উপায় আছে।
বুদ্ধত্ব লাভের জন্য তাঁদেরকে বহুবার জন্মগ্রহণ করতে হয়। অসংখ্য জন্মে তাদেরকে দান, শীল, ভাবনা ও পারমী পূরণ করতে হয়। পরমীপূর্ণ করার জন্য বুদ্ধগণ বুদ্ধত্ব লাভে নিভৃতে সাধনা করেন।
অন্যের মানসিক অবস্থা জানতে পারার বোধশক্তিই হচ্ছে পরচিত্ত অবগতি।
পরম জ্ঞান।
সরল অর্থে 'বোধিসত্ত্ব' হলো বুদ্ধত্ব লাভে অনুপ্রাণিত প্রজ্ঞাবান সত্ত্ব বা বোধির লালনকারী সত্ত্বই 'বোধিসত্ত্ব'।
যিনি বোধিজ্ঞান লাভের জন্য সাধনা করেন তাকে বোধিসত্ত্ব বলে।
জগতে বুদ্ধের আবির্ভাব অত্যন্ত দুর্লভ।
পারমী অর্থ পূর্ণতা।
দশ পারমী পূরণ করতে হয়।
সাধনকারীর স্বতঃস্ফূর্ত অভিপ্রায় থেকে বোধিসত্ত্ব চেতনায় উৎসাহ জাগ্রত হয়।
৯টি
বুদ্ধের গুণগুলো নয়টি পর্যায়ে ভাগ করা যায়।
আট পর্যায়ের সমাধি চর্যায় উত্তীর্ণ হওয়াকে বোঝায়।
৩ প্রকার।
যিনি কোনো গুরুর সাহায্য ছাড়া স্বীয় আদর্শ ও কর্মের দ্বারা 'নিরলস প্রচেষ্টায় বুদ্ধত্ব লাভ করেন তাকে সম্যকসম্বুদ্ধ বলে।
২৮ জন।
প্রত্যেক বুদ্ধ হলো আত্মমুক্তি সাধনায় পূর্ণতা অর্জনকারী বিমুক্ত মহাপুরুষ।
সম্যকসম্বুদ্ধের অনুগামী বুদ্ধ।
শ্রাবক বুদ্ধ হলো সম্যকসম্বুদ্ধের অনুশাসন অনুশীলনে পারঙ্গম পুণ্যপুরুষ।
শ্রাবক বুদ্ধগণ।
জীবজগতের কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত রাখেন এবং অ অন্যদের নির্বাণ লাভে সহায়তা করেন।
শ্রবণকারী, শ্রোতা, শিষ্য বা শ্রদ্ধানুরাগে অনুপ্রাণিত হয়ে বোধিজ্ঞান লাভকারীকে বোঝানো হয়।
নিঃস্বার্থ, নির্মোহ কর্ম অনুশীলনই বোধিসত্ত্বের অন্যতম গুণ।
দশ পারমী পূর্ণতা সাধনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়া।
তিন প্রকার।
সম্যক সম্বোধিসত্ত্ব।
যে বোধিসত্ত্ব লক্ষ্য অর্জনে প্রজ্ঞা সাধনাকে সর্বাগ্রে স্থান দেয় তাকে প্রজ্ঞাধিক বোধিসত্ত্ব বলে।
যে বোধিসত্ত্ব লক্ষ্য অর্জনে শ্রদ্ধাকেই সর্বাগ্রে স্থান দেয় তাকে শ্রদ্ধাধিক বোধিসত্ত্ব বলে।
যে বোধিসত্ত্ব লক্ষ্য অর্জনে কর্ম প্রচেষ্টাকেই সর্বাগ্রে স্থান দেয় তাকে বীর্যাধিক বোধিসত্ত্ব বলে।
নিজেকে সকল আসক্তি থেকে বিমুক্ত করাই বোধিসত্ত্বের প্রধান লক্ষ্য।
দীপঙ্কর বুদ্ধ।
গৌতম বুদ্ধ।
গৌতম বুদ্ধ ৫৫০ বার বোধিসত্ত্বরূপে জন্মগ্রহণ করেন।
বুদ্ধগণ ত্রিকালদশী এবং বোধিসত্ত্বগণ ত্রিকালদর্শী নন।
বুদ্ধগণ দশ পারমী পূরণ করেন এবং বোধিসত্ত্বগণ দশ পারমী পূরণে স্বচেষ্ট থাকেন।
বুদ্ধগণের চিত্ত স্থীর এবং বোধিসত্ত্বগণের চিত্তচাঞ্চল্য ঘটতে পারে।
বুদ্ধ শব্দের সাধারণ অর্থ জ্ঞানী হলেও অন্তর্নিহিত অর্থ আরও গভীর। বুদ্ধ রাগ, হিংসা ও লোভহীন এক মহোত্তম পুরুষ। বুদ্ধ নিজের এবং তঅন্যের অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বলতে পারতেন এবং বুদ্ধত্ব জ্ঞান অনন্য ও অসাধারণ।
যে ব্যক্তি জ্ঞানে পরিপূর্ণতা লাভ করেন, তাকেই বুদ্ধ বলে। সকল প্রকার তৃষ্ণা বিনাশের মাধ্যমে বিশুদ্ধ জ্ঞান সাধনায় পূর্ণতা সাধিত 'হলে 'বুদ্ধ' তাড়িধা ডার্জিত হয়া। এই বৃদ্ধ শব্দের সাধারণ অর্থ জ্ঞানী হলেও অন্তর্নিহিত অর্থ আরও গভীর। বুদ্ধত্ব জ্ঞান পরমার্থ জ্ঞান নামেও পরিচিত। তাই সকল জ্ঞানীকে বুদ্ধ বলা যায় না।
জগতে বুদ্ধের আবির্ভাব অত্যন্ত দুর্লভ। কারণ জন্মজন্মান্তরের একনিষ্ঠ সাধনায় বুদ্ধত্ব লাভ করা যায়। বৃদ্ধত্ব লাভের পথ সবার জন্য উন্মুক্ত। কিন্তু সবার পক্ষে বুদ্ধত্ব লাভ করা সম্ভব নয়। জগতে একজন বুদ্ধের পরিনির্বাণের বহুকাল পরে আর একজন বুদ্ধের আবির্ভাব হওয়ার কথা শাস্ত্রে আছে। নতুন বুদ্ধ আবির্ভূত না হওয়া পর্যন্ত পূর্ববর্তী বুদ্ধের অনুশাসনই বৌদ্ধরা অনুশীলন করে। যেমন বর্তমানে গৌতম বুদ্ধের অনুশাসন চলছে।
বুদ্ধত্ব অর্জনের সাধনা একটি অঙ্গীকারবদ্ধ পথপরিক্রমার মতো। অনিত্য, দুঃখ ও অনাত্ম জগতের এই তিন লক্ষণ যিনি সম্যকরূপে উপলব্ধি করতে সমর্থ হন তিনিই বুদ্ধত্ব লাভে অগ্রসর হন। এছাড়া বুদ্ধত্ব লাভের জন্য দশ পারমী পূরণ করতে হয়। দশ পারমী পূরণ করার মাধ্যমেই বুদ্ধত্ব লাভ করা যায়।
বুদ্ধত্ব অর্জনের সাধনা একটি অঙ্গীকার বদ্ধ পথপরিক্রমার মতো। এটিকে পারমী পূর্ণতার পরিক্রমাও বলা যায়। অনিত্য, দুঃখ ও অনাত্ম-জগতের এই তিন লক্ষণ যিনি সম্যকরূপে উপলব্ধি করতে সমর্থ হন তিনিই বুদ্ধত্ব লাভে অগ্রসর হন। তিনি চতুরার্য সত্য উপলব্ধি করে আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গসাধনায় নিয়োজিত হন। এ ছাড়া বুদ্ধত্ব লাভের জন্য পূরণ করতে হয় দশ পারমী। পারমী অর্থ পূর্ণতা। পারমী ও উপপারমী এবং পরমার্থ পারমী ভেদে এগুলো আবার ত্রিশ প্রকার। পারমী পূরণের জন্য প্রয়োজন জন্মজন্মান্তরের অসংখ্য কুশল কর্মের প্রভাব। এই প্রভাব বা পুণ্যফল অর্জনের জন্য তাকে অসংখ্যবার জন্ম নিতে হয়। সেই অসংখ্য জন্মে তাকে কুশলকর্ম সম্পাদন করে পারমীপূর্ণ ও পুণ্য সঞ্চয় করতে হয়। এভাবে বিবিধ জন্মে পারমী পূরণ করে অতীতে বহু বুদ্ধ পৃথিবীতে উৎপন্ন হয়েছেন, ভবিষ্যতেও হবেন।
বোধিসত্ত্ব' বলতে দুঃখমুক্তির পথ অন্বেষণে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ সত্ত্বকে বোঝানো হয়েছে। বোধি ও সত্ত্ব দুটি শব্দের সমন্বয়ে 'বোধিসত্ত্ব' শব্দটি গঠিত। এখানে বোধি' অর্থ হলো জ্ঞান বা প্রজ্ঞা আর সত্ত্ব হলো সেই জন, যিনি জ্ঞান বা প্রজ্ঞা সাধনায় নিয়োজিত এবং জ্ঞান অর্জনের পথে রা দুঃখমুক্তির পথ অন্বেষণে নিজেকে উৎসর্গ করতে সমর্থ হয়েছেন। তাই সরল অর্থে বোধিসত্ত্ব হলো বুদ্ধত্ব লাভে অনুপ্রাণিত প্রজ্ঞাবান সত্ত্ব বাঁ বোধির লালনকারী সত্ত্বই বোধিসত্ত্ব।
বৌদ্ধধর্ম-দর্শন মতে বহু জন্মের সুকৃতির ফল না থাকলে বোধিসত্ত্ব চেতনা জাগ্রত হয় না। বোধিসত্ত্ব সাধনার পূর্ণতা অর্জিত হয় বুদ্ধত্ব লাভের মাধ্যমে। তাই বোধিসত্ত্বকে বুদ্ধাঙ্কুর বলা হয়।
বুদ্ধের গুণ অসীম যা অর্জন করা সাধারণের পক্ষে সম্ভব নয়। বুদ্ধের এই অসীম গুণরাশির গুরুত্ব উপলব্ধি করাও কঠিন। বুদ্ধের গুণাবলির যেকোনো একটি গুণ যার পক্ষে অর্জন সম্ভব, কেবল তিনিই এ গুণের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে সমর্থ হন। এজন্যই বলা হয় বুদ্ধগুণ অচিন্তনীয়
বুদ্ধ তিন প্রকার। যিনি চরিত্রের চরম উৎকর্ষ সাধন করে সম্যক জ্ঞানের অধিকারী হন তিনি বুদ্ধ নামে অভিহিত হন। বৌদ্ধধর্ম গ্রন্থে তিন প্রকার বুদ্ধের কথা বলা হয়েছে। যথা: ১. সম্মাসমুদ্ধ বা সম্যকসম্বুদ্ধ, ২. পচ্চেকবৃদ্ধ বা প্রত্যেকবুদ্ধ এবং ৩. সাবকবুদ্ধ বা শ্রাবকবৃদ্ধ।
বুদ্ধগণের মধ্যে সর্বোত্তম হলো সম্যক সম্বুদ্ধ। সম্যক সম্বুদ্ধ বলতে বোঝায়, যিনি কোনো গুরুর সাহায্য ছাড়া স্বীয় আদর্শ ও কর্মের দ্বারা নিরলস প্রচেষ্টায় বুদ্যত্ব লাভ করেছেন। তিনি সর্বোত্তম জ্ঞানের অধিকারী। সম্যকাসম্বুদ্ধগণ জন্মজন্মান্তরের সাধনায় দশ পারমী পূর্ণ করেন। তিনি শেষজন্মে মানবকুলে উপযুক্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পূর্বের অনন্ত জন্মের সুকর্মের এভাবে এই জন্মে তিনি অর্হত্ব ফল বা সর্বজ্ঞতা অর্জন করে বুদ্ধ হন।
সম্যকসম্বুদ্ধ নিজের আদর্শ ও কর্মের দ্বারা নিরলস প্রচেষ্টায় বুদ্ধত্ব লাভ করেন। তাই বুদ্ধদের মধ্যে সম্যকসম্বুদ্ধই শ্রেষ্ঠ।
সম্যকসম্বুদ্ধগণ জন্ম-জন্মান্তরের সাধনায় দশ পারমীপূর্ণ করেন। তাঁরা সর্বোত্তম জ্ঞানের অধিকারী হন। শেষজন্মে মানুকুলে উপযুক্ত পরিবারে ডান্মগ্রহণ করেন। পূর্বের অনেক জন্মের সুকর্মের প্রভাবে এই জন্মে তিনি
অর্হত্ব ফল বা সর্বজ্ঞতা অর্জন করে বুদ্ধ হন। তাঁরা সকল জীবের কল্যাণের রাজন্য দুঃখ মুক্তির পথ ও নির্বাণ লাভের উপায় প্রচার করেন।
প্রত্যেক বৃদ্ধ হলো আত্মমুক্তি সাধনায় পূর্ণতা অর্জনকারী বিমুক্ত "মহাপুরুষ। তারা সম্যক সম্বুদ্ধের দেশিত সাধনপ্রণালি অনুশীলন করে সর্ব তৃষ্ণ ক্ষয় করেন। এভাবে স্বীয় সাধনাবলে অর্হত্ব ফল লাভ করে তারা বুদ্ধ দহন। প্রত্যেকবুদ্ধ জীবনাবসানে নির্বাণ লাভ করে পুনর্জন্ম রোধ করেন। বুদ্ধগণের সাধনালব্ধ জ্ঞান কেবল নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাঁরা
অন্যদের নিকট মুক্তির পথ উন্মোচন করেন না।
শ্রাবক বুদ্ধ হলো সম্যকসম্বুদ্ধের অনুশাসন অনুশীলনে পারঙ্গম পুণ্যপুরুষ। একজন সম্যকসম্বুদ্ধের অনেক শিষ্য থাকেন। আবার এই শিষ্যদেরও অনেক শিষ্য থাকেন এবং এসব শিষ্য প্রশিষ্যগণ সম্যকসম্বুদ্ধের নির্দেশিত পথ অনুসরণ করে মুক্তি সাধনায় রত থাকেন। এদের মধ্যে অনেকে অর্হত্ব ফল লাভ করেন। ফলে তারা জন্মগ্রহণ করে দুঃখ ভোগ করবেন, না এবং তারা নির্বাণগামী। এরূপ বিমুক্ত পুরুষকে বলা হয় শ্রাবক বুদ্ধ।
বুদ্ধবংস' নামক গ্রন্থের বিবরণ অনুযায়ী গৌতম বুদ্ধই হলেন সর্বশেষ সম্যক সম্বুদ্ধ। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা আড়াই হাজার বছরেরও আগে থেকে গৌতম বুদ্ধ প্রচারিত ধর্মপালন করে আসছেন এবং তারই প্রতিমূর্তি অথবা ছবি সামনে রেখে বৌদ্ধরা উপাসনা করেন। কারণ সর্বশেষ সম্যকসম্বুদ্ধরূপে তিনি মানুষের দুঃখমুক্তি ও তৃষ্ণাক্ষয়ের পথ প্রদর্শন করেছেন, নির্বাণ লাভের উপায় নির্দেশ করে গেছেন। তিনি ভবিষদ্বাণী করেছেন, আর্য মৈত্রের নামে আর একজন সম্যক সম্বুদ্ধ পৃথিবীতে আবির্ভূত হবেন। এভাবে সময়ের স্রোতে দশ পারমী পূর্ণ করে অনন্তকালের ব্যবধানে একেকজন বুদ্ধের আবির্ভাব হয়।
বোধিসত্ত্ব সাধনা অত্যন্ত দুষ্কর। কঠোর তপস্যা ও চরম আত্মত্যাগের দৃঢ় চেতনায় প্রত্যয়াবদ্ধ হয়েই বোধিসত্ত্বের সাধনা করতে হয়। মানুষ সহজে বোধিসত্ত্বব্রত অনুশীলন করতে না পারার কারণ হলো মানুষের সহজাত স্বার্থচিন্তা মানুষকে সহজ প্রাপ্তির দিকে ধাবিত করে।
সর্বসত্তার কল্যাণব্রত নিয়ে বোধিচিত্ত সাধনার অনুসরণকারীকে সম্যক সম্বোধিসত্ত্ব বলে। তারা সাধনার পূর্ণতায় সম্যক সম্বুদ্ধ হন। যেমন গৌতম বুদ্ধ একজন সম্যক সম্বুদ্ধ। সম্যক সম্বোধিসত্ত্বগণ সর্বজীবের মুক্তির মাধ্যমেই নিজের মুক্তির প্রত্যাশা করেন। এভাবেই তারা পারমী অনুশীলন করেন।
যে বোধিসত্ত্ব লক্ষ্য অর্জনে প্রজ্ঞাসাধনাকে সর্বাগ্রে স্থান দেয় তাঁকে প্রজ্ঞাধিক বোধিসত্ত্ব বলে।এ স্তরের বোধিসত্ত্বগণ প্রজ্ঞা পারমীর অনুশীলনের মাধ্যমে স্বীয় চিত্তকে নিয়ন্ত্রণে এনে ক্রমে অন্য পারমীর পূর্ণতাসাধন করেন। এরূপ বোধিসত্ত্বগণ সর্বক্ষেত্রে বিশ্লেষণধর্মী হন। তারা প্রজ্ঞার আলোকে প্রত্যেকটি বিষয় বিচার-বিশ্লেষণ করেন। অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে গৃহীত সিদ্ধান্তের - আলোকে তাঁরা স্বীয় পথপরিক্রমায় অগ্রসর হন।
যে বোধিসত্ত্ব লক্ষ্য অর্জনে শ্রদ্ধাকেই সর্বাগ্রে স্থান দেন তাকে শ্রদ্ধাধিক বোধিসত্ত্ব বলে। এ স্তরের বোধিসত্ত্বগণ শ্রদ্ধার সঙ্গে ক্রমান্বয়ে সকল পারমীর পূর্ণ করেন। শ্রদ্ধাধিক বোধিসত্ত্বগণ নিবেদিত প্রাণ সাধক হন
যে বোধিসত্ত্ব লক্ষ্য অর্জনে কর্ম প্রচেষ্টাকেই সর্বাগ্রে স্থান দেন তাকে বীর্যাধিক বোধিসত্ত্ব বলে। এ স্তরের বোধিসত্ত্বগণ বীর্য পারমীর অনুশীলনের মাধ্যমে স্বীয়- চিত্তকে নিয়ন্ত্রণে এনে ক্রমে অন্য পারমীর পূর্ণতা সাধন করেন। 'বীর্য' শব্দের অর্থ হলো বীরত্ব, কর্মশক্তি ইত্যাদি। প্রবল উৎসাহ ও সম্যক প্রচেষ্টার মাধ্যমে কঠিন ব্রত সম্পাদন করাই হচ্ছে বীর্য পারমী। বীর্যাধিক বোধিসত্ত্বগণ কঠিন সাধনা ব্রতের অনুরাগী হন। তারা কঠোর সাধনায় নিয়োজিত থাকেন। বীর্য পারমীর বলে মহীয়ান হয়ে তারা সাধনায় অটল থাকেন।
বুদ্ধ ও বোধিসত্ত্ব এক নয়। এদের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। বুদ্ধ ও বোধিসত্ত্বের মধ্যে চিত্তের অবস্থা সংক্রান্ত পার্থক্য হলো- বুদ্ধগণ স্থিত চিত্তের অধিকারী। লোভ, দ্বেষ, মোহ, নিন্দা, প্রশংসা ইত্যাদির অনেক ঊর্ধ্বে তাঁদের অবস্থান। তাঁরা বিমুক্ত মহাপুরুষ। অপরদিকে বোধিসত্ত্বগণের চিত্তাচঞ্চল্য ঘটতে পারে। বুদ্ধদের মতো তারা বিমুক্ত মহাপুরুষ নন। ভবিষ্যতে বুদ্ধ হওয়াই তাঁদের সাধনার প্রধান লক্ষ্য।
অমরাবতীর নগরবাসী বুদ্ধের যাতায়াতের জন্য রাস্তা মেরামতে ব্যস্ত ছিলেন। নির্ধারিত সময়ে বুদ্ধ উপস্থিত হলেও রাস্তা মেরামতের কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় উপায়ন্ত না দেখে সুমেধ তাপস শ্রদ্ধাভরে সেই কাদাভরা রাস্তার উপর শুয়ে বুদ্ধকে শরীরের উপর দিয়ে যেতে অনুরোধ করেন।
দীপঙ্কর বুদ্ধের কাছে সুমেধ তাপস ভবিষ্যতে সম্যক সম্বুদ্ধ হওয়ার বিষয়ে আশীর্বাদ চেয়েছিলেন।
সুমেধ তাপস হলেন অমরাবতী নগরের একজন বুদ্ধ ভক্ত। যিনি বুদ্ধ হওয়ার জন্য দীপঙ্কর বুদ্ধের কাছে প্রার্থনা করেন। মূল কথা হলো- সুমেধ তাপস ছিলেন বোধিসত্ত্ব। সুমেধ তাপস জন্মে জন্মে বোধিসত্ত্বরূপে পরিচিত ছিলেন। দীপংকর বুদ্ধের নিকট হতে বুদ্ধ হবার আশীর্বাদ লাভ করার পর হতে তিনি 'বোধিসত্ত্ব' বা ভাবী বুদ্ধ নামে অভিহিত হন। এরপর থেকে তিনি বুদ্ধ হবার জন্য জন্ম-জন্মান্তর কঠোরভাবে সাধনা করতে থাকেন।
বুদ্ধ ও বোধিসত্ত্বের মধ্যে চিত্তের অবস্থা সংক্রান্ত পার্থক্য হলো-বুদ্ধগণ স্থিত চিত্তের অধিকারী। লোভ, দ্বেষ, মোহ, নিন্দা, প্রশংসা ইত্যাদির অনেক ঊর্ধ্বে তাঁদের অবস্থান। তাঁরা বিমুক্ত মহাপুরুষ। বোধিসত্ত্বগণের চিত্তচাঞ্চল্য ঘটতে পারে। বুদ্ধদের মতো তাঁরা বিমুক্ত মহাপুরুষ নন। ভবিষ্যতে বুদ্ধ হওয়াই তাঁদের সাধনার প্রধান লক্ষ্য।
দশ পারমীর সাধনা পূর্ণ করেই বুদ্ধত্ব অর্জিত হয়। বুদ্ধগণ সর্ব তৃষ্ণামুক্ত বলে পরিনির্বাণ লাভ করেন। বোধিসত্ত্বগণের পারমী চর্যা অনন্ত জন্মের কর্মপ্রচেষ্টায় গতিশীল হয়। বোধিসত্ত্ব অবস্থায় কারো পক্ষে নির্বাণ লাভ সম্ভব নয়।
Related Question
View Allজাতিস্মর জ্ঞান হলো পূর্ব জন্মবৃত্তান্ত স্মরণ করতে পারা।
বোধিসত্ত্ব সাধনা অত্যন্ত দুষ্কর।
কঠোর তপস্যা ও চরম আত্মত্যাগের দৃঢ় চেতনায় প্রত্যয়াবদ্ধ হয়েই বোধিসত্ত্বের সাধনা করতে হয়। মানুষ সহজে বোধিসত্ত্বব্রত অনুশীলন করতে না পারার কারণ হলো মানুষের সহজাত স্বার্থচিন্তা মানুষকে সহজ প্রাপ্তির দিকে ধাবিত করে।
বিজয় বড়ুয়ার সাথে দীপঙ্কর সম্যক সম্বুদ্ধের সময়ে গৌতম বুদ্ধ বোধিসত্ত্ব সাধনায় অমরাবতী নগরে সুমেধ তাপস নামে রত ছিলেন যিনি তাঁর সাথে মিল রয়েছে।
উদ্দীপকে বিজয় বড়ুয়া মার্গলাভী এক ভিক্ষুর জঙ্গলে ধ্যান করতে যাবেন বলে তিনি আগেই সেখানে পৌঁছে অনেক কষ্টে জঙ্গল পরিষ্কার করেন। সুন্দর একটি আসনের ব্যবস্থাসহ বহুদূর গিয়ে লোকালয়ে পিন্ডাচরণের সুযোগ করে দিলেন। যেমনটি করেছেন সুমেধ তাপস।
লক্ষকল্প বছর আগে দীপঙ্কর বুদ্ধ সশিষ্য অমরাবতী নগরে নিমন্ত্রিত হয়েছিলেন। কিন্তু অমরাবতী নগর ধনধান্যে পরিপূর্ণ হলেও এর যোগাযোগ ব্যবস্থা তেমন উন্নত ছিল না এবং তখন ছিল বর্ষাকাল যার ফলে রাস্তাঘাট ছিল কর্দমাক্ত। নগরবাসীগণ বুদ্ধের যাতায়াতের জন্য রাস্তা মেরামতে ব্যস্ত ছিলেন। সুমেধ তাপসও সবার সাথে এ কাজে অংশ নিলেন। এদিকে বুদ্ধের আগমনের সময় হলো কিন্তু রাস্তার কাজ তখনো শেষ হয়নি। এরই মধ্যে দীপঙ্কর বুদ্ধ এসে পড়েছেন। আর মাত্র কয়েক হাত বাকি। তাই সুমেধ তাপস উপায় না দেখে নিজেই শ্রদ্ধাভরে সেই কাদাভরা রাস্তায় শুয়ে পড়লেন এবং অত্যন্ত বিনীতভাবে দীপঙ্কর বুদ্ধকে অনুরোধ করলেন তার শায়িত দেহের উপর দিয়ে যাওয়ার জন্য।
বিজয় বড়ুয়া যে কোনো এক জন্মে শ্রাবক বুদ্ধ হওয়ার যোগ্য বলে আমি মনে করি।
শ্রাবক বুদ্ধ হলো সম্যক সম্বুদ্ধের অনুশাসন অনুশীলনে পারঙ্গম পুণ্যপুরষ। একজন সম্যক সম্বুদ্ধের অনেক শিষ্য থাকেন এবং এই শিষ্যদেরও অনেক শিষ্য থাকেন। এসব শিষ্য ও প্রশিষ্যগণ সম্যক সম্বুদ্ধের নির্দেশিত পথ অনুসরণ করে মুক্তি সাধনায় রত থাকেন। এদের মধ্যে অনেকে অর্হত ফল লাভ করেন অর্থাৎ তাঁরা আর জন্মগ্রহণ করে দুঃখভোগ করবেন না। তাঁরা নির্বাণগামী। এরূপ বিমুক্ত মহাপুরুষকে বলা হয় শ্রাবকবুদ্ধ।
উদ্দীপকের বিজয় বড়ুয়া ত্রিরত্নের সেবক। তিনি সর্বদা কুশল কর্মে রত থাকতেন এবং ভিক্ষুদের ধর্ম দেশনা শ্রদ্ধার সাথে শ্রবণ করতেন যা তাঁকে শ্রাবক বুদ্ধের মর্যাদা দানে সহায়তা করে। সম্যক সম্বুদ্ধের ধর্ম ও দর্শন অনুশীলনের শীর্ষে অবস্থান করেন শ্রাবক বুদ্ধগণ।
পরিশেষে বলা যায়, জীব জগতের কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত রাখেন এবং অন্যদের নির্বাণ লাভে সহায়তা করেন। বিজয় বড়ুয়ার মধ্যে এ বৈশিষ্ট্য থাকায় তিনি কোনো এক জন্মে শ্রাবক বুদ্ধ হওয়ার যোগ্য।
জগতে বুদ্ধের আবির্ভাব অত্যন্ত দুর্লভ।
বুদ্ধের গুণ অসীম যা অর্জন করা সাধারণের পক্ষে সম্ভব নয়।
বুদ্ধের এই অসীম গুণরাশির গুরুত্ব উপলব্ধি করাও কঠিন। বুদ্ধের গুণাবলির যেকোনো একটি গুণ যার পক্ষে অর্জন সম্ভব, কেবল তিনিই এ গুণের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে সমর্থ হন। এজন্যই বলা হয় বুদ্ধগুণ অচিন্তনীয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!