Voice of people is the voice of God" উক্তিটি জ্যাঁ জ্যাঁক রুশোর।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allগণতন্ত্র হলো জনগণের শাসন যা পরিচালিত হয় জনমতের ভিত্তিতে। গণতন্ত্রে সরকার জনমতকে উপেক্ষা করে শাসনকার্য পরিচালনা করতে পারে না। বর্তমান গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় আইন প্রণয়ন, সরকারের নিয়ন্ত্রণ, ব্যক্তিস্বাধীনতার সংরক্ষণসহ সকল কাজে জনমতের ভূমিকা দেখা যায়। এজন্য জনমতকে গণতন্ত্রের ভিত্তি বলা হয়।
উদ্দীপকের সমস্ত আবহে জনমতের ভূমিকা সম্পর্কে বলা হয়েছে। জনমত যেকোনো বিষয়ের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে। জনমতের চাপে সরকার অনেক কাজ করতে বাধ্য থাকে। উদ্দীপকে গার্মেন্টস কারখানার পরিবেশ উন্নয়নে গড়ে উঠা জনমতের প্রভাবে সরকার এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণে বাধ্য হয়।
সাধারণ অর্থে, জনমত অর্থ সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত। অন্যদিকে পৌরনীতির ভাষায় কোনো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় বিষয়ে প্রভাবশালী যুক্তিসঙ্গত, স্পষ্ট এবং কল্যাণকামী মতামতকে জনমত বলা হয়। জনমত সাধারণ জনগণের বৃহত্তর স্বার্থসংশ্লিষ্ট সুনির্দিষ্ট, জনকল্যাণমূলক এবং যুক্তিভিত্তিক হয়। এটি পরিবর্তনশীল একটি বিষয়। কেননা এখন যা জনমতের পক্ষে কিছুদিন পর এর পক্ষে জনমত নাও থাকতে পারে। আবার যে ইস্যু নিয়ে এখন জনমত গড়ে উঠেছে, কিছুদিন পরে তার গুরুত্ব নাও থাকতে পারে। পরিবার, সমাজ, গণমাধ্যম, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল, সাহিত্য, সভা সমাবেশ জনমত গঠনের পক্ষে কাজ করে। বর্তমানকালের ইন্টারনেটভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো (যেমন- facebook, twitter, blooger প্রভৃতি) জনমত গঠনের এক শক্তিশালী মাধ্যম
জনকল্যাণমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যতগুলো শর্ত আছে, জনমত তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। জনমত সরকারের চলার পথের নির্দেশনা দান করে থাকে। জনমতকে উপেক্ষা করে কোনো কর্মকাণ্ড গ্রহণ করা হলে তা কখনই কার্যকরী ও ফলপ্রসূ হয় না।
গণতন্ত্র হলো জনগণের শাসন। জনগণের জন্য, জনগণ দ্বারা পরিচালিত শাসনব্যবস্থা। বর্তমান বৃহত্তর জনসংখ্যা অধ্যুষিতদেশগুলোর জনগণের পক্ষে প্রত্যক্ষভাবে শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করা অসম্ভব ব্যাপার। পরোক্ষভাবে প্রতিনিধি পাঠিয়ে জনগণ শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করে থাকে। এরূপ শাসনব্যবস্থায় জনগণ সরাসরি কোনো ভূমিকা পালন করতে পারে না। জনগণের মতামতকে সরকার কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমলে আনতে চায় না।
সরকার দলীয় স্বার্থে কিংবা নিজেদের স্বার্থে কোনো কাজ করতে চায় বা বৃহত্তর কোনো কাজ করতে অনীহা প্রকাশ করতে পারে। জনমত এসব কাজগুলো সরকারকে করতে বা না করতে বাধ্য করতে পারে। জনমত জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্রের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে পারে। জনমতের ভিত্তিতেই একটি সরকার অধিকতর জনকল্যাণকামী, কার্যকরী ও ফলপ্রসূভাবে কাজ করতে পারে। জনমতের ভিত্তিতে পরিচালিত শাসনব্যবস্থাই কল্যাণমূলক শাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারে।
জনমত গঠনের প্রথম ও প্রাথমিক মাধ্যম হলো পরিবার।
পারিবারিক পরিবেশে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে দেশ-বিদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বিষয় সম্পর্কে শিশু জানতে পারে। শিশুরা পিতামাতার বিশ্বাস, রাজনৈতিক দর্শনকে অনুসরণ করতে শেখে। পারিবারিক এ ভিত্তি শিশুরা সারা জীবন বহন করে। এভাবে পরিবার শক্তিশালী জনমতের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রটি বর্তমানে একটি জনবান্ধর রাষ্ট্র। সরকার জনমতের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত আছে। সরকার সবার জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নাগরিকদেরকে সর্বোচ্চ সুযোগ সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে সরকারের তরফ থেকে। জনগণের কল্যাণের জন্য সরকার সব রকমের ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জনসেবা, প্রশাসন, সমাজকল্যাণ সবকিছুই হচ্ছে জনগণকে কেন্দ্র করে। অর্থাৎ বলা যায়, 'ক' রাষ্ট্রটি একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র। কিন্তু এ অবস্থা একদিনে হয় নি। সরকারের স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, খামখেয়ালিপনা ইত্যাদির বিরুদ্ধে জনগণ আন্দোলন-সংগ্রাম করে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে এনেছে। আর এরূপ অবস্থা ফিরিয়ে আনতে জনমতের ভূমিকা ছিল সবচেয়ে বেশি। জনমতের চাপে পড়েই সরকার এরূপ অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে মানসম্পন্ন গণতন্ত্রে পদার্পণ করেছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!