"কী পুরস্কার চাস তুই বল"- এ কথাটি রাজা বলেছিল সুকণ্ঠী কোকিলকে। চীন দেশে ছিল এক সুকণ্ঠী কোকিল। একদিন রাজদরবারে তাকে ডেকে গান শুনে সকলে মুগ্ধ হয়ে সোনার খাঁচায় তাকে রেখে দিল। পরে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হয় এক কলের কোকিল এবং সকলে তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়। কলের কোকিলের প্রশংসায় অবহেলিত আসল কোকিল সকলের অগোচরে রাজপ্রাসাদ ছেড়ে গেল। কিন্তু একসময় কলের কোকিলের তার ছিঁড়ে যায় এবং মেরামত করা হলেও আর আগের মতো বাজে না। রাজ্যে হাহাকার পড়ে। একসময় রাজা ভীষণ অসুস্থ হন। মৃত্যুভীতি বা মৃত্যুর দূত তার বুকে চেপে বসেছে। রাজা এমন অবস্থায় কলের কোকিলকে গান গাইতে রলেন। কিন্তু কলের কোকিলের কণ্ঠে তো আর দম না দিলে একা একা গাইতে পারে না। সে চুপ করেই রইল। ঠিক সে সময় জানালার বাইরে গান গেয়ে উঠল ছোট্ট সেই কোকিল অপূর্ব সুরে। রাজ্যের দুর্দিনে রাজার প্রাণ রক্ষা করতে এসেছে কোকিল। কোকিলের গান শুনে মৃত্যুর দূতও চলে গেল। রাজা পেলেন নতুন জীবন, নতুন উৎসাহ। সেই প্রসঙ্গেই রাজা কোকিলের প্রশস্তি করেছেন এবং তাকে পুরষ্কার দিতে চেয়েছেন। রাজা তাঁর জীবন বাঁচানোর প্রতিদানে কোকিল কী পুরস্কার চায় সেটা প্রশ্নের মাধ্যমে জানতে চেয়েছেন।
'কোকিল' গল্পটি একটি কল্পনানির্ভর লেখা। তাই সহজাতভাবেই এর বিষয়বস্তু বাস্তবানুগ নয়। এ গল্পে চীন দেশের সমুদ্র পাড়ের এক বনে' অদ্ভুত এক কোকিলের কথা বিবৃত হয়েছে যার তুলনা নেই দুনিয়ায়। এত চমৎকার মধুর সুরে সে গান গায় যে, জেলে কাজ ফেলে গান শোনে, পণ্ডিতরা হাজার পাতা ভরিয়ে পাখির প্রশংসা লিখে শেষ করতে পারেন না, করি তাকে নিয়ে কবিতা লেখেন। অথচ চীন সম্রাট নিজেই তাঁর দেশের এই কোকিলের কথা জানেন না, নামও শোনেননি। বিষয়টি অদ্ভুত। কিন্তু এটা কল্পনানির্ভর কল্পকাহিনি বা উপকথা। সুতরাং এটা এখানে অসম্ভব নয়। রাজার প্রধান অমাত্য চরিত্রটিও অদ্ভুত, তার নিম্নস্থ কেউ কখনো কোনো প্রশ্ন করলে তিনি শুধু বলেন, 'পি!', যার কোনো মানে হয় না। আবার কোকিল পাখিটি চিনল রাঁধুনির ঝি, কিন্তু রাজা ও রাজ-অমাত্যরা কেউ জানেন না! পরে রাজসভায় কোকিলকে এনে গান শোনেন রাজা এবং গান শুনে তাঁর চোখ আনন্দ অশ্রুতে ভরে ওঠে। পাখিকে সোনার খাঁচায় রেখে রাজা, গান শোনেন।
একদিন জাপান সম্রাটের কাছ থেকে মস্ত এক পার্সেল আসে, যার মধ্যে ছিল এক কলের কোকিল। এই কোকিল হিরে-জহরতে সজ্জিত, একটানা গৎবাঁধা গান গায়, ক্লান্ত হয় না। রাজা সবাইকে নিমন্ত্রণ করে এই পাখির গান শোনালেন। সংগীতবিশারদ বললেন, তালে লয়ে সুরে মানে একেবারে নিখুঁত। আসল কোকিল নির্বাসিত হলো দেশ থেকে। নকল পাখি রইল রাজার হালে সম্রাটের কাছে। বছর খানেক পরে কলের পাখি হঠাৎ বিকল হয়ে যায় এবং মেরামত করা সম্ভব হয় না। এর পাঁচ বছর পর সম্রাটের যখন ভীষণ অসুখ, মৃত্যু সম্রাটের বুকের ওপর, তখন সম্রাট বলে ওঠেন 'গান! গান!' কলের পাখি তো নিশ্চুপ। এদিকে জানালার বাইরে গাছের ডাল থেকে ভেসে এলো গানের সুর। আসল কোকিল সম্রাটকে গান শোনাল। অসুস্থ রাজাকে একটু শান্তি ও ভালোবাসা দিতে এসেছে সে। মৃত্যুও সেই গান কান পেতে শুনে মুগ্ধ হলো এবং আরও গান শোনার বিনিময়ে সম্রাটকে জীবন দান করে চলে গেল।
কল্পনানির্ভর এই গল্পটিতে প্রাকৃতিক পাখিটির গুরুত্ব রাজা শেষে বুঝতে পেরেছেন। কিন্তু হিরা-জহরতে সজ্জিত পাখি যতই জমকালো হোক সেটি যন্ত্র মাত্র, নকল পাখি। বনের প্রকৃত পাখির তুলনা তো আসলে সে নিজেই। এই পাখিটি সুখী-দুঃখী, গরিব-চাষা, জেলে সকলের কাছে যায়, সবার খবর জানে। তার মধ্যে জীবিত সত্তা আছে, হৃদয় আছে, তাই সে রাজার অসুস্থতার সময়ে এসেছে। পাখিটা তার বুদ্ধি ও গান দিয়ে মৃত্যুকেও তাড়িয়ে দিয়েছে। আসলে যন্ত্র আর সত্যিকারের প্রাণের কখনো তুলনা হয় না।
Related Question
View Allমহাকবি কালিদাসের বিখ্যাত গ্রন্থের নাম- মেঘদূত।
কলের কোকিল আগের মতো বাজে না বলে রাজ্যে হাহাকার পড়ে গেল।
কোকিল' গল্পে আসল কোকিলের গান শুনে রাজা মুগ্ধ হয়ে তাকে রাজপ্রাসাদে সোনার খাঁচায় রেখে দেন। তখন কলের কোকিল তার প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে। সবাই কলের কোকিলের প্রশংসা করলে আসল কোকিল অবহেলার শিকার হয়ে রাজপ্রাসাদ ত্যাগ করে চলে যায়। এরই মধ্যে কলের কোকিলের তার ছিঁড়ে যায়। তাকে মেরামত করা হলেও আগের মতো তা আর টানা বাজে না। এ কারণে রাজ্যে হাহাকার পড়ে গেল।
উদ্দীপকের বিষয়টি 'কোকিল' গল্পের আসল কোকিলের জন্য সোনার খাঁচা এবং কলের কোকিলের গৎ বাঁধা সুরের সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।
জগতের সবকিছুই নিয়মের মধ্যে চলে। অনিয়ম হলেই সমস্যা দেখা দেয়। তাই যার যেখানে স্থান সেখানে থাকলেই নিয়ম রক্ষা হয় এবং সে ভালো থাকে।
উদ্দীপকে টুনটুনির বাসা তৈরির পদ্ধতি ও 'বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে। এখানে হিংস্র জন্তুর আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য টুনটুনির বিশেষ পদ্ধতিতে বাসা তৈরির কথা বলা হয়েছে। এ দিকটি 'কোকিল' গল্পে বনের কোকিল রাজপ্রাসাদে সোনার খাঁচায় পুরে রাখার সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ। কারণ বনের পাখিকে খাঁচায় রাখলে তার সৌন্দর্য নষ্ট হয়। অন্যদিকে কলের পাখিকে চাবি দিয়ে যে সুর পাওয়া যায় তা কোকিলের আসল সুর নয়, নকল সুর।
"যন্ত্রের চাকচিক্য সবসময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বিকল্প হয় না।"-উদ্দীপক ও 'কোকিল' গল্পের আলোকে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করা হলো।
যেকোনো বস্তু বা প্রাণী তার উপযুক্ত পরিবেশেই বেশি সুন্দর। যদি এর বিঘ্ন ঘটে তবে সেটির প্রকৃত সৌন্দর্য প্রকাশ পায় না এবং সেটির গুরুত্ব কমে যায়।
উদ্দীপকে টুনটুনির বাসা তৈরির বিষয়টি আলোচনা করা হয়েছে। এখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রকাশ লক্ষ করা যায়। এ বিষয়টি 'কোকিল' গল্পের আসল কোকিলের জন্য সোনার খাঁচা এবং কলের কোকিলের নির্দিষ্ট করা সুর শুনে প্রশংসার সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ। কারণ উভয়ই প্রকৃতির সম্পর্কচ্যুত। তাতে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রকাশ লক্ষ করা যায় না।
'কোকিল' গল্পে বনের কোকিল রাজপ্রাসাদ ত্যাগ করার পর কলের কোকিলের তার ছিড়ে যায়। তাকে মেরামত করলেও আগের মতো সেটি বাজে না। ফলে রাজা অসুস্থ হয়ে পড়লেও তাকে সুস্থ করার জন্য কোনো সুর কলের কোকিল শোনাতে পারে না। তখন আসল কোকিল এসে মধুর সুরে গান শুনিয়ে রাজাকে সুস্থ করে তোলে। আসল কোকিল এখানে প্রকৃতির সৌন্দর্য চেতনার প্রতীক। যার সঙ্গে উদ্দীপকের টুনটুনির বাসা বানানো ও জীবনযাপন একসূত্রে গাঁথা। এদিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
'কোকিল' একটি রূপকথাধর্মী গল্প।
কলের কোকিলের প্রশংসায় অবহেলিত হয়ে আসল কোকিল রাজপ্রাসাদ ত্যাগ করে।
রাজা আসল কোকিলকে রাজসভায় ডেকে পাঠান। কোকিল সেখানে গান করে রাজাকে মুগ্ধ করে। রাজা খুশি হয়ে তাকে রাজসভায়ই সোনার খাঁচায় পুরে রাখেন। সেখানে এক কলের কোকিল তার প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে। তার গৎ বাঁধা কণ্ঠ ও সুর শুনে সবাই প্রশংসা করে আর আসল কোকিলকে অবহেলা করতে থাকে। তাতে আসল কোকিল কষ্ট পেয়ে সোনার খাঁচা থেকে বের হয়ে রাজপ্রাসাদ ত্যাগ করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
