উত্তরঃ
বাংলাদেশে পরিবেশ-বান্ধব পর্যটন (ইকো-ট্যুরিজম) প্রসারে ব্যাংকিং খাতের ভূমিকা
ভূমিকাঃ বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ একটি দেশ। পাহাড়, নদী, বনভূমি, সমুদ্রসৈকত, হাওর, বিল, জলাভূমি, চা-বাগান, ম্যানগ্রোভ বন ও জীববৈচিত্র্য সব মিলিয়ে এখানে পরিবেশবান্ধব পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। সুন্দরবন, কক্সবাজার, সেন্ট মার্টিন, রাতারগুল, টাঙ্গুয়ার হাওর, সাজেক, নীলগিরি, লাউয়াছড়া, মাধবকুণ্ড ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করে। কিন্তু অপরিকল্পিত পর্যটন, প্লাস্টিক বর্জ্য, বন উজাড়, শব্দদূষণ, পাহাড় কাটা, অবৈধ স্থাপনা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে এসব পর্যটনকেন্দ্রের পরিবেশ ক্রমেই ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এ অবস্থায় এমন পর্যটনব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন, যা প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা করবে, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর আয় বাড়াবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করবে। এই ধারণাই পরিবেশবান্ধব পর্যটন বা ইকো-ট্যুরিজম নামে পরিচিত। ইকো-ট্যুরিজম প্রসারে সরকার, স্থানীয় জনগণ, পর্যটন ব্যবসায়ী ও উন্নয়ন সংস্থার পাশাপাশি ব্যাংকিং খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। কারণ পরিবেশসম্মত অবকাঠামো নির্মাণ, ক্ষুদ্র উদ্যোজা সৃষ্টি, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার এবং স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশের জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত ও সহজলভ্য অর্থায়ন।
পরিবেশবান্ধব পর্যটনের ধারণা ও গুরুত্বঃ পরিবেশবান্ধব পর্যটন বলতে এমন দায়িত্বশীল ভ্রমণব্যবস্থাকে বোঝায়, যেখানে প্রাকৃতিক পরিবেশ, বন্য প্রাণী, স্থানীয় সংস্কৃতি ও সামাজিক মূল্যবোধ সংরক্ষণ করা হয়। সাধারণ পর্যটনের উদ্দেশ্য মূলত বিনোদন হলেও ইকো-ট্যুরিজমের উদ্দেশ্য বিনোদনের পাশাপাশি প্রকৃতি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কল্যাণ নিশ্চিত করা। এই পর্যটনব্যবস্থায় বড় আকারের কংক্রিট স্থাপনার পরিবর্তে পরিবেশসম্মত ছোট আবাসন, সৌরবিদ্যুৎ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, বর্জ্য পুনর্ব্যবহার, স্থানীয় খাদ্য ও পণ্যের ব্যবহার এবং সীমিত সংখ্যক পর্যটক গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশের জন্য এর গুরুত্ব আরও বেশি। পরিবেশবান্ধব পর্যটন প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য হ্রাস, নারীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ এবং অংশগ্রহণ এবং স্থানীয় ঐতিহ্যের বিকাশে সহায়তা করতে পারে। স্থানীয় মানুষ যখন পর্যটন থেকে সরাসরি আর্থিক সুবিধা পায়, তখন তারা বন, পাহাড়, নদী ও বন্য প্রাণী রক্ষায় বেশি আগ্রহী হয়। ফলে পরিবেশ ও অর্থনীতির মধ্যে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় ব্যাংকিং খাত অর্থের জোগানদাতা, বিনিয়োগ পরামর্শক এবং পরিবেশসম্মত ব্যবসার নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করতে পারে।
পরিবেশসম্মত পর্যটন অবকাঠামোয় অর্থায়নঃ ইকো-ট্যুরিজম বিকাশের জন্য পরিবেশসম্মত আবাসন, নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানির সুবিধা, স্বাস্থ্যসম্মত পয়োনিষ্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সৌরবিদ্যুৎ এবং প্রকৃতিনির্ভর বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলা প্রয়োজন। এসব স্থাপনা নির্মাণে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হয়, যা অধিকাংশ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তার পক্ষে নিজস্ব অর্থে বহন করা সম্ভব নয়। ব্যাংকগুলো স্বল্পসুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ প্রদান করে পরিবেশবান্ধব কটেজ, স্থানীয় উপকরণে নির্মিত অতিথিশালা, সৌরচালিত নৌযান, বিদ্যুৎসাশ্রয়ী হোটেল এবং বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র গড়ে তুলতে সহায়তা করতে পারে। তবে ঋণ দেওয়ার আগে প্রকল্পটির পরিবেশগত প্রভাব যাচাই করা জরুরি। পাহাড় কেটে রিসোর্ট নির্মাণ, বনভূমি দখল, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করা কিংবা জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করে এমন প্রকল্পে ব্যাংকের অর্থায়ন করা উচিত নয়। বরং বাঁশ, কাঠ, মাটি ও স্থানীয় পরিবেশসম্মত উপকরণ ব্যবহারকারী এবং প্রাকৃতিক ভূমিরূপ অক্ষুণ্ণ রাখে এমন প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। ব্যাংকগুলো পরিবেশসম্মত পর্যটন প্রকল্পের জন্য আলাদা ঋণনীতি, কম সুদের হার, দীর্ঘ পরিশোধকাল এবং প্রাথমিক কিস্তি পরিশোধে বিশেষ সুবিধা চালু করতে পারে। এতে উদ্যোক্তারা শুধু লাভের কথা নয়, পরিবেশ সংরক্ষণের কথাও বিবেচনা করতে উৎসাহিত হবে।
ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উন্নয়নঃ পরিবেশবান্ধব পর্যটনের সাফল্য অনেকাংশে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণের ওপর নির্ভর করে। পর্যটনকেন্দ্রের আশপাশের মানুষকে বাদ দিয়ে বড় কোম্পানিনির্ভর পর্যটন গড়ে উঠলে স্থানীয় জনগণ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয় না। বরং তারা ভূমি হারানো, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং সাংস্কৃতিক চাপের শিকার হতে পারে। ব্যাংকিং খাত স্থানীয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ দিয়ে এই সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখতে পারে। স্থানীয় মানুষ পরিবেশবান্ধব আবাসন, নৌভ্রমণ, পাহাড়ি পথনির্দেশনা, হস্তশিল্প, স্থানীয় খাবারের দোকান, সাইকেল ভাড়া, তাঁবু সরবরাহ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং পর্যটন পরিবহনসেবা পরিচালনা করতে পারে। কিন্তু জামানতের অভাব ও ব্যাংকিং প্রক্রিয়া সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে তারা সাধারণত প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ পায় না। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো জামানতবিহীন ক্ষুদ্রঋণ, দলভিত্তিক ঋণ, নারী উদ্যোক্তা ঋণ এবং বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা দিতে পারে। একই সঙ্গে ঋণ গ্রহণ, হিসাবরক্ষণ, সঞ্চয়, অনলাইন লেনদেন ও ব্যবসা পরিচালনার প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন। স্থানীয় জনগণের আয় বৃদ্ধি পেলে তারা প্রকৃতি ধ্বংস করে জীবিকা অর্জনের পরিবর্তে পরিবেশ সংরক্ষণমূলক পর্যটন ব্যবসায় যুক্ত হবে। এর ফলে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং পর্যটনের আয় স্থানীয় পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়বে।
সবুজ ব্যাংকিং ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারঃ পরিবেশবান্ধব পর্যটনের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদের দায়িত্বশীল ব্যবহার। প্রত্যন্ত পর্যটন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য অনেক সময় ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করা হয়, যা শব্দদূষণ ও বায়ুদূষণ সৃষ্টি করে। ব্যাংকগুলো সৌরবিদ্যুৎ, বায়োগ্যাস, সৌরচালিত পানি উত্তোলনব্যবস্থা, শক্তিসাশ্রয়ী শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র এবং বিদ্যুৎসাশ্রয়ী বাতি স্থাপনে সবুজ ঋণ দিতে পারে। পর্যটনকেন্দ্রের নৌযান ও পরিবহনব্যবস্থায় কম দূষণকারী প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্যও অর্থায়ন করা সম্ভব। হোটেল ও রিসোর্টে বৃষ্টির পানি ধরে রাখা, ব্যবহৃত পানি পরিশোধন, জৈব বর্জ্য থেকে সার তৈরি এবং প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের প্রকল্পে ব্যাংক সহায়তা করতে পারে। সবুজ ব্যাংকিংয়ের অংশ হিসেবে ব্যাংক নিজস্ব ঋণনীতিতে পরিবেশগত মানদণ্ড যুক্ত করতে পারে এবং পরিবেশবান্ধব প্রকল্পকে সাধারণ প্রকল্পের তুলনায় আর্থিক সুবিধা দিতে পারে। যেমনঃ কম সুদ, কম প্রক্রিয়াকরণ ফি, দ্রুত ঋণ অনুমোদন এবং ভালো পরিবেশগত ফলাফলের জন্য সুদে ছাড়। এ ধরনের প্রণোদনা পর্যটন ব্যবসায়ীদের পরিবেশসম্মত প্রযুক্তি গ্রহণে উৎসাহিত করবে। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলো পরিবেশবান্ধব পর্যটন তহবিল বা সবুজ বিনিয়োগ তহবিল গঠন করে দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পে অর্থায়ন করতে পারে।
ডিজিটাল ব্যাংকিং ও নিরাপদ পর্যটন অর্থনীতিঃ ডিজিটাল ব্যাংকিং পরিবেশবান্ধব পর্যটন প্রসারে একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক শক্তি। বাংলাদেশের অনেক আকর্ষণীয় পর্যটন এলাকা শহর থেকে দূরে অবস্থিত, যেখানে ব্যাংকের শাখা বা নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনার সুবিধা সীমিত। মোবাইল আর্থিক সেবা, অনলাইন ব্যাংকিং, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেন এবং ক্ষুদ্র ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে পর্যটক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীর মধ্যে সহজ ও নিরাপদ লেনদেন সম্ভব। নগদ অর্থের ব্যবহার কমলে হিসাবের স্বচ্ছতা বাড়ে, চুরি ও প্রতারণার ঝুঁকি কমে এবং পর্যটন ব্যবসার প্রকৃত আয় সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। ব্যাংকগুলো স্থানীয় দোকানদার, নৌকার মাঝি, পথনির্দেশক, হস্তশিল্পী ও ক্ষুদ্র আবাসন পরিচালকদের ডিজিটাল লেনদেনব্যবস্থার আওতায় আনতে পারে। তাদের জন্য সহজ ব্যাংক হিসাব খোলা, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয়, ডিজিটাল ঋণ এবং তাৎক্ষণিক অর্থপ্রদানের সুযোগ সৃষ্টি করা দরকার। অনলাইন বুকিং ও অগ্রিম অর্থপ্রদানের সুবিধা থাকলে পর্যটকদের ভ্রমণ পরিকল্পনা সহজ হয় এবং উদ্যোক্তারা আগাম আয় নিশ্চিত করতে পারে। ডিজিটাল লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ করে ব্যাংকগুলো পর্যটন ব্যবসায়ীদের ঋণযোগ্যতা নির্ধারণ করতে পারে। ফলে যাদের প্রচলিত জামানত নেই, তারাও নিয়মিত লেনদেনের ভিত্তিতে ঋণ পাওয়ার সুযোগ পাবে।
ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, বিমা ও পরিবেশগত জবাবদিহিঃ বাংলাদেশের পর্যটন খাত বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, পাহাড়ধস, নদীভাঙন, জলোচ্ছ্বাস এবং অতিবৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে উপকূলীয়, হাওর ও পাহাড়ি অঞ্চলের পর্যটন ব্যবসায়ীরা দুর্যোগে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। ব্যাংকিং খাত ঋণের পাশাপাশি দুর্যোগ-সহনশীল বিনিয়োগ, বিমা এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সেবা দিতে পারে। ব্যাংকের সহযোগিতায় পর্যটন উদ্যোক্তাদের জন্য সম্পদ বিমা, দুর্ঘটনা বিমা, ফসল ও স্থানীয় উৎপাদন বিমা এবং দুর্যোগজনিত ব্যবসা বন্ধের ক্ষতিপূরণমূলক বিমা চালু করা যেতে পারে। ব্যাংক ঋণ দেওয়ার আগে প্রকল্পের অবস্থান, নির্মাণমান, দুর্যোগ সহনশীলতা, পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর প্রভাব মূল্যায়ন করতে পারে। ঋণ গ্রহণের পরও প্রকল্পটি পরিবেশগত শর্ত মানছে কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা উচিত। পরিবেশের ক্ষতি করলে ঋণসুবিধা সীমিত করা এবং ভালো পরিবেশগত কার্যক্রমের জন্য পুরস্কার দেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে পারে। । এতে উদ্যোক্তাদের জবাবদিহি বাড়বে। ব্যাংকগুলো স্থানীয় প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর, পর্যটন কর্তৃপক্ষ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে পরিবেশগত ঝুঁকি নিরূপণ করতে পারে। শুধু লাভজনক হলেই কোনো প্রকল্প অর্থায়নের যোগ্য হবে না; প্রকল্পটি সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য এবং পরিবেশগতভাবে টেকসই কি না, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে।
করণীয় ও উপসংহারঃ বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব পর্যটন প্রসারে ব্যাংকিং খাতের সম্ভাবনা বিশাল, তবে এ জন্য সুস্পষ্ট নীতি ও কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। প্রথমত, ব্যাংকগুলোকে ইকো-ট্যুরিজমের জন্য পৃথক ঋণপণ্য চালু করতে হবে এবং প্রকৃত পরিবেশবান্ধব প্রকল্প চিহ্নিত করার নির্ভরযোগ্য মানদণ্ড তৈরি করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ক্ষুদ্র ও স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য জামানতের শর্ত শিথিল করে সহজ কিস্তি, কম সুদ ও দীর্ঘ পরিশোধকাল দিতে হবে। তৃতীয়ত, নারী, তরুণ ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর উদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। চতুর্থত, ঋণের সঙ্গে প্রশিক্ষণ, আর্থিক শিক্ষা, বিপণন সহায়তা এবং ডিজিটাল লেনদেনের সুবিধা যুক্ত করতে হবে। পঞ্চমত, সৌরবিদ্যুৎ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি সংরক্ষণ এবং পরিবেশসম্মত পরিবহন ব্যবস্থায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি পরিবেশ ধ্বংসকারী হোটেল, রিসোর্ট ও পর্যটন প্রকল্পে ব্যাংকঋণ বন্ধ করা প্রয়োজন। সঠিক পরিকল্পনা ও দায়িত্বশীল অর্থায়নের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাত দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে অর্থনৈতিক সম্পদে রূপান্তর করতে পারে, তবে সেই উন্নয়ন হতে হবে পরিবেশ ও মানুষের স্বার্থ রক্ষা করে। পরিবেশবান্ধব পর্যটন শুধু বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যম নয়; এটি স্থানীয় উন্নয়ন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই অর্থনীতির একটি কার্যকর পথ। তাই বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতকে কেবল অর্থ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং পরিবেশ রক্ষা ও দায়িত্বশীল পর্যটন উন্নয়নের সক্রিয় অংশীদার হিসেবে এগিয়ে আসতে হবে।