Write an Essay in Bangla: বাংলাদেশে পরিবেশ-বান্ধব পর্যটন (ইকো-ট্যুরিজম) প্রসারে ব্যাংকিং খাতের ভূমিকা

Updated: 6 hours ago
উত্তরঃ

বাংলাদেশে পরিবেশ-বান্ধব পর্যটন (ইকো-ট্যুরিজম) প্রসারে ব্যাংকিং খাতের ভূমিকা

ভূমিকাঃ বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ একটি দেশ। পাহাড়, নদী, বনভূমি, সমুদ্রসৈকত, হাওর, বিল, জলাভূমি, চা-বাগান, ম্যানগ্রোভ বন ও জীববৈচিত্র্য সব মিলিয়ে এখানে পরিবেশবান্ধব পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। সুন্দরবন, কক্সবাজার, সেন্ট মার্টিন, রাতারগুল, টাঙ্গুয়ার হাওর, সাজেক, নীলগিরি, লাউয়াছড়া, মাধবকুণ্ড ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করে। কিন্তু অপরিকল্পিত পর্যটন, প্লাস্টিক বর্জ্য, বন উজাড়, শব্দদূষণ, পাহাড় কাটা, অবৈধ স্থাপনা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে এসব পর্যটনকেন্দ্রের পরিবেশ ক্রমেই ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এ অবস্থায় এমন পর্যটনব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন, যা প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা করবে, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর আয় বাড়াবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করবে। এই ধারণাই পরিবেশবান্ধব পর্যটন বা ইকো-ট্যুরিজম নামে পরিচিত। ইকো-ট্যুরিজম প্রসারে সরকার, স্থানীয় জনগণ, পর্যটন ব্যবসায়ী ও উন্নয়ন সংস্থার পাশাপাশি ব্যাংকিং খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। কারণ পরিবেশসম্মত অবকাঠামো নির্মাণ, ক্ষুদ্র উদ্যোজা সৃষ্টি, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার এবং স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশের জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত ও সহজলভ্য অর্থায়ন।

পরিবেশবান্ধব পর্যটনের ধারণা ও গুরুত্বঃ পরিবেশবান্ধব পর্যটন বলতে এমন দায়িত্বশীল ভ্রমণব্যবস্থাকে বোঝায়, যেখানে প্রাকৃতিক পরিবেশ, বন্য প্রাণী, স্থানীয় সংস্কৃতি ও সামাজিক মূল্যবোধ সংরক্ষণ করা হয়। সাধারণ পর্যটনের উদ্দেশ্য মূলত বিনোদন হলেও ইকো-ট্যুরিজমের উদ্দেশ্য বিনোদনের পাশাপাশি প্রকৃতি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কল্যাণ নিশ্চিত করা। এই পর্যটনব্যবস্থায় বড় আকারের কংক্রিট স্থাপনার পরিবর্তে পরিবেশসম্মত ছোট আবাসন, সৌরবিদ্যুৎ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, বর্জ্য পুনর্ব্যবহার, স্থানীয় খাদ্য ও পণ্যের ব্যবহার এবং সীমিত সংখ্যক পর্যটক গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশের জন্য এর গুরুত্ব আরও বেশি। পরিবেশবান্ধব পর্যটন প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য হ্রাস, নারীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ এবং অংশগ্রহণ এবং স্থানীয় ঐতিহ্যের বিকাশে সহায়তা করতে পারে। স্থানীয় মানুষ যখন পর্যটন থেকে সরাসরি আর্থিক সুবিধা পায়, তখন তারা বন, পাহাড়, নদী ও বন্য প্রাণী রক্ষায় বেশি আগ্রহী হয়। ফলে পরিবেশ ও অর্থনীতির মধ্যে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় ব্যাংকিং খাত অর্থের জোগানদাতা, বিনিয়োগ পরামর্শক এবং পরিবেশসম্মত ব্যবসার নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করতে পারে।

পরিবেশসম্মত পর্যটন অবকাঠামোয় অর্থায়নঃ ইকো-ট্যুরিজম বিকাশের জন্য পরিবেশসম্মত আবাসন, নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানির সুবিধা, স্বাস্থ্যসম্মত পয়োনিষ্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সৌরবিদ্যুৎ এবং প্রকৃতিনির্ভর বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলা প্রয়োজন। এসব স্থাপনা নির্মাণে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হয়, যা অধিকাংশ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তার পক্ষে নিজস্ব অর্থে বহন করা সম্ভব নয়। ব্যাংকগুলো স্বল্পসুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ প্রদান করে পরিবেশবান্ধব কটেজ, স্থানীয় উপকরণে নির্মিত অতিথিশালা, সৌরচালিত নৌযান, বিদ্যুৎসাশ্রয়ী হোটেল এবং বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র গড়ে তুলতে সহায়তা করতে পারে। তবে ঋণ দেওয়ার আগে প্রকল্পটির পরিবেশগত প্রভাব যাচাই করা জরুরি। পাহাড় কেটে রিসোর্ট নির্মাণ, বনভূমি দখল, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করা কিংবা জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করে এমন প্রকল্পে ব্যাংকের অর্থায়ন করা উচিত নয়। বরং বাঁশ, কাঠ, মাটি ও স্থানীয় পরিবেশসম্মত উপকরণ ব্যবহারকারী এবং প্রাকৃতিক ভূমিরূপ অক্ষুণ্ণ রাখে এমন প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। ব্যাংকগুলো পরিবেশসম্মত পর্যটন প্রকল্পের জন্য আলাদা ঋণনীতি, কম সুদের হার, দীর্ঘ পরিশোধকাল এবং প্রাথমিক কিস্তি পরিশোধে বিশেষ সুবিধা চালু করতে পারে। এতে উদ্যোক্তারা শুধু লাভের কথা নয়, পরিবেশ সংরক্ষণের কথাও বিবেচনা করতে উৎসাহিত হবে।

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উন্নয়নঃ পরিবেশবান্ধব পর্যটনের সাফল্য অনেকাংশে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণের ওপর নির্ভর করে। পর্যটনকেন্দ্রের আশপাশের মানুষকে বাদ দিয়ে বড় কোম্পানিনির্ভর পর্যটন গড়ে উঠলে স্থানীয় জনগণ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয় না। বরং তারা ভূমি হারানো, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং সাংস্কৃতিক চাপের শিকার হতে পারে। ব্যাংকিং খাত স্থানীয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ দিয়ে এই সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখতে পারে। স্থানীয় মানুষ পরিবেশবান্ধব আবাসন, নৌভ্রমণ, পাহাড়ি পথনির্দেশনা, হস্তশিল্প, স্থানীয় খাবারের দোকান, সাইকেল ভাড়া, তাঁবু সরবরাহ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং পর্যটন পরিবহনসেবা পরিচালনা করতে পারে। কিন্তু জামানতের অভাব ও ব্যাংকিং প্রক্রিয়া সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে তারা সাধারণত প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ পায় না। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো জামানতবিহীন ক্ষুদ্রঋণ, দলভিত্তিক ঋণ, নারী উদ্যোক্তা ঋণ এবং বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা দিতে পারে। একই সঙ্গে ঋণ গ্রহণ, হিসাবরক্ষণ, সঞ্চয়, অনলাইন লেনদেন ও ব্যবসা পরিচালনার প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন। স্থানীয় জনগণের আয় বৃদ্ধি পেলে তারা প্রকৃতি ধ্বংস করে জীবিকা অর্জনের পরিবর্তে পরিবেশ সংরক্ষণমূলক পর্যটন ব্যবসায় যুক্ত হবে। এর ফলে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং পর্যটনের আয় স্থানীয় পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়বে।

সবুজ ব্যাংকিং ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারঃ পরিবেশবান্ধব পর্যটনের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদের দায়িত্বশীল ব্যবহার। প্রত্যন্ত পর্যটন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য অনেক সময় ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করা হয়, যা শব্দদূষণ ও বায়ুদূষণ সৃষ্টি করে। ব্যাংকগুলো সৌরবিদ্যুৎ, বায়োগ্যাস, সৌরচালিত পানি উত্তোলনব্যবস্থা, শক্তিসাশ্রয়ী শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র এবং বিদ্যুৎসাশ্রয়ী বাতি স্থাপনে সবুজ ঋণ দিতে পারে। পর্যটনকেন্দ্রের নৌযান ও পরিবহনব্যবস্থায় কম দূষণকারী প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্যও অর্থায়ন করা সম্ভব। হোটেল ও রিসোর্টে বৃষ্টির পানি ধরে রাখা, ব্যবহৃত পানি পরিশোধন, জৈব বর্জ্য থেকে সার তৈরি এবং প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের প্রকল্পে ব্যাংক সহায়তা করতে পারে। সবুজ ব্যাংকিংয়ের অংশ হিসেবে ব্যাংক নিজস্ব ঋণনীতিতে পরিবেশগত মানদণ্ড যুক্ত করতে পারে এবং পরিবেশবান্ধব প্রকল্পকে সাধারণ প্রকল্পের তুলনায় আর্থিক সুবিধা দিতে পারে। যেমনঃ কম সুদ, কম প্রক্রিয়াকরণ ফি, দ্রুত ঋণ অনুমোদন এবং ভালো পরিবেশগত ফলাফলের জন্য সুদে ছাড়। এ ধরনের প্রণোদনা পর্যটন ব্যবসায়ীদের পরিবেশসম্মত প্রযুক্তি গ্রহণে উৎসাহিত করবে। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলো পরিবেশবান্ধব পর্যটন তহবিল বা সবুজ বিনিয়োগ তহবিল গঠন করে দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পে অর্থায়ন করতে পারে।

ডিজিটাল ব্যাংকিং ও নিরাপদ পর্যটন অর্থনীতিঃ ডিজিটাল ব্যাংকিং পরিবেশবান্ধব পর্যটন প্রসারে একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক শক্তি। বাংলাদেশের অনেক আকর্ষণীয় পর্যটন এলাকা শহর থেকে দূরে অবস্থিত, যেখানে ব্যাংকের শাখা বা নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনার সুবিধা সীমিত। মোবাইল আর্থিক সেবা, অনলাইন ব্যাংকিং, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেন এবং ক্ষুদ্র ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে পর্যটক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীর মধ্যে সহজ ও নিরাপদ লেনদেন সম্ভব। নগদ অর্থের ব্যবহার কমলে হিসাবের স্বচ্ছতা বাড়ে, চুরি ও প্রতারণার ঝুঁকি কমে এবং পর্যটন ব্যবসার প্রকৃত আয় সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। ব্যাংকগুলো স্থানীয় দোকানদার, নৌকার মাঝি, পথনির্দেশক, হস্তশিল্পী ও ক্ষুদ্র আবাসন পরিচালকদের ডিজিটাল লেনদেনব্যবস্থার আওতায় আনতে পারে। তাদের জন্য সহজ ব্যাংক হিসাব খোলা, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয়, ডিজিটাল ঋণ এবং তাৎক্ষণিক অর্থপ্রদানের সুযোগ সৃষ্টি করা দরকার। অনলাইন বুকিং ও অগ্রিম অর্থপ্রদানের সুবিধা থাকলে পর্যটকদের ভ্রমণ পরিকল্পনা সহজ হয় এবং উদ্যোক্তারা আগাম আয় নিশ্চিত করতে পারে। ডিজিটাল লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ করে ব্যাংকগুলো পর্যটন ব্যবসায়ীদের ঋণযোগ্যতা নির্ধারণ করতে পারে। ফলে যাদের প্রচলিত জামানত নেই, তারাও নিয়মিত লেনদেনের ভিত্তিতে ঋণ পাওয়ার সুযোগ পাবে।

ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, বিমা ও পরিবেশগত জবাবদিহিঃ বাংলাদেশের পর্যটন খাত বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, পাহাড়ধস, নদীভাঙন, জলোচ্ছ্বাস এবং অতিবৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে উপকূলীয়, হাওর ও পাহাড়ি অঞ্চলের পর্যটন ব্যবসায়ীরা দুর্যোগে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। ব্যাংকিং খাত ঋণের পাশাপাশি দুর্যোগ-সহনশীল বিনিয়োগ, বিমা এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সেবা দিতে পারে। ব্যাংকের সহযোগিতায় পর্যটন উদ্যোক্তাদের জন্য সম্পদ বিমা, দুর্ঘটনা বিমা, ফসল ও স্থানীয় উৎপাদন বিমা এবং দুর্যোগজনিত ব্যবসা বন্ধের ক্ষতিপূরণমূলক বিমা চালু করা যেতে পারে। ব্যাংক ঋণ দেওয়ার আগে প্রকল্পের অবস্থান, নির্মাণমান, দুর্যোগ সহনশীলতা, পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর প্রভাব মূল্যায়ন করতে পারে। ঋণ গ্রহণের পরও প্রকল্পটি পরিবেশগত শর্ত মানছে কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা উচিত। পরিবেশের ক্ষতি করলে ঋণসুবিধা সীমিত করা এবং ভালো পরিবেশগত কার্যক্রমের জন্য পুরস্কার দেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে পারে। । এতে উদ্যোক্তাদের জবাবদিহি বাড়বে। ব্যাংকগুলো স্থানীয় প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর, পর্যটন কর্তৃপক্ষ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে পরিবেশগত ঝুঁকি নিরূপণ করতে পারে। শুধু লাভজনক হলেই কোনো প্রকল্প অর্থায়নের যোগ্য হবে না; প্রকল্পটি সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য এবং পরিবেশগতভাবে টেকসই কি না, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে।

করণীয় ও উপসংহারঃ বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব পর্যটন প্রসারে ব্যাংকিং খাতের সম্ভাবনা বিশাল, তবে এ জন্য সুস্পষ্ট নীতি ও কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। প্রথমত, ব্যাংকগুলোকে ইকো-ট্যুরিজমের জন্য পৃথক ঋণপণ্য চালু করতে হবে এবং প্রকৃত পরিবেশবান্ধব প্রকল্প চিহ্নিত করার নির্ভরযোগ্য মানদণ্ড তৈরি করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ক্ষুদ্র ও স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য জামানতের শর্ত শিথিল করে সহজ কিস্তি, কম সুদ ও দীর্ঘ পরিশোধকাল দিতে হবে। তৃতীয়ত, নারী, তরুণ ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর উদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। চতুর্থত, ঋণের সঙ্গে প্রশিক্ষণ, আর্থিক শিক্ষা, বিপণন সহায়তা এবং ডিজিটাল লেনদেনের সুবিধা যুক্ত করতে হবে। পঞ্চমত, সৌরবিদ্যুৎ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি সংরক্ষণ এবং পরিবেশসম্মত পরিবহন ব্যবস্থায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি পরিবেশ ধ্বংসকারী হোটেল, রিসোর্ট ও পর্যটন প্রকল্পে ব্যাংকঋণ বন্ধ করা প্রয়োজন। সঠিক পরিকল্পনা ও দায়িত্বশীল অর্থায়নের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাত দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে অর্থনৈতিক সম্পদে রূপান্তর করতে পারে, তবে সেই উন্নয়ন হতে হবে পরিবেশ ও মানুষের স্বার্থ রক্ষা করে। পরিবেশবান্ধব পর্যটন শুধু বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যম নয়; এটি স্থানীয় উন্নয়ন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই অর্থনীতির একটি কার্যকর পথ। তাই বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতকে কেবল অর্থ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং পরিবেশ রক্ষা ও দায়িত্বশীল পর্যটন উন্নয়নের সক্রিয় অংশীদার হিসেবে এগিয়ে আসতে হবে।

4

Related Question

View All
উত্তরঃ

একজন লেখক তিনিই যিনি লেখেন। তবে সব লেখা লিখেই লেখক হওয়া যায় না। লেখক সব ধরনের হতে পারে। তবে সৃজনশীল লেখকই হচ্ছে আমাদের মূল কেন্দ্রবিন্দু। লেখক হচ্ছে পৃথিবীর অন্যতম একটি স্বাধীন সত্ত্বা।

একজন লেখক পুরোপুরি তার নিজের সত্ত্বার ওপরে বেঁচে থাকে। অনেকেই লেখক হবার সহজ উপায় খোঁজ করে। কিন্তু পড়তে পড়তে আর লিখতে লিখতেই শুধুমাত্র লেখক হওয়া যায়। এছাড়া আর কোনো উপায় নেই। লেখক অনেক ধরনের হতে পারে।

একজন সাংবাদিকও একজন লেখক। উপন্যাস, গল্প, কবিতা, ছড়া, সাহিত্য, প্রবন্ধ, রম্য, ব্লগ সব ধরনের লেখা যারা লেখে তারাই লেখক। অনেকেই মস্তিষ্কের মধ্যে ওকটা লেখার শক্তি পেয়ে যায় আর অনেকে হয়ত শিখে শিখে লেখক হয়।

সমাজ সভ্যতা কখনোই পুরোপুরি একজন লেখকের পক্ষে থাকে না। বরং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিপক্ষে চলে যায়। স্বাভাবিকভাবেই একজন লেখক তার কলমের আঘাতে জর্জরিত করতে চায় সকল অন্যায়, অপবাদ। তাই হয়ত বেঁধে যেতে পারে সংঘাত। কলমই হচ্ছে একজন লেখকের দাঁড়ানোর জায়গা। কলম ছাড়া লেখকের অস্তিত্ব বিলীন। তবে সবাইকে যে প্রতিবাদ লিখতে হবে এমন কোনো কথা। কেউ কেউ মনোরঞ্জনের জন্যও লেখে। অনেকে আবার চাটুকারিতা করতে লেখে। কেউ আবার কীভাবে পুরষ্কার তুলে নেওয়া যায় সেই ধান্দা করার জন্য লেখে।

একজন লেখক হয়ে উঠতে পারে ন্যায় অন্যায়ের পার্থক্যকারী। সে কলমের ছোঁয়ায় প্রতিবাদ করতে অন্যায়ের আর ফুটিয়ে তুলবে ন্যায়ের কথা। লেখকের কলমের কালি প্রেরণার সুর হয়ে গান গাইবে। আর অশ্রুসিক্ত নয়নে হাসির ঝলক আনবে লেখকের কলম। একজন লেখকের প্রাণ তার লেখা, তার লেখার ভঙ্গি। সে তার লেখা দিয়ে বাঁচিয়ে তুলতে পারবে অসুস্থ কোনো সভ্যতাকে। লেখক তার কলম দিয়ে জাগ্রত করতে পারবে মানুষের ভীতরে লুকিয়ে থাকা অদম্য সাহস।

একজন লেখক কল্পনাকে নিয়ে আসতে পারে বাস্তবে। আমাদের নিয়ে যেতে পারে কল্পনার গহীন বনে। লেখক আমাদের সবাক যুগ থেকে অবাক যুগে নিয়ে যেতে পারে মুহূর্তের মাঝেই। লেখক জাগাতে পারে প্রেম, লেখক জাগাতে পারে নতুন কাজের স্পৃহা।

অনেকেই মনে করে লেখকের সকল বিষয়ে দ্বায় আছে। কিন্তু লেখকের মূলত কারো কাছেই কোনো দ্বায় নেই। তার দ্বায় থাকে শুধু নিজের মনের কাছে, নিজের বিবেকের কাছে, নিজের সুপ্ত চেতনার কাছে। সমাজ কি ভাববে তা নিয়ে লেখক মাথা ঘামাবে না। লেখক ভয়ে নাথা নোয়াবে না। লেখক যতদিন বাঁচবে বীরের মতোই বাঁচবে।

সারা বিশ্বেই লেখকরা নির্যাতনের শিকার হয়। অনেকেই বলে থাকে লিখে কিছুই হয় না। তাই যদি হতো তাহলে লেখার জন্য লেখকের শাস্তি হতো না। লেখকের ফাঁসি হতো না।

লেখকের কলমে অনেক জোর। সেই জোর ভেঙে চুরে গুড়িয়ে দিতে পারে যেকোনো কিছু। বিশেষ করে সাংবাদিকরা বিশ্বজুড়ে নির্যাতিত হয় অনিয়মের বিরুদ্ধে লিখতে গিয়ে। শাস্তি, সাজা বহু কিছু তাদের সহ্য করতে হয়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে লিখলে হুমকি আসে, হামলা মামলা বহু ঘটনাই ঘটে। কারণ শাসক, শোষক আর অন্যায়কারীদের অনেক ক্ষমতা। লেখকের সমাজের দায়মুক্তির জন্য জীবনও দিতে হয়। তাইতো একজন লেখক সমাজের শক্তি, সমাজের সম্পদ।

3.8k
উত্তরঃ

সাহিত্য হচ্ছে মানুষের চিন্তা-ভাবনা, অনুভূতি তথা মানব-অভিজ্ঞতার কথা বা শব্দের বাঁধনে নির্মিত নান্দনিক বহিঃপ্রকাশ। এই অর্থে গল্প, কবিতা, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ ইত্যাদি উচ্চতর গুণাবলি সমন্বিত বিশেষ ধরনের সৃজনশীল মহত্তম শিল্পকর্ম। সাহিত্য-শিল্পীগণ যখন ‘অন্তর হতে বচন আহরণ’ করে আত্মপ্রকাশ কলায় ‘গীতরস ধারা’য় সিঞ্চন করে ‘আনন্দলোকে’ নিজের কথা- পরের কথা- বাইরের জগতের কথা আত্মগত উপলব্ধির রসে প্রকাশ করেন- তখনই তা হয়ে ওঠে সাহিত্য। রবীন্দ্রনাথের কথায় “বহিঃপ্রকৃতি এবং মানব-চরিত্র মানুষের মধ্যে অনুক্ষণ যে আকার ধারণ করিতেছে, যে-সঙ্গীত ধ্বনিত করিয়া তুলিতেছে, ভাষা-রচিত সেই চিত্র এবং সেই গানই সাহিত্য।…সাধারণের জিনিসকে বিশেষভাবে নিজের করিয়া – সেই উপায়ে তাহাকে পুনরায় বিশেষভাবে সাধারণের করিয়া তোলাই হচ্ছে সাহিত্যের কাজ।” [রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সাহিত্য] সাহিত্য সত্য-সুন্দরের প্রকাশ হিসেবে প্রবহমাণ সময়ে যা ঘটে – সে-সবের মধ্য থেকে যা মহৎ, যা বস্তুসীমাকে ছাড়িয়ে বাস্তবাতীত প্রকাশ করে, যা জীবনের জন্য কল্যাণময় এবং মহৎ আদর্শের দ্যোতক তাকেই প্রকাশ করে। আসলে মহৎ সাহিত্য তাই- যা একাধারে সমসাময়িক-শাশ্বত-যুগধর্মী-যুগোপযোগী-যুগোত্তীর্ণ। সাহিত্য কেবল পাঠককে আনন্দ দেয় না- সমানভাবে প্রভাবিত করে পাঠক এবং সমাজকে।

আভিধানিকভাবে ‘সহিতের ভাব’ বা ‘মিলন’ অর্থে ‘সাহিত্য’ হলো কাব্য, নাটক, গল্প, উপন্যাস ইত্যাদি সৃজনশিল্পের মাধ্যমে এক হৃদয়ের সঙ্গে অন্য হৃদয়ের সংযোগ স্থাপন; সাহিত্য¯্রষ্টা-সাহিত্যের সাথে পাঠকের এক সানুরাগ বিনিময়। কিন্তু আভিধানিক অর্থের নির্দিষ্ট সীমায় সাহিত্যের স্বরূপ-গতি-প্রকৃতি-বৈচিত্র্য ও বিস্তৃতির সম্যক ধারণা দেওয়া যেমন অসম্ভব, কোনো বিশেষ সংজ্ঞায় তাকে সুনির্দিষ্ট করে দেওয়াও তেমন দুঃসাধ্য। বাচ্যার্থ ও ব্যঞ্জনার্থর সীমাকে অতিক্রম করে নানা রূপে, রসে, প্রকরণ ও শৈলীতে সাহিত্যের নিরন্তর যাত্রা সীমা থেকে অসীমে। প্রত্যক্ষ সমাজপরিবেশ তথা সমকালীন বাস্তব পারিপার্শ্বিক, নিসর্গপ্রীতি ও মহাবিশ্বলোকের বৃহৎ-উদার পরিসরে ব্যক্তিচৈতন্য ও কল্পনার অন্বেষণ ও মুক্তি- আর এইভাবেই শ্রেণিবিভাজন, নামকরণ ও স্বরূপমীমাংসার প্রচেষ্টাকে ছাপিয়ে উঠে সাহিত্যের যাত্রা সীমাহীনতায়। প্রকৃত সাহিত্য তাই যেমন তার সমসময় যা যুগমুহূর্তের, তেমনই তা সর্বকালের সর্বজনের। মার্কসবাদী সাহিত্যতত্ত্বে বাস্তব সমাজজীবনকে ‘ভিত্তি’ আর শিল্প-সাহিত্যকে সমাজের উপরিকাঠামোর [ঝঁঢ়বৎংঃৎঁপঃঁৎব] অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়। সাহিত্যের মৌল উপকরণসামগ্রী আহৃত হয় জীবনের ভা-ার থেকে- সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, প্রেম-বৈরিতার বিচিত্র-অনিঃশেষ ভা-ার থেকে। সাহিত্যসৃষ্টির মূলে সক্রিয় যে সৃজনী-ব্যক্তিত্ব তা নিছক বিমূর্ত কোনো সত্তা নয়; আত্মপ্রকাশ ও মানবিক সংযোগ ও বিনিময়ের বাসনায় অনুপ্রাণিত সে সত্তা তার ভাব-ভাবনা, বোধ ও বিশ্বাসকে এক আশ্চর্য কৌশলে প্রকাশ করে জনসমক্ষে কোনো একটি বিশেষ রূপ-রীতি-নীতির আশ্রয়ে। ব্যক্তিক অনুুভূতি-যাপিতজীবন-মিশ্রকল্পনার জগৎ থেকেই সৃষ্টি হয় সাহিত্যের; যুগান্তরের আলোকবর্তিকা হিসেবে সাহিত্য সত্যের পথে সবসময় মাথা উঁচু করে থেকেছে- সত্যকে সন্ধান করেছে। আসলে সাহিত্য এমনি এক দর্পণ- যাতে প্রতিবিম্বিত হয় মানবজীবন, জীবনের চলচ্ছবি, পরিবেশ-প্রতিবেশ, সমাজজীবনে ঘটমান ইতিহাস- ইতিহাসের চোরাস্রােত নানাবিধ কৌণিক সূক্ষ্মতায়।

সাধারণত আত্মপ্রকাশের বাসনা, সমাজ-সত্তার সঙ্গে সংযোগ কামনা, অভিজ্ঞতার আলোয় কল্পলোক নির্মাণ এবং রূপপ্রিয়তা- এই চতুর্মাত্রিক প্রবণতাই মানুষের সাহিত্য-সাধনার মৌল-উৎস। চতুর্মাত্রিক প্রবণতার [আত্মপ্রকাশের কামনা, পারিপার্শ্বিকের সাথে যোগাযোগ বা মিলনের কামনা, কল্প-জগতের প্রয়োজনীয়তা এবং সৌন্দর্য-সৃষ্টির আকাক্সক্ষা বা রূপমুগ্ধতা] মধ্যে সমাজসত্তার সঙ্গে সংযোগ-কামনা এবং অভিজ্ঞতার আলোয় কল্পলোক নির্মাণ- এই উৎসদ্বয়ের মধ্যে নিহিত রয়েছে সাহিত্য ও সমাজের মধ্যে আন্তর-সম্পর্কের প্রাণ-বীজ। সমাজ শিল্পীকে সাহিত্য-সাধনায় প্রণোদিত করে। ‘সহৃদয়-হৃদয় সংবাদ’এর মাধ্যমে সাহিত্যিকগণ লেখক-পাঠকের মধ্যে সেতুবন্ধন রচনা করেন- উভয়ের হৃদয়বীণার তারগুলোকে একই সুতায় গেঁথে দেন। এর কারণে সাহিত্য দেশ-কাল-সমাজের সীমা অতিক্রম করে সর্বসাধারণের হৃদয়কে আকর্ষণ করে। এর ফলে সাহিত্য হয়ে ওঠে সার্বজনীন-সর্বকালের মানুষের হৃদয়ের সামগ্রী এবং সাহিত্য¯্রষ্টাও হয়ে ওঠেন অনেক বড়। কিন্তু বর্তমান বাংলা সাহিত্যচর্চার গতি-প্রকৃতি, সমস্যা-সংকট-সমাধান কোন দিকে? এসব বিষয়ের সন্ধান- এ প্রবন্ধের অন্বিষ্ট।

3.2k
উত্তরঃ

আমাদের লোকশিল্প প্রবন্ধটি আমাদের লোককৃষ্টি গ্রন্থ থেকে গৃহীত হয়েছে। লেখক এ প্রবন্ধে বাংলাদেশের লোকশিল্প ও লোক-ঐতিহ্যের বর্ণনা দিয়েছেন । এ বর্ণনায় লোকশিল্পের প্রতি তার গভীর মমত্ববোধের পরিচয় রয়েছে।
আমাদের নিত্যব্যবহার্য অধিকাংশ জিনিসই এ কুটিরশিল্পের ওপর নির্ভরশীল ।

শিল্পগুণ বিচারে এ ধরনের শিল্পকে লোকশিল্পের মধ্যে গণ্য করা যেতে পারে । পূর্বে আমাদের দেশে যে সমস্ত লোকশিল্পের দ্রব্য তৈরি হতো তার অনেকগুলোই অত্যন্ত উচ্চমানের ছিল। ঢাকাই মসলিন তার অন্যতম। ঢাকাই মসলিন অধুনা বিলুপ্ত হলেও ঢাকাই জামদানি শাড়ি অনেকাংশে সে স্থান অধিকার করেছে।

বর্তমানে জামদানি শাড়ি দেশে-বিদেশে পরিচিত এবং আমাদের গর্বের বস্তু। নকশি কাথা আমাদের একটি গ্রামীণ লোকশিল্প। এ শিল্প আজ বিলুপ্তপ্রায় হলেও এর কিছু কিছু নমুনা পাওয়া যায়। আপন পরিবেশ থেকেই মেয়েরা তাদের মনের মতো করে কীথা সেলাইয়ের অনুপ্রেরণা পেতেন । কাঁথার প্রতিটি সুচের ফোঁড়ের মধ্যে লুকিয়ে আছে এক-একটি পরিবারের কাহিনী, তাদের পরিবেশ, তাদের জীবনগাঁথা ।

আমাদের দেশের কুমোরপাড়ার শিল্পীরা বিভিন্ন ধরনের তৈজসপত্র ছাড়াও পোড়ামাটি দিয়ে নানা প্রকার শৌখিন দ্রব্য তৈরি করে থাকে। নানা প্রকার পুতুল, মূর্তি ও আধুনিক রুচির ফুলদানি, ছাইদানি, চায়ের সেট ইত্যাদি তারা গড়ে থাকে।
খুলনার মাদুর ও সিলেটের শীতলপাটি সকলের কাছে পরিচিত। আমাদের দেশের এই যে লোকশিল্প তা সংরক্ষণের দায়িত আমাদের সকলের । লোকশিল্পের মাধ্যমে আমরা আমাদের ঐতিহ্যকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে পারি।

arif
arif
3 years ago
3.7k
উত্তরঃ

আমাদের অর্থনৈতিক সম্পদ

 

বাংলাদেশ, একটি দ্রুত উন্নতি লক্ষ্য নির্ধারণ করা দেশ, যা প্রচুর অর্থনৈতিক সম্পদের বেশিরভাগ সম্পদ নিয়ে এগিয়ে চলেছে। এই দেশের অর্থনৈতিক সম্পদ মৌলিকভাবে চারটি প্রধান উৎস থেকে আসে: জমি, কাজ, উদ্যোগ, এবং মানুষের কাজের দক্ষতা। এই সম্পদের বিকাশে বিভিন্ন রাজনৈতিক, আর্থিক এবং সামাজিক পরিবর্তনের ভূমিকা রয়েছে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পদের মূল স্তম্ভ হল কৃষি। দেশটি একটি প্রধানত কৃষিপ্রধান দেশ হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতির মূল হিসেবে প্রধানত শস্য ও ফসল চাষ প্রসঙ্গে বিকাশ হয়েছে। বাংলাদেশে প্রধানত ধান, পাট, মশুর ডাল, আখ, পটল, পেঁপে, তেল সহ বিভিন্ন ফসল চাষ করা হয়। অত্যন্ত উচ্চ মানের খাদ্য সামগ্রী উৎপাদনের ফলে এই খাদ্য পণ্য রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক সম্পদের গড়াতে সাহায্য করে।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক উৎস হল প্রবৃদ্ধি ও শিক্ষাগত উন্নতি। বাংলাদেশে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের অভাব কমে আসছে এবং মানুষের দক্ষতা বৃদ্ধি করছে। বিশেষত, প্রযুক্তির আগমন এবং বিনিয়োগে বৃদ্ধি নেওয়া হচ্ছে, যা অর্থনৈতিক সম্পদের উন্নতির পথে সাহায্য করছে।

অন্যান্য উৎস হিসেবে প্রযুক্তিবিদ্যা এবং সেবা অংশ গুলির অগ্রগতি আছে। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক সম্পদ হল তার মানুষের চাকরিভার্থী শ্রমিকেরা। তাদের দক্ষতা, উদ্যোগ, ও সামর্থ্য বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

যদিও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পদ উন্নতির পথে অনেক উত্সাহজনক প্রগতি হয়েছে, তবে এখনও অনেক চ্যালেঞ্জ র

য়েছে। প্রধানতঃ গরিব মানুষের জন্য আর্থিক সম্পদের অগ্রগতি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এখনও বেশিরভাগ লোকের মধ্যে বৃদ্ধির অভাব আছে। তাছাড়া, পরিবেশের সম্পদ সংরক্ষণের জন্য সঠিক প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা প্রয়োজন।

পুনর্নির্মাণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্পদের বিস্তার ও উন্নতি নিশ্চিত করতে পারে। সঠিক নীতি নির্ধারণ, উদ্যোগের বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত প্রবর্তন এবং শিক্ষাগত উন্নতি এমন পরিবর্তন নিশ্চিত করতে সাহায্য করতে পারে।

শেষ কথায়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পদ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা দেশটির সমৃদ্ধি ও উন্নতির সাথে অবিভাজ্যভাবে সংযোগিত। একটি দ্রুত বৃদ্ধির উপায় হল সঠিক পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা এবং উদ্যোগের বৃদ্ধি করা। এই প্রস্তুতি নেওয়ার মাধ্যমে, বাংলাদেশ তার অর্থনৈতিক সম্পদ উন্নতির পথে আরও এগিয়ে যেতে পারে এবং তার মানুষের জন্য আরো উন্নত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারে।

2.4k
উত্তরঃ

"বিক্ষুব্ধ পূর্ব ইউরোপ" বলতে পূর্ব ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ১৯৮৯ সালের পর সাম্যবাদী শাসনের পতন এবং এর ফলে উদ্ভূত রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতাকে বোঝায়। এই সময়কালে, পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো গণতন্ত্র ও বাজার অর্থনীতির দিকে ধাবিত হয়, যার ফলে নতুন জাতীয়তাবাদ, অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও সামাজিক পরিবর্তন দেখা যায়। 

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও কারণ: 

সাম্যবাদের পতন:

১৯৮৯ সালের ঐতিহাসিক বছরটি পূর্ব ইউরোপে সাম্যবাদী ব্যবস্থার পতন ঘটায়, যা ছিল একটি যুগান্তকারী ঘটনা। এই পরিবর্তনের ফলে দেশগুলো তাদের সাম্যবাদী অতীত থেকে মুক্তি পেতে শুরু করে।

গণতন্ত্রের পথে যাত্রা:

সাম্যবাদের পতনের পর পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও মুক্ত বাজার অর্থনীতির দিকে ঝুঁকে পড়ে।

বিক্ষোভ ও অস্থিতিশীলতার কারণসমূহ: 

অর্থনৈতিক সংকট:

সাম্যবাদী অর্থনীতি থেকে বাজার অর্থনীতিতে উত্তরণ অনেক দেশে অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি করে। বেকারত্ব, মুদ্রাস্ফীতি, এবং ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে বৈষম্য বাড়ে, যা সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করে।

জাতীয়তাবাদের উত্থান:

অনেক দেশে সাম্যবাদী শাসনের অবসানের পর বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে জাতীয়তাবোধ তীব্র হয়, যা নতুন করে জাতিগত সংঘাতের জন্ম দেয়।

রাজনৈতিক অস্থিরতা:

নতুন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো সুসংহত হতে সময় লাগে, ফলে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা দেখা দেয়। অনেক দেশে ক্ষমতা ও আদর্শের লড়াইয়ের কারণে সহিংসতাও ঘটে।

সামাজিক পরিবর্তন:

পুরনো সাম্যবাদী নীতি ও ব্যবস্থার পরিবর্তে নতুন সামাজিক কাঠামো ও মূল্যবোধের জন্ম হতে থাকে, যা সমাজের বিভিন্ন স্তরে অস্থিরতা সৃষ্টি করে।

গুরুত্বপূর্ণ দিক: 

  • এই বিক্ষুব্ধ পরিস্থিতি পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে এক নতুন যুগের সূচনা করে, যেখানে তারা তাদের নিজস্ব পথে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সুযোগ পায়।
  • যদিও এই পরিবর্তন প্রক্রিয়াটি কঠিন ছিল, এটি এই অঞ্চলে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এইভাবে, "বিক্ষুব্ধ পূর্ব ইউরোপ" মূলত সেই সময়ের পরিবর্তন, অস্থিরতা এবং নতুন করে গড়ে ওঠার জটিল প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করে, যা সাম্যবাদের পতন ও গণতান্ত্রিক যাত্রার ফলস্বরূপ ঘটেছিল। 

Satt Team 10
Satt Team 10
10 months ago
2.3k
উত্তরঃ

পররাষ্ট্রনীতি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নীতির সম্প্রসারণ। পররাষ্ট্রনীতি হলো কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রের গৃহীত সেসব নীতি যা রাষ্ট্র তার রাষ্ট্রীয় স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য অন্যান্য রাষ্ট্রের সাথে যোগাযোগ রক্ষার ক্ষেত্রে সম্পাদন করে থাকে। অন্য রাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে রাষ্ট্রের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতাকে তুলে ধরে।

১৯৭১ সালে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। স্বাধীনতা লাভের পরবর্তী সময়ে ভৌগোলিক অবস্থান, স্বল্প পরিসরের ভূখন্ড এবং সীমিত অর্থনৈতিক সম্পদ ইত্যাদি বিভিন্ন নিয়ামক বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণের সুযোগকে সীমাবদ্ধ করে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি মূলত বহিঃশক্তির প্রভাব থেকে  দেশের সাবভৌমত্ব ও ভূখন্ডকে রক্ষা করার মতো বিষয়েই সীমাবদ্ধ থেকে গেছে।

পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কীয় সাংবিধনিক বিধান  বাংলাদেশের সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির নির্দেশনা রয়েছে। এই নির্দেশনাসমূহ বাংলাদেশ সংবিধানের ২৫ নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে। এগুলি হলো:

জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সমতার প্রতি শ্রদ্ধা, অপর রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের সনদে বর্ণিত নীতিসমূহের প্রতি শ্রদ্ধা, এ সকল নীতিই হবে রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি এবং এ সকল নীতির ভিত্তিতে-

১. রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শক্তিপ্রয়োগ থেকে বিরত থাকা এবং সাধারণ ও পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের জন্য চেষ্টা করবে; প্রত্যেক জাতির স্বাধীন অভিপ্রায় অনুযায়ী পথ ও পন্থার মাধ্যমে অবাধে নিজস্ব সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা নির্ধারণ ও গঠনের অধিকার সমর্থন করবে; এবং সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ বা বর্ণ্যবৈষম্যবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের সর্বত্র নিপীড়িত জনগণের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে সমর্থন করবে।

২. রাষ্ট্র ইসলামী সংহতির ভিত্তিতে মুসলিম দেশসমূহের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব সম্পর্ক সংহত, সংরক্ষণ এবং জোরদার করতে সচেষ্ট হবে। সংবিধানের ৬৩ অনুচ্ছেদে যুদ্ধ-ঘোষণা সংক্রান্ত নীতি উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে সংসদের সম্মতি ব্যতিত যুদ্ধ ঘোষণা করা যাবে না, কিংবা প্রজাতন্ত্র কোনো যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবে না। অনুচ্ছেদ ১৪৫(ক)তে বৈদেশিক চুক্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে: ‘বিদেশের সাথে সম্পাদিত সকল চুক্তি রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করা হবে, এবং রাষ্ট্রপতি তা সংসদে পেশ করার ব্যবস্থা করবেন। তবে শর্ত হচ্ছে যে, জাতীয় নিরাপত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট অনুরূপ কোন চুক্তি কেবলমাত্র সংসদের গোপন বৈঠকে পেশ করা হবে।’

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতিসমূহ  পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কিছু মূলনীতি অনুসরণ করে থাকে। জাতিসংঘ এবং ন্যামের মতো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ এসব সংগঠনের মূলনীতিসমূহ মেনে চলে, এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান নীতিসমূহ এসব সংগঠনের নীতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান চারটি মূলনীতি হলো:

সকলের প্রতি বন্ধুত্ব, কারও প্রতি বিদ্বেষ নয়  একটি দরিদ্র রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ তার অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বৈদেশিক সাহায্যের উপর নির্ভরশীল হবার কারণে বাংলাদেশকে বিভিন্ন মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত হতে হয়। এ কারণেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু  শেখ মুজিবুর রহমান পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি হিসেবে বলেছিলেন, ‘আমাদের একটি ক্ষুদ্র দেশ, কারও প্রতি বিদ্বেষ নয়, আমরা চাই সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব’।

অন্য রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখন্ডতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন  বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্য। জাতিসংঘ সনদের ২(৪) ধারায় বলা হয়েছে ‘আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সকল সদস্য-রাষ্ট্র আঞ্চলিক অখন্ডতার বিরুদ্ধে কিংবা অন্য কোনো রাষ্ট্রের রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের ভীতি প্রদর্শন থেকে এবং জাতিসংঘের উদ্দেশ্যের সংঙ্গে সামঞ্জস্যহীন কোনো উপায় গ্রহণ করা থেকে নিবৃত্ত থাকবে’।

অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করা  জাতিসংঘ সনদের ২(৭) ধারায় বলা হয়েছে যে,  ‘বর্তমান সনদ জাতিসংঘকে কোনো রাষ্ট্রের নিছক অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অধিকার দিচ্ছে না বা সেরূপ বিষয়ের নিষ্পত্তির জন্য কোনো সদস্যকে জাতিসংঘের দারস্থ হতে হবে না; কিন্তু সপ্তম অধ্যায় অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যাপারে এই নীতি অন্তরায় হবে না’। জাতিসংঘের একটি সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ এই মূলনীতির উপর তার পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন করেছে, যা অন্য রাষ্ট্রের কাছে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে প্রকাশিত।

২০০৯ সালে পুনরায় আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসে, এবং প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনয়নের কথা ঘোষণা করেন। বাংলাদেশের নিরাপত্তা ধারণা বিবেচনায় রেখে প্রায় তিন দশক পর ভারতের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা ঘোষণা করা হয়। সম্প্রতি সরকার রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে রাশিয়ার সাহায্যে দেশে পারমাণবিক প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

সময়ের পরিবর্তনের সাথে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ভবিষ্যত অর্জনের সম্ভাবনা অনেকটা ক্ষীণ হয়ে পড়ছে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ তার প্রতিবেশী এবং আঞ্চলিক রাষ্ট্রসমূহের সাথে এবং বিশ্বের আরো কিছু রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে শত্রুতা নয়’ একটি সত্তুরের দশকের ধারণা, যা প্রায় ৪০ বছরের পুরনো। বর্তমান পরিবর্তিত বিশ্ব প্রেক্ষাপটে পুরনো ধারার পরররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে বাংলাদেশ প্রতিনিয়ত তার অর্জনের সম্ভাবনা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। সুতরাং পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্য নিয়ে নতুন কৌশল-পরিকল্পনা করা উচিত, যার মাধ্যমে পরিবর্তিত বিশ্বে নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের পথে বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পারে।  [ঊর্মি হোসেন]

Md. Aminul Islam
Md. Aminul Islam
3 years ago
4.5k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews