মাদকসেবী বন্ধুর মাধ্যমে মাদকাসক্তির সূত্রপাত ঘটে।
মাদকাসক্তি একটি মারাত্মক সামাজিক সমস্যা। মাদক ব্যক্তির শারীরিক, পারিবারিক তথা সামাজিক ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব ফেলে।. মাদক গ্রহণকারী ব্যক্তি নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়। পরিবার ও সমাজের কাছে মাদকাসক্ত ব্যক্তি ঘৃণার পাত্রে পরিণত হয়। মাদক গ্রহণের জন্য মাদকাসক্ত ব্যক্তি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়ে পড়ে। ফলে সমাজে নৈরাজ্য সৃস্টি হয়। এ কারণে আজই আমাদের মাদককে না বলা দরকার।
X'-এর কর্মকাণ্ড আমার পাঠ্যবইয়ের কিশোর অপরাধকে নির্দেশ করে।
অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেমেয়ে বা কিশোরদের দ্বারা সংঘটিত বিভিন্ন ধরনের অপরাধকে কিশোর অপরাধ বলে। বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কায় ৭থেকে ১৬ বছরের শিশু কিশোরদের অপরাধমূলক কাজকে কিশোর অপরাধ বলা হয়। উদ্দীপকে 'X'-কে স্কুল পালিয়ে বখাটেদের সাথে আড্ডা দিতে দেখা যায় যা কিশোর অপরাধের অন্তর্ভুক্ত। যেসব কাজ কিশোর অপরাধের পর্যায়ে পড়ে সেগুলো হচ্ছে- চুরি, খুন, জুয়াখেলা, স্কুল পালানো, বাড়ি থেকে পালানো, পরীক্ষায় নকল করা, বিদ্যালয় ও পথে ঘাটে উচ্ছৃঙ্খল 'আচরণ, পকেটমার, মারপিট করা, বোমাবাজি, গাড়ি ভাংচুর, বিনা টিকিটে ভ্রমণ, পথে ঘাটে মেয়েদের উত্যক্ত করা, এসিড নিক্ষেপ, নারী নির্যাতন, অশোভন ছবি দেখা, মাদক গ্রহণ ইত্যাদি। কিশোর অপরাধ প্রতিটি সমাজের জন্য একটি উদ্বেগজনক সামাজিক সমস্যা। আমাদের সমাজে এবং সারা পৃথিবীব্যাপী উল্লেখযোগ্য হারে এ সমস্যাটি বিদ্যমান রয়েছে।
অতএব বলা যায়, উদ্দীপকের X কিশোর অপরাধের সাথে জড়িত।
পারিবারিক সচেতনতাই পারে 'X'-কে সঠিক পথে আনতে প্রশ্নোক্ত এ উক্তিটি যথার্থ হয়েছে বলে আমি মনে করি।
যথাযথ পারিবারিক পরিবেশ এবং পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠরা যদি শিশু কিশোরদের প্রতি সচেতন দৃষ্টি রাখেন তবে কিশোর অপরাধ কমে যাবে। এজন্য পরিবারকে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে। পরিবারের সন্তানদের সুস্থ মানসিকতা বিকাশের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা অভিভাবকদের দায়িত্ব। পরিবারে সদস্যরা বিশেষ করে মা-বাবারা যদি ছেলেমেয়েদের চলাফেরার ওপর নজর রাখেন এবং তার বন্ধুদের সম্পর্কে খোঁজ খবর রাখেন তাহলে ছেলেমেয়েদের পথভ্রষ্ট হবার সম্ভাবনা থাকে না। সন্তানদের সাথে সহজ ও স্বাভাবিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে যাতে সন্তানেরা তাদের মনের সব কথা পিতামাতার কাছে বলতে পারে। অভিভাবকগণ শিশুর মেধা ও মননশীলতা বিকাশে নানাবিধ প্রতিষ্ঠানে যেমন- শাখা, আবৃত্তি ও খেলার সংগঠনসমূহে সন্তানদের ভর্তি করিয়ে দিতে পারেন। এর ফলে তারা নিজেদের মেধা ও প্রতিভাকে বিকশিত করতে পারে। অভিভাবকরা ছেলেমেয়ের মধ্যে সচেতন অবস্থা সৃষ্টি করতে পারেন যাতে শিশু-কিশোররা খারাপ সঙ্গে না পড়ে সে ব্যাপারে নিজেরা সতর্ক থাকে। এছাড়া পরিবারের মাধ্যমে তাদেরকে নৈতিক শিক্ষা প্রদান করতে হবে। সর্বোপরি অভিভাবকদের সজাগ দৃষ্টি, সচেতনতা ও সন্তানদের সর্বোচ্চ সময় দিতে হবে। উপরিউক্ত বিষয়গুলো যদি X এর পরিবার যথাযথভাবে করত তাহলে সে কিশোর অপরাধে নিজেকে জড়াতে পারত না। তাই আমি মনে করি কিশোর অপরাধের ক্ষেত্রে পারিবারিক সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।
Related Question
View Allসামাজিক সমস্যা হলো সমাজে বিরাজিত একটি অবস্থা, যা জনগণের উপর ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করে এবং এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য কিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ সম্মিলিতভাবে প্রচেষ্টা চালায়। বাংলাদেশে নানা সামাজিক সমস্যা রয়েছে।
বাংলাদেশে নানা সামাজিক সমস্যা রয়েছে। তার মধ্যে কিশোর অপরাধ ও মাদকাসক্তি দুটি বড়ো সমস্যা। বর্তমানে এ দুটি সমস্যা সবার জন্যই উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাধারণভাবে রাষ্ট্র বা সমাজ স্বীকৃত নয় এমন কজকে অপরাধ বলে। অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেমেয়ে বা কিশোরদের দ্বারা সংগঠিত বিভিন্ন ধরনের অপরাধকেই বলা হয় কিশোর অপরাধ। কিশোর বয়সে এরা রাষ্ট্র ও সমাজের আইন ও নিয়ম ভাঙে বলেই তারা কিশোর অপরাধী।
বিভিন্ন দেশের সমাজবিজ্ঞানী ও আইনবিদদের মধ্যে কিশোর অপরাধের বয়স নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কায় ৭ থেকে ১৬ বছর বয়সী কিশোরদের অপরাধমূলক কাজকে কিশোর অপরাধ বলা হয়। অন্যদিকে, পাকিস্তান ও থাইল্যান্ডে কিশোর অপরাধীর বয়স ৭ থেকে ১৮ বছর। আর জাপানে এ বয়সীমা ১৪ থেকে ২০ বছর।
আমাদের দেশে কিশোর অপরাধের অন্যতম প্রধান কারণ দারিদ্র্য। দরিদ্র পরিবারের কিশোরদের অনেক সাধ বা ইচ্ছাই অপূর্ণ থেকে যায়। এর ফলে তাদের মধ্যে বাড়ে হতাশা এবং এ হতাশাই তাদের অপরাধের দিকে ঠেলে দেয়।
বাড়ির বাইরে বা কর্মস্থলে অতি ব্যস্ততার কারণে মাতাপিতার পক্ষে তাদের সন্তানদের যথেষ্ট সময় বা মনোযোগ দিতে না পারা, আদর-যত্নের অভাব, মাতাপিতার অকালমৃত্যু বা বিবাহবিচ্ছেদ এমনকি অভিভাবকদের অতিরিক্ত শাসনের কারণেও অনেক কিশোর ধীরে ধীরে অপরাধী হয়ে ওঠে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!