প্রতীকী যুক্তিবিদ্যার জনক এরিস্টটল।
সংকেতের ইংরেজি প্রতিশব্দ Sign। কোনো বিষয়ের প্রতিনিধিত্ব করা অর্থে সংকেত কথাটি ব্যবহৃত হয়। যদিও এটি কোনো সুনির্দিষ্ট অর্থ প্রকাশ করে না, তথাপি কোনো বিষয়কে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যে চিহ্নের মাধ্যমে সূচিত করা যায়, কিংবা কোনো চিহ্ন যদি কোনো বিষয়ের প্রতিনিধি হিসেবে ব্যবহৃত হতে গিয়ে অর্থপূর্ণ হয়ে ওঠে তবে সে চিহ্নকে 'সংকেত' বলে।
উদ্দীপকে বর্ণিত ইংরেজি অক্ষরগুলো পাঠ্যপুস্তকের 'প্রতীকী' বিষয়ের সাথে সংযুক্ত। কেননা প্রতীকের প্রকৃতি আলোচনা করতে হলে আগে সংকেত সম্পর্কে আমাদের সুস্পষ্ট ধারণা থাকা বাঞ্ছনীয়। প্রতীক এক ধরনের সংকেত। সংকেত দু ধরনের হতে পারে। যেমন- স্বাভাবিক সংকেত ও কৃত্রিম সংকেত। যে সংকেত ইচ্ছা নিরপেক্ষভাবে নির্দেশিত বিষয় বা ক্রিয়ার সাথে সাদৃশ্যযুক্ত অথবা নিবিড় সম্পর্কে আবদ্ধ, তাকে 'স্বাভাবিক সংকেত' বলেন। যেমন- ধোঁয়া আগুনের সংকেত, মেঘের উপস্থিতি বৃষ্টির সংকেত। ব্যবহারিক সুবিধার্থে ইচ্ছাকৃতভাবে আমরা যে সংকেত ব্যবহার করি তাকে 'কৃত্রিম সংকেত' বলে। যেমন- ট্রাফিক পয়েন্টের লাল বাতি গাড়ি থামার সংকেত এবং সবুজ বাতি গাড়ি চলার সংকেত। সুতরাং প্রতীক হলো কোনো কিছুর সংকেত।
উদ্দীপকে দুজন ব্যক্তিকে নির্দেশ করার জন্য প্রতীক ব্যবহার করা হয় X ও Y। সুতরাং X ও Y হচ্ছে দুজন ব্যক্তির নাম। যারা দুজনই Ph.D করেছেন পশ্চিমা জগতের নামকরা অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। তারা U.N-এ কর্মরত রয়েছেন। U.N হচ্ছে একটি International Company যার পুরো নাম হচ্ছে United Nation। এই United Nation কে প্রতীকের সাহায্যে প্রকাশ করা হয়েছে U.N এই ইংরেজি অক্ষরগুলো মাধ্যমে। সুতরাং এখানে স্পষ্টভাবে প্রতীকের ব্যবহার প্রকাশ পেয়েছে, যা কিনা প্রতীকের গুরুত্বকে নির্দেশ করছে। X ও Y বাংলাদেশের উন্নয়ন ভাবনা নিয়ে U.N-এ নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধির সাথে সাক্ষাৎকার দেন, যা খুবই অর্থবহ। কেননা দেশের অর্থনীতি উন্নয়নে কীভাবে ভূমিকা রাখা যায়, সে বিষয়ে X U.N-এ নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধির সাথে সাক্ষাৎকার দেন এবং Y অর্থ ও ব্যাংকিংয়ের উপর সাক্ষাৎকার দেন। উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায় যে, উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টির গুরুত্ব অপরিসীম।
Related Question
View Allযে সংকেত প্রকৃতির রাজ্যে অবস্থান করে তাকে স্বাভাবিক সংকেত বলে।
সংকেত দুই ধরনের হয়ে থাকে। একটি হচ্ছে স্বাভাবিক সংকেত, অন্যটি কৃত্রিম সংকেত। স্বাভাবিক সংকেত হলো তাই যা প্রকৃতির রাজ্যে অবস্থান করে। যেমন- ঝড়-ঝঞ্ঝার সংকেত। কৃত্রিম সংকেত বলতে দৈনন্দিন জীবনে আমরা যে সংকেত ব্যবহার করে থাকি। যেমন- ট্রাফিকের লালবাতি- গাড়ি থামানোর সংকেত। এই সংকেত আমরা নিজেদের প্রয়াজনে ব্যবহার করে থাকি এবং একে আমরা তথা মানুষ সৃষ্টি করেছে। সুতরাং কৃত্রিম সংকেত হলো যা দৈনন্দিন জীবনে আমরা ব্যবহার করে থাকি।
প্রতীক বলত আমরা বুঝি যে কোনো কিছু নির্দেশ করার, বোঝার এবং ব্যক্ত করার জন্য যে লিখিত বা কথিত চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। কোনো কিছুর পাশে যখন (√) টিক চিহ্ন দেই তখন তা সঠিক বলে আমরা জানি। প্রতীককে মানুষ নিজ ইচ্ছা ও সুবিধা অনুযায়ী ব্যাখ্যা করে থাকে। লাল বাতিকে গাড়ি থামানোর সংকেত হিসাবে ব্যবহার করা হয়। এটি মানুষের ব্যবহার ও ব্যাখ্যার উপর নির্ভরশীল। প্রতীক যেহেতু লিখিত বা কথিত রূপ সুতরাং এর সাথে এর অর্থের সরাসরি বা প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই। যেমন 'লালবাতি' প্রতীককে আমরা সব সময় সর্বক্ষেত্রে জানি। এটিকে জানার জন্য প্রত্যক্ষণের প্রয়োজন হয় না। অর্থাৎ এটি লিখিত রূপ বলেই সরাসরি প্রত্যক্ষণের প্রয়োজন হয় না।
লালবাতি হচ্ছে একটি প্রতীক যা মানুষের ব্যাখ্যা ও ব্যবহার এর উপর নির্ভরশীল। লালবাতি প্রতীকটি প্রত্যক্ষ হলে সংকেতের রূপ নিবে। লালবাতিকে আমরা গাড়ি থামানোর প্রতীক হিসাবে জানি। যখন এটি রাস্তার ট্রাফিক মোড়ে জ্বলে তখন গাড়ি থামানোর সংকেত হিসাবে বোঝানো হয়। সুতরাং লালবাতি- যেমন প্রতীক, তেমন সংকেতও বটে। লালবাতি যখন প্রতীকরূপে থাকে তখন তা কোনো ধরনের প্রত্যাশা জাগায় না। সুতরাং উদ্দীপকে যে লালবাতির কথা বলা হয়েছে তা মূলত প্রতীক এবং গাড়ি থামানোর সময় সংকেত হিসাবে ব্যবহৃত হয়।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে যে লালবাতি গাড়ি থামানোর প্রতীক। অর্থাৎ লালবাতি যদি রাস্তার ট্রাফিক মোড়ে জ্বালানো হয় তবে গাড়ি থেমে যায়। সুতরাং এর উপযোগিতা আছে। অর্থাৎ প্রতীকের উপযোগিতা রয়েছে। প্রতীক বলতে এমন কিছু লিখিত বা কথিত চিহ্নকে বোঝায় যা কোনো কিছু নির্দেশ করে। লালবাতি একটি চিহ্ন যা জ্বলে উঠলেই গাড়ি থেমে যায়। প্রতীকের উপযোগিতা ব্যাপক। প্রতীকের ফলে জটিল বিষয়কে সহজভাবে উপস্থাপন করা যায়। যেমন কোনো গাড়িকে ট্রাফিক পুলিশ থামাতে চাইলে লালবাতি জ্বালায় এবং গাড়িটি থেমে যায়। কিন্তু লালধাতির প্রতীক ব্যবহারের পরিবর্তে সে যদি চিৎকার করে তবে তা থামানো কষ্টসাধ্য বটে। সুতরাং প্রতীকের উপযোগিতা রয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতীকের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। যেমন-যুক্তিবিদ্যায় প্রতীকের ব্যবহার অতীব গুরুত্বপূর্ণ। অনেক জটিল যুক্তিকে প্রতীকের মাধ্যমে আমরা সহজে প্রকাশ করতে ও বুঝতে পারি। গণিতের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। কোনো প্রাসঙ্গিক বিষয়ের দিকে মনোযোগ আকর্ষণের জন্য প্রতীক গুরুত্বপূর্ণ ভূকিা রাখে। কোনো বিষয় যখন ভাষায় প্রকাশ করা হয় তখন দুর্বোধ্য মনে হতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রতীকের মাধ্যমে তা সহজ করা হয়।
সুতরাং আমরা বলতে পারি যে, রাজু ও মিনার বাবার উত্তরের মাধ্যমে প্রতীকের উপযোগিতা প্রকাশ পেয়েছে।
যে যুক্তিবিদ্যায় যুক্তিকে ভাষার মাধ্যমে প্রকাশ করা হয় তাকে 'সাবেকি যুক্তিবিদ্যা' বলে।
যে বাক্যকে বিশ্লেষণ করলে আর কোনো অঙ্গবচন বা উপাদান পাওয়া যায় না মূলত সেটিই হলো সরল বাক্য। যেমন- রাসেল হন একজন দার্শনিক। এ বাক্যটিকে ভেঙ্গে আর কোনো বাক্য আমরা পাই না। তাই একে পারমাণবিক বাক্যও বলা হয়। সুতরাং সরল বাক্যকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বাক্যে ভাগ করা যায় না। যেমন ভাবে পরমাণুকে ভাগ করা যায় না। অবশ্য এই ধারণা (পরমাণুকে ভাগ করা যায় না) আগের। সরল বাক্যকে 'নিরপেক্ষ বাক্য'ও বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!