জ্ঞান ও পুঁজিনির্ভর উচ্চ প্রযুক্তিভিত্তিক পরিবেশবান্ধব এবং তথ্যপ্রযুক্তি বা গবেষণা ও উন্নয়ন নির্ভর শিল্পই হাইটেক শিল্প।
না, সংরক্ষিত ও নিয়ন্ত্রিত শিল্প এক নয়। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
সরকারি নির্দেশনার মাধ্যমে যেসব শিল্প জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সংরক্ষিত রাখা প্রয়োজন এবং যেসব শিল্প স্পর্শকাতর ও সংবেদনশীল হিসেবে সরকারি বিনিয়োগের জন্য সংরক্ষিত সেসব শিল্পকে সংরক্ষিত শিল্প বলে। যেমন- অস্ত্রশস্ত্র ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি, পারমাণবিক শক্তি, সিকিউরিটি প্রিন্টিং ও টাঁকশাল ইত্যাদি।
অন্যদিকে, যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠান সরকারের অনুমোদন বা অনাপত্তিগ্রহণ সাপেক্ষে যথাযথ সিদ্ধান্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণকল্পে এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও সংস্কৃতির পরিপন্থী নয় এবং সরকারের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে চলে তাকে নিয়ন্ত্রিত শিল্প বলে। যেমন- ফ্লাইওভার, আন্ডারগ্রাউন্ড রেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, তেল, কয়লা, অনুসন্ধান, VOIP ইত্যাদি।
উদ্দীপকের 'X' দ্রব্যটি রপ্তানিমুখী শিল্পের অন্তর্গত। নিচে এ শিল্পের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হলো-
'বিদেশের বাজারে রপ্তানির উদ্দেশ্যে দেশে যে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে তাকে রপ্তানিমুখী শিল্প বলা হয়। রপ্তানিমুখী
শিল্পের তালিকা নিম্নরূপ:
১। পাটশিল্প;
২। বস্ত্র শিল্প;
৩। চা শিল্প;
৪। চামড়া শিল্প;
৫। তৈরি পোশাক শিল্প;
৬। সিমেন্ট শিল্প;
৭। পাদুকা শিল্প;
৮। ওষুধ শিল্প।
Y দ্রব্যটি আমদানি বিকল্প শিল্পের অন্তর্গত। দেশীয় শিল্পের সংরক্ষণ, বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস, শিল্পায়ন ও দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জনে আমদানি বিকল্প শিল্পের গুরুত্ব নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
⇨ দেশীয় শিল্পের সংরক্ষণ বিদেশি শিল্পের প্রতিযোগিতার হাত থেকে দেশীয় নবীন শিল্পসমূহকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য বিদেশি শিল্পপণ্য আমদানি বন্ধ বা নিরুৎসাহিত করা প্রয়োজন। এজন্য আমদানিকৃত পণ্যের উপর উচ্চ হারে শুল্ক বসানো যায়। এর ফলে দেশীয় শিল্প স্বয়ংসম্পূর্ণতায় ফিরে আসবে। দেশীয় শিল্পের উৎপাদিত পণ্য দেশীয় নাগরিকদের ব্যবহারের উপযোগী হবে। এভাবে দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে একসময় দেশীয় শিল্পসমূহ বিদেশি শিল্পের সাথে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিশ্ববাজারে টিকে থেকে মুনাফা আহরণ করতে পারবে।
⇨ বৈদেশিক বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস: বাংলাদেশে প্রতি বছর যে পরিমাণ আয় রপ্তানির মাধ্যমে আসে তার চেয়ে বেশি আমদানির মাধ্যমে ব্যয় হয়। ফলে প্রতি বছর বাংলাদেশকে বাণিজ্য ঘাটতির সম্মুখীন হতে হয়। এ অবস্থা হতে মুক্তি পাওয়ার লক্ষ্যে একমাত্র পথ হলো আমদানি বিকল্প শিল্প স্থাপন করা।
⇨. শিল্পায়ন: আমদানি বিকল্প শিল্পায়ন হলে দেশে প্রচুর শিল্পজাত দ্রব্যসামগ্রী উৎপাদন করা সম্ভব। দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।
⇨. দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন: আমদানি বিকল্প শিল্পব্যবস্থা গড়ে উঠলে,। কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে, কৃষি ও শিল্প উভয় খাতেই উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, দেশে দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে।
অতএব বলা যায়, আমদানি বিকল্প শিল্প দেশীয় শিল্প যেমন সংরক্ষণ করে তেমনি বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস, শিল্পায়ন ও দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জনেও সহায়তা করে।
Related Question
View Allঅল্প শিক্ষিত ও প্রশিক্ষণবিহীন সদস্যরা জীবনধারণের তাগিদে পরিবারের স্বল্প মূলধন ও সহজলভ্য যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ঘরে বসে বিভিন্ন দ্রব্য উৎপাদন করে তা-ই কুটির শিল্প।
কোনো একটি দেশ যে সব দ্রব্য আমদানি করে থাকে, তা যদি আমদানি না করে দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদন করা হয় তাকে আমদানি বিকল্পন শিল্প বলে। অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা, মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ইত্যাদি কারণে আমদানি বিকল্পন শিল্প স্থাপন করা হয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, বাংলাদেশ সাধারণত গাড়ি আমদানি করে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশ যদি আমদানি না করে দেশের অভ্যন্তরেই গাড়ি তৈরির কলাকৌশল ব্যবহার করে গাড়ি তৈরি করতে পারে তাহলে তা আমদানি বিকল্পন শিল্প বলে গণ্য হবে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত শিল্পটি হলো চা শিল্প। নিচে চা শিল্পের সমস্যাগুলো ব্যাখ্যা করা হলো-
বাংলাদেশের চা শিল্প প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল। কোনো বছর বৃষ্টি কম হলে চা উৎপাদন কম হয়, কারণ চা উৎপাদনের জন্য প্রচুর বৃষ্টিপাত প্রয়োজন। পাহাড়ি অঞ্চলে চা বাগান হওয়ায় মূল ভূখণ্ডের সাথে চা বাগানে যাওয়ার ভালো সড়ক নেই, এমনকি টেলিফোন লাইন, মোবাইল নেটওয়ার্ক বা বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও অনেক স্থানে অপ্রতুল। চা শিল্পে দক্ষ শ্রমিকের খুব অভাব, যেখানে ঐতিহাসিক কিছু অবাঙালি পরিবার চা উৎপাদনে নিয়োজিত। তারা শুধু দেখে দেখে কাজ শিখেছে। চায়ের বিকল্প হিসেবে কফির উৎপাদন ও ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশের চায়ের চাহিদা বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে।
পুরাতন পদ্ধতিতে চা চাষের ফলে বিশ্বমানের চা উৎপাদনে বাংলাদেশ এখনও পিছিয়ে আছে। চা বাগানগুলোতে প্রায়ই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে, যার ফলে নিরাপত্তার অভাবে অনেক দক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারী বাগান এলাকায় বসবাস করতে চান না। ভারত, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, চীন এদের চা অপেক্ষাকৃত উন্নত হওয়ায় রপ্তানি বাজারে বাংলাদেশ এদের তুলনায় পিছিয়ে পড়ে। চা বাগান তৈরি, পাতা প্রক্রিয়াকরণ ও বিপণনে বড় মূলধন প্রয়োজন, যা সহজে ফেরত আসে না।
তাই এ ক্ষেত্রে নতুন উদ্যোক্তা, নতুন মূলধন দেখা যায় না। উল্লিখিত এসব সমস্যা বাংলাদেশের চা শিল্পে বিদ্যমান।
চা শিল্পের সমস্যা সমাধানে বিভিন্নমুখী উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। নিচে উক্ত সমস্যার সমাধান সম্পর্কে আমার মতামত উপস্থাপন করা হলো-
চা উৎপাদনে আধুনিক উৎপাদন পদ্ধতি প্রয়োগ করা একান্ত প্রয়োজন। পুরনো পদ্ধতির পরিবর্তে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে তাল মিলিয়ে উন্নত প্রযুক্তির প্রয়োগ করে একরপ্রতি উৎপাদন বাড়াতে হবে। অনাবৃষ্টি ও খরার সময় চা বাগানে পর্যাপ্ত সেচের ব্যবস্থা করতে হবে। অদক্ষ, অশিক্ষিত শ্রমিক-কর্মচারীদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করলে বাগানের পরিচর্যা ও পাতা সংগ্রহে দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে, উৎপাদন বাড়বে। চা বাগান এলাকার পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। চা বাগানের সাথে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ ও পরিবহনব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে হবে। বিভিন্ন নেটওয়ার্ক স্থাপন ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়মিত করতে হবে। বিদেশে চা রপ্তানি বাড়ানোর জন্য নতুন নতুন বাজার সৃষ্টির উদ্যোগ নিতে হবে। ব্যাপক প্রচারণা, পণ্যের গুণগত মান বৃদ্ধি, প্রদর্শনী মেলায় অংশগ্রহণ রপ্তানি বাজার বৃদ্ধির সহায়ক। চা বাগানগুলোর উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত ঋণ সুবিধাসহ সার ও কীটনাশকের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে অবশ্যই চায়ের গুণগত মান বাড়াতে হবে। চা শিল্পের উন্নয়নে নিবিড় গবেষণা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা জোরদার করা একান্ত প্রয়োজন। গুণগত মান বজায় রাখার জন্য চায়ের উত্তম গুদামজাতকরণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্যাকেটিং প্রয়োজন। চা বাগান, প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা, চা রপ্তানির সাথে জড়িত বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর দুর্নীতি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
উল্লিখিত কার্যক্রমের মাধ্যমে চা শিল্পের সমস্যাগুলো দূর করা সম্ভম্ব বলে আমি মনে করি।
প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য ৫ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা, তা-ই অতি ক্ষুদ্র শিল্প।'
বাংলাদেশে বৃহৎ ও মাঝারি শিল্প এবং কুটির শিল্প এই দুই চরম বিপরীতধর্মী প্রতিষ্ঠানের মাঝখানে রয়েছে ক্ষুদ্র শিল্প।
ক্ষুদ্র শিল্প বলতে সেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে বোঝাবে যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানাভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ৫০ লাখ টাকা থেকে ১০ কোটি টাকা কিংবা যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে ২৫-৯৯ জন শ্রমিক কাজ করে।
ক্ষুদ্র শিল্পের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- সাবান শিল্প, দিয়াশলাই শিল্প, কাঠশিল্প, হোসিয়ারি শিল্প, লবণ শিল্প ইত্যাদি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!