সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের উত্তর লিখন :

Updated: 2 weeks ago
উত্তরঃ

অসুস্থতা হলো মানুষের দেহ, মন বা আত্মার স্বাভাবিক সুস্থ অবস্থা নষ্ট হয়ে যাওয়া। অসুস্থতার কারণে মানুষ শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। এটি মানুষের আনন্দ, শান্তি ও কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং জীবনে নানা ধরনের কষ্ট ও হতাশা সৃষ্টি করে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

অসুস্থতা মানুষের জীবনের আনন্দ, শান্তি ও মনের একাগ্রতা নষ্ট করে। এর ফলে মানুষ নিরানন্দ, বিরক্ত, অধৈর্য ও একাকী হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকলে হতাশা ও মানসিক দুর্বলতা দেখা দেয় এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হয়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা মানুষের মনে গভীর হতাশা, নিরাশা ও একাকীত্ব সৃষ্টি করে। এতে মানুষের আত্মবিশ্বাস কমে যায় এবং জীবনের প্রতি আগ্রহ হ্রাস পায়। ফলে সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

পৃথিবীকে অসুস্থ বলা হয়, কারণ বর্তমানে পৃথিবীতে নৈতিক অবক্ষয়, সামাজিক অন্যায়, অর্থনৈতিক বৈষম্য, দুর্নীতি, যুদ্ধ, পরিবেশ দূষণ ও সহিংসতা বেড়ে গেছে। মানুষের পাপ ও স্বার্থপরতার কারণে পৃথিবীর স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও শান্তি নষ্ট হচ্ছে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

পৃথিবীর অসুস্থতার প্রধান কারণ হলো মানুষের পাপ, স্বার্থপরতা ও মন্দ কাজ। মানুষ যখন ঈশ্বরের ইচ্ছার বিরোধিতা করে, অন্যায়-অত্যাচার, হিংসা, লোভ ও দুর্নীতিতে লিপ্ত হয়, তখন ব্যক্তি, সমাজ ও পৃথিবী অসুস্থ হয়ে পড়ে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

সুস্থ পৃথিবী গড়তে হলে মানুষের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক উন্নতি প্রয়োজন। ঈশ্বরকে ভালোবাসা, প্রতিবেশীর প্রতি ভালোবাসা, সত্যবাদিতা, ন্যায়পরায়ণতা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং পরস্পরের প্রতি সহযোগিতার মনোভাব গড়ে তুলতে হবে। তাহলেই একটি সুন্দর ও শান্তিময় পৃথিবী গড়ে উঠবে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

পাপ হলো ঈশ্বরের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করা এবং ঈশ্বর ও মানুষের সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্ক নষ্ট করা। অন্যের ক্ষতি করা, ভালো কাজ না করা এবং সত্য ও ন্যায়ের পথ থেকে বিচ্যুত হওয়াও পাপ। পাপ মানুষের আধ্যাত্মিক ও নৈতিক জীবনের অবক্ষয় ঘটায়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

পাপের অপর নাম হলো মন্দতা বা অসুস্থতা। কারণ পাপ মানুষের আত্মাকে অসুস্থ করে এবং ব্যক্তি, সমাজ ও পৃথিবীর শান্তি ও সৌন্দর্য নষ্ট করে। তাই পাপকে আধ্যাত্মিক অসুস্থতাও বলা হয়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

ঈশ্বর পৃথিবীকে সুন্দর ও পবিত্রভাবে সৃষ্টি করেছিলেন। কিন্তু মানুষের পাপের কারণে পৃথিবীতে অন্যায়, হিংসা, যুদ্ধ, দারিদ্র্য, দুর্নীতি ও পরিবেশ দূষণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সুন্দর পৃথিবী অসুস্থ, কলুষিত ও ক্ষত-বিক্ষত হয়ে পড়েছে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

ঈশ্বর পৃথিবী ও এর সমস্ত সৃষ্টি অতি সুন্দর, পবিত্র ও কল্যাণকরভাবে সৃষ্টি করেছিলেন। তাঁর সৃষ্টিতে ছিল শান্তি, শৃঙ্খলা ও ভালোবাসা। কিন্তু মানুষের পাপের কারণে সেই সৌন্দর্য ও পবিত্রতা অনেকাংশে নষ্ট হয়ে গেছে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

অনেকের মতে, পাপ হলো ধর্মীয় বিধি-নিষেধ অমান্য করা বা ঈশ্বরের আদেশ লঙ্ঘন করা। অর্থাৎ ধর্মীয় আইন, নীতি বা নিয়ম ভঙ্গ করাই পাপ। তবে যীশু শিক্ষা দিয়েছেন, শুধু নিয়ম ভঙ্গ করাই নয়, বরং ভালোবাসার অভাবও পাপ।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

ইহুদিদের মতে, পবিত্র বাইবেলের পুরাতন নিয়মে ৬১৩টি ধর্মীয় বিধান ছিল। তারা বিশ্বাস করত, এই বিধানগুলোর যেকোনো একটি অমান্য করলেই পাপ হয়। তাই তারা এসব বিধান কঠোরভাবে পালন করার চেষ্টা করত।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

দশ আজ্ঞা হলো ঈশ্বর কর্তৃক মোশির মাধ্যমে ইস্রায়েল জাতিকে দেওয়া দশটি নৈতিক ও ধর্মীয় নির্দেশ। এই আজ্ঞাগুলো মানুষকে ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ত থাকতে এবং মানুষের সঙ্গে সঠিক আচরণ করতে শিক্ষা দেয়। খ্রিষ্টীয় জীবনের নৈতিক ভিত্তি হিসেবে এগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

যীশু দশ আজ্ঞাকে দুটি প্রধান আজ্ঞায় সংক্ষিপ্ত করেছেন। প্রথমটি হলো—সমস্ত হৃদয়, প্রাণ, শক্তি ও মন দিয়ে ঈশ্বরকে ভালোবাসতে হবে। দ্বিতীয়টি হলো—প্রতিবেশীকে নিজের মতো ভালোবাসতে হবে। এই দুটি আজ্ঞার মধ্যেই সব ধর্মীয় বিধানের সারমর্ম নিহিত।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

যীশুর প্রথম প্রধান আজ্ঞা হলো—"তোমার সমস্ত অন্তর, সমস্ত প্রাণ, সমস্ত শক্তি ও সমস্ত মন দিয়ে তোমার ঈশ্বরকে ভালোবাসবে।" এর মাধ্যমে তিনি ঈশ্বরের প্রতি পূর্ণ ভালোবাসা, আনুগত্য ও বিশ্বাস প্রদর্শনের শিক্ষা দিয়েছেন।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

যীশুর দ্বিতীয় প্রধান আজ্ঞা হলো—"তোমার প্রতিবেশীকে নিজের মতো ভালোবাসবে।" অর্থাৎ সকল মানুষের প্রতি ভালোবাসা, দয়া, সহানুভূতি ও সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে আচরণ করতে হবে। এভাবেই ঈশ্বরের ইচ্ছা পূরণ হয়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

যীশুর মতে, পাপ হলো ঈশ্বর ও মানুষের সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্ক নষ্ট করা বা ভেঙে ফেলা। শুধু মন্দ কাজ করাই নয়, বরং ভালো কাজ না করা এবং অন্যকে ভালোবাসতে অস্বীকার করাও পাপ। তাই ভালোবাসাহীন জীবনই প্রকৃত পাপময় জীবন।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

যীশুর শিক্ষা অনুযায়ী, মানুষের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের অন্যতম উপায় হলো ভালো কাজ করা। কেউ যদি সাহায্য করার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তা না করে, তবে সে ভালোবাসার দায়িত্ব পালন করে না। তাই ভালো কাজ না করাও পাপ হিসেবে গণ্য হয়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

দয়ালু সমরীয়ের কাহিনির মূল শিক্ষা হলো—ধর্ম, জাতি বা পরিচয় নয়; বরং বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত মানবতা ও ঈশ্বরের ইচ্ছা। অন্যকে ভালোবাসা ও সাহায্য করাই সত্যিকার ধার্মিকতার পরিচয়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

যাজক ও লেবীয় ব্যক্তি আহত মানুষটিকে সাহায্য না করে পাশ কাটিয়ে চলে গিয়েছিলেন। তারা ধর্মীয় নিয়মকে মানবিকতার চেয়ে বড় মনে করেছিলেন। যীশুর মতে, তাদের এই আচরণ ভালোবাসার অভাব প্রকাশ করে, যা পাপের পরিচয় বহন করে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

সমরীয় ব্যক্তি আহত মানুষটিকে নিজের লোক মনে করে তার ক্ষত বেঁধে দেন, চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন এবং নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেন। তিনি ধর্ম, জাতি বা পরিচয়ের ভেদাভেদ না করে ভালোবাসা ও দয়ার পরিচয় দিয়েছিলেন। তাই যীশু তাঁকে প্রকৃত প্রতিবেশী ও আদর্শ মানুষ হিসেবে প্রশংসা করেছেন।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

মথি ২৫:৩১–৪৬ অনুযায়ী ক্ষুধার্তকে খাদ্য দেওয়া, তৃষ্ণার্তকে পানি পান করানো, অসুস্থের সেবা করা, বন্দিদের খোঁজ নেওয়া এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই পুণ্যের কাজ। যীশু শিক্ষা দিয়েছেন, এসব কাজের মাধ্যমে মানুষ প্রকৃতপক্ষে তাঁরই সেবা করে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

বড় ছেলে তার অনুতপ্ত ছোট ভাইকে ক্ষমা করতে এবং তাকে পরিবারের সদস্য হিসেবে গ্রহণ করতে চায়নি। সে ঈর্ষা ও অহংকারের কারণে ভালোবাসার সম্পর্ক নষ্ট করেছিল। যীশুর মতে, এই ভালোবাসাহীন মনোভাবই ছিল তার পাপ।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

ডি. এস. আমালোরপাভাদাসের মতে, ভালোবাসার সম্পর্ককে দুর্বল বা ধ্বংস করে দেওয়াই হলো পাপ। ঈশ্বরকে ও অন্য মানুষকে ভালোবাসতে অস্বীকার করা, স্বার্থপর হওয়া এবং অন্যদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে অনীহা প্রকাশ করাও পাপের অন্তর্ভুক্ত।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

ঐশতত্ত্ববিদ বি. হেয়ারিং-এর মতে, পাপ হলো নিজের মর্যাদা নষ্ট করা এবং ঈশ্বর, প্রতিবেশী ও নিজের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে অস্বীকার করা। ভালোবাসার সম্পর্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়াই প্রকৃত পাপ।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

পাপ মানুষের ঈশ্বরের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করে এবং মানুষকে নিজের, প্রতিবেশী ও সমগ্র সৃষ্টিজগত থেকে বিচ্ছিন্ন করে। এর ফলে মানুষের মধ্যে ভালোবাসা, শান্তি ও পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব নষ্ট হয়ে যায়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

আদম ও হবা ঈশ্বরের আদেশ অমান্য করে নিষিদ্ধ ফল খেয়েছিলেন। এই অবাধ্যতার মাধ্যমে তারা পাপ করেছিলেন। ফলে তারা এদেন উদ্যান থেকে বিতাড়িত হন এবং কষ্ট, পরিশ্রম ও মৃত্যুর জীবন ভোগ করতে বাধ্য হন।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

নোয়ার সময় মানুষ অত্যন্ত পাপাচার, অন্যায় ও সহিংসতায় লিপ্ত হয়ে পড়েছিল। পৃথিবী মন্দতায় পরিপূর্ণ হয়ে যাওয়ায় ঈশ্বর মহাপ্লাবনের মাধ্যমে সেই পাপময় পৃথিবীকে শাস্তি দেন এবং নোয়া ও তার পরিবারকে রক্ষা করেন।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

ইস্রায়েল জাতি একমাত্র সত্য ঈশ্বরকে ত্যাগ করে অন্য দেবদেবীর উপাসনা শুরু করেছিল। তারা ঈশ্বরের আদেশ অমান্য করায় তাঁর আশীর্বাদ থেকে বঞ্চিত হয়। ফলে শত্রুরা তাদের পরাজিত করে এবং তারা দাসত্বে পতিত হয়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশ ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত ও ধ্বংসপ্রাপ্ত। অসংখ্য ঘরবাড়ি, হাসপাতাল, রাস্তাঘাট ও জনপদ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। বহু মানুষ আহত, এতিম ও আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছিল। চারদিকে দুঃখ, দারিদ্র্য ও কষ্টের চিত্র বিরাজ করছিল।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পর বিদেশি স্বেচ্ছাসেবীরা যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তারা পোড়া ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ, অস্থায়ী চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপন, নলকূপ বসানো, শিশুদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা এবং কৃষকদের কৃষিকাজে সহায়তা করেছিলেন। তাদের সেবামূলক কাজ মানুষের জীবনে নতুন আশার সঞ্চার করেছিল।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

স্বেচ্ছাসেবীদের সহযোগিতায় গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়। মানুষের স্বাস্থ্য ভালো হয়, শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পায় এবং শিশুরা আবার স্কুলে যেতে শুরু করে। গ্রামবাসীর মধ্যে হতাশার পরিবর্তে আশা, আনন্দ ও নতুন উদ্দীপনা ফিরে আসে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

বর্তমান বিশ্বে দারিদ্র্য, ক্ষুধা, যুদ্ধ, দুর্নীতি, বেকারত্ব, সামাজিক বৈষম্য, পরিবেশ দূষণ, মানবপাচার, অন্যায়-অত্যাচার এবং জলবায়ু পরিবর্তন পৃথিবীর ক্ষত-বিক্ষত অবস্থার প্রধান উদাহরণ। এসব সমস্যা মানুষের পাপ ও স্বার্থপরতার ফল।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি খাদ্য, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। এর ফলে বেকারত্ব, দারিদ্র্য, পরিবেশ দূষণ এবং সামাজিক নানা সমস্যা বৃদ্ধি পায়। তাই জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

ধনী-গরিবের বৈষম্যের কারণে সমাজে অন্যায়, শোষণ ও অসন্তোষ বৃদ্ধি পায়। দরিদ্র মানুষ শিক্ষা, চিকিৎসা ও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। ফলে সামাজিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হয়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

পরিবেশ দূষণের ফলে বায়ু, পানি ও মাটি দূষিত হচ্ছে। বনভূমি ধ্বংস, নদী দূষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেড়ে যাচ্ছে। এর ফলে মানুষ, প্রাণী ও উদ্ভিদের জীবন হুমকির মুখে পড়ছে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

যুদ্ধ মানুষের জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি করে। এতে অসংখ্য নিরীহ মানুষ প্রাণ হারায়, বহু পরিবার ধ্বংস হয় এবং সমাজে ঘৃণা ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। তাই যুদ্ধকে পাপ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে কোটি কোটি মানুষ প্রাণ হারায় এবং অসংখ্য শহর ধ্বংস হয়ে যায়। বিশেষ করে জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপের ফলে ব্যাপক প্রাণহানি ও দীর্ঘমেয়াদি তেজস্ক্রিয়তার ক্ষতি ঘটে। এটি মানব ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ঘটনা।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

পারমাণবিক বোমার আঘাতে মুহূর্তের মধ্যে হাজার হাজার মানুষ মারা যায় এবং বহু মানুষ গুরুতর আহত হয়। তেজস্ক্রিয়তার কারণে দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সার, জন্মগত ত্রুটি ও নানা জটিল রোগ দেখা দেয়। পরিবেশও মারাত্মকভাবে দূষিত হয়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

বর্তমান বিশ্বের উল্লেখযোগ্য নৈতিক সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে দুর্নীতি, মানবপাচার, মাদকাসক্তি, অবৈধ সম্পর্ক, বিবাহবিচ্ছেদ, ভ্রূণ হত্যা, সহিংসতা, প্রতারণা এবং স্বার্থপরতা। এসব সমস্যা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের শান্তি নষ্ট করে এবং মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটায়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

পাপ করলে একজন বিবেকবান মানুষের মধ্যে অপরাধবোধ, অনুতাপ ও লজ্জাবোধ সৃষ্টি হয়। সে বুঝতে পারে যে, তার কাজ ঈশ্বরের ইচ্ছার বিরুদ্ধে হয়েছে। এই উপলব্ধি মানুষকে অনুতপ্ত হতে এবং সঠিক পথে ফিরে আসতে সাহায্য করে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

পাপের ফলে মানুষ ঈশ্বরের সঙ্গে তার ভালোবাসার সম্পর্ক নষ্ট করে। একই সঙ্গে সে নিজের বিবেক, অন্য মানুষ এবং সমগ্র সৃষ্টিজগতের সঙ্গেও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফলে তার জীবনে শান্তি, আনন্দ ও আধ্যাত্মিক শক্তি কমে যায়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

ঈশ্বর পাপী মানুষকে ঘৃণা করেন না; বরং ভালোবাসা, দয়া ও ক্ষমার মনোভাব পোষণ করেন। তিনি চান মানুষ অনুতপ্ত হয়ে তাঁর কাছে ফিরে আসুক। তাই তিনি যীশু খ্রিষ্টকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন, যাতে মানুষ পাপ থেকে মুক্তি ও নতুন জীবন লাভ করতে পারে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

যীশু পৃথিবীতে এসেছিলেন মানুষকে পাপের দাসত্ব থেকে মুক্ত করতে, ঈশ্বরের সঙ্গে পুনর্মিলিত করতে এবং শাশ্বত জীবনের পথ দেখাতে। তিনি তাঁর শিক্ষা, অলৌকিক নিরাময় এবং ক্রুশবিদ্ধ মৃত্যুর মাধ্যমে মানবজাতির পরিত্রাণের ব্যবস্থা করেছেন।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

যীশুর ত্রিবিধ কর্মধারা হলো—প্রচার, শিক্ষাদান এবং নিরাময়করণ। তিনি ঈশ্বরের রাজ্যের সুসমাচার প্রচার করেছেন, মানুষকে সত্য ও ন্যায়ের শিক্ষা দিয়েছেন এবং অসুস্থ ও দুর্বল মানুষকে সুস্থ করে ঈশ্বরের ভালোবাসার প্রকাশ ঘটিয়েছেন।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

যীশু অসুস্থদের সুস্থ করে দেখিয়েছেন যে, তিনি মানুষকে শুধু শারীরিক নয়, মানসিক ও আধ্যাত্মিকভাবেও সুস্থ করতে চান। তাঁর নিরাময় ছিল ঈশ্বরের ভালোবাসা, করুণা এবং পরিত্রাণের একটি দৃশ্যমান নিদর্শন।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

পুনর্মিলন সাক্রামেন্ট বা পাপস্বীকারের সংস্কার হলো এমন একটি পবিত্র সংস্কার, যার মাধ্যমে একজন বিশ্বাসী নিজের পাপ স্বীকার করে ঈশ্বরের ক্ষমা লাভ করে। এর ফলে সে ঈশ্বর ও খ্রিষ্টমণ্ডলীর সঙ্গে পুনরায় মিলিত হয় এবং নতুন জীবন শুরু করার শক্তি পায়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

পাপস্বীকারের মাধ্যমে মানুষ ঈশ্বরের ক্ষমা লাভ করে এবং তাঁর সঙ্গে পুনর্মিলিত হয়। এতে অন্তরের অপরাধবোধ ও অশান্তি দূর হয়, আত্মা পবিত্র হয় এবং সৎ ও ন্যায়ের পথে চলার নতুন শক্তি ও অনুপ্রেরণা লাভ করে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

রোগীলেপন সাক্রামেন্টের উদ্দেশ্য হলো অসুস্থ ব্যক্তিকে আধ্যাত্মিক শক্তি, সাহস ও সান্ত্বনা প্রদান করা। ঈশ্বরের কৃপায় তিনি রোগভোগ সহ্য করার শক্তি পান এবং প্রয়োজনে শারীরিক সুস্থতাও লাভ করতে পারেন।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

পবিত্র খ্রিষ্টযাগে যীশু খ্রিষ্ট তাঁর দেহ ও রক্তের মাধ্যমে বিশ্বাসীদের আধ্যাত্মিক খাদ্য দান করেন। এর মাধ্যমে বিশ্বাসীরা ঈশ্বরের কৃপা লাভ করে, বিশ্বাসে দৃঢ় হয় এবং দেহ, মন ও আত্মায় শক্তি অর্জন করে। এটি খ্রিষ্টীয় জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাক্রামেন্ট।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
14

দশম অধ্যায়

অসুস্থ বিশ্বের নিরাময়

 

প্রত্যেক মানুষ তার জীবনে কোনো না কোনোভাবে অসুস্থ হয় । অসুস্থতা কোনো মানুষের জন্য কাম্য নয়, তবুও তা মানুষের জীবনে আসে । আমাদের জীবনে অসুস্থতা কখনো সামান্য, কখনো বড় আকারের, আবার কখনো বা কারো জীবনে তা মারাত্মক আকার ধারণ করে; এমন কি, তা কারো জীবনে মৃত্যু ডেকে আনে । অসুস্থতা আমাদের জীবনের আনন্দ, শান্তি ও মনের একাগ্রতা নষ্ট করে দেয়; তার ফলে সৃষ্ট হয় নিরানন্দ- ভাব, বিরক্তি, অধৈর্য, নিঃসঙ্গতা ও একাকীত্ব। দীর্ঘ ও গুরুতর অসুস্থতা জীবনে চরম হতাশার জন্ম দেয় । অসুস্থতা মানব জীবনের একাগ্রতা নষ্ট করে বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি করে । তাই সব মানুষই চায় তার অসুস্থতা থেকে নিরাময় বা পূর্ণ সুস্থতা এবং অসুস্থতার দ্বারা সৃষ্ট নিরানন্দ ও বিচ্ছিন্ন জীবন থেকে মুক্তি । কেননা সুস্থ জীবনই হলো সুখী, সুন্দর, আনন্দময় ও শান্তিময় জীবন ।

শুধু মানুষই নয়, মানুষের মতো পৃথিবী এবং এর পরিবেশও নষ্ট বা দূষিত হয়, যেমন পৃথিবীর প্রাণী, প্রকৃতি, পরিবেশ, বাতাস, আবহাওয়া, নদনদী, সাগর ইত্যাদি । এই অসুস্থতা শুধু বাহ্যিক বা দৈহিক নয়, নৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ইত্যাদি বিভিন্ন দিক থেকেও পৃথিবী অসুস্থতায় ভোগে । দৈহিক অসুস্থতার চাইতে অভ্যন্তরীণ অসুস্থতাই বেশি অস্বস্তিকর । মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে অসুস্থ বলেই পৃথিবী ও অসুস্থ । তাই মানুষের মতো পৃথিবীরও সুস্থতা বা নিরাময় প্রয়োজন । মানুষগুলো সুস্থ হয়ে উঠলেই পৃথিবীরও নিরাময় হবে । মানুষের ক্ষেত্রে যেমন সুখী-সুন্দর-শান্তিময় জীবনের জন্যে সুস্থতা প্রয়োজন, ঠিক তেমনিভাবে সুন্দর ও শান্তিময় বিশ্বের জন্যে সুস্থ প্রকৃতি ও পরিবেশ অপরিহার্য ।

এই অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা-

  • পাপের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • পাপের ফলে বিশ্বের ক্ষতবিক্ষত অবস্থা বর্ণনা করতে পারব;
  • খ্রিষ্টের নিরাময়কারী শক্তির মাহাত্ম বর্ণনা করতে পারব; 
  • পুনর্মিলন সাক্রামেন্তের গুরুত্ব ও পদ্ধতি বর্ণনা করতে পারব;
  • পাপ থেকে বিরত থাকতে উদ্বুদ্ধ হবো এবং
  • পুনর্মিলন সাক্রামেন্তে উদ্বুদ্ধ হবো ।

পাপ

পৃথিবীর মানুষের আধ্যাত্মিক, নৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও কৃষ্টিগত মূল্যবোধের অবক্ষয় বা ধ্বংস সাধনই হলো পাপ যার অপর নাম মন্দতা বা অসুস্থতা । ঈশ্বর পরম সুন্দর। তিনি ‘অতি সুন্দর’ এক পৃথিবী এবং যাবতীয় সবকিছুই অতি সুন্দর করে সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু পাপের ফলে মানুষ ও পৃথিবীর সবকিছু কলঙ্কিত হলো এবং সুন্দর পৃথিবীর সবকিছুই কলুষিত হলো । ঈশ্বরের সৃষ্ট সুন্দর ও পবিত্ৰ পৃথিবী মানুষের পাপের ফলে এক অসুস্থ রুগ্ন ও ভগ্ন পৃথিবীতে পরিণত হলো ।

 

 

 

কাজ : দলে ভাগ হয়ে পৃথিবীর বর্তমান অবস্থা, পাপের দিকসমূহ চিহ্নিত করে ও এ থেকে পরিত্রাণের উপায় আলোচনা কর ।

পাপ বা মন্দতা কী

অনেকে মনে করে থাকে যে, পাপ হলো কিছু ধর্মীয় বিধি-নিষেধ অমান্য করা, লঙ্ঘন করা বা উপেক্ষা করা । ইহুদিরা মনে করত যে, পবিত্র বাইবেলের পুরাতন নিয়মের দ্বিতীয় বিবরণে যে ৬১৩টি ধর্মীয় বিধান রয়েছে, তার কোনো একটি ভঙ্গ করলেই পাপ হয় । অনেক খ্রিষ্টভক্ত মনে করে থাকেন যে, মোশীর কাছে ঈশ্বরের দেওয়া ‘দশ আজ্ঞা'-র যে কোনো একটি আজ্ঞা লঙ্ঘন করলেই পাপ হয় । পুরাতন নিয়মের এই দশ আজ্ঞায় সাতটি আজ্ঞাই নিষেধাজ্ঞা অর্থাৎ সেখানে বলা হয়েছে: নরহত্যা করবে না, চুরি করবে না, মিথ্যা কথা বলবে না, ইত্যাদি । দশ আজ্ঞা অনুসারে মন্দ বা খারাপ কিছু করাই হলো পাপ ।

যীশু পুরাতন নিয়মের দশটি আজ্ঞাকে দুইটি আজ্ঞায় প্রতিস্থাপন করেছেন । তিনি বলেছেন: তোমার ঈশ্বর স্বয়ং প্রভু যিনি, তাঁকে তুমি ভালোবাসবে তোমার সমস্ত অন্তর দিয়ে, তোমার সমস্ত প্রাণ দিয়ে, তোমার সমস্ত শক্তি দিয়ে, আর তোমার সমস্ত মন দিয়ে! আর তোমার প্রতিবেশীকে তুমি নিজের মতোই ভালোবাসবে” (মথি ২২: ৩৭-৩৯; মার্ক ১২: ২৮-৩৪, লুক ১০ : ২৫-২৮)। তাই যীশুর বিধান অনুসারে পাপ বা মন্দতা হলো ঈশ্বর এবং অপরের সাথে প্রেমপূর্ণ সম্পর্ক না রাখা, নষ্ট করা বা ভেঙ্গে ফেলা । পুরাতন নিয়মের বিধান অনুসারে মন্দ কাজ করা, যীশুর বিধান অনুসারে ভালো না বাসা, কারো সাথে ভালোবাসার সম্পর্ক ভেঙ্গে ফেলাই হলো পাপ । অন্যকথায়, ভালো কাজ না করাই হলো পাপ বা মন্দ । এখানে যীশু পুরাতন নিয়মের ঊর্ধ্বে গিয়েছেন এবং পাপ বা মন্দতা সম্বন্ধে নতুন ধারণা ও শিক্ষা দিয়েছেন ।

কিছু উদাহরণ দেওয়া যাক । দয়ালু সমরীয়ের কাহিনীতে পুরাতন নিয়মের দশ আজ্ঞা অনুসারে মনে হতে পারে যে মন্দিরের যাজক এবং সেবক কোনো পাপ করেননি, তারা বরং তাদের ধর্মীয় নিয়ম পালন করেছেন । তাদের পালনীয় ধর্মীয় দায়িত্ব পালন না করলেই তাদের পাপ হতো বলে তারা আহত ব্যক্তির সেবা না করে পাশ কাটিয়ে চলে গিয়েছিলেন । যীশুর বিধান অনুসারে ভালোবাসার কাজ না করা, বা ভালো না বাসাই হলো পাপ যা তারা করেছেন । অন্যদিকে, সত্যিকার পুণ্যের কাজ করেছিলেন সেই বিজাতীয় সমরীয় লোকটি । তার গভীর ভালোবাসা দিয়ে তিনি আহত ব্যক্তির সেবা করেছিলেন ।

মথি লিখিত মঙ্গলসমাচারের ২৫:৩১-৪৬ অনুসারে অন্যকে, বিশেষভাবে তুচ্ছ ও অবহেলিত মানুষের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করা হলো পুণ্যের কাজ । অন্যদিকে, তাদের ভালোবাসতে অস্বীকার করা, বা অবহেলা করাই হলো পাপ বা মন্দ- যা ঈশ্বরকে কষ্ট দেয় ।

লুক লিখিত মঙ্গলসমাচারের ১৫:১১-৩২ পদে যীশু পাপের ধারণা আরো স্পষ্ট করে তুলেছেন । কাউকে ভালোবাসতে অস্বীকার করা, বা কাউকে গ্রহণ করতে অস্বীকার করাই হলো পাপ যা বড় ছেলে করেছিল । সে তার অনুতাপী ছোট ভাইকে আর ভালোবাসতে চায়নি এবং তাকে নিজের ভাই বলে গ্রহণ করতেও চায়নি।

দক্ষিণ ভারতের বিখ্যাত ঐশতত্ত্ববিদ ডি. এস. আমালোরপাভাদাস বলেছেন, “ভালোবাসার সম্পর্ককে দুর্বল করে দেওয়া বা নষ্ট করে দেওয়াই হলো পাপ । ঈশ্বরকে এবং অন্যকে ভালোবাসতে অস্বীকার করাও হলো মন্দতা বা পাপ । স্বার্থপরতা, ‘আমিত্ব ভাব,' অন্যদের সাথে সহভাগিতা করতে অস্বীকার করা, বিচ্ছিন্ন

 

 

হয়ে যাওয়া হলো পাপ । তাছাড়া নিজের একাকীত্ব, নিজের কাছে নিজে বন্দী থাকা, নিজের ভগ্নদশা এবং বিপর্যয়, ইত্যাদি সম্পর্কে সচেতন না থাকাটাও পাপ ।

ঐশতত্ত্ববিদ বি. হেয়ারিং-এর মতে, পাপ হলো নিজে থেকে নিজে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া, নিজের মান-মর্যাদা নষ্ট করা, অন্যের সাথে সুসম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে হতাশা প্রকাশ ও বাধা সৃষ্টি করা। মানুষের মধ্যে একটি অন্তর্নিহিত ক্ষমতা জন্মলগ্ন থেকেই তাকে দেওয়া হয়েছে, যাতে সে তার সৃষ্টিকর্তা, প্রতিবেশী এবং পৃথিবীর সাথে ভালোবাসার একটি খাঁটি সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে এবং তাদের সাথে একাত্ম হতে পারে । ভালোবাসার এই সম্পর্ক স্থাপন করতে অস্বীকার করা বা আগ্রহ প্রকাশ না করাই হলো পাপ ।

পাপের পরিণতি

পবিত্র বাইবেলের আদি পুস্তকের তৃতীয় অধ্যায়ে আমরা লক্ষ করি যে, ঈশ্বরের আদেশ অমান্য করে পাপ করার ফলে আদম ও হবা শাস্তি পেয়েছিলেন এবং স্বর্গীয় সুখের এদেন উদ্যান থেকে বিতাড়িত হয়েছিলেন । নোয়ার সময় মানুষ যখন পাপ বা মন্দ কাজে নিয়োজিত হলো, তখন ঈশ্বর মহাজলপ্লাবন দিয়ে তাদের সবাইকে ধ্বংস করলেন (আদিপুস্তক ৭ম অধ্যায়) । পবিত্র বাইবেলের দ্বিতীয় রাজাবলি গ্রন্থে আমরা লক্ষ করি যে, ঈশ্বরের মনোনীত ইস্রায়েল জাতি যখন একমাত্র সত্য ঈশ্বরকে পরিত্যাগ করে অন্য জাতির দেবদেবীর পূজা-অর্চনা শুরু করল, তখন তারা শত্রুদের হাতে যুদ্ধে পরাজিত হয়ে তাদের দাসত্ব করল। এখানে আমরা পবিত্র বাইবেল থেকে আরও কিছু কাহিনী উল্লেখ করতে পারি যেখানে দেখতে পাব মানুষ তাদের পাপের ফলে শাস্তি পেয়েছিল।

আমরা এবার অসুস্থ ও ভগ্ন পৃথিবীর কিছু সাম্প্রতিক কাহিনী শুনব। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পর একজন বিদেশি স্বেচ্ছাসেবীর অভিজ্ঞতা এখানে তুলে ধরা হলো ।

যুদ্ধ-বিধ্বস্ত বাংলাদেশ

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পর একজন বিদেশি কলেজ শিক্ষক তার কিছু শিক্ষার্থী নিয়ে বাংলাদেশে আসেন স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করার জন্যে । তারা দল বেঁধে যুদ্ধ-বিধ্বস্ত একটি প্রত্যন্ত গ্রাম এলাকায় চলে গেলেন । সেখানে তারা দেখতে পেলেন যুদ্ধে চরম ক্ষতিগ্রস্ত দালান কোঠা, হাসপাতাল, ভঙ্গা রাস্তাঘাট, আগুনে পোড়া গ্রামের ঘরবাড়ি, প্রায় জনশূন্য গ্রাম, মাঠ ও প্রান্তর । তারা আরো দেখতে পেলেন যুদ্ধে আহত অনেক মানুষ, অনেক অবিবাহিত নারী, অনেক এতিম শিশু, অনেক সন্তানহারা মাতাপিতা, স্বামীহারা মহিলা । দেশের সর্বত্রই যেন এক জঘন্য ধ্বংসযজ্ঞের ছাপ, চারিদিকে ব্যথা বেদনা, বঞ্চনা, দুঃখ-কষ্ট ও দারিদ্র্যের করুণ চিত্র যা একদল মানুষের লোভ লালসা, চরম ঘৃণা ও যুদ্ধের বিভীষিকার ফল ।

বিভিন্ন সাহায্য সংস্থার পাশাপাশি ঐ স্বেচ্ছাসেবীও তার শিক্ষার্থীদের নিয়ে এই দুঃখ কষ্টে ভারাক্রান্ত মানুষের পাশে এসে দাঁড়ালেন। তারা লোকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের দুঃখকষ্ট সরেজমিনে দেখতে লাগলেন; যুদ্ধে পোড়ানো বাড়িঘরগুলো নতুন করে তৈরি করতে লাগলেন, গ্রামের অসুস্থ মানুষের চিকিৎসার জন্যে অস্থায়ী চিকিৎসা সেবাকেন্দ্র গড়ে তুললেন, পানীয় জলের জন্যে গ্রামে নলকূপ স্থাপন করলেন। তারা ছেলেমেয়েদেরকে লেখাপড়া শিখাতে লাগলেন এবং গ্রামের কৃষকদের কৃষিকাজে সাহায্য দিতে শুরু করলেন ।

 

 

 

ধীরে ধীরে কয়েক মাসের মধ্যেই গ্রামে একটা পরিবর্তনের চিহ্ন দেখা গেল । হতাশা ও বেদনাগ্রস্ত মানুষের মধ্যে একটা আশা জেগে উঠল । জীবন যাত্রা পরিবর্তনের দৃশ্যগুলো স্পষ্টই দৃশ্যমান হলো । তাদের স্বাস্থ্যের উন্নতি হলো, পোশাক-আশাক পরিধানে আরো মার্জিত হলো ও শিক্ষাক্ষেত্রে আগ্রহ বৃদ্ধি পেল । ফলে দেখা গেল, অনেক ছেলেমেয়ে সুন্দর পোশাক আর স্কুল-ব্যাগ নিয়ে লেখাপড়ার উদ্দেশ্যে স্কুলে যেতে শুরু করল । গ্রামের সবার মুখে হাসি ফুটে উঠতে শুরু করল । তাদের হৃদয়-মন এক নতুন উৎসাহ- উদ্দীপনায় ভরে উঠল ।

বিশ্বের ক্ষত বিক্ষত অবস্থা

সারা বিশ্বের দিকে তাকালে আমরা একই ধরনের একটি ক্ষত-বিক্ষত ও ভগ্ন পৃথিবী দেখতে পাই:

  • দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও জনসংখ্যা বিস্ফোরণ
  • বিশ্বের শতকরা ৮০ জন মানুষ দরিদ্র
  • কোটি কোটি মানুষ ক্ষুধার্ত, তারা অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটায়
  • লক্ষ লক্ষ মানুষ কারাবন্দী
  • অন্যায় ও অন্যায্যতার প্রবল প্রভাব ও প্রসার
  • ধনী ও গরিবের বিরাট ব্যবধান ও শ্রেণিবৈষম্য
  • দরিদ্র দেশগুলোর উপর ধনী দেশগুলোর আধিপত্য
  • গণমাধ্যমগুলোর অনৈতিক লাগামহীন প্রচার ও তার নেতিবাচক প্রভাব
  • ধনী দেশগুলোর রমরমা অস্ত্র ব্যবসা
  • দুর্নীতির প্রসার লাভ
  • স্বার্থপর রাজনীতির খেলা
  • প্রকৃতির চরম পরিবেশ দূষণ
  • চরম বিপর্যয়মুখী পৃথিবী

এভাবে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, আমাদের ব্যক্তি জীবনে, সমাজ জীবনে, রাষ্ট্রীয় জীবনে এবং সারা বিশ্ব জগতে মন্দতা আমাদের ঘিরে রয়েছে । ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্র ও পৃথিবীর কেউ মন্দের এই প্রভাব ও ছোবল থেকে মুক্ত নয় । কী করে আমরা এসব মন্দতা বা পাপের অভিশাপ থেকে মুক্ত হবো এবং সুস্থ-সুন্দর জীবন যাপন করব?

বর্তমান বিশ্বের অশান্তি পাপময় চিত্র

যুদ্ধ মানেই পাপ । কারো না কারো পাপের জন্যে যুদ্ধ শুরু হয় । যুদ্ধে কত মানুষ, জীবজন্তু মারা যায়, কত বাড়িঘর, জানমাল, ধনসম্পদ, প্রতিষ্ঠান, জনপদ, গাছপালা, ক্ষতিগ্রস্ত হয়, আর্থিক মন্দা ও দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়,

 

 

নানা সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হয় । শুধু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে দেড় কোটি লোক মৃত্যুবরণ করেছিল । জাপানের হিরোসিমা-নাগাসাকি শহর দুইটিতে আমেরিকার আনবিক বোমার আঘাতে হাজার হাজার মানুষ করুণ মৃত্যুবরণ করে এবং আরও বহু মানুষ আণবিক বোমার বিষাক্ত তেজস্ক্রিয়ায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পঙ্গু জীবনযাপন করে আসছে ।

তাছাড়া বর্তমানে সারা পৃথিবীতে মুষ্টিমেয় ধনী লোকের (শতকরা ১০জন) লাগামহীন সম্পত্তি লিপ্সার কারণে কোটি কোটি লোক সর্বহারা হচ্ছে, বেকারত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে, শহরের বস্তিতে রাস্তার ফুটপাতে অমানবিক জীবনযাপন করছে অগণিত মানুষ, গরিব মানুষের সংখ্যা আতঙ্কজনকভাবে বেড়ে চলছে । দারিদ্র্যের কষাঘাতে আক্রান্ত হয়ে লক্ষ লক্ষ নারী ও শিশু ঘৃণ্য ও পাপময় পতিতা বৃত্তিতে নিয়োজিত হচ্ছে । শক্তিশালী ও ধনশালীদের অন্যায়-অত্যাচারের শিকার হচ্ছে অগণিত মানুষ । গণপ্রচার মাধ্যমগুলো এবং আকাশ-সংস্কৃতির নৈতিকতাহীন প্রচারের ফলে অনৈতিক জীবন যাপন, যেমন: অবৈধ যৌন সম্পর্ক, বিবাহ-বিচ্ছেদ, পিতৃ-মাতৃ-পরিচয়হীন এতিম শিশু, পারিবারিক ভাঙ্গন, অসহায় ও পরিত্যক্ত বৃদ্ধ পিতামাতা, ভ্রুণ হত্যা, মানব পাচার, ইত্যাদি বৃদ্ধি পাচ্ছে । পৃথিবীর গাছপালা, নদীনালা ও পাহাড়-পর্বত তথা প্রকৃতির উপর মানুষের অত্যাচার অবিচারের ফলে বন্যা, পাহাড় ধ্বস, নদীনালার মৃত্যু, নদী-সাগরের জল বিষাক্ত হওয়া, বহু প্রাণী ও উদ্ভিদের বিলুপ্তি, বায়ু দূষণ, আবহাওয়ার বিরূপ প্রতিক্রিয়া, সবুজ ভূমি মরুভূমিতে রূপান্তর ইত্যাদি পাপময় অবস্থা বা মন্দতা মারাত্মক আকার ধারণ করছে ।

নিরাময়কারী খ্রিষ্ট

আমরা যখন পাপ করি তখন আমাদের মধ্যে একটা অপরাধবোধ জাগ্রত হয়। যার সুস্থ-সুন্দর বিবেক আছে, তার মধ্যে এই উপলব্ধি নিশ্চিতভাবে হবেই । কিন্তু যে ব্যক্তি তার বিবেককে হত্যা করে এর কন্ঠকে রোধ করে দিয়েছে, সে শত পাপ অন্যায় করলেও তার মধ্যে কোনো অপরাধবোধ বা অনুতাপ আসে না । ঈশ্বরের সাথে মিলন হলো মানুষের জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য । পাপ করার ফলে মানুষ তার সেই অভীষ্ট লক্ষ্য থেকে বিচ্যূত হয় এবং ঈশ্বরের মহান ভালোবাসা থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেয় । একই সাথে পাপের কারণে সে নিজের অন্তর থেকে, অপরের কাছ থেকে এবং অন্য সব সৃষ্টি থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে ।

মহান ঈশ্বর কিন্তু পাপী ও দুর্বল মানুষকে কখনো দূরে ঠেলে দেন না । পবিত্র বাইবেল আমাদের এই শিক্ষাই দেয় যে, পাপী দুর্বল মানুষকে উদ্ধার করতে করুণাময় ও প্রেমময় ঈশ্বর নিজেই হাত বাড়িয়ে দেন । তাই আদম হবা যখন পাপ করে নিজেদেরকে ঈশ্বরের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নিলেন এবং লুকিয়ে রইলেন, তখন ঈশ্বর নিজেই তাদের খুঁজলেন এবং পৃথিবীতে তাদের জীবন ও বন্দীদশা থেকে উদ্ধারের জন্যে একজন ত্রাণকর্তাকে পাঠাবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিলেন । ঈশ্বর তাঁর পুত্র যীশুকে পাঠালেন সেই প্রতিশ্রুত ত্রাণকর্তারূপে । যীশু ক্রুশে মৃত্যুবরণ করে পাপের শক্তিকে নির্মূল করেছেন ও ক্রুশীয় মৃত্যুর গুণে পতিত মানুষকে ঈশ্বরের কাছে ফিরিয়ে এনেছেন (এফিসীয় ২: ১৬) । তাই যোহন তাঁর মঙ্গলসমাচারের শুরুতেই উল্লেখ করেন যে, মানুষের পাপের অন্ধকারে যীশু আসেন তাদের জীবনকে আলোকিত করতে। পাপের অন্ধকারেই আলোর উদ্ভাস । যেন যে কেউ তাঁকে বিশ্বাস করে, তার যেন বিনাশ না হয়, বরং সে যেন লাভ করে শাশ্বত জীবন ৷

 

 

 

যীশু হলেন ঈশ্বর ও মানুষের মধ্যে সেতু বন্ধন । তিনি এই জগতে এসেছেন মানুষকে ঈশ্বরের সঙ্গে পুনর্মিলিত করতে, মানুষকে তার ভগ্ন দৈন্য দশা থেকে সুস্থ করে তুলে সমগ্র মানবজাতি ও সৃষ্টির সঙ্গে ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ করতে । যীশু তাঁর প্রকাশ্য প্রচার জীবনকালে তাঁর ত্রি-বিধ কর্মধারা তথা: প্রচার, শিক্ষাদান, এবং নিরাময়করণ-এর মধ্যে দুর্বল ও পাপী মানুষের প্রতি ঈশ্বরের মহান ভালোবাসা ও অপার দয়ার কথাই প্রচার করে গেছেন । খ্রিষ্ট যীশু নিজে সমস্ত মন্দতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন এবং তাঁর ক্রুশীয় মৃত্যুর শক্তিতে পাপের শক্তিকে পরাজিত করেছেন । অসুস্থদের সুস্থ করে যীশু প্রকাশ করেছেন যে তিনি মানুষকে দেহ, মন ও আত্মায় সুস্থ করতে চান যেন মানুষ পিতা ঈশ্বরের পূর্ণ সন্তান হতে পারে । অসুস্থতা মানুষকে দুর্বলতা ও মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয় । পিতা ঈশ্বর যীশুকে পাঠালেন মানুষকে পাপের দাসত্ব থেকে মুক্ত করে পরিপুর্ণ রূপে জীবন দিতে । তাই যীশু বলেন, “আমি এসেছি, যাতে মানুষ জীবন লাভ করে এবং পরিপূর্ণভাবেই তা লাভ করে” (যোহন ১০: ১০খ)।

পুনর্মিলন সাক্রামেন্ত

বাংলায় ‘সংস্কার’ কথাটির অর্থ হলো মেরামত করা, সংশোধন করা । আমাদের দেহ-মন-আত্মার অসুস্থতা বা মন্দতার অবস্থা সারিয়ে তোলার জন্যে খ্রিষ্ট-মণ্ডলীতে সংস্কারীয় (সাক্রামেন্তীয়) ব্যবস্থা রয়েছে । যীশু তাঁর পুনর্মিলন ক্ষমতা ও নিরাময়কারী ক্ষমতা তাঁর শিষ্যদের সাথে সহভাগিতা করেছেন (লুক ৯: ১,২,৬)। তিনি তাঁর মুক্তিদায়ী ও নিরাময়কারী কাজসমূহ খ্রিষ্টমণ্ডলীর সাক্রামেন্তের মধ্য দিয়ে সম্পাদন করে চলেছেন ।

অনুতাপ ও পুর্নমিলন (পাপস্বীকার) সংস্কারের মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের পাপের ক্ষমা লাভ করি । রোগীলেপন সংস্কারের মধ্য দিয়ে আমরা অসুস্থতা থেকে নিরাময় লাভ করি । আর পবিত্র খ্রিষ্টযাগ (প্রভুর ভোজ)-এর মধ্য দিয়ে যীশু নিজেকে আমাদের জীবনের পরম খাদ্যরূপে দান করেছেন, যেন আমরা দেহ-মন-আত্মায় পূর্ণ সুস্থ-সবল ও সজীব থাকি । পবিত্র খ্রিষ্টযাগ ও মণ্ডলীর মাধ্যমে তিনি তাঁর বাক্য, দেহ ও রক্ত দিয়ে ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত মানুষের ক্ষুধা ও তৃষ্ণা মিটান এবং তাদেরকে নতুন জীবন দান করেন ।

 

অনুশীলনী

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন

১. অসুস্থতা মানব জীবনের কী নষ্ট করে ?

ক. নিঃসঙ্গতা

খ. একাগ্রতা

গ. সহভাগিতা

ঘ. আন্তরিকতা

 

 

২. মানুষ সব সৃষ্টি থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে

i. পাপের কারণে

ii. দুর্বলতার কারণে

iii. সহিংসতার কারণে

নিচের কোনটি সঠিক ?

ক. i

খ. ii

গ. i ও ii

ঘ. i ও iii

নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ৩ ও ৪নং প্রশ্নের উত্তর দাও :

জিম ও জেরী এক সঙ্গে খেলা করার সময় একটি ঘড়ি দেখতে পেল। জিম ঘড়িটি দেখে তাড়াতাড়ি তার পকেটে ঢুকালো । জেরী বলল, ‘অন্যের জিনিস নেওয়া ঠিক নয় । ওটা তুমি রেখে দাও ।’

৩. জেরী কী ধরনের পাপ থেকে জিমকে বিরত থাকতে বলেছে ?

ক. চুরি করা

খ. লোভ করা

গ. হিংসা করা

ঘ. মিথ্যা কথা বলা

৪. জিমের পাপের ফলে যে অবক্ষয় হচ্ছে, তা হলো -

ক. দৈহিক

খ. সামাজিক

গ. নৈতিক

ঘ. অর্থনৈতিক

 

 

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন

১. পাপ বলতে কী বোঝায় ? ব্যাখ্যা দাও ।

২. পাপের ফলে বিশ্ব কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ? ব্যাখ্যা দাও ।

৩. পাপের পরিণতি কী হতে পার ? ব্যাখ্যা দাও ।

৪. পাপ থেকে বিরত থাকতে হবে কীভাবে ?

৫. আমাদের দুর্বলতায় ঈশ্বর কীভাবে আমাদের শক্তি দেন ?

সৃজনশীল প্রশ্ন

১. সাইমন খুই দরিদ্র পরিবারের সন্তান । পিতার রেখে যাওয়া পৈত্রিক ভিটা ছাড়া তার আর কিছুই নেই । পাশের বাড়ির জমিদার রঞ্জন বাবুর কাছ থেকে জমি চাষ করার জন্য টাকা ধার নেয় সে । কিন্তু তার অজ্ঞতা ও অশিক্ষার কারণে রঞ্জন বাবু টিপসই নিয়ে সে পৈত্রিক ভিটাটুকুও নিয়ে যায় । সাইমন তা বুঝতে পারে না । একদিন জমিদার এসে তাকে বলেন, 'তুমি এই বাড়ি ছেড়ে চলে যাও । এটা আমার বাড়ি।' সাইমন বলে, ‘আমার বাড়ি ছাড়ব কেন?' জমিদার উত্তর দেয়, ‘এই যে কাগজে লেখা ও তোমার টিপসই । তুমিই এটা লিখে দিয়েছ ।' সাইমনের হঠাৎ মনে পড়ে গেল টাকা ধার নেওয়ার কথা ।

ক. পাপ কী ?

খ. নিরাময়কারী যীশু এ জগতে এসেছেন কেন ?

গ. রঞ্জন বাবুর কাজের মাধ্যমে কী প্রকাশ পায় ?

ঘ. রঞ্জন বাবুর কাজের পরিণতি কী হতে পারে ? তা বিশ্লেষণ কর ।

দীনা মেধাবী তবে চঞ্চল প্রকৃতির । তার চঞ্চলতায় রয়েছে ছলনা। দুষ্টামির ছলে মিথ্যা কথা বলে একে অপরের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করে । এমনকি ফাদারের নামে মিথ্যা কথা বলে । সহপাঠীরা ফাদারের কাছে সব কথা বলে এবং মণ্ডলীর সদস্য পদ বাতিল করার আবেদন করে । ফাদার দীনাকে কাছে নিয়ে মাথায় হাত রেখে অনেক বোঝায়, ঈশ্বরের বাণী শোনায়, ঈশ্বরের মহান ভালোবাসা ও অপার দয়ার কথা বলে । পরামর্শ দেন, প্রার্থনা কর যেন যীশু তোমাকে বোঝার শক্তি দেন । ফাদার তাকে ক্ষমা করে নতুন জীবনের সন্ধান দেখান ।

ক. বাংলার সংস্কার কথাটির অর্থ কী ?

খ. খ্রিষ্টযোগ বলতে কী বোঝায় ? ব্যাখ্যা দাও ।

গ. কার অনুপ্রেরণায় ফাদার দীনাকে কাছে টেনে নিয়েছেন ? বর্ণনা দাও ।

ঘ. ফাদারের অনুপ্রেরণায় দীনা শাশ্বত জীবন পেয়েছে বলে কি তুমি মনে কর ? মূল্যায়ন কর ।

Related Question

View All
উত্তরঃ

ঈশ্বর ও অপরের সাথে প্রেমপূর্ণ সম্পর্ক না রাখা, নষ্ট করা বা ভেঙে ফেলাই হলো পাপ।

228
উত্তরঃ

যীশু হলেন ঈশ্বর ও মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধস্বরুপ। তিনি এ জগতে ঈশ্বরের সাথে মানুষকে পুনর্মিলিত করতে এসেছেন। মানুষকে তার ভগ্ন দৈন্যদশা থেকে সুস্থ করে তুলে সমগ্র মানবজাতি ও সৃষ্টির সাথে ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ করতে। তিনি নিরাময়করণের মধ্যে দুর্বল ও পাপী মানুষের প্রতি ঈশ্বরের মহান ভালোবাসা ও অপার দয়ার কথা প্রচার করেন। 

মূলকথা: ঈশ্বরের সাথে জগতের পুনর্মিলন ঘটানো।

209
উত্তরঃ

মানুষ ও পৃথিবীর আধ্যাত্মিক, নৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও কৃষ্টিগত মূল্যবোধের অবক্ষয় বা ধ্বংসই হলো পাপ। পাপের ফলে মানুষ ও বিশ্বের সবকিছু কলঙ্কিত হয়। 

উদ্দীপকে রঞ্জন বাবুর কাজের মাধ্যমে পাপের চিত্র ভেসে ওঠে। তিনি কতিপয় ধনী লোকের একজন। তার লাগামহীন সম্পত্তির লিপ্সার কারণে সাইমন সর্বহারা হচ্ছে। রঞ্জন বাবুর এমন আচরণের মধ্যে সমাজের প্রতিষ্ঠিত কতিপয় ধনী লোকের প্রতিচ্ছবি পরিলক্ষিত হয়। তাদের অর্থলিন্দার কারণে কোটি কোটি লোক সর্বহারা হচ্ছে ও বেকারত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে। অগণিত মানুষ শহরের বস্তিতে, রাস্তার ফুটপাতে অমানবিক জীবনযাপন করছে। গরিব মানুষের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলছে। দারিদ্রের ছোবলে আক্রান্ত হচ্ছে। লাখ লাখ পরিবার। শক্তিশালী ও ধনীদের অন্যায়-অত্যাচারের শিকার হচ্ছে অগণিত মানুষ। 

তাই রঞ্জন বাবুর কাজটি অনৈতিক। আর অনৈতিক কাজ মানেই পাপ। 

মূলকথা: রঞ্জন বাবুর কাজের মাধ্যমে পাপ প্রকাশ পায়।

246
উত্তরঃ

উদ্দীপকে রঞ্জন বাবু অনৈতিকভাবে মানুষের সম্পত্তি নিজের করে নিচ্ছেন। তার এমন আচরণ মূল্যবোধের অবক্ষয়। আর মূল্যবোধের অবক্ষয় বা ধ্বংসসাধনই হলো পাপ। যার অপর নাম মন্দতা। 

রঞ্জন বাবুর পাপের পরিণতি কী হতে পারে, তা পবিত্র বাইবেলের আলোকে বিশ্লেষণ করা হলো-

বাইবেলের আদিপুস্তক তৃতীয় অধ্যায়ে উল্লেখ করা আছে যে, ঈশ্বরের আদেশ অমান্য করে পাপ করার ফলে আদম ও হবা শান্তি পেয়েছিলেন এবং স্বর্গীয় সুখের এদেন উদ্যান থেকে বিতাড়িত হয়েছিলেন। নোয়ার সময় মানুষ যখন মন্দ কাজে নিয়োজিত হলো, তখন ঈশ্বর মহা জলপ্লাবন দিয়ে তাদের সবাইকে ধ্বংস করলেন। পবিত্র বাইবেলের দ্বিতীয় রাজাবলি গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঈশ্বরের মনোনীত ইস্রায়েল জাতি যখন একমাত্র সত্য ঈশ্বরকে পরিত্যাগ করে অন্য জাতির দেবদেবীর পূজা-অর্চনা শুরু করল, তখন তারা শত্রুদের থেকে যুদ্ধে পরাজিত হয়ে তাদের দাসত্ব করল। 

এখানে আমরা পবিত্র বাইবেলের কাহিনী অবলোকন করে বুঝতে পারি মানুষ তাদের পাপের শাস্তি পায়। রঞ্জন বাবুর কাজের পরিণতিও এর চেয়ে ব্যতিক্রম নয়। 

মূলকথা: রঞ্জন বাবুর কাজের পরিণতি ঈশ্বর প্রদত্ত শান্তি।

279
উত্তরঃ

পবিত্র খ্রিষ্টযাগ বলতে বোঝায় প্রভর ভোজ। খ্রিষ্টযাগের মধ্য দিয়ে যীশু নিজেকে আমাদের জীবনের পরম খাদ্যরুপে দান করেছেন। আমরা যেন দেহ, মন, আত্মায় পূর্ণ সুস্থ-সবল ও সতেজ থাকি। খ্রিষ্টযাগ ও তার স্থাপিত মণ্ডলীর মাধ্যমে তিনি তার বাকা, দেহ ও রক্ত দিয়ে ক্ষুধার্ত-তৃষ্ণার্ত মানুষের ক্ষুধা ও তৃষ্ণা মেটান এবং তাদের নতুন জীবন দান করেন। 

মূলকথা: খ্রিষ্ণযাগ বলতে বোঝায় প্রভুর ভোজ।

347
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews