বিশ্বে বিচারকদের তিন ধরনের নিয়োগ পদ্ধতি রয়েছে।
বিচারকদের তিন ধরনের নিয়োগ পদ্ধতি রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রে বিচারকদের নিয়োগ পদ্ধতি বিভিন্ন রকম। কোনো কোনো রাষ্ট্রে জনগণের ভোটে বিচারকদের নিয়োগ করা হয়। যেমন- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যে এ পদ্ধতি প্রচলিত। জনগণের ভোটে বিচারকগণ নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়াকে গণতান্ত্রিক মনে হলেও এ পদ্ধতিকে সমর্থন করা যায় না। কারণ সাধারণ মানুষের পক্ষে যোগ্য বিচারক নির্বাচিত করা সম্ভব নয়। তাছাড়া এভাবে বিচারকগণ নিয়োগ প্রাপ্ত হলে বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা হারাতে পারে।
সরকারের যে বিভাগ জেলখানার আসামিদের শাস্তি প্রদান করেছে তা হলো বিচার বিভাগ, বিচার বিভাগই আইন অমান্যকারীদের শাস্তি প্রদান করে থাকে। সরকারের যে বিভাগ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার জন্য আইন ভঙ্গকারীকে শাস্তি প্রদান করে তাকে বিচার বিভাগ বলে। ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির বা ব্যক্তির সাথে রাষ্ট্রের বিরোধ দেখা দিলে বিচার বিভাগ আইন অনুসারে তা সমাধান করে দেয়। একটি দেশের সকল বিচারিক আদালত এবং এর সমস্ত জনবল নিয়ে বিচার বিভাগ গঠিত। যেকোনো রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থায় বিচার বিভাগের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। একটি দেশের শাসনব্যবস্থার মান জানা যায় বিচার ব্যবস্থায় দক্ষতার দ্বারা। বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ আদালত দেশের সংবিধানের অভিভাবক ও ব্যাখ্যাকারক। সরকারের অন্যান্য বিভাগের নিয়ন্ত্রক হিসাবেও বিচার বিভাগ অনেক সময় কাজ করে। 'দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের' পাশাপাশি প্রত্যেক দেশেই বিচার বিভাগ রাষ্ট্রের আইন শৃঙ্খলা-পরিস্থিতিতে সমুন্নত রেখে জনজীবনে সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করে এবং স্থিতিশীল শাসন কায়েম
যে বিভাগের মাধ্যমে আসামিদের শাস্তি প্রদান করা হলো ঐ বিভাগকে বলা হয় বিচার বিভাগ। বিচার বিভাগের গুরুত্ব প্রত্যেক দেশেই রয়েছে। এ বিভাগের গুরুত্ব বর্ণনাতীত। তার কারণ বিচারকার্য না থাকলে দেশের অস্তিত্বই বিপন্ন হয়। নিচে এ বিভাগের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো-
আইনের ব্যাখ্যাদানের ক্ষেত্রে: হ্যামিলটন যথার্থই বলেছেন, "বিচার বিভাগ আইনের ব্যাখ্যাদান না করলে তা মৃত অক্ষরে পরিণত হতো।"
স্বৈরাচারিতা রোধের ক্ষেত্রে: বিচার বিভাগ শাসন বিভাগের স্বৈরাচারিতা রোধ ও আইনসভায় সংবিধান বিরোধী আইনকে বাতিল ঘোষণা করে।
নাগরিক অধিকার রক্ষার্থে: বিচার বিভাগ নাগরিকের অধিকার রক্ষা করে।
পরামর্শ দানের ক্ষেত্রে আইন বিভাগ কোনো সমস্যায় পড়লে, বিচার বিভাগ পরামর্শ দিয়ে তা সমাধানে সাহায্য করে।সরকারের সাফল্য বিচার বিভাগের দক্ষতা অপেক্ষা সরকারের পারদর্শিতা নির্ণয়ের অধিকতর উপযোগী মানদণ্ড আর নেই।
আইন প্রণয়নে: আইন প্রণয়নে বিচার বিভাগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। পরবর্তীতে সে সিদ্ধান্ত আইনে পরিণত হয়। সমাজের মানন্নোয়ন, ও ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে বিচার বিভাগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allগণচীনে সমাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রচলিত।
বিচার বিভাগ জনগণের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করে। কিন্তু যদি এটি স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারে, তবে অনেক ক্ষেত্রেই নিরপেক্ষভাবে কাজ সম্পন্ন করতে পারে না। বিচার বিভাগকে অনেক সময় সরকারের বিরুদ্ধে রায় দিতে হয়। সরকারের অন্য কোনো বিভাগের অধীনে থেকে কাজ করলে সব সময় সরকারের বিরুদ্ধে যাওয়া সম্ভব হয় না। এজন্য ন্যায়বিচারের স্বার্থে বিচার বিভাগকে স্বাধীন রাখতে হয়।
A চিহ্নিত সংস্থাটি আইন প্রণয়নকারী সংস্থা বা আইনসভা।
রাষ্ট্রের তিনটি মৌলিক অঙ্গের মধ্যে আইনসভা বা আইন বিভাগ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি শাখা। সংসদীয় সরকারব্যবস্থাতে আইনবিভাগের গুরুত্ব ও ভূমিকা অনেক বেশি। আইন বিভাগের প্রধান কাজ হলো আইন প্রণয়ন করা। সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় আইনসভা শাসন বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করে। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট তাদের কাজের জন্য দায়ী থাকে। আইনসভা এখানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল অংশের কাজ করে। জনপ্রতিনিধিরা আইনসভায় জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন। আইন প্রণয়ন ছাড়াও সংবিধান প্রণয়ন, সংশোধন, আলোচনা, বিতর্ক, জনমত গঠন, আর্থিক বিবৃতি প্রণয়ন, তু রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, বিচারসংক্রান্ত কাজ, শাসনসংক্রান্ত কাজ, সমালোচনামূলক কাজ ইত্যাদি করে থাকে। সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় আইনসভা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
সরকারের তিনটি মৌলিক বিভাগের মধ্যে কাজ সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে। রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা আইন বিভাগের কাজ। আইন অনুসারে দেশ পরিচালনা করা শাসন বিভাগের কাজ এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা বিচার বিভাগের কাজ।
উদ্দীপকে চিহ্নিত A এবং B-তে যথাক্রমে আইন ও শাসন বিভাগের কথা বলা হয়েছে। একটি দেশ পরিচালনা তথা নিয়ন্ত্রণের মূল দায়িত্বে থাকে এই দুটি বিভাগ। একটি দেশের শাসন বিভাগ ব্যাপক অর্থে রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে গ্রামের চৌকিদার পর্যন্ত বিস্তৃত কর্মী বাহিনী নিয়ে গঠিত। শাসনকার্য পরিচালনা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, দেশরক্ষা, দেশের উন্নয়নমূলক কার্যাবলি পরিচালনা সবই শাসন বিভাগের হাতে ন্যস্ত। শাসন বিভাগ এসব কার্যাবলি সম্পন্ন করে আইন বিভাগ প্রণীত আইন অনুসারে।
শাসন বিভাগ তাদের কাজের জন্য আইন বিভাগের নিকট জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকে। শাসন বিভাগের কার্যাবলিকে বিভিন্নভাবে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে আইন বিভাগ। অন্যদিকে বিচার বিভাগ ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার জন্য বিচার করে থাকে। কিন্তু বিচার বিভাগের রায়কে বাস্তবায়ন করার দায়িত্বও থাকে শাসন বিভাগের হাতে। আবার বিচার বিভাগের প্রদত্ত রায় বা শাস্তিকে মওকুফ বা মার্জনার ক্ষমতা শাসন বিভাগের হাতে আছে। এ দিক থেকে দেখা যায়, রাষ্ট্রীয় কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণে আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগ মূল নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় থাকে। শাসন বিভাগের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়লে একটি রাষ্ট্র বিপন্ন হতে বাধ্য। আবার আইন বিভাগের নিয়ন্ত্রণ না থাকলে শাসন বিভাগ বেপরোয়া হয়ে যেতে পারে।
এদিক থেকে শাসন বিভাগ ও আইন বিভাগ পরস্পর পরস্পরের পরিপূরক, নিয়ন্ত্রক এবং সমন্বয় সাধনকারী। রাষ্ট্র পরিচালনায় এই দুটি বিভাগের ভূমিকাও অনেকটা তত্ত্বাবধায়কের ন্যায়। তাই আমি মনে করি, একটি রাষ্ট্র উদ্দীপকে চিহ্নিত A এবং B দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
ব্রিটেনের আইনসভার উচ্চকক্ষের নাম হাউস অব লর্ডস এবং নিম্নকক্ষের নাম হাউস অব কমন্স।
সরকারের যে বিভাগ আইনসভা প্রণীত আইন অনুসারে রাষ্ট্রীয় শাসনকার্য পরিচালনা করে, তাকে শাসন বিভাগ বলে। অর্থাৎ আইন বিভাগ প্রণীত আইন অনুসারে যে বিভাগ দেশ শাসন বা পরিচালনা করে থাকে, তাই শাসন বিভাগ। সংকীর্ণ অর্থে শাসন বিভাগ হলো প্রজাতন্ত্রের নীতি ও কার্যক্রম নির্ধারণের দায়িত্ব প্রাপ্ত অংশ যেমন- প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রীবর্গ, আমলারা। আর ব্যাপক অর্থে আইন ও বিচার বিভাগ ব্যতীত প্রজাতন্ত্রের সকল অংশীজন শাসন বিভাগের আওতাভুক্ত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!