মনির দোকানে গিয়েছে কলম কিনতে। এক দোকানে সে একটি কলম দেখল। কলমটির আকার ও রং অত্যন্ত চমকপ্রদ এবং কলমটি বেশ দামি। এ ছাড়াও কলমটি একটি নামি কোম্পানির তৈরি। কিন্তু কলমটি না কিনেই মনির অন্য একটি দোকানে গেল। সেখানে সে এমন একটি কলম দেখতে পেল, যার কালি অনেক ভালো, এতে লেখা সুন্দর হয় এবং কলমটি দিয়ে বেশ দ্রুত লেখা যায়। এ ছাড়া কলমটির আকার এমন, যার ব্যবহার অত্যন্ত সুবিধাজনক। মনির এই কলমটি কেনার সিদ্ধান্ত নিল এবং মনে মনে পর্যালোচনা করে দেখল যে সিদ্ধান্তটিতে কোনো ভুল আছে কি না। কারণ দেখা যায়, আপাতদৃষ্টিতে কোনো বিষয়কে সঠিক মনে হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা ভুলও হতে পারে। এভাবে সব দিক বিবেচনা করে অবশেষে মনির কলমটি কিনে বাড়ি ফিরল।
জগতের যাবতীয় জটিল ঘটনাকে সহজবোধ্য করার প্রেক্ষিতে মানবমনের সার্বিক কৌতূহল বা জিজ্ঞাসা নিবৃত্ত করার মাধ্যমে মানুষের বোধশক্তিকে পরিতৃপ্ত করার প্রক্রিয়াই হচ্ছে ব্যাখ্যা।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allযেকোনো বিষয়ের প্রাসঙ্গিকতা নির্ভর করে মানবজীবনে বিষয়টির প্রয়োজনীয়তার উপর। আর ব্যাখ্যাকরণের প্রক্রিয়া হচ্ছে এমনই একটি বিষয়, মানবজীবনে যার অপরিসীম প্রয়োজনীয়তা পরিলক্ষিত হয়ে থাকে। তাই শুধু দৈনন্দিন জীবনেই নয়, জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে ব্যাখ্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আর গুরুত্বের কারণেই বর্তমানের জ্ঞান- বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রার ধারায় ব্যাখ্যাকরণের প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক একটি বিষয় হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে। সুতরাং যুক্তিবিদ্যায় ব্যাখ্যার প্রাসঙ্গিকতার গুরুত্ব অপরিসীম।
উদ্দীপকে মনির কলম কিনতে গিয়ে প্রথম কলমটি পছন্দ হওয়া সত্ত্বেও সে অন্য দোকানে গিয়ে একটি কলম কিনল। যার কালি অনেক ভালো, এতে লেখা সুন্দর হয় এবং কলমটি দিয়ে বেশ দ্রুত লেখা যায়।
কলম কেনার ক্ষেত্রে উদ্দীপকের মনির যে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার আশ্রয় নিয়েছিল, তা হলো শৃঙ্খলযোজন। আর শৃঙ্খলযোজন কথাটির অর্থ হলো 'কতগুলো ঘটনার পর্যায়ক্রমিক পারস্পরিক সংযুক্তি'; অর্থাৎ মনির এই পদ্ধতি অবলম্বন করেই সব বিষয় পর্যালোচনা করে অন্য দোকানে তার দেখা দ্বিতীয় কলমটি কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। কেননা কলমটির আকার সুবিধাজনক, যার ফলে ব্যবহার সুবিধাজনক হবে।
সুতরাং উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, মনিরের দ্বিতীয় কলমটি কেনার সিদ্ধান্তটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার আলোকে সঠিক ছিল।
আপাতদৃষ্টিতে কোনো বিষয়কে সঠিক মনে হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা ভুলও হতে পারে।- উক্তিটি উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করা হলো-
উদ্দীপকের মনির দোকানে কলম কিনতে গিয়েছে। এক দোকানে সে একটি কলম দেখল, যার আকার ও রং অত্যন্ত চমকপ্রদ এবং কলমটি বেশ দামি। এ ছাড়া কলমটি একটি নামি কোম্পানির তৈরি; কিন্তু কলমটি না কিনে মনির অন্য একটি দোকানে যায়। সেখানে সে এমন একটি কলম দেখল যার কালি অনেক ভালো, এতে লেখা সুন্দর হয় এবং কলমটি দিয়ে বেশ দ্রুত লেখা যায়। এ ছাড়া কলমটির আকার এমন, যার ব্যবহার অত্যন্ত সুবিধাজনক। মনির কলমটি কেনার সিদ্ধান্ত নিল এবং মনে মনে পর্যালোচনা করে দেখল সিদ্ধান্তটিতে কোনো ভুল আছে কিনা। কেননা আপাতদৃষ্টিতে কোনো বিষয়কে সঠিক মনে হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা ভুলও হতে পারে। যেমন: কোনো নামি কোম্পানির কলম হলেই যে সেটি ভালো হবে এবং সাধারণ কোম্পানির কলম হলে তা খারাপ হবে, এমনটা ভাবা ঠিক নয়। তাই উদ্দীপকের মনির উক্ত বিষয়গুলো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার 'বিশ্লেষণরূপের' আলোকে পর্যালোচনা করে দ্বিতীয় কলমটি কেনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সাধারণত 'বিশ্লেষণ' কথাটির অর্থ হলো কোনো বিষয় বা ঘটনাকে বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করে এর গুরুত্ব অনুধাবন করা। উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, উদ্দীপকের উক্তিটি যৌক্তিক ও যথার্থ।
যে ব্যাখ্যায় অতিপ্রাকৃত সত্তা কল্পনা করে কোনো ঘটনার ব্যাখ্যা করা হয় তাকে লৌকিক ব্যাখ্যা বলে। সাধারণভাবে বলতে গেলে সাধারণ লোকের সাধারণ বিশ্বাস এবং মনগড়া চিন্তা ও প্রচলিত ধারণার দ্বারা কোনো ঘটনার যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, তা-ই হচ্ছে লৌকিক ব্যাখ্যা। তাই লৌকিক ব্যাখ্যা হচ্ছে সাধারণ মানুষের মনে বাসা বাঁধা বিভিন্ন কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের প্রতিফলন।
সুতরাং লৌকিক ব্যাখ্যার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলা যায়, যে ব্যাখ্যায় অতিপ্রাকৃত সত্তা কল্পনা করে কোনো ঘটনার ব্যাখ্যা করা হয়, তাকে লৌকিক ব্যাখ্যা বলে।
হ্যাঁ, আমি উদ্দীপকে সজীবের বাবার পরামর্শটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার অনুকূল বলে মনে করি। নিচে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হলো-
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার মূল লক্ষ্য হলো কোনো বিশিষ্ট ঘটনার কারণ আবিষ্কার করা। অর্থাৎ বৈজ্ঞানিক ঘটনাটি যে কার্যকারণ নিয়মে সংঘটিত হয়, বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় মূলত তা-ই ব্যক্ত করা হয়। উদ্দীপকে সজীব বিজ্ঞানের ছাত্র। সে পদার্থবিদ্যার একটি বিষয় পড়তে বসেছে। কিন্তু তা তার কাছে বোধগম্য হচ্ছিল না। তাই তার বাবা বিষয়টি কয়েকটি অংশে ভাগ করে পড়তে পরামর্শ দিলেন, যা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার তিনটি রূপের নির্দেশক। প্রথমরূপটি হলো বিশ্লেষণ, যার অর্থ হলো কোনো বিষয় বা ঘটনাকে বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করা, যাতে কোনো বিষয়কে সহজ ও প্রাঞ্জলভাবে উপস্থাপন করা। দ্বিতীয় রূপটি হলো শৃঙ্খলযোজন, যার অর্থ হলো কোনো বিষয়কে পর্যায়ক্রমিকভাবে উপস্থাপন করা। তাই সজীবের বাব সজীবকে বিষয়টির শৃঙ্খলযোজন করতে বলেন। অর্থাৎ একটি বিষয় যাতে পর্যায়ক্রমিকভাবে উপস্থাপিত হয়। পরবর্তীকালে কোনো বিষয়কে যাতে কোনো ঘটনার অন্তর্ভুক্তি করা যায়। আর অন্তর্ভুক্তি হলো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার অন্যতমরূপ, যা উদ্দীপকের বিষয়াবলির ঘটনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে এ কথা বলা যায়, সজীবের বাবা তাকে পঠিত বিষয়টি কয়েকটি ভাগে ভাগ করে পর্যায়ক্রমিকভাবে পড়তে বলেছিলেন, যাতে বিষয়টি সজীবের বোধগম্য হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!