স্বামীর মৃত্যু হলে স্ত্রীকেও মৃত স্বামীর চিতায় জীবন্ত পুড়িয়ে মারার প্রথাকে বলা হয় 'সতীদাহ প্রথা'।
বাংলা গদ্য সাহিত্যকে নবজীবন দান করেছিলেন বলে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্য সাহিত্যের জনক বলা হয়।
সংস্কৃত ও বাংলা ভাষায় সুপণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যের সংস্কার করে তার মান ব্যাপকভাবে উন্নত করেছিলেন। তিনি তখনকার প্রচলিত বাংলা গদ্যরীতির সংস্কার করে একে সাবলীল করেন এবং বেশকিছু উন্নতমানের পাঠ্যপুস্তক রচনা করেন।
উদ্দীপকে উল্লেখিত ঘটনার সাথে বাংলায় ইংরেজ শাসনের সূচনা পর্বের পলাশির যুদ্ধের ঘটনার মিল রয়েছে।
১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশির আমবাগানে পলাশির যুদ্ধ সংঘটিত হয়। রবার্ট ক্লাইভ সন্ধিভঙ্গের অজুহাতে সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। নবাবের পক্ষে দেশপ্রেমিক মীর মদন, মোহন লাল এবং ফরাসি সেনাপতি সিন ফ্রে প্রাণপণ যুদ্ধ করেন। যুদ্ধে মীর মদন নিহত হন। নবাবের বিজয় আসন্ন জেনে মীরজাফর ষড়যন্ত্রমূলকভাবে যুদ্ধ থামিয়ে দেয়। মীর মদনের মৃত্যু ও মীরজাফরের অসহযোগিতা নবাবকে বিচলিত করে। নবাবের সেনাপতি মীরজাফর যুদ্ধক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অসহযোগিতা করে নীরব দর্শকের ভূমিকায় ছিল। নবাবের সৈন্যরা যখন বিশ্রাম নিচ্ছে সেই সময় মীরজাফরের ইঙ্গিতে ইংরেজ সৈন্যরা তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। যার অনিবার্য পরিণতি নবাবের পরাজয়। উদ্দীপকের বর্ণনায় লক্ষণীয়, সুলতান আকরাম খান তার সেনাপতি ইয়ার আলীকে খুব বিশ্বাস করতেন। ইয়ার আলী ক্ষমতা লাভের আশায় সুলতানের শত্রুদের সাথে হাত মেলায় এবং যুদ্ধক্ষেত্রে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে, যা উপরে বর্ণিত পলাশি যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার সেনাপতি মীরজাফরের কর্মকান্ডের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লেখিত ঘটনার সাথে ইংরেজ শাসনের সূচনা পর্বের পলাশি যুদ্ধের মিল রয়েছে।
"সুলতান আকরাম খানের মতো নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের ফলে ভারতবর্ষ পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়"- উক্তিটি যথার্থ।
১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন ভাগীরথী নদীর তীরে সংঘটিত পলাশির যুদ্ধে মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতায় নবাবের পরাজয় ঘটে। সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ও মৃত্যু বাংলায় প্রত্যক্ষ ঔপনিবেশিক শাসনের পথ সুগম করে। পুরো ক্ষমতা চলে যায় ইংরেজদের হাতে। এর সুদূরপ্রসারী পরিণতি ছিল সমগ্র উপমহাদেশে কোম্পানির শাসন প্রতিষ্ঠা।
পলাশির যুদ্ধে সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ও মৃত্যুর পর বাংলা তথা উপমহাদেশের জনগণের ভাগ্যে নেমে আসে চরম দুর্দশা। যুদ্ধের পর মীরজাফরকে বাংলার সিংহাসনে বসালেও তিনি ছিলেন নামেমাত্র নবাব। প্রকৃত ক্ষমতার অধিকারী ছিল ইংরেজরা। বাংলায় একচেটিয়া ব্যবসা- বাণিজ্যের অধিকার লাভ করে তারা। এ যুদ্ধের পর ইংরেজ শক্তির স্বার্থে এদেশের আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক পরিবর্তন সংঘটিত হতে থাকে। পলাশির যুদ্ধের পর দেশীয় শাসনক্ষমতা ইংরেজদের হাতে চলে যায়। ফলে প্রায় ২০০ বছরের জন্য বাংলা পরাধীন যায়। প্রতিষ্ঠিত হয় ঔপনিবেশিক শাসন।
পরিশেষে বলা যায়, পলাশির যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের ফলে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়।
Related Question
View Allভাস্কো-ডা-গামা পর্তুগালের নাবিক ছিলেন।
প্রাচীনকালে বাংলা সম্পদে সমৃদ্ধ ও স্বয়সম্পূর্ণ ছিল বলে অনেকেই বাণিজ্য করতে এসছিল।
প্রাচীন বাংলার গ্রামের স্বয়ংসম্পূর্ণ কৃষকদের ক্ষেত ভরা ফসল, গোলাভরা ধান, পুকুরভরা মাছ থাকত। এদেশের তাঁতিদের হাতে বোনা কাপড় ইউরোপের কাপড়ের চেয়েও উন্নতমানের ছিল। এ অঞ্চলের নানা ধরনের বাণিজ্যিক পণ্য ও মসলার বেশ খ্যাতি ছিল। এসব পণ্যের আকর্ষণেই এদেশের সঙ্গে বাণিজ্য করতে এসেছে অনেকেই।
উদ্দীপকের ক্ষমতা ভাগাভাগির সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের দ্বৈত শাসনের মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
রবার্ট ক্লাইভ ১৭৬৫ সালের দেওয়ানি সনদের নামে বাংলার সম্পদ লুণ্ঠনের একচেটিয়া ক্ষমতা লাভ করে। দিল্লি কর্তৃক বিদেশি বণিক কোম্পানিকে এই অভাবনীয় ক্ষমতা প্রদানে সৃষ্টি হয় দ্বৈত শাসনের। এর মাধ্যমে কোম্পানি লাভ করে দায়িত্বহীন ক্ষমতা, আর নবাব পরিণত হয় ক্ষমতাহীন শাসকে। অথচ নবাবের দায়িত্ব থেকে যায় ষোলআনা। ফলে বাংলায় এক অভূতপূর্ব প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মামুন ও কামালের মাঝে পারিবারিক গার্মেন্টস ও সংসারের দায়িত্ব বণ্টন হয়। এতে মামুন কামালকে উপযুক্ত অর্থ প্রদান না করায় সংসারে জটিলতা দেখা দেয়। এই বিষয়টির সাথে দ্বৈত শাসনের মিল রয়েছে।
হ্যাঁ, আমি মনে করি, উক্ত ঘটনা বাংলার অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছিল।
দ্বৈত শাসনের ফলে বাংলার সাধারণ মানুষ অর্থনৈতিক দিক দিয়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার দ্বারা প্রশাসনে চরম দুর্নীতি শুরু হয়েছিল। নামে বেনামে অর্থ ইংল্যান্ডে পাচার হয়েছিল। ফলে বাংলার রাজকোষ শূন্য হয়ে পড়ে। এর ফলে জনগণের ওপর অতিরিক্ত করারোপ করা হয়। এছাড়াও অনাবৃষ্টির কারণে ঐ সময় (১৭৭০ সাল) দেখা দেয় দুর্ভিক্ষ যা ইতিহাসে 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' নামে পরিচিত। এই দুর্ভিক্ষে বাংলার জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ মৃত্যুমুখে পতিত হয়। এই দুর্ভিক্ষের ভয়াবহতা এমন ছিল যে, মানুষ মৃত মানুষের মাংস খেতে বাধ্য হয়েছিল। আর এই দুর্ভিক্ষেও রাজস্ব না কমিয়ে তা অব্যাহত রাখা হয়। ফলে চরম শোষণ-নির্যাতনে বাংলার মানুষ হতদরিদ্র ও অসহায় হয়ে পড়ে। তাছাড়াও কোম্পানির কর্মচারীদের দুর্নীতি বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশীয় বণিকশ্রেণি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তাই বলা যায় যে, দ্বৈত শাসনের ফলে বাংলার অর্থনৈতিক মেরুদন্ড ভেঙে পড়েছিল।
ভাগিরথী নদীর তীরে পলাশির যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।
ইংরেজ বন্দি হলওয়েল বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে নবাবকে হেয় করার জন্য এক মিথ্যা কাহিনীর প্রচারণা চালায় যা ইতিহাসে অন্ধকূপ হত্যা নামে পরিচিত।
এতে বলা হয় যে, ১৮ ফুট দীর্ঘ ও ১৪.১০ ফুট প্রশস্ত ছোট একটি ঘরে ১৪৬ জন ইংরেজকে বন্দি করে রাখা হয়। এতে প্রচণ্ড গরমে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ১২৩ জনের মৃত্যু হয়। এই মিথ্যা প্রচার মাদ্রাজ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। আর এই মিথ্যা প্রচারই হলো 'অন্ধকূপ হত্যা'।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!