সংস্কৃত ভাষায় পুরুষ তিন প্রকার- উত্তমপুরুষ, মধ্যমপুরুষ ও প্রথমপুরুষ। অহম্ (আমি), আবাম্ (আমরা দুজন), বয়ম্ (আমরা) উত্তমপুরুষ। ত্বম্ (তুমি), যুবাম্ (তোমরা দুজন), যূয়ম্ (তোমরা) মধ্যমপুরুষ এবং অবশিষ্ট সব, যেমন- সঃ (সে), তৌ (তারা দুজন), তে (তারা), রামঃ, অনুপঃ, কমলা, সারদা প্রভৃতি প্রথমপুরুষ। পত্যেক পুরুষের তিনটি বচন- একবচন, দ্বিবচন ও বহুবচন।
ক্রিয়ার মূলকে বলা হয়া ধাতু। ধাতুর চিহ্ন ✓ । ✓ পঠ, গম্, দৃশ্ প্রভৃতি ধাতু। কর্তৃবাচ্যে ধাতু তিন প্রকার। পরস্মৈপদী, আত্মনেপদী ও উভয়পদী।
ক্রিয়ার ব্যাপার বোঝাতে ধাতুর সঙ্গে তি, তস্, অন্তি, দৃ, তাম্, তু, অন্তু, যাৎ, স্যতি প্রভৃতি বিভক্তি যুক্ত হয়। এই বিভক্তিগুলি ক্রিয়ার কাল বা ভাব প্রকাশ করে। এদের বলা হয় তিবিভক্তি।
তিবিভক্তি বা ধাতুবিভক্তি দশ ভাগে বিভক্ত। এই দশটি ভাগের মধ্যে লট্, লোট্, লঙ্, বিধিলিঙ্ বা লিঙ্ ও লুট্ প্রধান। এদের আদিতে 'ল' থাকায় এদের বলা হয় ল-কার। বর্তমান কাল অর্থে লট্, অতীতকাল অর্থে লঙ্, ভবিষ্যৎকাল অর্থে লুট্, বর্তমান অনুজ্ঞা (আদেশ, উপদেশ) প্রভৃতি বোঝাতে লোট্ এবং উচিত অর্থে বিধিলিঙ্ বা লিঙের ব্যবহার হয়।
প্রত্যেকটি ল-কারের উত্তমপুরুষ, মধ্যমপুরুষ ও প্রথমপুরুষ এই তিনটি ভেদ এবং তাদের আবার একবচন, দ্বিবচন ও বহুবচন এই তিন ভেদ। ফলে তিভূ বিভক্তির সংখ্যা দাঁড়ায় ১০ x ৩ x ৩ = ৯০ (নব্বই)। আত্মনেপদেও তিঙ্ বিভক্তির সংখ্যা ৯০। সুতরাং তি বিভক্তির মোট সংখ্যা ১৮০।
ধাতুরূপ : বিভিন্ন ল-কারে তিনটি পুরুষ ও তিনটি বচনে ধাতুর যে ভিন্ন ভিন্ন রূপ হয়, তাদের বলা হয় ধাতুরূপ।
তি বা ক্রিয়াবিভক্তির আকৃতি
পরস্মৈপদী
লট্


সংস্কৃত ধাতুরূপ অসংখ্য। এখানে কয়েকটি ধাতুরূপের পরিচয় দেওয়া হল।
১। গম্ (যাওয়া)
লট্


২। পঠ (পড়া)




সংস্কৃতানুবাদ
সংস্কৃতে একটিমাত্র সংখ্যা বোঝালে হয় একবচন। যেমন- নরঃ (একজন মানুষ)। দুটি সংখ্যা বোঝালে দ্বিবচন। যেমন- নরৌ (দুজন মানুষ)। দুয়ের অধিক সংখ্যা বোঝালে হয় বহুবচন। যেমন- নরাঃ (মানুষেরা)।
সংস্কৃতে পুরুষ তিনপ্রকার- উত্তমপুরুষ, মধ্যমপুরুষ ও প্রথমপুরুষ।
উত্তমপুরুষ:
অহম্ (আমি), আবাম্ (আমরা দুজন), বয়ম্ (আমরা)।
মধ্যমপুরুষ: ত্বম্ (তুমি), যুবাম্ (তোমরা দুজন), যুয়ম্ (তোমরা)।
প্রথমপুরুষ: সঃ (সে), তৌ (তারা দুজন), তে (তারা), ভবান্ (আপনি), ভবন্তৌ (আপনারা দুজন), ভবন্তঃ (আপনারা), রামঃ, যদুঃ, শ্যামলঃ, কৃষ্ণঃ ইত্যাদি।
সংস্কৃতে কর্তা অনুসারে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়, অর্থাৎ কর্তা যে পুরুষ ও যে বচনের, ক্রিয়াও সেই পুরুষ ও সেই বচনের হয়।
বর্তমান কাল বা লট্-এর প্রয়োগ
সে পড়ে- সঃ পঠতি। তারা দুজন পড়ে- তৌ পঠতঃ। তারা পড়ে- তে পঠন্তি। তুমি পড়- ত্বম্ পঠসি। তোমরা দুজন পড়- যুবাম্ পঠথঃ। তোমরা পড়- যূয়ম্ পঠথ। আপনি পড়েন- ভবান্ পঠতি। আপনারা দুজন পড়েন- ভবন্তৌ পঠতঃ। আপনারা পড়েন- ভবন্তঃ পঠন্তি।
অতীতকাল বা লঙ্-এর প্রয়োগ
সে গিয়েছিল- সঃ অগচ্ছৎ। তারা দুজন গিয়েছিল- তৌ অগচ্ছতাম্। তারা গিয়েছিল- তে অগচ্ছন। আমি বলেছিলাম্- অহম্ অবদম্। আমরা দুজন বলেছিলাম- আবাম্ অবদাব। আমরা বলেছিলাম- বয়ম্ অবদাম। তুমি লিখেছিলে- তুম্ অলিখঃ। তোমরা দুজন লিখেছিলে- যুবাম্ অলিখতম্। তোমরা লিখেছিলে- যূয়ম্ অলিখত।
ভবিষ্যৎকাল বা লুট্-এর প্রয়োগ
সে যাবে- সঃ গমিষ্যতি। তারা দুজন যাবে- তৌ গমিষ্যতঃ। তারা যাবে- তে গমিষ্যন্তি। আমি যাব- অহং গমিষ্যামি। তুমি পড়বে- তুম্ পঠিষ্যসি। তোমরা দুজন পড়বে- যুবাম্ পঠিষ্যথঃ। তোমরা পড়বে- যূয়ম্ পঠিষ্যথ। আপনি লিখবেন- ভবান্ লেখিষ্যতি।
বর্তমান অনুজ্ঞা বা লোট্-এর প্রয়োগ
যাও- গচ্ছ। যান- গচ্ছতু। পড়- পঠ। লেখ- লিখ। বল-বদ।
দ্রষ্টব্য: ক্রিয়ার অনুজ্ঞাসূচক ভাব বা লোট্-এর কর্তা ত্বম্, ভবান্ প্রভৃতি সাধারণত উহ্য থাকে। তবে এর অনেক ব্যতিক্রমও দেখা যায়।]
ঔচিত্য প্রকাশক ল-কার বা বিধিলিঙের প্রয়োগ
তার যাওয়া উচিত- সঃ গচ্ছেৎ। আমার পড়া উচিত- অহম্ পঠেয়ম্। আমাদের লেখা উচিত- বয়ম্ লিখেম।
তোমার বলা উচিত- তুম্ বদেঃ। তোমাদের পড়া উচিত- যূয়ম্ পঠেত।
দ্রষ্টব্য: বাংলা বাক্যে ক্রিয়ার পর 'উচিত' শব্দ থাকলে কর্তায় ৬ষ্ঠী বিভক্তি থাকলেও সংস্কৃতে কর্তায় প্রথমা বিভক্তি হয়। উপরের উদাহরণগুলিতে এই নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে।
১। নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ক) সংস্কৃত ভাষায় পুরুষ কয় প্রকার?
খ) ধাতু কাকে বলে?
গ) তিবিভক্তি কয় ভাগে বিভক্ত?
ঘ) তিবিভক্তির সংখ্যা কত?
ঙ) সংস্কৃতে বচন কয় প্রকার?
চ) দ্বিবচন কাকে বলে?
ছ) ক্রিয়াপদের সঙ্গে কর্তার সম্পর্ক কি?
২। নির্দেশ অনুযায়ী ধাতুরূপ লেখ:
ক) লোট্ বিভক্তিতে 'গম্'-ধাতুর মধ্যমপুরুষের একবচন।
খ) লট্ বিভক্তিতে 'পঠ'-ধাতুর উত্তমপুরুষের বহুবচন।
গ) দৃঢ় বিভক্তিতে 'বদ্'-ধাতুর প্রথমপুরুষের দ্বিবচন।
ঘ) লঙ্ বিভক্তিতে 'লিখ'-ধাতুর মধ্যমপুরুষের দ্বিবচন।
ঙ) দৃঢ় বিভক্তিতে 'লিখ'-ধাতুর প্রথমপুরুষের দ্বিবচন।
৩। বিধিলিঙ্ বিভক্তিতে মধ্যমপুরুষে 'লিখ'-ধাতুর রূপ লেখ।
৪। লোট বিভক্তিতে 'বদ্'-ধাতুর রূপ লেখ।
৫। লঙ্-বিভক্তিতে 'পঠ' ধাতুর রূপ লেখ।
৬। সংস্কৃতে অনুবাদ কর:
(ক) আপনি পড়েন। (খ) যাদব পড়েছিল। (গ) আমরা যাব। (ঘ) তোমরা দুজন পড়বে। (ঙ) সে যাবে। (চ) আমি বলেছিলাম। (ছ) তার যাওয়া উচিত।
৭। বাংলায় অনুবাদ কর:
(ক) তৌ পঠতঃ। (খ) আবাম্ অবদাব। (গ) তৌ গমিষ্যতঃ। (ঘ) ত্বম্ অলিখঃ। (ঙ) বয়ং লিখেম। (চ) ভবান্ লেখিষ্যতি।
৮। পরস্মৈপদে লঙ্, লোট্ ও লুট্-এর আকৃতি লেখ।
৯। লট্-এ সকল পুরুষ ও বচনে 'গম্-ধাতুর রূপ লেখ।