আমরা ভাষার সাহায্যে একে অপরের সঙ্গে কথা বলি, একের মনোভাব অন্যের নিকট প্রকাশ করি। এ ভাষা হচ্ছে কতকগুলি ধ্বনির সমষ্টি। এ ধ্বনিগুলি লিখিতভাবে প্রকাশের জন্য কতকগুলি সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহৃত হয়। এ চিহ্নগুলিকে বলা হয় বর্ণ।
পণ্ডিতগণ সংস্কৃত ভাষার শব্দগুলি বিশেষণ করে সর্বমোট আটচলিশটি বর্ণ নির্ধারণ করেছেন। এ বর্ণগুলিকে একত্রে সংস্কৃত বর্ণমালা বলা হয়।
সংস্কৃত বর্ণমালা দুইভাগে বিভক্ত- স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণ।
স্বরবর্ণের অন্য নাম 'অচ্' এবং ব্যঞ্জনবর্ণের অন্য নাম 'হল্'।
স্বরবর্ণ বা অচ্: যে-সব বর্ণ অন্য বর্ণের সাহায্য ছাড়া নিজে উচ্চারিত হয়, তারা স্বরবর্ণ বা অচ্।
স্বরবর্ণ তেরটি- অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, ঋ, ৯, এ, ঐ, ও, ঔ।
স্বরবর্ণগুলি আবার দুইভাগে বিভক্ত-হ্রষষর ও দীর্ঘস্বর।
হ্রস্বম্বর: যে-সব স্বরবর্ণের উচ্চারণে অল্প সময় লাগে, তাদের হ্রস্বম্বর বলা হয়।
হ্রস্বস্বর পাঁচটি- অ, ই, উ, ঋ, ৯।
দীর্ঘস্বর: যে-সব স্বরবর্ণের উচ্চারণে হ্রস্বস্বর অপেক্ষা অধিক সময় লাগে, তাদের দীর্ঘস্বর বলা হয়।
দীর্ঘস্বর আটটি- আ, ঈ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ।
ব্যঞ্জনবর্ণ বা হল: যে-সব বর্ণ স্বরবর্ণের আশ্রয়ে উচ্চারিত হয়, তাদের ব্যঞ্জনবর্ণ বা হল্ বলা হয়।
ব্যঞ্জনবর্ণ পঁয়ত্রিশটি- ক, খ, গ, ঘ, ঙ, চ, ছ, জ, ঝ, ঞ, ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, ত, থ, দ, ধ, ন, প, ফ, ব, ভ, ম, য, র, ল, ব, শ, ষ, স, হ, ং, ঃ।
ব্যঞ্জনবর্ণে দুটি 'ব' আছে। এদের একটি বর্গের অন্তর্গত বলে বর্গীয় 'ব' এবং অন্যটি স্পর্শবর্ণ ও উম্মবর্ণের অন্তঃ অর্থাৎ মধ্যে অবস্থিত বলে অন্তঃস্থ 'ব' নামে পরিচিত।
স্পর্শবর্ণ: 'ক' থেকে 'ম' পর্যন্ত পঁচিশটি ব্যঞ্জনবর্ণ কণ্ঠ, ওষ্ঠ, দন্ত, জিহ্বা, মূর্ধা প্রভৃতি মুখ-গহ্বরের বিভিন্ন সস্থান স্পর্শ করে উচ্চারিত হয় বলে এদের স্পর্শবর্ণ বলা হয়।
বর্গ: পঁচিশটি স্পর্শবর্ণকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়। এদের প্রতিটি ভাগকে বলা হয় বর্গ।
বর্গ পাঁচটি- ক-বর্গ, চ-বর্গ, ট-বর্গ, ত-বর্গ এবং প-বর্গ।
অল্পপ্রাণ বর্ণ: যে-সব বর্ণের উচ্চারণ লঘু অর্থাৎ যাদের উচ্চারণে অল্প সময় লাগে, তাদের বলা হয় অল্পপ্রাণ বর্ণ।
প্রত্যেক বর্গের প্রথম, তৃতীয় ও পঞ্চম বর্ণ অল্পপ্রাণ। যেমন-

য, র, ল, ব- এই চারটি বর্ণও অল্পপ্রাণ।
মহাপ্রাণবর্ণ: যে-সব বর্ণের উচ্চারণ গুরু অর্থাৎ যেগুলির উচ্চারণে দীর্ঘ সময় লাগে, তাদের বলা হয় মহাপ্রাণবর্ণ।
প্রতিবর্গের দ্বিতীয় ও চতুর্থ বর্ণ মহাপ্রাণ। যেমন-

শ, ষ, স, হ- এ চারটি বর্ণকেও মহাপ্রাণ বর্ণ বলা হয়।
অঘোষবর্ণ: ন ঘোষ = অঘোষ। যে-সব বর্ণ ঘোষ নয় অর্থাৎ যাদের উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী কম্পিত হয় না, তাদের অঘোষবর্ণ বলা হয়।
বর্গের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ণ অঘোষ। যেমন-

শ, ষ, স- এ তিনটি বর্ণও অঘোষ।
ঘোষবর্ণ: যে-সব বর্ণের উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী কম্পিত হয়, তাদের ঘোষবর্ণ বলা হয়। বর্গের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম বর্ণ ঘোষবর্ণ। যেমন-

য, র, ল, ব, হ এ পাঁচটি বর্ণও ঘোষবর্ণ।
উষ্মবর্ণ: যে-সব বর্ণের উচ্চারণে শ্বাসবায়ুর প্রাধান্য থাকে, তাদের বলা হয় উম্মবর্ণ। যেমন- শ, ষ, স, হ।
অন্তঃস্থবর্ণ: যে-সব বর্ণ স্পর্শবর্ণ ও উম্মবর্ণের অন্তঃ অর্থাৎ মধ্যে অবস্থিত, তাদের অন্তঃস্থ বর্ণ বলা হয়।
যেমন- য, র, ল, ব।
পঁচিশটি স্পর্শবর্ণের শেষবর্ণ 'ম' এবং চারটি উষ্মবর্ণের প্রথম বর্ণ 'শ'। য, র, ল, ব- এ বর্ণ চারটি ম ও শ-এর অন্তঃ অর্থাৎ মধ্যে অবস্থিত বলে এদের অন্তঃস্থ নাম সার্থক হয়েছে।
স্বর ও ব্যঞ্জনবর্ণগুলির উচ্চারণস্থান আছে এবং সে অনুযায়ী এদের নামও রয়েছে। নিচের ছকে সংস্কৃত বর্ণমালার উচ্চারণস্থান এবং উচ্চারণস্থান অনুসারে এদের নাম প্রদর্শিত হচ্ছে:
| বর্ণ | উচ্চারণস্থান | উচ্চারণস্থান অনুসারে প্রদত্ত নাম |
| অ, আ, হ, ক, খ, গ, ঘ, ঙ | কণ্ঠ | কণ্ঠ্য বর্ণ |
| ই, ঈ, চ, ছ, জ, ঝ, ঞ, য, শ | তালু | তালব্য বর্ণ |
| ঋ, ঋ, ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, র, য | মূর্ধা | মূর্ধন্য বর্ণ |
| ৯, ত, থ, দ, ধ, ন, ল, স | দন্ত | দন্ত্য বর্ণ |
| উ, উ, প, ফ, ব, ভ, ম | ওষ্ঠ | ঔষ্ঠ্য বর্ণ |
| এ, ঐ | কণ্ঠ ও তালু | কণ্ঠতালব্য বর্ণ |
| ও, ঔ | কণ্ঠ ও ওষ্ঠ | কণ্ঠৌষ্ঠ্য বর্ণ |
| অন্তঃস্থ 'ব' | দন্ত ও ওষ্ঠ | দন্তৌষ্ঠ্য বর্ণ |
| ং (অনুস্বার) | নাসিকা | অনুনাসিক বা নাসিক্য বর্ণ |
১। সঠিক উত্তরটির পাশে টিক (✔) চিহ্ন দাও:
ক) স্পর্শবর্ণ বিশ / ত্রিশ/ পঁচিশ / বত্রিশটি।
খ) স্বরবর্ণগুলি বিভক্ত দুই/তিন/চার / পাঁচ ভাগে।
গ) শ্বাসবায়ুর প্রাধান্য থাকে অল্পপ্রাণ / মহাপ্রাণ / ঘোষ / উম্মবর্ণে।
ঘ) 'অ' তালব্য / দন্ত্য / ঔষ্ঠ্য / কণ্ঠ্য বর্ণ।
ঙ) 'য' মূর্ধন্য / তালব্য / দন্ত্য / ঔষ্ঠ্য বর্ণ।
২। অল্পপ্রাণ, মহাপ্রাণ, ঘোষ ও অঘোষবর্ণ নির্ণয় কর:
চ, ক, জ, ড, ট, ভ, শ, ত, হ।
৩। উচ্চারণস্থান অনুযায়ী নিচের বর্ণগুলির নাম লেখ:
ও, ছ, ক, অ, ং, ই, উ, ঐ।
৪। নিচের বর্ণগুলির উচ্চারণস্থান নির্ণয় কর:
চ, প, আ, য, ঔ, ণ, এ, ল, ঠ।
৫। স্বরবর্ণগুলির উচ্চারণস্থান নির্ণয় কর।
৬। বর্ণ কাকে বলে? বর্ণ কত প্রকার ও কি কি?
৭। সংস্কৃত বর্ণমালা কাকে বলে? সংস্কৃত বর্ণমালা কয়টি ও কি কি?
৮। স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণের মধ্যে পার্থক্য কি?
৯। হ্রষষর কাকে বলে? হ্রস্বম্বর কয়টি ও কি কি?
১০। দীর্ঘস্বর কাকে বলে? দীর্ঘস্বর কয়টি ও কি কি?
১১। স্পর্শবর্ণ কাকে বলে? স্পর্শবর্ণ কয়টি ও কি কি?
১২। বর্গ কাকে বলে? বর্গ কয়টি ও কি কি?
১৩। অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ বর্ণের পার্থক্য কি কি?
১৪। সংজ্ঞা লেখ ও উদাহরণ দাও:
অঘোষবর্ণ, ঘোষবর্ণ, উষ্মবর্ণ, অন্তঃস্থবর্ণ।
১৫। নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :
ক) স্বরবর্ণের অন্য নাম কি?
খ) ব্যঞ্জনবর্ণের অন্য নাম কি?
গ) সংস্কৃতে কয়টি 'ব' আছে?
ঘ) স্বরতন্ত্রী কম্পিত হয় কোন বর্ণের উচ্চারণে?
ঙ) তালু থেকে উচ্চারিত বর্ণকে কি বলে?
চ) স্পর্শবর্ণের শেষ বর্ণ কোন্টি?
Read more