বাংলা সাহিত্যের প্রধান শাখাসমূহকে মূলত পদ্য (কবিতা) ও গদ্য—এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়, যা সময়ের সাথে বিবর্তিত হয়েছে। প্রধান শাখাগুলোর মধ্যে কবিতা (চর্যাপদ, বৈষ্ণব পদাবলী), উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, প্রবন্ধ, এবং ভ্রমণকাহিনী অন্যতম। এছাড়া জীবনী সাহিত্য, রম্যরচনা, ও অনুবাদ সাহিত্যও বাংলা সাহিত্যের সমৃদ্ধ শাখা।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীনতম শাখা কাব্য। সপ্তদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে বাংলা কাব্যের সূচনা ঘটে। বাংলা সাহিত্যের সর্বাধিক সমৃদ্ধ ধারা গীতিকবিতা। উনিশ শতকের গীতিকাব্য ধারার অন্যতম কবি বিহারীলাল চক্রবর্তী। বাংলা গীতিকবিতার পূর্ণবিকাশ ঘটে রবীন্দ্রনাথের হাতে।
বাংলা কবিতার 'পঞ্চপাণ্ডব' :
বাংলা সাহিত্যে 'কল্লোল' যুগের ত্রিশের দশকের ৫ জন কবি জীবনানন্দ দাশ, বিষ্ণু দে, বুদ্ধদেব বসু, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ও অমিয় চক্রবর্তীকে একত্রে 'পঞ্চপাণ্ডব' বলা হয়। এঁরা সবাই রবীন্দ্রসাহিত্য প্রভাব বলয়ের বাইরে গিয়ে আধুনিক কবিতা রচনা করে বাংলা সাহিত্যে নিজেদের স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখেছিলেন বলে এঁদেরকে 'পঞ্চপাণ্ডব' বলা হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের চেতনা, ইউরোপীয় সাহিত্যের প্রভাব এঁদের মনস্তত্ত্বে ভীষণভাবে গ্রোথিত হয়েছিল। তাঁরা বয়সে তরুণ হলেও সৃষ্টিতে ছিলেন কূলপ্লাবী; আধুনিক বাংলা সাহিত্য রচনায় প্রাজ্ঞ। তাঁরা সবাই ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র হয়েও বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার সূচনা করেছিলেন। অপরদিকে, আধুনিকতার নামে স্বেচ্ছাচারিতা ও অশ্লীলতাকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে- এই অভিযোগে 'শনিবারের চিঠি' পত্রিকাকে কেন্দ্র করে কল্লোল বিরোধী আরেকটি সাহিত্য বলয় সৃষ্টি হয়। এদের নেতৃত্বে ছিলেন মোহিতলাল মজুমদার, সজনীকান্ত দাস, নীরদ চৌধুরী প্রমুখ।

Ode : Ode অর্থ গাথা বা গান বা স্তোত্র বা প্রাচীন গ্রিক কবিতা যা গ্রিক সাহিত্য হতে উদ্ভূত। প্রাচীনকালে গ্রীসে রঙ্গমঞ্চে কোরাসে বিভিন্ন সুরে নানা অঙ্গভঙ্গি দ্বারা সংগীত ও নাচের মাধ্যমে যে গান গাওয়া হতো তাকে Ode বলা হতো। বর্তমানকালে প্রশস্তিমূলক গীতিকবিতায় কোন গম্ভীর বিষয়বস্তু বা উপাদানের মাধ্যমে কবির মনের অনুভূতির ভাবমূর্তির প্রকাশকে স্তোত্র কবিতা নামে আখ্যায়িত করা হয়।
Key Notes:
- আধুনিক যুগের বাংলা সাহিত্যের প্রথম কাব্য রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পদ্মিনী উপাখ্যান' (১৮৫৮)।
- আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- বাংলা কাব্যে আধুনিক যুগের প্রবর্তক মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- বাংলা সাহিত্যে প্রথম বিদ্রোহী প্রধান কাব্য 'অগ্নিবীণা' (১৯২২)।
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম জীবনীকাব্য 'শ্রী চৈতন্য ভাগবত'।
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম ধারা কবিতা। কবিতা দুই প্রকার। যথা:
১. তন্ময় কবিতা,
২. মন্ময় কবিতা। - বাংলা সাহিত্যে আধুনিক যুগের প্রথম কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা কবি চন্দ্রাবতী। মধ্যযুগের কবি চন্দ্রাবতী ছিলেন কিশোরগঞ্জ অঞ্চলের এবং তাঁর পিতার নাম দ্বিজ বংশীদাস।
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা কবি স্বর্ণকুমারী দেবী।
- বাংলা কবিতার ছন্দের জাদুকর সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত।
- বাংলা কবিতায় মুক্তক ছন্দের প্রবর্তক কাজী নজরুল ইসলাম।
- বাংলা সাহিত্যের ছান্দসিক কবি আবদুল কাদির।
- টি.এস এলিয়টের ইংরেজি কবিতা প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এর মাধ্যমে বাঙালি কবিদের আধুনিক কবিতার সাথে পরিচয় ঘটে।
- বাংলা কাব্যে প্রথম প্রচুর পরিমাণ আরবি ও ফারসি শব্দ ব্যবহার করেন মোহিতলাল মজুমদার এবং পরবর্তীতে কাজী নজরুল ইসলাম।
বিখ্যাত কাব্য ও কবিতা
কবি | কাব্য | ||
| রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | 'কবি-কাহিনী' (১৮৭৮): প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ, যা অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত। 'বনফুল', 'কড়ি ও কোমল', 'সোনার তরী', 'চিত্রা', 'ক্ষণিকা', 'নৈবেদ্য', 'খেয়া', 'গীতাঞ্জলি', 'বলাকা', 'পূরবী', 'শেষলেখা', 'মানসী', 'চৈতালি', 'কল্পনা', 'পত্রপূট', 'সেঁজুতি', 'আকাশ প্রদীপ', 'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলি', 'পুনশ্চ'। | ||
| কাজী নজরুল ইসলাম | 'অগ্নিবীণা' (সেপ্টেম্বর, ১৯২২): প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 'সন্ধ্যা', 'বিষের বাঁশি', 'প্রলয়শিখা', 'দোলনচাঁপা', 'সঞ্চিতা', 'মরুভাস্কর', 'চিত্তনামা', 'সিন্ধু হিন্দোল', 'চন্দ্রবিন্দু', 'ঝিঙেফুল', 'সাতভাই চম্পা', 'সর্বহারা', 'সাম্যবাদী', 'ভাঙার গান', 'ঝড়', 'ফণিমনসা', 'জিঞ্জির', 'ছায়ানট', 'পূবের হাওয়া', 'চক্রবাক'। | ||
| শহীদ কাদরী | 'উত্তরাধিকার', 'তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা'। | ||
| বিষ্ণু দে | 'উর্বশী ও আর্টেমিস', 'চোরাবালি', 'সাত ভাই চম্পা'। | ||
| দাউদ হায়দার | 'জন্মই আমার আজন্ম পাপ', 'নারকীয় ভুবনের কবিতা', 'আমি ভাল আছি তুমি' | ||
| নবীনচন্দ্র সেন | 'পলাশীর যুদ্ধ' | হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় | 'চিন্তাতরঙ্গিণী' |
| সমর সেন | 'কয়েকটি কবিতা' | রামেন্দ্রসুন্দরী ত্রিবেদী | 'জিজ্ঞাসা |
| আবদুল কাদির | 'দিলরুবা', 'উত্তর বসন্ত'। | সুরেন্দ্রনাথ মজুমদার | ‘মহিলা’ |
| দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর | 'স্বপ্নপ্রয়াণ' | বিলহন (কাশ্মিরী কবি | 'চৌরপঞ্চাশিকা' (বিষয়: অবৈধ প্রণয়) |
কবি | কবিতা | কবি | কবিতা |
| রামনিধি গুপ্ত | স্বদেশী ভাষা | আবুল হোসেন | পোস্টার |
| হরিশ্চন্দ্র মিত্র | স্বদেশী ভাষা | হুমায়ূন কবির | মেঘনায় ঢল |
| আবদুল কাদির | জয়যাত্রা | ||
| শেখ ফজলল করিম | গায়ের ডাক, স্বর্গ ও নরক | ||
| কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার | মিতব্যয়িতা, সমব্যথি | ||
| কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার | পারিব না | ||
| রজনীকান্ত সেন | স্বাধীনতার সুখ | ||
| রজনীকান্ত সেন | এই অক্ষরে |
কবি | কাব্য | কবিতা |
| মোহিতলাল মজুমদার | 'স্বপন পসারী', 'হেমন্ত গোধূলি'। | বেদুঈন |
| গোবিন্দচন্দ্র দাস | 'প্রেম ও ফুল', 'মগের মুলুক'। | জন্মভূমি |
| যতীন্দ্রমোহন বাগচী | 'অপরাজিতা', 'নীহারিকা', 'মহাভারতী', 'জাগরণী'। | কাজলা দিদি, অন্ধবধূ |
| যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তে | 'মরীচিকা', 'মরুমায়া', 'মরুশিখা', 'সায়ম', 'ত্রিযামা'। | নবান্ন, ডাক হরকরা |
| বন্দে আলী মিয়া | 'ময়নামতির চর' | আমাদের গ্রাম |
| অক্ষয়কুমার বড়াল | 'প্রদীপ', 'এষা', 'শঙ্খ', 'ভুল', 'কনকাঞ্জলি'। | মানব-বন্দনা |
| সুকুমার রায় | 'আবোল-তাবোল', 'হ-য-ব-র-ল', 'খাই খাই'। | শ্রাবণে, ছায়াবাজি |
| কালিদাস রায় | 'পর্ণপুট', 'কিশলয়', 'বল্লরী', 'ঋতুমঙ্গল', 'রসকদম্ব'। | বাবুরের মহত্ত্ব |
| রফিক আজাদ | 'অসম্ভবের পায়ে', 'চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া', 'সশস্ত্র সুন্দর' | চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া |
| আবু হেনা মোস্তফা কামাল | 'আপন যৌবন বৈরী', 'যেহেতু জন্মান্ধ', 'আক্রান্ত গজল'। | ছবি |
| মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান | 'দুর্লভ দিন', 'শঙ্কিত আলোকে', 'প্রতনু প্রত্যাশা'। | শহীদ স্মরণে, ভূমিহীন কৃষিজীবী ইচ্ছে তার |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে- সবচেয়ে সুন্দর করুণ:
সেখানে সবুজ ডাঙা ভ'রে আছে মধুকূপী ঘাসে অবিরল;
সেখানে গাছের নাম কাঠাল, অশ্বত্থ, বট, জারুল, হিজল;
সেখানে ভোরের মেঘে নাটার রঙের মতো জাগিছে অরুণ;
সেখানে বারুণী থাকে গঙ্গাসাগরের বুকে- সেখানে বরুণ
কর্ণফুলী ধলেশ্বরী পদ্মা জলাঙ্গীরে দেয় অবিরল জল;
সেইখানে শঙ্খচিল পানের বনের মতো হাওয়ায় চঞ্চল,
সেখানে লক্ষ্মীপেঁচা ধানের গন্ধের মতো অস্ফুট তরুণ;
সেখানে লেবুর শাখা নুয়ে থাকে অন্ধকারে ঘাসের উপর;
সুদর্শন উড়ে যায় ঘরে তার অন্ধকার সন্ধ্যার বাতাসে;
এলিজি
ওড
সনেট
এলিগিরি
সনেট ইটালিয়ান শব্দ। এর বাংলা অর্থ- চতুর্দশপদী কবিতা। একটি মাত্র ভাব বা অনুভূতি যখন ১৪ অক্ষরের চতুর্দশ পঙ্ক্তিতে (কখনো কখনো ১৮ অক্ষরও ব্যবহৃত হয়) বিশেষ ছন্দরীতিতে প্রকাশ পায়, তাকেই সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতা বলে । সনেটের দুটি অংশ। যথাঃ
ক. অষ্টক : প্রথম ৮ চরণকে অষ্টক বলে।
খ. ষটক : শেষ ৬ চরণকে ঘটক বলে।
বাংলা সাহিত্যে সনেটের প্রচলন ঘটান মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
কবিতার পক্তির শেষে মিলহীন ছন্দকে অমিত্রাক্ষর ছন্দ। বলে। অমিত্রাক্ষর ছন্দের কবিতায় চরণের অন্ত্যমিল থাকে। না। এ ছন্দ পয়ারের অপর রূপ। প্রতি পঙ্ক্তিতে ১৪ অক্ষর থাকে, যা ৮+৬ পর্বে বিভক্ত। একে প্রবাহমান অক্ষরবৃত্ত ছন্দও বলে। উদাহরণ-
সম্মুখ সমরে পড়ি, বীর চূড়ামণি
বীর বাহু চলি যবে গেলা যমপুরে
অকালে, কহ, হে দেবি অমৃতভাষিণি
কোন বীরবরে রবি সেনাপতি পদে,
পাঠাইলা, রণে পুনঃ রক্ষাকুলনিধি
রাঘবারি।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত
বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রচলন ঘটান মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
নাটক সাহিত্যতত্ত্বের একটি পারিভাষিক শব্দ। কোনো দ্বন্দ্বমূলক আখ্যান যদি চরিত্রসমূহের সংলাপের মাধ্যমে মূর্ত হয়ে উঠে তাহলে তাকে নাটক বলে। নাটকে কাহিনি থাকে তবে কাহিনির চেয়ে মুখ্য হয়ে ওঠে চরিত্রসমূহের দ্বন্দ্ব। কাহিনি, চরিত্র, ঘটনাসমাবেশ ও সংলাপ হলো নাটকের মূল অঙ্গ।
নাটকঃ
রঙ্গমঞ্চে মানুষের সুখ-দুঃখকে স্বাভাবিক অভিনয়ের মাধ্যমে প্রকাশ করাকে নাটক বলে। নাটক সংলাপ ও অভিনয়ের মাধ্যমে মঞ্চে প্রদর্শিত হয়ে থাকে। এর অপর নাম 'দৃশ্যকাব্য'। গদ্যরীতির উৎকর্ষের পরে নাটকের যাত্রা।
নাটক এর প্রকারভেদঃ
বাংলা নাটককে প্রধানত দু'ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
১. রসপ্রধান:
ক. ট্রাজেডি (কৃষ্ণকুমারী)
খ. কমেডি (চক্ষুদান)
গ. মেলোড্রামা (প্রফুল্ল)
ঘ. ফার্স/প্রহসন (একেই কি বলে সভ্যতা)
২. রূপপ্রধান:
ক. গীতিনাট্য (বাল্মীকি প্রতিভা)
খ. নৃত্যনাট্য (নটীর পূজা)
Key notes:
- কলকাতার লালবাজারে 'প্লে-হাউজ' এ প্রথম রঙ্গমঞ্চ তৈরি হয় ১৭৫৩ সালে।
- বাংলা নাটক প্রথম অভিনীত হয় ১৭৯৫ সালে। হেরাসিম লেবেডেফ নামে রুশদেশীয় এক ব্যক্তি প্রথম The Disguise ও Love is the best Doctor নামে দুটি নাটক বাংলায় অনুবাদ করে এদেশীয় পাত্র-পাত্রীর দ্বারা অভিনয় করান।
- বাংলা নাটক প্রথম মঞ্চে অভিনীত হয় ১৮৩১ সালে।
- প্রথম বাংলা মৌলিক নাটক তারাচরণ শিকদার রচিত 'ভদ্রার্জুন' (১৮৫২)। এ নাটকের মূল বিষয় অর্জুন কর্তৃক সুভদ্রা হরণের কাহিনি। মহাভারত থেকে কাহিনি সংগ্রহ করা হলেও বাঙালি সমাজের বাস্তব পরিবেশ এতে অঙ্কিত হয়েছে। এটি বাঙালি কর্তৃক রচিত প্রথম কমেডি নাটক।
- বাংলা ভাষার প্রথম সার্থক ও আধুনিক নাটক মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'শর্মিষ্ঠা' (১৮৫৯)। এটি রচিত হয়েছে পুরাণের কাহিনি অবলম্বনে।
- বাংলা ভাষার প্রথম সার্থক ট্রাজেডি নাটক মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১)। উইলিয়াম টডের 'রাজস্থান' নামক গ্রন্থ থেকে মধুসূদন এ নাটকের কাহিনি সংগ্রহ করেন। চরিত্র: কৃষ্ণকুমারী, মদনিকা, ভীমসিং, বিলাসবতী।
- বাংলা ভাষার প্রথম সার্থক কমেডি নাটক মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'পদ্মাবতী' (১৮৬০)। এ নাটকের ২য় অঙ্কের ২য় গর্ভাঙ্কে প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দ প্রয়োগ করেন। এটি গ্রিক পুরাণের Apple of Discord অবলম্বনে রচিত।
- বাংলা ভাষার মুসলমান রচিত প্রথম নাটক মীর মশাররফ হোসেন রচিত 'বসন্ত কুমারী' (১৮৭৩)। বৃদ্ধ রাজা বীরেন্দ্র সিংহের যুবতী স্ত্রী রেবর্তী সপত্নী পুত্র নরেন্দ্র সিংহকে প্রেম নিবেদন করে প্রত্যাখাত হয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করে। পরিণামে সমগ্র রাজ পরিবারটি ধ্বংস হয়ে যায়, এটিই এ নাটকের মূল বিষয়।
- বাংলা ভাষায় মুসলমান চরিত্র অবলম্বনে প্রথম নাটক মীর মশাররফ হোসেন রচিত 'জমীদার দর্পণ' (১৮৭৩)। অত্যাচারী ও চরিত্রহীন জমিদার হায়ওয়ান আলীর অত্যাচার এবং অধীনস্ত প্রজা আবু মোল্লার গর্ভবতী স্ত্রী নূরন্নেহারকে ধর্ষণ ও হত্যার কাহিনি এর মূল বিষয়।
- বাংলা নাট্যসাহিত্যে প্রথম ট্রাজেডি রচনার প্রচেষ্টা যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত রচিত 'কীর্তিবিলাস' (১৮৫২)। সপত্নীপুত্রের প্রতি বিমাতার অত্যাচারের কাহিনি অবলম্বনে এটি রচিত। বিভিন্ন চরিত্রের মৃত্যুর মাধ্যমে ট্রাজেডির রূপায়ণ এ নাটকের বৈশিষ্ট্য।
- ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম নাটক দীনবন্ধু মিত্র রচিত 'নীলদর্পণ' (১৮৬০)। এতে মেহেরপুরের কৃষকদের ওপর নীলকরদের নির্মম নির্যাতনের চিত্র ফুটে উঠেছে। নাটকটি প্রথম মঞ্চায়ন হয় ঢাকায়। এ নাটকের অভিনয় দেখতে এসে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মঞ্চের অভিনেতাদের লক্ষ্য করে জুতা ছুড়ে মেরেছিলেন। মাইকেল মধুসূদন A Native ছদ্মনামে ইংরেজিতে The Indigo Planting Mirror নামে অনুবাদ করেন। চরিত্র: নবীন মাধব, তোরাপ।
- বাংলা ভাষার প্রথম সাংকেতিক নাটক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'শারদোৎসব' (১৯০৮)।
- ট্রাজেডি, কমেডি ও ফার্সের মূল পার্থক্য জীবনানুভূতির গভীরতায়।
বিখ্যাত নাটক | |
নাট্যকার | নাটকের নাম |
| তারাচরণ শিকদার | 'ভদ্রার্জুন' (১৮৫২): এটি বাঙালি কর্তৃক বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম নাটক। |
| যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত | 'কীর্তিবিলাস' (১৮৫২): বাংলা নাট্যসাহিত্যে প্রথম ট্রাজেডি নাটক। |
| রামনারায়ণ তর্করত্ন | 'কুলীনকুল সর্বস্ব' (১৮৫৪): এটি কৌলিন্য প্রথা অবলম্বনে রচিত। 'বেণী সংহার', 'যেমন কর্ম তেমন ফল (প্রহসন), 'উভয়সঙ্কট' (প্রহসন)। |
| মাইকেল মধুসূদন | 'শর্মিষ্ঠা', 'পদ্মাবতী', 'কৃষ্ণকুমারী', 'মায়াকানন'। |
| গিরিশচন্দ্র ঘোষ | 'প্রফুল্ল' (১৮৮৯): লেখকের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ বিয়োগান্তক নাটক। 'সীতার বনবাস', 'সীতাহরণ', সিরাজদ্দৌলা । |
| দীনবন্ধু মিত্র | 'নীলদর্পণ': এটি ঢাকার বাংলা প্রেস থেকে প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থ। 'কমলে কামিনী', 'জামাই বারিক', 'নবীন তপস্বিনী', 'লীলাবতী'। |
| দ্বিজেন্দ্রলাল রায় | ঐতিহাসিক নাটক: 'সাজাহান', 'নুরজাহান', 'প্রতাপসিংহ', 'দুর্গাদাস', 'মেবারপতন', 'তারাবাঈ', 'তাপসী'। রোমান্টিক ও পৌরাণিক নাটক: 'সিংহলবিজয়', 'সীতা', 'ভীষ্ম', 'সোহরাব-রুস্তম', 'চন্দ্রগুপ্ত'। কাব্যনাট্য: 'পাষাণী'। সামাজিক নাটক: 'পরপারে', 'বঙ্গনারী', 'কল্কি অবতার', 'বিরহ', 'প্রায়শ্চিত্ত', 'আনন্দ বিদায়'। |
| রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | 'বাল্মীকি প্রতিভা': প্রথম প্রকাশিত নাটক। অধিকাংশের মতে, 'রূদ্রচণ্ড'। রূপক ও সাংকেতিক নাটক: 'ডাকঘর', 'কালের যাত্রা', 'তাসের দেশ', 'রাজা', 'অচলায়তন', 'রক্তকরবী'। নৃত্যনাট্য: 'চিত্রাঙ্গদা', 'চণ্ডালিকা', 'নটীর পূজা', 'শ্যামা'। কাব্যনাট্য: 'প্রকৃতির প্রতিশোধ', 'মায়ার খেলা', 'বিদায় অভিশাপ', 'রাজা ও রানী'। অন্যান্য নাটক: 'বিসর্জন', 'চিরকুমার সভা', 'বৈকুণ্ঠের খাতা', 'বসন্ত'। |
| শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় | 'ষোড়শী', 'বিজয়া', 'রমা'। |
| কাজী নজরুল ইসলাম | 'ঝিলিমিলি': এটি ৩টি নাটকের সংকলন এবং প্রথম নাট্যগ্রন্থ। 'আলেয়া', 'মধুমালা', 'পুতুলের বিয়ে'। |
| সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ | 'উজানে মৃত্যু', 'বহিপীর', 'তরঙ্গভঙ্গ', 'সুড়ঙ্গ'। |
| মুনীর চৌধুরী | 'রক্তাক্ত প্রান্তর': এটি তাঁর রচিত প্রথম নাটক। 'কবর': ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত। 'মানুষ', 'দণ্ডকারণ্য', 'নষ্ট ছেলে', 'চিঠি', 'পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য'। |
| অমৃতলাল বসু | 'বিবাহ বিভ্রাট', 'চোরের উপর বাটপারি', 'ডিসমিস', 'কৃপণের ধন' (সবগুলোই প্রহসন)। |
| সিকান্দার আবু জাফর | 'সিরাজ-উদ্-দৌলা', 'মহাকবি আলাওল'। |
| মামুনুর রশীদ | 'গিনিপিগ', 'ওরা কদম আলী', 'ইবলিশ'। |
| জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর | 'পুরুবিক্রম নাটক', 'কিঞ্চিত জলযোগ' (প্রহসন)। |
| আব্দুল্লাহ আল মামুন | 'সুবচন নির্বাসনে', 'কোকিলারা'। |
| ক্ষীরোদপ্রসাদ | 'আলিবাবা', 'রঘুবীর'। |
| তুলশী লাহিড়ী | 'ছেঁড়াতার', 'পথিক'। |
| সাঈদ আহমদ | 'কালবেলা', 'তৃষ্ণায়'। |
| বিজন ভট্টাচার্য | ‘নবান্ন’ |
| আনিস চৌধুরী | 'মানচিত্র', 'এ্যালবাম'। |
| জিয়া হায়দার | ‘এলেবেলে’ |
| হানিফ সংকেত | 'শোধ-বোধ' |
| মমতাজ উদ্দিন আহমেদ | 'স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা', ‘সুখী মানুষ’ |
| জোবেদা খানম | 'ওরে বিহঙ্গ' |
| ইব্রাহীম খলিল | ‘স্পেনবিজয়ী মুসা’ |
| শাহাদৎ হোসেন | 'আনারকলি', 'মসনদের মোহ'। |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
ব্যক্তির চিন্তা যখন সুসংহত গদ্য কাঠামো পায় এবং বিভিন্ন যুক্তি দ্বারা তা প্রতিষ্ঠিত হয় তাকে প্রবন্ধ বলে। প্রবন্ধের সূচনা হয় উনিশ শতকের মাঝামাঝিতে। বাংলা প্রবন্ধ সাহিত্যের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ।
Key Notes:
- কোনো বিষয়ের ওপর বুদ্ধিভিত্তিক আলোচনাই প্রবন্ধ।
- বাংলা প্রবন্ধধারার প্রবর্তক রাজা রামমোহন রায়।
- কথ্যরীতিতে প্রথম প্রবন্ধ রচয়িতা প্যারীচাঁদ মিত্র।
- প্রথম সমাজসংস্কারমূলক প্রবন্ধ রচয়িতা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- বাংলা প্রবন্ধ সাহিত্যে প্রথম জীবনচরিত রামরাম বসুর 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' (১৮০১)। এই বাঙালির লেখা, বাংলা অক্ষরে প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ।
বিখ্যাত প্রবন্ধ
প্রাবন্ধিক | প্রবন্ধ |
| বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় | 'কমলাকান্তের দপ্তর', 'সাম্য', 'লোকরহস্য', 'কৃষ্ণচরিত', 'বিজ্ঞানরহস্য', 'মুচিরাম গুড়ের জীবনচরিত। |
| রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | 'বিবিধপ্রসঙ্গ' (১৮৮৩): প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধগ্রন্থ। 'কালান্তর', 'পঞ্চভূত', 'বিচিত্রপ্রবন্ধ', 'সাহিত্য', 'মানুষের ধর্ম', 'সভ্যতার সংকট'। |
| কাজী নজরুল ইসলাম | 'তুর্ক মহিলার ঘোমটা খোলা' (১৯১৯): প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধ। 'রাজবন্দীর জবানবন্দী', 'যুগবাণী', 'রুদ্রমঙ্গল', 'দুর্দিনের যাত্রী' |
| শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় | 'নারীর মূল্য', 'তরুণের বিদ্রোহ'। |
| মুহম্মদ আবদুল হাই | 'ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব', 'সাহিত্য ও সংস্কৃতি', 'ভাষা ও সাহিত্য' |
| ড. মুহম্মদ এনামুল হক | 'আরাকান রাজসভায় বাংলা সাহিত্য': এটি আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ সহযোগে রচিত। 'মনীষা মঞ্জুষা' |
| আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ | 'পদ্মাবতী', 'সত্যনারায়ণের পুঁথি', 'গোরক্ষ বিজয়' |
| আব্দুল্লাহ আল মুতী | 'সাগরের রহস্যপুরী', 'এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে', 'রহস্যের শেষ নেই', 'আবিষ্কারের নেশায়'। |
| বদরুদ্দীন উমর | 'সংস্কৃতির সংকট', 'সাম্প্রদায়িকতা', 'সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা'। |
| মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ | 'নয়া জাতির স্রষ্টা হজরত মোহম্মদ', 'পারস্য প্রতিভা'। |
| ড. আহমদ শরীফ | 'বিচিত চিন্তা', 'সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা', 'স্বদেশ অন্বেষা', 'যুগ যন্ত্রণা', 'কালিক ভাবনা', 'বাঙালি ও বাংলা সাহিত্য', 'স্বদেশ চিন্তা', 'বিশ শতকের বাঙালি', 'সংস্কৃতি'। |
| বিনয় ঘোষ | 'বিদ্যাসাগর ও বাঙালি সমাজ', 'শিল্প সংস্কৃতি ও সমাজ', 'কালপেঁচার নকশা', 'পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি', 'সাময়িকপত্রে বাংলার সমাজচিত্র', 'কলকাতা শহরের ইতিবৃত্ত', 'নববাবু চরিত্র'। |
| কালী প্রসন্ন ঘোষ | 'প্রভাত চিন্তা', 'নিভৃত চিন্তা', 'নিশীথ চিন্তা'। |
| গোপাল হালদার | 'সংস্কৃতির রূপান্তর', 'বাঙালির সংস্কৃতির রূপ'। |
| কামরুল হাসান | 'আমাদের লোককৃষ্টি' (আমাদের লোকশিল্প) |
| লুৎফর রহমান | 'মহৎ জীবন', 'মানব জীবন', 'উন্নত জীবন' (উদ্যম ও পরিশ্রম)। |
| আবদুস সাত্তার | 'অরণ্য জনপদে', 'অরণ্য সংস্কৃতি' |
| মোতাহের হোসেন চৌধুরী | 'সংস্কৃতি কথা', 'সভ্যতা'। |
| আখতারুজ্জামান ইলিয়াস | 'সংস্কৃতির ভাঙ্গা সেতু' |
| গুলবদন বেগম | 'হুমায়ুন নামা' |
| জগদীশচন্দ্র বসু | 'অব্যক্ত' |
| ড. আনিসুজ্জামান | ‘স্বরূপের সন্ধানে’ |
| আকবর আলী খান | 'পরার্থপরতার অর্থনীতি' |
| ড. মুহম্মদ ইউনুস | ‘দারিদ্র্যহীন বিশ্বের অভিমুখে’ |
| খান মুহম্মদ মঈনুদ্দিন | 'যুগস্রষ্টা নজরুল' |
| যতীন সরকার | 'সাহিত্যের কাছে প্রত্যাশা' |
| নীরদচন্দ্র চৌধুরী | 'আত্মঘাতী বাঙালী' |
| আনিসুজ্জামান | 'কাল নিরবধি' (আত্মজীবনী) |
| নীহাররঞ্জন রায় | 'বাঙ্গালীর ইতিহাস' |
| আবদুল হক | 'চেতনার অ্যালবাম' |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
রচয়িতা | ভ্রমণকাহিনি |
| রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | 'য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র', 'জাপান যাত্রী', 'জাভা যাত্রীর পত্র', 'রাশিয়ার চিঠি' |
| জসীমউদ্দীন | 'চলে মুসাফির', 'হলদে পরীর দেশ', 'যে দেশে মানুষ বড়' |
| জসীমউদ্দীন | 'সাত সাঁতার': এটি আমেরিকার ভ্রমণকাহিনি। |
| ফজল শামসুজ্জামান | 'অন্য পৃথিবী': এটি অস্ট্রেলিয়ার ভ্রমণকাহিনি। |
| ইব্রাহীম খাঁ | 'ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র', 'নয়া চীনে এক চক্কর' |
| সৈয়দ মুজতবা আলী | 'দেশে-বিদেশে', 'জলে ডাঙায়' |
| অন্নদাশঙ্কর রায় | ‘পথে-প্রবাসে’ |
| আ.ন.ম বজলুর রশীদ | 'দ্বিতীয় পৃথিবীতে', 'পথ ও পৃথিবী' |
| ইসমাইল হোসেন সিরাজী | 'তুরস্ক ভ্রমণ' |
| ড. মুহম্মদ এনামুল হক | 'বুলগেরিয়া ভ্রমণ' |
| এস ওয়াজেদ আলী | 'মোটরযোগে রাঁচী সফর' |
| বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় | 'দৃষ্টিপাত' |
| নির্মলেন্দু গুণ | 'গীনসবার্গের তীরে', 'ভলগার তীরে' |
| খন্দকার মোহাম্মদ ইলিয়াস | ‘ভাসানী যখন ইউরোপে’ |
| মুহম্মদ আবদুল হাই | 'বিলেতে সাড়ে সাত'শ দিন' |
| বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় | 'অভিযাত্রিক' |
| রাহুল সাংকৃত্যায়ন | 'ভল্লা থেকে গঙ্গা' |
| শহীদুল্লা কায়সার | 'পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ' |
| সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় | 'পালামৌ' |
| সানাউল হক | 'বন্দর থেকে বন্দরে' |
| তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় | 'মস্কোতে কয়েক দিন' |
রম্যরচনা | |
| ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় |
|
| সৈয়দ মুজতবা আলী |
|
| বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় |
|
| আবুল মনসুর আহমেদ |
|
| তাজাকলম | চেনা মানুষের ইতিকথা |
| নূরুল মোমেন | বহুরূপা |
| কাজী দীন মোহাম্মদ | গোলকচন্দ্রের আত্মকথা |
| মুহাম্মদ আব্দুল হাই | তোষামদ ও রাজনীতির ভাষা |
উপন্যাস সাহিত্যতত্ত্বের একটি পারিভাষিক শব্দ। উপন্যাস হচ্ছে সমষ্টিবদ্ধ মানুষের এমন একটি পূর্ণাঙ্গ গল্প যেখানে বিচিত্র সব চরিত্র স্বমূর্তিতে অঙ্কিত হয়ে প্রতীকীভাবে জীবনের এক গভীর সত্যের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করে। সমসাময়িক সমাজের রঙ্গরসাত্মক চিত্র বাংলা উপন্যাসের প্রাথমিক পর্যায়ে বিশেষ প্রাধান্য লাভ করেছিল।
Key Notes:
- কথাসাহিত্যঃ কথা সাহিত্য বলতে উপন্যাস ও ছোটগল্পকে বোঝায়। উপন্যাসে ব্যক্তি জীবনের বৃহত্তর পরিসরের পরিচয় রূপলাভকরে কিন্তু ছোটগল্পে কোনো চরিত্রের একটিমাত্র দিকের প্রতিফলন ঘটে।
- উপন্যাস: লেখকের জীবনদর্শন ও জীবনানুভূতিকে বাস্তবকাহিনি অবলম্বনে শিল্পকর্মে রূপায়ণই উপন্যাস। বাংলা উপন্যাস রচনার সূচনা হয় উনিশ শতকের প্রথমার্ধেই। যা ছিল সামাজিক কাহিনি নির্ভর।
- ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৭৮৭-১৮৪৮) প্রথম উপন্যাস রচনার প্রাথমিক প্রচেষ্টা চালান । তাঁর রচিত উপন্যাস-
- 'কলিকাতা কমলালয়' (১৮২৩): এ গ্রন্থে তৎকালীন কলকাতার জীবন ও অনাচারের চিত্র রূপায়িত হয়েছে। এ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে কিভাবে কলকাতায় আসতে হয় এবং সেখানকার অলিগলি খুঁজে নিজের ভাগ্যের সন্ধান করতে হয় তারই সত্যকথন।
- 'নববাবু বিলাস' (১৮২৫): এ গ্রন্থে কলকাতার বাবু সমাজের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে।
- 'নববিবি বিলাস' (১৮৩২): এ গ্রন্থে রুচিহীন নীতিভ্রষ্টতার চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। সেকালের বড় লোকেরা অনেকেই রক্ষিতা নিয়ে বাইরে রাত্রি যাপন করত। ফলে তাদের স্ত্রীদের যে পদস্খলন ও শোচনীয় পরিণতি হয়েছিল সেটাই এ গ্রন্থের বিষয়।
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস (অবাঙালি কর্তৃক) হ্যানা ক্যাথরিন ম্যালেন্স রচিত 'ফুলমণি ও করুণার বিবরণ' (১৮৫২)। এটি The Last Day of the Week নামে ইংরেজি আখ্যানের ছায়াবলম্বনে রচিত। খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করায় ফুলমনির সুখ এবং যথার্থ খ্রিস্ট ধর্মাচরণ না করায় করুণার দুঃখভোগ, পরে মেম সাহেবের ঈশ্বর প্রেরিত সুপরামর্শে করুণার সুমতি ও সুখের মুখদর্শন এ গ্রন্থের মূল কাহিনি। এটি মূলত খ্রিষ্টান ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে রচিত হলেও এতে উপন্যাসের কিছু লক্ষণ দেখা যায়।
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস (বাঙালি কর্তৃক) প্যারীচাঁদ মিত্র (টেকচাঁদ ঠাকুর) কর্তৃক রচিত 'আলালের ঘরের দুলাল' (১৮৫৮)। এটি ইংরেজিতে 'Spoiled Child' নামে অনূদিত। এটি বাংলা ভাষার প্রথম উপন্যাস যা তিনি 'টেকচাঁদ ঠাকুর' নামে ১৮৫৪ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে 'মাসিক' পত্রিকায় লিখতেন। এটি কথ্য ভাষায় লিখিত যা 'আলালি ভাষা' নামে পরিচিত।
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫)। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস। ষোড়শ শতাব্দীর শেষ পর্যায়ে উড়িষ্যার অধিকার নিয়ে মোঘল ও পাঠানদের মধ্যে যে সংগ্রামের সূচনা হয়েছিল, তারই পটভূমিকা এ উপন্যাসের উপজীব্য। দুর্গেশনন্দিনী অর্থ দূর্গ প্রধানের কন্যা। অন্যতম চরিত্র: আয়েশা, তিলোত্তমা।
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫)। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস। ষোড়শ শতাব্দীর শেষ পর্যায়ে উড়িষ্যার অধিকার নিয়ে মোঘল ও পাঠানদের মধ্যে যে সংগ্রামের সূচনা হয়েছিল, তারই পটভূমিকা এ উপন্যাসের উপজীব্য। দুর্গেশনন্দিনী অর্থ দূর্গ প্রধানের কন্যা। অন্যতম চরিত্র: আয়েশা, তিলোত্তমা।
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক স্বর্ণকুমারী দেবী (১৮৫৫-১৯৩২) তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস 'দীপনির্বাণ' (১৮৭৬)।
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম ঔপন্যাসিক মীর মশাররফ হোসেন। তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস 'রত্নবর্তী' (১৮৬৯)।
বাংলা সাহিত্যের ত্রয়ী উপন্যাসগুলোঃ
কোনো লেখার তিনটি সিরিজ বা তিনটি পার্ট থাকলে তাকে ত্রয়ী বলে। ইংরেজিতে একে বলে ট্রিলজি। এ তিনটি সিরিজে ধারাবাহিকতা থাকে। আবার প্রত্যেকটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ হিসেবে পাঠযোগ্য।
ঔপন্যাসিক | ত্রয়ী উপন্যাস |
| আবু জাফর শামসুদ্দীন | 'ভাওয়ালগড়ের উপাখ্যান' (১৯৬৩), 'পদ্মা মেঘনা যমুনা' (১৯৭৪), 'সংকর সংকীর্তন' (১৯৮০)। |
| তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় | 'ধাত্রীদেবতা' (১৯৩৯), 'গণদেবতা' (১৯৪২), 'পঞ্চগ্রাম' (১৯৪৩)। |
| বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় | 'আনন্দমঠ' (১৮৮২), 'দেবী চৌধুরাণী' (১৮৮৪), 'সীতারাম' (১৮৮৭)। |
| বিমল মিত্র | 'সাহেব বিবি গোলাম' (১৯৫৩), 'কড়ি দিয়ে কিনলাম' (১৯৬২), 'একক দশক শতক' (১৯৬৩)। |
| শওকত আলী | 'দক্ষিণায়নের দিন' (১৯৮৫), 'কুলায় কালস্রোত' (১৯৮৬), 'পূর্বরাত্রি পূর্বদিন' (১৯৮৬)। |
| মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় | 'পুতুলনাচের ইতিকথা' (১৯৩৬), 'শহরবাসের ইতিকথা' (১৯৪৬), 'ইতিকথার পরের কথা' (১৯৫২) |
| প্রেমেন্দ্র মিত্র | 'পাঁক' (১৯২৬), 'কুয়াশা' (১৯৩০), 'মিছিল' (১৯৩৩)। |
| হুমায়ূন আহমেদ | 'জোছনা ও জননীর গল্প' (২০০৪), 'মধ্যাহ্ন' (২০০৮), 'মাতাল হাওয়া' (২০১০)। |
| সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | 'সেই সময়' (১৯৮১), 'পূর্ব-পশ্চিম' (১৯৮৮), 'প্রথম আলো' (১৯৯৬)। |
| সমরেশ মজুমদার | 'উত্তরাধিকার' (১৯৭৯), 'কালবেলা' (১৯৮৩), 'কালপুরুষ' (১৯৮৫)। |
| তাহমিমা আনাম | 'এ গোল্ডেন এজ' (২০০৭), 'দ্য গুড মুসলিম' (২০১১), 'দ্য বোনস অব গ্রেস' (২০১৬)। |
বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য উপন্যাস
ঔপন্যাসিক | উপন্যাস |
| প্যারীচাঁদ মিত্র | 'আলালের ঘরের দুলাল' (১৮৫৮): বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস। |
| বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় | ' দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫): এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস। 'কপালকুণ্ডলা', 'মৃণালিনী', 'কৃষ্ণকান্তের উইল', 'ইন্দিরা', 'যুগলাঙ্গুরীয়', 'দেবী চৌধুরাণী', 'রাধারানী', 'সীতারাম', 'রজনী', 'চন্দ্রশেখর', 'আনন্দমঠ', 'রাজসিংহ', 'বিষবৃক্ষ'। |
| রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | 'বৌ-ঠাকুরাণীর হাট' (১৮৮৩): প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস। 'চোখের বালি', 'গোরা', 'ঘরে-বাইরে', 'যোগাযোগ', 'শেষের কবিতা', 'দুইবোন', 'চার অধ্যায়', 'মালঞ্চ', 'চতুরঙ্গ', 'রাজর্ষি', 'নৌকাডুবি'। |
| শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় | ১৯১৮, ৩য় খণ্ড- ১৯২৭, ৪র্থ খণ্ড- ১৯৩৩): এটি তাঁর আত্মজৈবনিক উপন্যাস। 'গৃহদাহ', 'পথের দাবী', 'পল্লীসমাজ', 'দেবদাস', 'চরিত্রহীন', 'নববিধান', 'দত্তা', 'দেনা-পাওনা', 'পরিণীতা', 'বিরাজ বৌ', 'পণ্ডিত মশাই', 'শেষ প্রশ্ন', 'শেষের পরিচয়'। |
| বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় | 'পথের পাঁচালী' (১৯২৯): এটি তাঁর প্রথম ও শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। 'অপরাজিত', 'আরণ্যক', 'আদর্শ হিন্দু হোটেল', 'অনুবর্তন', 'দৃষ্টিপ্রদীপ', 'ইছামতি', 'অশনি সংকেত', 'দেবযান'। |
| রমেশচন্দ্র দত্ত | 'বঙ্গবিজেতা' (১৮৭৯), 'মাধবীকঙ্কন' (১৮৭৯), 'জীবনপ্রভাত' (১৮৭৯), জীবনসন্ধ্যা' (১৮৭৯)। প্রথম দুটি উপন্যাসে তিনি সম্রাট আকবর কর্তৃক বাংলা বিজয়, তৃতীয়টিতে আকবরের বিরুদ্ধে রানা প্রতাপ সিংহের সংগ্রাম এবং চতুর্থটিতে শিবাজীর নেতৃত্বে মারাঠা শক্তির অভ্যুদয়ের কাহিনি বর্ণনা করেন। এ চারটি উপন্যাসই ছিল ঐতিহাসিক। চারটির বিষয়ই মোঘল আমলের ১০০ বছরের মধ্যেই ঘটিত। এ জন্য উপন্যাস চারটি একত্রে সংকলিত হয়েছে 'শতবর্ষ' নামে। |
| ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় | 'কল্পতরু': এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম ব্যঙ্গ উপন্যাস। |
| ভূদেব মুখোপাধ্যায় | 'ঐতিহাসিক উপন্যাস' (১৮৫৭): বাংলা সাহিত্যের ঐতিহাসিক উপন্যাসের দ্বিতীয় নিদর্শন। |
| নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরী | নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরী |
| নজিবর রহমান সাহিত্যরত্ন | 'আনোয়ারা' (১৯১৪): এতে বাঙালি মুসলিম সম্প্রদায়ের পারিবারিক ও সামাজিক চিত্র ফুটে উঠেছে। |
| মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক | 'জোহরা' (১৯২৬): এতে তৎকালীন মুসলিম সমাজের নারীদের প্রতি অন্যায় ও অত্যাচারের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। কন্যার মতামত অগ্রাহ্য করে আত্মীয়-স্বজনেরা বিয়ে দিতে গিয়ে কন্যার জীবনে যে দুর্ভোগের সৃষ্টি করে তারই সার্থক রূপায়ণ এ উপন্যাস। |
| তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় | 'ধাত্রীদেবতা', 'গণদেবতা', 'পঞ্চগ্রাম', 'একটি কালো মেয়ের কাহিনী', 'হাঁসুলি বাঁকের উপকথা', 'ছবি', 'অরণ্যবহ্নি',' চৈতালি ঘূর্ণি', 'জলসাঘর'। |
| বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় | 'তৃণখণ্ড', 'নিরঞ্জনা', 'ভুবন সোম', 'মহারাণী', 'মানসপুর', 'নবীন দত্ত', 'হরিশ্চন্দ্র', 'কিছুক্ষণ', 'সপ্তর্ষি', 'পীতাম্বরের পুনর্জন্ম', 'কৃষ্ণপক্ষ', 'স্বপ্নসম্ভব', 'কষ্টিপাথর', 'প্রচ্ছন্ন মহিমা', 'তীর্থের কাক, 'রৌরব', 'জলতরঙ্গ', 'প্রথম গরল', 'রঙ্গতুরঙ্গ', 'আকাশবাসী', 'সীমারেখা', 'ত্রিবর্ণ', 'অলংকারপুরী', 'জঙ্গম', 'দ্বৈরথ', 'মৃগয়া', 'নির্মোক', 'মানদণ্ড', 'নবদিগন্ত', 'কষ্টিপাথর', 'পঞ্চপর্ব', 'ডানা'। |
| কাজী নজরুল ইসলাম | 'বাঁধনহারা' (১৯২৭): এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস। 'কুহেলিকা', 'মৃত্যুক্ষুধা'। |
| মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় | 'জননী' (১৯৩৫): এটি তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস। 'পদ্মানদীর মাঝি', 'পুতুলনাচের ইতিকথা', 'শহরতলী', 'অমৃতস্য পুত্রা', 'অহিংসা', 'আরোগ্য', 'দিবারাত্রির কাব্য', 'সোনার চেয়ে দামি', 'স্বাধীনতার স্বাদ'। |
| আনোয়ার পাশা | 'রাইফেল রোটি আওরাত'। |
| সেলিনা হোসেন | 'হাঙর নদী গ্রেনেড', 'পোকামাকড়ের ঘরবসতি', 'নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি'। |
| শওকত ওসমান | 'জননী' (১৯৫৮): প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস। 'জাহান্নম হইতে বিদায়', 'দুই সৈনিক', 'নেকড়ে অরণ্য', 'জলাঙ্গী', 'বনি আদম', 'ক্রীতদাসের হাসি', 'সমাগম', 'চৌরসন্ধি', 'রাজা উপাখ্যান', 'পতঙ্গ পিঞ্জর'। |
| দিলারা হাসেম | 'ঘর মন ও জানালা', 'আমলকীর মৌ'। |
| অন্নদাশঙ্কর রায় | 'সত্যাসত্য': বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকাব্যিক উপন্যাস যা ছয় খণ্ডে প্রকাশিত। |
| শওকত আলী | 'প্রদোষে প্রাকৃতজন', 'কুলায় কালস্রোত', 'ওয়ারিশ' |
| অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত | 'কাকজ্যোৎস্না' (১৯৩১), 'বেদে', 'বিবাহের চেয়ে বড়', 'প্রথম কদমফুল'। |
| আবু জাফর শামসুদ্দীন | 'পদ্মা মেঘনা যমুনা', 'দেয়াল'। |
| স্বর্ণকুমারী দেবী | 'দীপনির্বাণ', 'মেবার রাজ'। |
| রশীদ করিম | 'উত্তম পুরুষ', 'প্রসন্ন পাষাণ'। |
| কাজী ইমদাদুল হক | 'আব্দুল্লাহ' (১৯৩৩) |
| ইমদাদুল হক মিলন | 'রূপনগর', 'সারাবেলা', 'নদী উপাখ্যান' |
| নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় | 'বৈতালিক' |
| প্রমথনাথ বিশী | 'কেরী সাহেবের মুন্সী', 'লালকেল্লা'। |
| হুমায়ুন কবির | 'নদী ও নারী' |
| অদ্বৈত মল্লবর্মণ | 'তিতাস একটি নদীর নাম' |
| ডা. লুৎফর রহমান | 'সরলা' |
| হরপ্রসাদ শাস্ত্রী | 'বেণের মেয়ে' |
| জাহানারা ইমাম | 'অন্যজীবন' |
| সতীনাথ ভাদুড়ী | 'জাগরী' (রাজনৈতিক উপন্যাস) |
| সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | 'আত্মপ্রকাশ', 'পূর্ব-পশ্চিম' |
| আব্দুর রাজ্জাক | 'কন্যাকুমারী' |
| নুরজাহান বেগম | ‘আগুনমুখার মেয়ে’ |
| হাসন রাজা | 'লোকে সিন্ধু' |
| হাসন রাজা | 'বটতলার উপন্যাস' |
| খান মুহম্মদ মঈনুদ্দিন | 'অনাথিনী' |
| সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ | 'অনাথিনী' |
| জরাসন্ধ | 'ন্যায়দণ্ড' |
| আকবর হোসেন | 'দু'দিনের খেলাঘর' |
| সত্যেন সেন | 'অভিশপ্ত নগরী', 'পাপের সন্তান'। |
| সরদার জয়েনউদ্দীন | 'অনেক সূর্যের আশা', 'বিধ্বস্ত রোদের ঢেউ' |
| শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় | 'মানবজমিন' |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
ছোটগল্প সাহিত্যতত্ত্বের একটি পারিভাষিক শব্দ। ছোটগল্প মানে ছোট গল্প নয়, এ এক অনন্য সাহিত্যকর্ম। বিন্দুর মধ্যে যেমন সিন্ধুর কলতান নিয়ে আসা সহজ কোনো ব্যাপার নয়, তেমনই ক্ষুদ্র কোনো কাহিনিতে মানবজীবনের রূপ ও রহস্যের দ্বার উন্মোচন কষ্টসাধ্য। তারপরও অনন্য কথাশিল্পীরা এই কর্মটি করে পাঠককে অভিভূত করে থাকেন। খণ্ড কাহিনির মধ্যে তাঁরা জীবনের অখণ্ডকে যথার্থভাবে বাণীবদ্ধ করতে সমর্থ হয়েছেন।
রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পগুলোর বৈশিষ্ট্য:
বাংলা ছোটগল্পের সার্থক রূপকার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। আনন্দময় বৈচিত্র্যে ভরা ছোটগল্প সৃষ্টি তাঁকে বিখ্যাত সাহিত্যিক হিসেবে বিশ্বজনীন খ্যাতি ও স্বীকৃতি প্রদান করেছে। বাংলার নির্জন প্রান্তর, নদীর তীর, উন্মুক্ত আকাশ, বালুচর, অবারিত মাঠ, ছায়া-সুনিবিড় গ্রামে সহজ-সরল অনাড়ম্বর জীবন, অভাবক্লিষ্ট অথচ শান্ত, সহিষ্ণু গ্রামবাসী ইত্যাদি বিষয় রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তিনি 'সোনার তরী' কাব্যের 'বর্ষাযাপন' কবিতায় ছোটগল্পের বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে তুলে ধরেছেন।
ছোট প্রাণ ছোট ব্যথা, ছোট ছোট দুঃখ কথা
নিতান্তই সহজ সরল,
সহস্র বিস্মৃতি রাশি প্রত্যহ যেতেছে ভাসি
তারি দু-চারিটি অশ্রুজল।
নাহি বর্ণনার ছটা, ঘটনার ঘনঘটা
নাহি তত্ত্ব নাহি উপদেশ
অন্তরে অতৃপ্তি রবে সাঙ্গ করি মনে হবে
শেষ হয়েও হইল না শেষ।
১. চরিত্র ও ঘটনা: ছোটগল্পের চরিত্রের সংখ্যা সীমিত এবং একটি বা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গল্পের কাহিনি আবর্তিত হয়।
২. একক অনুভূতি: গল্পের পরিসমাপ্তিতে পাঠকের মনে একটি নির্দিষ্ট অনুভূতি তৈরি হয়, যা ছোটগল্পের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
৩. সংক্ষিপ্ত ও বাহুল্যবর্জিত: ছোটগল্প যথাসম্ভব সংক্ষিপ্ত ও বাহুল্যবর্জিত হয়। কারণ, এতে বিন্দুর মধ্যে অবস্থান করে সিন্ধু, যা ছোটগল্পের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।
৪. নাটকীয়তা: ছোটগল্পের শুরু ও শেষের মধ্যে নাটকীয়তা বিদ্যমান থাকে।
৫. অতৃপ্তি: অনেকক্ষেত্রে ছোটগল্প পড়া শেষ হওয়ার পরও পাঠকের মনে অতৃপ্তি থেকে যায়। অর্থাৎ পাঠক আরও কিছু প্রত্যাশা করে, যা ছোটগল্পের বিশেষ বৈশিষ্ট্য।
৬. নির্দিষ্ট দিক: ছোটগল্পে মানুষের জীবনের সামগ্রিক দিককে উপেক্ষা করে একটি বিশেষ দিক অর্থাৎ জীবনের খণ্ডাংশের বর্ণনা বিদ্যমান থাকে।
৭. উপ-কাহিনি বর্জিত: ছোটগল্পের মধ্যে শাখাকাহিনি বা উপকাহিনি সর্বদা বর্জন করা হয়।
Key Notes:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল ছোটগল্প।
- ছোটগল্পের প্রধান বৈশিষ্ট্য: স্বল্প ভাষায় ও স্বল্প পরিসরে জীবনের খণ্ডাংশের বর্ণনা, প্রারম্ভে ও পরিসমাপ্তিতে নাটকীয়তা।
- ছোটগল্পের জনক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তাঁর হাতেই ছোটগল্পের উৎকর্ষ সাধিত হয়।
বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত ছোটগল্প
ছোটগল্পকার | ছোটগল্প |
| রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | প্রেম সম্পর্কিত গল্প: 'শেষকথা', 'মধ্যবর্তিনী', 'সমাপ্তি', 'নষ্টনীড়', 'একরাত্রি'। সমাজ সম্পর্কিত গল্প: 'ছুটি', 'হৈমন্তী', 'পোস্ট-মাস্টার', 'দেনা-পাওনা', 'খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন', 'কাবুলিওয়ালা'। অতিপ্রাকৃত গল্প: 'ক্ষুধিত পাষাণ', 'কঙ্কাল', 'নিশীথে', 'জীবিত ও মৃত'। |
| শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় | 'মন্দির': প্রথম প্রকাশিত গল্প। 'মহেশ', 'মেজদিদি', 'মামলার ফল', 'বিলাসী'। |
| কাজী নজরুল ইসলাম | 'বাউণ্ডেলের আত্মকাহিনী' (১৯১৯): প্রথম প্রকাশিত রচনা / গল্প। 'রিক্তের বেদন', 'শিউলিমালা', 'পদ্মগোখরা'। |
| মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় | 'অতসী মামী' (১৩৩৫): প্রথম প্রকাশিত গল্প। 'প্রাগৈতিহাসিক', 'সরীসৃপ', 'সমুদ্রের স্বাদ', 'বৌ', 'আজকাল পরশুর গল্প', 'ছোট বকুলপুরের যাত্রী', 'ফেরিওয়ালা'। |
| দক্ষিণারঞ্জন মিত্র | ' ঠাকুরমার ঝুলি', 'ঠাকুরদাদার ঝুলি', 'ঠানদিদির থলে', 'দাদা মহাশয়ের থলে', 'সাত ভাই চম্পা'। (এসকল গল্পে রূপকথা-ব্রতকথা স্থান পেয়েছে)। |
| শওকত ওসমান | 'জন্ম যদি তব বঙ্গে': এটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক। 'ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী', 'পিঁজরাপোল', 'প্রস্তর ফলক'। |
| হাসান আজিজুল হক | 'আমরা অপেক্ষা করছি', 'নামহীন গোত্রহীন', 'আত্মজা ও একটি করবী গাছ', 'শীতের অরণ্য', 'জীবন ঘষে আগুন'। |
| প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় | 'দেশী ও বিলাতী', 'গল্পাঞ্জলি', 'ষোড়শী', 'গল্পবীথি'। |
| তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় | 'রসকলি', 'ডাকহরকরা' |
| তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় | 'জিবরাইলের ডানা', 'একই সমতলে' |
| রাজশেখর বসু | 'গড্ডলিকা' |
| সুবোধ ঘোষ | 'ফসিল', 'অযান্ত্রিক' |
| সরদার জয়েনউদ্দিন | 'বেলা ব্যানার্জির প্রেম' |
| বনফুল | 'মিনু', 'নিমগাছ', 'তাজমহল' |
| লীলা মজুমদার | ‘পাখি’ |
| আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিন | 'নিষিদ্ধশহর', 'নারিন্দালন', 'ওম শান্তি' |
| সোমেন চন্দ | 'ইঁদুর' |
| শাহরিয়ার কবির | 'একাত্তরের যীশু' |
| প্রেমেন্দ্র মিত্র | 'মহানগর', 'পুতুল ও প্রতিমা'। |
| শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায় | 'রেজিং রিপোর্ট' |
| হালিমা খাতুন | 'আষাঢ়ের এক রাতে' |
| খান মোহাম্মদ ফারাবী | 'মামার বিয়ের বরযাত্রী' |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
ছন্দ কাব্যের গতিসৌন্দর্য সৃষ্টির প্রধান উপাদান। হাজার বছরের বাংলা কাব্যে কবিরা আবেগ, ভাব ও নান্দনিকতা প্রকাশের জন্য নানা ছন্দ নির্মাণ ও বিকাশ ঘটিয়েছেন। ভারতবর্ষে ছন্দচর্চার সূচনা বৈদিক যুগে; বাল্মীকির অনুষ্টুপ্ ছন্দকে আদি ছন্দ বলা হয়। সংস্কৃত ছন্দের ধারাই পরবর্তীকালে বাংলা ছন্দের ভিত্তি গড়ে তোলে, যদিও বাংলা ছন্দের বিকাশে কবিদের নিজস্ব সৃষ্টিশীলতাই মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে।
বাংলা কাব্যের ছন্দ প্রধানত তিন প্রকার— মাত্রাবৃত্ত, স্বরবৃত্ত ও অক্ষরবৃত্ত। চর্যাপদ থেকে আধুনিক যুগ পর্যন্ত এই তিন ছন্দই বাংলা কাব্যে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
মাত্রাবৃত্ত ছন্দ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন ছন্দ। এটি মাত্রার উপর নির্ভরশীল এবং চর্যাপদে এর প্রাথমিক রূপ দেখা যায়। বৈষ্ণব পদাবলিতে এর পরিণত ও বৈচিত্র্যময় ব্যবহার লক্ষণীয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মাত্রাবৃত্ত ছন্দকে অক্ষরবৃত্তের প্রভাব থেকে মুক্ত করে এর স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করেন—এটাই তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ অবদান।
স্বরবৃত্ত ছন্দ বাংলা ভাষার ধ্বনিগত স্বভাবের সঙ্গে সবচেয়ে সঙ্গতিপূর্ণ। এটি শ্বাসাঘাতপ্রধান, দ্রুত ও প্রাণবন্ত। লোকগান, বাউল, পাঁচালি, শ্যামাসঙ্গীত ও আধুনিক ছড়ায় এর ব্যাপক ব্যবহার দেখা যায়। শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের ধামালি ছন্দকে স্বরবৃত্তের প্রাচীন রূপ হিসেবে ধরা হয়।
অক্ষরবৃত্ত ছন্দ বাংলা কাব্যের প্রধান ও সর্বাধিক ব্যবহৃত ছন্দ। এটি তানপ্রধান ও গদ্যঘনিষ্ঠ। মধ্যযুগে পয়ার ছন্দের মাধ্যমে এর ব্যাপক ব্যবহার হয়, বিশেষত রামায়ণ, মহাভারত ও মঙ্গলকাব্যে। পয়ার ছন্দের বিভিন্ন রূপ—মহাপয়ার, ভঙ্গপয়ার, তরল পয়ার ইত্যাদি—ক্রমে বিকশিত হয়। মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দ প্রবর্তনের মাধ্যমে অক্ষরবৃত্ত ছন্দে আধুনিক গতি আনেন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ও কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা ছন্দের আধুনিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁদের সৃষ্টিশীল পরীক্ষার মাধ্যমে বাংলা ছন্দ আরও বিজ্ঞানসম্মত, প্রাণবন্ত ও ভাবপ্রকাশে সক্ষম হয়ে উঠেছে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাস সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময়। অবিভক্ত বাংলার অংশ হিসেবে ১৯১৩ সালে 'মীর কাশিম' নির্মাণের মাধ্যমে এই অঞ্চলে চলচ্চিত্রের যাত্রা শুরু হয়। স্বাধীনতার পূর্বে, পূর্ব পাকিস্তানে ঢাকা কেন্দ্রিক 'ঢালিউড' নামে একটি স্বতন্ত্র চলচ্চিত্র শিল্প গড়ে ওঠে। 'জাগো হুয়া সাবের', 'সুতরাং', 'নয়নতারা' 'বেহুলা', 'লাল সালু' 'কসাই' , 'মৃত্যুক্ষুধা' , 'জীবন থেকে জীবনে' , 'চাষীর মেয়ে'-এর মতো অসাধারণ সৃষ্টি এই সময়ের উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র। স্বাধীনতার পর, বাংলাদেশের চলচ্চিত্র নতুন দিগন্ত স্পর্শ করে। 'সূর্য দীঘল বাড়ি', 'জীবনঢুলী', 'গেরিলা' 'যোদ্ধা' 'মাটির ময়না' 'চন্দ্রগ্রহণ' , 'হাজার বছর ধরে' , 'নোয়াখালীর মাঝি' , 'আমার বউ' , 'অন্যরকম ভালোবাসা' , 'চোখের বালি' , 'নীল আকাশের চাঁদনী' এর মতো চলচ্চিত্র মুক্তি পায়। বর্তমানে, বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্প নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হলেও, 'জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার', 'ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব', 'চ্যানেল আই সেরা সিনেমা পুরস্কার', 'বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি' 'বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি' 'বাংলাদেশ ফিল্ম অ্যাসোসিয়েশন' 'বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিষদ'-এর মতো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এর অগ্রগতি ও উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে।
চলচ্চিত্র তথ্যকণিকা
- সর্বপ্রথম চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয় : ১৮৯৫ সালে
- সর্বপ্রথম চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন : লুমিয়ার ব্রাদার্স (যুক্তরাষ্ট্র)
- উপমহাদেশের চলচ্চিত্রের জনক : হীরালাল সেন
- প্রথম মুসলমান বাঙালী চলচ্চিত্রকার : কাজী নজরুল ইসলাম
- বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জনক : আবদুল জব্বার খান
- বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রকার : জহির রায়হান
- উপমহাদেশের প্রথম নির্বাক চলচ্চিত্র : ১৯০৩ সালে নির্মিত 'আলী বাবা চল্লিশ চোর' । পরিচালক - হীরালাল সেন
- উপমহাদেশের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র : ১৯৩১ সালে নির্মিত 'জামাই ষষ্ঠী' । পরিচালক- অমরেন্দ্রনাথ চৌধুরী
- বাংলাদেশের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র : ১৯৫৬ সালে নির্মিত 'মুখ ও মুখোশ' । পরিচালক-আবদুল জব্বার খান এবং এর সংগীত পরিচালক ছিলেন সমর দাস।
- কান চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রথম বাংলাদেশী চলচ্চিত্র : 'মাটির ময়না' । পরিচালক- তারেক মাসুদ
- অষ্কার পুরস্কারের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রথম বাংলাদেশী চলচ্চিত্র : 'মাটির ময়না' (২০০২ সালে)
- আন্তর্জাতিক পুরষ্কারপ্রাপ্ত বাংলাদেশের প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র : 'আগামী’ । পরিচালক- মোরশেদুল ইসলাম
- ভারতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে 'সিনেমা অব দ্য ওয়ার্ল্ড' হয় : 'শঙ্খনীল কারাগার' । পরিচালক-হুমায়ূন আহমদ
- ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত প্রথম বাংলা চলচ্চিত্র : 'ভেজা বিড়াল' পরিচালক - শহীদুল ইসলাম খোকন
- বিশ্বের প্রথম চলচ্চিত্র উৎসবের নাম : ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব, ১৯৩২ সালে
- বাংলাদেশে প্রথম চলচ্চিত্র উৎসব হয় : ১৯৮১ সালে (ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব)
- বাংলাদেশে প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসব হয় : ১৯৮৮ সালে
- বাংলাদেশের প্রথম সিনেমা হল : পিকচার হাউস
- কাজী নজরুল ইসলাম কোন ছবিতে অভিনয় করেছিলেন : ধ্রুব
- তারেক মাসুদ নির্মিত স্বল্পদের্ঘ্য চলচ্চিত্র : আদম সুরত
- বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে চলচ্চিত্র : বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিতব্য বঙ্গবন্ধুর জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্রটি নির্মাণের জন্য মনোনীত করা হয়। ভারতের প্রখ্যাত পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার শ্যাম বনেগালকে। নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন তিনি
- রেহেনা মরিয়ম নূর : ২০২১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি বাংলাদেশী চলচ্চিত্র রেহানা মরিয়ম নূর। এর পরিচালক আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ। এতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন আজমেরী হক বাঁধন। এটি একজন সহকারী অধ্যাপকের জীবন সংগ্রামের গল্প। ২০২১ সালের কান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে 'আঁ সাতে রিগা' বিভাগে এই সিনেমাটি মনোনয়ন পেয়েছিল।
- বঙ্গবন্ধু ফিল্ম সিটি : গাজীপুরে অবস্থিত।
'ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক চলচ্চিত্র
| চলচ্চিত্র | পরিচালক | সাল |
|---|---|---|
| জীবন থেকে নেয়া | জহির রায়হান | ১৯৭০ |
| বাঙলা ( আহমদ ছফার বিখ্যাত উপন্যাস ‘ওংকার’ অবলম্বনে নির্মিত ) | শহীদুল ইসলাম খোকন | ২০০৬ |
| ফাগুন হাওয়ায় | তৌকির আহমেদ | ২০১৯ |
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র
| চলচ্চিত্র | পরিচালক | সাল |
|---|---|---|
| ওরা ১১ জন | চাষী নজরুল ইসলাম | ১৯৭২ |
| সংগ্রাম | চাষী নজরুল ইসলাম | ১৯৭৩ |
| হাঙ্গর নদী গ্রেনেড | চাষী নজরুল ইসলাম | ১৯৯৭ |
| ধ্রুবতারা | চাষী নজরুল ইসলাম | ২০০৬ |
| বাঘা বাঙালি | আনন্দ | ১৯৭২ |
| কার হাসি কে হাসে | আনন্দ | ১৯৭৪ |
| আবার তোরা মানুষ হ | খান আতাউর রহমান | ১৯৭৩ |
| এখনও অনেক রাত | খান আতাউর রহমান | ১৯৯৭ |
| ধীরে বহে মেঘনা | আলমগীর কবির | ১৯৭৩ |
| রূপালী সৈকত | আলমগীর কবির | |
| নদীর নাম মধুমতি | তানভীর মোকাম্মেল | ১৯৯০ |
| রাবেয়া | তানভীর মোকাম্মেল | ২০০৮ |
| আগুনের পরশমণি | হুমায়ূন আহমদ | ১৯৯৫ |
| শ্যামল ছায়া | হুমায়ূন আহমদ | ২০০৪ |
| রক্তাক্ত বাংলা | মমতাজ আলী | ১৯৭২ |
| অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী | সুভাষদত্ত | ১৯৭২ |
| জয়বাংলা | ফখরুল আলম | ১৯৭২ |
| আলোর মিছিল | মিতা | ১৯৭৪ |
| বাংলার ২৪ বছর | মোহাম্মদ আলী | ১৯৭৪ |
| মেঘের অনেক রং | হারুনুর রশিদ | ১৯৭৬ |
| কলমীলতা | শহীদুল হক খান | ১৯৮১ |
| বাঁধনহারা | এ.জে. মিন্টু | ১৯৮১ |
| চিৎকার | মতিন রহমান | ১৯৮১ |
| মাটির ময়না | তারেক মাসুদ | ২০০২ |
| খেলাঘর | মোরশেদুল ইসলাম | ২০০৬ |
| জয়যাত্রা | তৌকির আহমেদ | ২০০৪ |
| মেহেরজান | রুবাইয়াত হোসেন | ২০১০ |
| খন্ডগল্প | বদরুল আলম সৌদ | ২০১১ |
| আমার বন্ধু রাশেদ | মোরশেদুল ইসলাম | ২০১১ |
| গেরিলা | নাসিরউদ্দীন ইউসুফ | ২০১১ |
| পিতা | মাসুদ আখন্দ | ২০১২ |
| আত্মদান | শাহজাহান চৌধুরী | ২০১২ |
| কারিগর | আনোয়ার সাদাত | ২০১২ |
| খন্ডগল্প ৭১ | বদরুল অনাম সৌদ | ২০১২ |
| জীবনঢুলী | তানভীর মোকাম্মেল | ২০১৩ |
| ৭১ এর গেরিলা | মিজানুর রহমান শামীম | ২০১৩ |
| মেঘমাল্লার | জাহিদুর রহিম অঞ্জন | ২০১৪ |
| অনুক্রোম | গোলাম মোস্তফা শিমুল | ২০১৪ |
| হৃদয়ে ৭১ | সাদেক সিদ্দিকী | ২০১৪ |
| ৭১ এর মা জননী | শাহ আলম কিরণ | ২০১৪ |
| যুদ্ধশিশু | মৃত্যুঞ্জয় দেবব্রত | ২০১৪ |
| ৭১ এর সংগ্রাম | মনসুর আলী | ২০১৫ |
| একাত্তরের ক্ষুদিরাম | এান্নান হীরা | ২০১৫ |
| এইতো প্রেম | সোহেল আরমান | ২০১৫ |
| শোভনের স্বাধীনতা | মানিক মানবিক | ২০১৫ |
| অনিল বাগচীর একদিন | মোরশেদুল ইসলাম | ২০১৫ |
| লাল-সবুজের সুর | মুশফিকুর রহমান গুলজার | ২০১৬ |
| ভুবন মাঝি | ফকরুল আরেফিন খান | ২০১৬ |
| পোস্টমাস্টার ৭১ | আরিফ খান | ২০১৮ |
⮚ 'ওরা ১১ জন' ১৯৭২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত (চাষী নজরুল ইসলামের) মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে স্বাধীনতার ডাক দেন, এ ছবির গল্পে সেই ঐতিহাসিক ভাষণের কিছু অংশ দেখানো হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র
| চলচ্চিত্র | পরিচালক |
|---|---|
| হুলিয়া | তানভীর মোকাম্মেল |
| স্মৃতি-৭১ | তানভীর মোকাম্মেল |
| জীবনঢুলী | তানভীর মোকাম্মেল |
| আগামী | মোরশেদুল ইসলাম |
| সূচনা | মোরশেদুল ইসলাম |
| প্রত্যাবর্তন | মোস্তফা কামাল |
| ধূসর যাত্রা | আবু সাইয়িদ |
| আবর্তন | আবু সাইয়িদ |
| একাত্তরের যীশু | নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু (১৯৯৩) |
| চাক্কি | এনায়েত করিম বাবুল |
| দূরন্ত | খান আখতার হোসেন |
| বখাটে | হাবিবুল ইসলাম হাবিব |
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্য চলচ্চিত্র
| চলচ্চিত্র | পরিচালক | |
|---|---|---|
| স্টপ জেনোসাইড (Stop Genocide) | জহির রায়হান | |
| এ স্টেট ইজ বর্ন | জহির রায়হান | |
| লিবারেশন ফাইটার্স | আলমগীর কবির | |
| একসাগর রক্তের বিনিময়ে | আলমগীর কবির | |
| মুক্তির গান | তারেক মাসুদ ও ক্যাথরিন মাসুদ (১৯৯৫) | |
| মুক্তির কথা | তারেক মাসুদ ও ক্যাথরিন মাসুদ (১৯৯৯) | |
| নাইন মানথ টু ফ্রীডম | এস সুকুদেব | |
| ইনোসেন্ট মিলিয়নস | বাবুল চৌধুরী | |
| রিফিউজি-৭১ | বিনয় রায় |
অন্যান্য বিখ্যাত চলচ্চিত্র
| চলচ্চিত্র | পরিচালক |
|---|---|
| স্বল্প দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র 'চাকা' | মোরশেদুল ইসলাম |
| শিশুতোষ চলচ্চিত্র 'দীপু নাম্বার টু' | মোরশেদুল ইসলাম |
| সূর্য দীঘল বাড়ি | শেখ নিয়ামত শাকের |
| পদ্মা নদীর মাঝি | গৌতম ঘোষ |
| পলাশী হতে ধানমন্ডি | আব্দুল গাফফার চৌধুরী |
| স্কুলিং | তৌকির আহমেদ |
অস্কারে বাংলাদেশী চলচ্চিত্র
| চলচ্চিত্র | পরিচালক | যততম | সাল |
|---|---|---|---|
| মাটির ময়না | তারেক মাসুদ | ৭৫তম | ২০০২ |
| শ্যামল ছায়া | হুমায়ূন আহমদ | ৭৮তম | ২০০৫ |
| নিরন্তর | আবু সায়ীদ | ৭৯তম | ২০০৬ |
| স্বপ্নডানায় | গোলাম রাব্বানী বিপ্লব | ৮০তম | ২০০৭ |
| আহা | এনামুল করিম নির্ঝর | ৮১তম | ২০০৮ |
| বৃত্তের বাইরে | গোলাম রাব্বানী বিপ্লব | ৮২তম | ২০০৯ |
| থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার | মোস্তফা সারোয়ার ফারুকী | ৮৩তম | ২০১০ |
| ঘেটুপুত্র কমলা | হুমায়ূন আহমদ | ৮৫তম | ২০১২ |
| টেলিভিশন | মোস্তফা সারোয়ার ফারুকী | ৮৬তম | ২০১৩ |
| জোনাকির আলো | খালিদ মাহমুদ (মিঠু) | ৮৭তম | ২০১৪ |
| জালালের গল্প | আবু শাহেদ ইমন | ৮৮তম | ২০১৫ |
| অজ্ঞাতনামা | তৌকির আহমেদ | ৮৯তম | ২০১৬ |
| খাঁচা | আকরাম খান | ৯০তম | ২০১৭ |
| ডুব | মোস্তফা সরয়ার ফারুকী | ৯১ তম | ২০১৮ |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
Read more