কয়েকটি বিরামচিহ্ন বাক্যের শেষে ব্যবহৃত হয় এবং কিছু বিরামচিহ্ন বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত হয়। নিচে এগুলোর পরিচয় দেওয়া হলো।
ক) বাক্যের শেষে ব্যবহৃত বিরামচিহ্ন: বাক্যের শেষে নিচের তিনটি বিরামচিহ্ন ব্যবহৃত হয়:
দাঁড়ি (।): বাক্যের সমাপ্তি বা পূর্ণ-বিরতি বোঝাতে বাক্যের শেষে দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ ব্যবহৃত হয়-
পাহাড় আর জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে আমাদের রাস্তা।
রাস্তা হেয়ার-পিনের মতো এঁকেবেঁকে উপরের দিকে উঠেছে। আবদুল লতিফ পাহাড়ের পথ দিয়ে মোটর চালাতে সিদ্ধহস্ত।
প্রশ্নচিহ্ন বা জিজ্ঞাসাচিহ্ন (?): প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা বোঝাতে প্রশ্নচিহ্ন বা জিজ্ঞাসাচিহ্ন ব্যবহৃত হয়-
তোমার নাম কী?
নতুনদাকে বাঘে নিল না তো রে?
এবার ক্রিকেট বিশ্বকাপ কোথায় অনুষ্ঠিত হবে?
বিস্ময়চিহ্ন (!): হৃদয়াবেগ (ভয়, ঘৃণা, আনন্দ ও দুঃখ ইত্যাদি) প্রকাশ করতে এবং সম্বোধন পদের পরে বিস্ময়চিহ্ন ব্যবহৃত হয়। যেমন-
ওরে বাবা! কত বড় সাপ!
আহা! কী চমৎকার দৃশ্য!
হায়! হায়! ছেলেটা এতিম হয়ে গেল!
মহারাজ! এ আশ্রমমৃগ, বধ করিবেন না।
খ) বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত বিরামচিহ্ন: বাক্যের মধ্যে সাধারণত নিচের বিরামচিহ্নগুলো বসে:
কমা (,): বাক্যের মধ্যে অল্প বিরতির জন্য কমা ব্যবহৃত হয়। বাক্যে অনেক ক্ষেত্রে কমা বসে-
ক) বাক্য পাঠকালে সুস্পষ্টতা বা অর্থ-বিভাগ দেখানোর জন্য যেখানে স্বল্প বিরতির প্রয়োজন, সেখানে কমা ব্যবহৃত হয়। যেমন- সুখ চাও, সুখ পাবে পরিশ্রমে।
খ) পরস্পর সম্বন্ধযুক্ত একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ একসঙ্গে বসলে শেষ পদটি ছাড়া বাকি পদগুলোর পর কমা বসে। যেমন: সুখ, দুঃখ, আশা, নৈরাশ্য একই মালিকার পুষ্প।
গ) সম্বোধন পদের পরে কমা বসে। যেমন: নিপা, এদিকে তাকাও।
ঘ) উদ্ধরণ চিহ্নের আগে কমা বসে। যেমন- রনি বলল, "কাল স্কুল খুলবে।"
ঙ) মাসের তারিখ লিখতে বার ও মাসের পর কমা বসে। যেমন- ৮ই মাঘ, বুধবার, ১৩৭৫ সাল।
চ) বাড়ি বা রাস্তার নম্বরের পরে কমা বসে। যেমন- ৯, ইকবাল রোড, ঢাকা ১২০৭।
ছ) সমজাতীয় একাধিক পদ পরপর থাকলে কমা বসে। যেমন- পদ্মা, মেঘনা, যমুনা আর ব্রহ্মপুত্র আমাদের বড় নদী।
জ) এক ধরনের পদ জোড়ায় জোড়ায় থাকলে প্রতি জোড়াকে আলাদা করতে কমা বসে। যেমন- মামা-মামি, চাচা-চাচি, ফুফা-ফুফি আমাদের সঙ্গে বনভোজনে গিয়েছিলেন।
ঝ) এক ধরনের একাধিক বাক্যাংশকে আলাদা করতে কমা বসে। যেমন- আমাদের আছে শহিদ দিবস, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, রবীন্দ্র-জয়ন্তী, নজরুল-জয়ন্তী।