ব্রিটিশ শাসন (অধ্যায় ২)

পঞ্চম শ্রেণি (ইবতেদায়ী) - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় | NCTB BOOK
2.6k

১৯৫৭ সালের পলাশির যুদ্ধ

541

মোঘল আমলে পর্তুগিজ, ডাচ, ইংরেজ, ফরাসি বিভিন্ন ইউরোপীয় বণিকগোষ্ঠী ব্যবসায় করতে ভারতীয় উপমহাদেশে আসে। ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতায় নেব পর্যন্ত ইংরেজরা টিকে থাকে। ভারত এবং ব্রিটেনের মধ্যে বাণিজ্য পরিচালনার জন্য ১৬০০ সালে ভারা ব্রিটিশ ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করে।

বাংলার সম্পদের জন্য এই অঞ্চলের প্রতি ইংরেজদের আগ্রহ ছিল। বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব ছিলেন সিরাজ-উদ-দৌলা। তিনি ১৭৫৬ সালে মাত্র ২২ বছর বয়সে বাংলার নবাব হন। তরুণ নবাবের সাথে তাঁর পরিবারের কিছু সদস্যের, বিশেষ করে খালা ঘষেটি বেগমের সম্পর্ক খুব খারাপ ছিল। এছাড়া রায়দুর্লভ এবং জগৎশেঠের মতো বণিকদের বিরোধিতা ও ষড়যন্ত্রের শিকার হন তিনি।

এই বণিকেরা অবশেষে ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশির যুদ্ধে নবাবের বিরুদ্ধে ইংরেজদের পক্ষে যোগ দেন। সৈন্যবাহিনীর প্রধান মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে নবাব পরাজিত হন। পরে নবাবকে হত্যা করা হয়। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে বাংলায় ১৭৫৭ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত প্রায় দুইশত বছরের ইংরেজ শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।

 

ক. এসো বলি

শিক্ষকের সহায়তায় আলোচনা কর : 

১. ইংরেজরা কেন ভারতে এসেছিল? 

২. বাংলার প্রতি ইংরেজদের কেন আগ্রহ ছিল?

৩. ১৭৫৭-১৯৪৭ সাল পর্যন্ত কারা বাংলা শাসন করে? 

৪. নবাবের বিরুদ্ধে কারা ষড়যন্ত্র করে? 

৫. নবাব কেন যুদ্ধে পরাজিত হয়েছিলেন? 

৬. পলাশির যুদ্ধের পরে কী হয়েছিল?

 

খ. এসো লিখি

নবাব তিনটি পক্ষ থেকে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছিলেন। পাশের চিত্রে পক্ষগুলোর নাম উল্লেখ করা হলো। কোন পক্ষে কারা এবং কেন নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিল তা লেখ।

গ. আরও কিছু  করি

মোঘলরা বাংলাকে বলত 'যেকোনো জাতির স্বর্গ’। মোঘল আমলের বাংলার শাসকদের সম্পর্কে আরও তথ্য খুঁজে বের কর।

 

ঘ. যাচাই করি

সঠিক উত্তরের পাশে টিক (টিক) চিহ্ন দাও।

পলাশির যুদ্ধ কৰে সংঘটিত হয়েছিল?

ক. ১৮৫৭         খ. ১৯৪৭        গ. ১৯১৪        ঘ. ১৭৫৭

 

Content added By

বাংলায় ব্রিটিশ শাসন

519

১৭৫৭ থেকে ১৮৫৭ সাল পর্যন্ত একশ বছর এদেশে ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন চলে। ইতিহাসে যা কোম্পানির শাসন নামে পরিচিত। কোম্পানির প্রথম শাসনকর্তা ছিলেন রবার্ট ক্লাইভ। প্রায় একশ বছর পরে ১৮৫৭ সালে কোম্পানির নীতি ও শোষণের বিরুদ্ধে সিপাহিদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয় এবং বিদ্রোহ করে। ইংরেজরা এই বিদ্রোহ দমন করলেও শাসন ব্যবস্থা আগের মতো চালাতে পারেনি। কোম্পানির শাসন রদ করে ১৮৫৮ সালে বাংলাসহ সমগ্র ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ রানি সরাসরি নিজ হাতে তুলে নেয় যা চলে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত।

ব্রিটিশ শাসনের কিছু খারাপ দিক :

• 'ভাগ কর শাসন কর' নীতির ফলে এদেশের মানুষের মধ্যে জাতি, ধর্ম, বর্ণ এবং অঞ্চলভেদে বিভেদ সৃষ্টি হয় ।

• অনেক কারিগর বেকার ও অনেক কৃষক গরিব হয়ে যায় এবং বাংলায় দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। এই ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ বাংলা ১১৭৬ সালে (ইংরেজি ১৭৭০) হয়েছিল যা ছিয়াত্তরের মাঝার' নামে পরিচিত।

• অল্পসংখ্যক জমিদার অনেক জমির মালিক হন এবং বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ পরিব হয়ে যায়।

ব্রিটিশ শাসনের কিছু ভালো দিক :

• নতুন নতুন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাপাখানা প্রতিষ্ঠার ফলে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি হয়। • সড়কপথ ও রেলপথ উন্নয়ন এবং টেলিগ্রাফ প্রচলনের ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থার বিশেষ উন্নতি হয়।

• শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে উনিশ শতকে বাংলায় নবজাগরণ ঘটে। এসময় সামাজিক সংস্কারসহ শিক্ষা, সাহিত্য ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের ব্যাপক প্রসার ঘটে।

১৮১৬ সালে কলকাতার প্রতিষ্ঠিত 'হিন্দু কলেজ'

 

ক. এসো বলি

বাংলার ইতিহাসে এই ব্যক্তিদের ভূমিকা শিক্ষকের সহায়তার আলোচনা কর :

• মীর জাফর 

• মীর কাশিম 

• রবার্ট ক্লাইভ 

• রাজা রামমোহন রায়

 

খ. এসো লিখি

ব্রিটিশদের 'ভাগ কর শাসন কর' নীতির ফলে কী হয়েছিল?

 

গ. আরও কিছু করি

এই চারজন বাংলার নবজাগরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তাঁদের প্রত্যেকের অবদান সম্পর্কে তথ্য খুঁজে বের কর।

 

ঘ. যাচাই করি

উপযুক্ত শব্দ দিয়ে শুন্যস্থান পুরণ কর :

ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলাকে…………………..….সাল থেকে……………………..সাল পর্যন্ত …………………...বছর শাসন করে।

Content added || updated By

১৯৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহ

934

আঠারো শতকের শেষভাগ থেকে উনিশ শতক জুড়ে ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে অনেকবার বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। এমনই একটি আন্দোলনে বিদ্রোহী নেতা তিতুমির ইংরেজ বাহিনীকে প্রতিহত করার জন্য বারাসাতের কাছে নারকেলবাড়িয়া গ্রামে একটি বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন। ১৮৩১ সালে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে এক যুদ্ধে তিতুমির পরাজিত ও নিহত হন।

তিতুমিরের বাঁশের কেল্লা

১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের পুরুত্ব অপরিসীম। পশ্চিম বাংলার : ব্যারাকপুরে মঙ্গল পাণ্ডের নেতৃত্বে এ বিদ্রোহ শুরু হয়ে সারা ভারতে ছড়িয়ে পড়ে।