মধ্য শৈশব (Middle Childhood) (পাঠ ৫)

ষষ্ঠ শ্রেণি (মাধ্যমিক) - গার্হস্থ্যবিজ্ঞান - খ বিভাগ- শিশু বিকাশ ও পারিবারিক সম্পর্ক | NCTB BOOK
768

৬ বছর থেকে ১০/১১ বছর পর্যন্ত বয়সকে মধ্য শৈশব বলে ধরা হয়। এ সময়ে শিশুর শারীরিক বিকাশ ধীরগতিতে চলে। কিন্তু সামাজিক জীবনে আসে বিস্ময়কর পরিবর্তন। অধিকাংশ শিশু স্কুলে যাওয়া শুরু করে। ছকবাঁধা জীবনে এটি একটি প্রধান পরিবর্তন। এ বয়সটি দলীয়ভাবে খেলার বয়স। ছেলেরা ছেলেদের দলে এবং মেয়েরা মেয়েদের দলে খেলাধুলা করে। স্কুলে যাওয়া ও খেলাধুলার কারণে সমবয়সীদের সাথে তার ব্যাপক যোগাযোগ হয়।

এ বয়সে তাদের মধ্যে প্রয়োজনীয় দক্ষতা তৈরি হয়। নিজের কাজ নিজে করতে পারে। খাওয়া, পোশাক পরা ইত্যাদি কাজ অল্প সময়ে অল্প পরিশ্রমে করতে পারে। নিজের কাজের পাশাপাশি ঘরে বাইরে নানা ধরনের কাজ করতে পারে। যেমন- বাগান করা, ঘর গোছানো ও পরিষ্কার করা ইত্যাদি।

এ বয়সে শিশুরা স্কুলে গল্প-কবিতা লেখা, ছবি আঁকা, খেলাধুলা, দুই চাকার সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা ইত্যাদি নানা রকম কাজ করে। এভাবে বিভিন্ন কাজে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে তারা উদ্যমী ও পরিশ্রমী হয়। নতুন নতুন কাজে সাফল্য তার আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। সমবয়সীদের সাথে বিভিন্ন রকম প্রতিযোগিতা করে। এ সময়ের সফলতা তার ভবিষ্যৎ সফলতার দরজা খুলে দেয়। অপরদিকে ব্যর্থতা তার মধ্যে সৃষ্টি করে হতাশা। এই হতাশা থেকে নানা রকম আচরণগত সমস্যা তৈরি হতে পারে। যেমন- অতিরিক্ত রাগ, জিনিসপত্র ছুড়ে ফেলা বা ভাংচুর করা, কাউকে আঘাত করা, বিষণ্ণতা, সামান্য কারণে কেঁদে ফেলা, স্কুলে যেতে না চাওয়া ইত্যাদি।

ভালো আচরণের জন্য বড়দের প্রশংসা শিশুর নিরাপত্তাবোধ জাগিয়ে তোলে। শিশুকে যখন প্রশংসা করা হয় তখন সে বুঝতে পারে যে আচরণটি করছে তা বড়দের কাছে গ্রহণযোগ্য। এটি তার মধ্যে ভালো আচরণের ইচ্ছা জাগিয়ে তোলে। তারা আরও ভালো কাজ করতে আগ্রহী হয়। শিশুরা চায় প্রশংসা ও ভালোবাসা। অপরদিকে যেকোনো কারণে বড়দের দেওয়া শাস্তি তাদের আত্মমর্যাদায় আঘাত করে। তাদের মধ্যে হতাশার জন্ম দেয়। তারা নতুন কাজে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।

কোনো কারণে পরীক্ষার ফল খারাপ হলে নিরুৎসাহিত হওয়া বা সাহস হারানো ঠিক না। এতে ভবিষ্যৎ সফলতায় বাধার সৃষ্টি হয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে অনেক সময় মা-বাবাও হতাশ হয়ে পড়েন এবং সন্তানদেরকে তিরস্কার বা রাগারাগি করে থাকেন। বড়দের নেতিবাচক উক্তি শিশুদের আত্মবিশ্বাস নষ্ট করে। এতে ভবিষ্যৎ সফলতায় বাধার সৃষ্টি হয়। এভাবে বাড়িতে ছোটদের ব্যর্থতায় তোমাদেরকেও সচেতন হতে হবে। তাদেরকে মনোবল ফিরিয়ে আনার জন্য উৎসাহিত করতে হবে।

কাজ-১ ছোট ভাই বা বোনের সফলতার জন্য কীভাবে তাকে উৎসাহিত করা যায়-তার কয়েকটি উপায় লেখো।
কাজ-২ উদাহরণসহ মধ্য শৈশবের বৈশিষ্ট্যের তালিকা করো।
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

অনুচ্ছেদটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও

পরীক্ষার ফল খারাপ হওয়ায় সোমার মা তার সাথে রাগারাগি করেন। এতে সে পড়াশোনায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।

সচেতনতা বাড়বে
মনোবল তৈরি হবে
আত্মবিশ্বাস নষ্ট হবে
হতাশার সৃষ্টি হবে
Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...