মাঠ প্রশাসন বলতে জেলা, থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে বোঝায়। এর মধ্যে সর্বনিম্ন একক হলো ইউনিয়ন, যা কয়েকটি গ্রাম নিয়ে গঠিত। জেলা প্রশাসন বাংলাদেশের প্রাচীনতম প্রশাসনিক কেন্দ্র, যা মূলত ভূমি ব্যবস্থাপনাকে সুসংহত করার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। প্রাচীনকাল থেকে রাজস্ব সংগ্রহ ও রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে প্রশাসনিক অঞ্চল তৈরি করা হতো। সুলতানি ও মোগল আমলে জেলা, পরগনা ও মৌজা ভিত্তিক প্রশাসন চালু ছিল। ব্রিটিশ শাসনের সময় জেলা প্রশাসন মুগল পরগনা সমন্বয়ে গঠিত হয় এবং গ্রামীণ এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা হয়। জেলা পর্যায়ে প্রধান কর্মকর্তা ছিলেন জেলা ও দায়রা জজ, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও কালেক্টর এবং পুলিশ সুপার। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও কালেক্টর ছিলেন প্রধান নির্বাহী, যিনি আইন-শৃঙ্খলা, রাজস্ব আদায় এবং জনকল্যাণমূলক কাজে নিয়োজিত থাকতেন।
১৯৬০ সালে মৌলিক গণতন্ত্র প্রবর্তনের মাধ্যমে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও কালেক্টরকে ডেপুটি কমিশনার নামকরণ করা হয় এবং নির্বাচিত গণপ্রতিনিধি ও প্রশিক্ষিত সরকারি কর্মকর্তাদের মাঠ প্রশাসনে যুক্ত করা হয়। ১৯৭১ সালের মুক্তির পর বাংলাদেশ সরকার বেসামরিক প্রশাসন পুনরুদ্ধার করে। তবে ১৯৭৫ সালে একদলীয় শাসন ও জেলা গভর্নর পদ্ধতি চালু হলেও ১৫ আগস্টের পর তা কার্যকর হয়নি। ১৯৭৬ ও ১৯৭৭ সালে ইউনিয়ন ও পৌরসভা নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার পুনর্গঠন করা হয়। ১৯৮২ সালে সামরিক শাসন পরবর্তী সময়ে উপজেলা প্রশাসন পুনর্গঠন করা হয়, মহকুমাগুলোকে জেলায় রূপান্তর করা হয় এবং উপজেলা পরিষদ গঠন করা হয়।
১৯৯১ সালে মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার প্রতিষ্ঠার পর স্থানীয় সরকার ও মাঠ প্রশাসনের পুনর্গঠন করা হয়। ১৯৯৮ সালে উপজেলা আইন প্রণয়ন করা হয় এবং ৪৬৩টি উপজেলা পরিষদ গঠিত হয়, যেখানে প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও নির্বাচিত চেয়ারম্যানদের দ্বৈত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে মাঠ প্রশাসন দেশের অন্যান্য জেলা থেকে ভিন্ন, এখানে জেলা প্রশাসককে বৃহত্তর ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে এবং ১৯৯৮ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ গঠন করা হয়। সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের মাঠ প্রশাসন জেলা, উপজেলা/থানা ও ইউনিয়ন স্তরে বিভক্ত এবং আইন-শৃঙ্খলা, ভূমি-রাজস্ব, দুর্যোগ
- বাংলাদেশে সর্বমোট আটটি বিভাগ আছে।
- প্রতিটি বিভাগের প্রশাসনিক প্রধান হলেন যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার একজন বিভাগীয় কমিশনার।
- বিভাগীয় কমিশনার কেন্দ্রের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি বিভাগের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন।
- জেলা পরিষদ গঠিত হয় ১ জন চেয়ারম্যান, ১৫ জন সদস্য, সংরক্ষিত আসনে ৫ জন মহিলা সদস্য (মোট ২১ জন) নিয়ে। জেলা পরিষদের মেয়াদ ৫ বছর।
- জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জেলার জনপ্রতিনিধি দ্বারা সরাসরি নির্বাচিত হয়।
- তিনি একজন প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদার অধিকারী।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
উপজেলার প্রধান প্রশাসক হলেন সিনিয়র সহকারি সচিব পদমর্যাদার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (UNO)