কয়েক বছর আগের কথা। আলমগীর চৌধুরী খুলনায় এ গিয়েছিলেন ব্যবসায় করতে। কিন্তু সেখানে প্রভাবশালী ব্যক্তি এরশাদ এ শিকদার তাকে ব্যবসায় করতে বাধা প্রদান করে। আলমগীর সাহেব তার বাধা ও হুমকি উপেক্ষা করে ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করেন। এতে এরশাদ শিকদার চরমভাবে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এর দু সপ্তাহ পর স্থানীয় ঘাট এলাকা থেকে পুলিশ আলমগীর সাহেবের লাশ উদ্ধার করে। আলমগীর সাহেবের ভাই কবীর চৌধুরী খুলনায় ডিআইজি পদে কর্মরত থাকলেও আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে তিনি সরকারের নিকট ন্যায়বিচার দাবি করেন। কিন্তু এরশাদ শিকদারের অবৈধ ও অন্যায় প্রভাবে বিচার বিভাগ দায়িত্বশীল ও ন্যায়নিষ্ঠার পরিচয় দিতে ব্যর্থ হয়।
আলমগীর হত্যা মামলায় সুষ্ঠু বিচার পেতে বিচার বিভাগে যেসব সংস্কার প্রয়োজন তা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
বিচারকদের নিয়োগের ব্যাপারে আইনসভা, জনগণ ও শাসন বিভাগের কর্তত্বের সমন্বয় থাকতে হবে। যে পদ্ধতিতেই বিচাবক নিয়োগ করা হোক না কেন বিচারাসনে তাদেব সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ হতে হবে। আইনজ্ঞ, সৎ, নির্ভীক, প্রতিশ্রুতিশীল এবং দলীয় রাজনীতির সাথে সম্পর্কহীন বিচারকদের নিয়োগ করা উচিত। অযোগ্য ও দুর্নীতিপরায়ণ লোক নিযুক্ত হলে ন্যায়বিচার থেকে জনগণ বঞ্চিত। হবে। নির্দিষ্ট বয়সসীমা পর্যন্ত বিচারকদের স্থায়িভাবে নিযুক্ত করা উচিত। তাই সময়সীমার মধ্যে কোনো রাজনৈতিক উত্থানপতনের শিকার হয়ে যেন তারা অপসারিত না হন সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। বিচার নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে বিচারকের গুরুতর/মারাত্মক চারিত্রিক দোষ প্রমাণিত হলে অনাস্থা প্রস্তাবের মাধ্যমে সাংবিধানিক নিয়মে অপসারণ করতে হবে। এতে বিচারকগণ আরও বেশি দায়িত্ববান ও কর্তব্যনিষ্ঠ হবেন। জোটনীতির ভিত্তিতে পদোন্নতির ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি বিশেষ ক্ষেত্রে কর্মক্ষমতা এবং মেধা পদোন্নতির ভিত্তি হিসেবে রাখতে হবে। বিচারকদের আকর্ষণীয় হারে বেতনভাতা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা থাকতে হবে এবং উচ্চহারে অবসরজনিত ভাতার সুব্যবস্থা থাকতে হবে। এর ফলে তারা সৎ ও নির্লোভ হবে। ঘুষ বা অন্য পন্থায় বেশি আয়ের পথ খুঁজবে না। হীনমন্যতা তাদের স্পর্শ করতে পারবে না। আর এতে ভবিষ্যতে সৎ মেধাবী আইনজ্ঞ এবং প্রতিশ্রুতিশীল যুবকরা এ পদে আকৃষ্ট হবে। শাসন বিভাগের একচ্ছত্র আধিপত্য রোধ করতে বিচার বিভাগকে অন্যান্য বিভাগ থেকে স্বাধীন ও নিয়ন্ত্রণমুক্ত রাখা একান্ত আবশ্যক। অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদের পুনরায় সরকারি বা বেসরকারি পদে নিয়োগের বিধান থাকতে দেওয়া যাবে না। কারণ পুনরায় নিয়োগপ্রাপ্ত হলে বিচারকগণ শাসন বিভাগের প্রতি দুর্বল থাকবে এবং লোভের বশবর্তী হয়ে নিরপেক্ষ বিচার নাও করতে পারে। উপরিউক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করবে। বিচার বিভাগ এরশাদ শিকদারের মতো হীন ব্যক্তিদের পভাবে প্রভাবিত হবে না এবং আলমগীর হত্যা মামলায় সুষ্ঠু বিচার গাওয়া সম্ভব হবে।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?