Academy

কয়েক বছর আগের কথা। আলমগীর চৌধুরী খুলনায় এ গিয়েছিলেন ব্যবসায় করতে। কিন্তু সেখানে প্রভাবশালী ব্যক্তি এরশাদ এ শিকদার তাকে ব্যবসায় করতে বাধা প্রদান করে। আলমগীর সাহেব  তার বাধা ও হুমকি উপেক্ষা করে ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করেন।  এতে এরশাদ শিকদার চরমভাবে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এর দু সপ্তাহ পর  স্থানীয় ঘাট এলাকা থেকে পুলিশ আলমগীর সাহেবের লাশ উদ্ধার  করে। আলমগীর সাহেবের ভাই কবীর চৌধুরী খুলনায় ডিআইজি পদে  কর্মরত থাকলেও আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে তিনি সরকারের  নিকট ন্যায়বিচার দাবি করেন। কিন্তু এরশাদ শিকদারের অবৈধ ও অন্যায়  প্রভাবে বিচার বিভাগ দায়িত্বশীল ও ন্যায়নিষ্ঠার পরিচয় দিতে ব্যর্থ হয়।

আলমগীর হত্যা মামলায় সুষ্ঠু বিচার পেতে বিচার বিভাগের কী কী সংস্কার করা প্রয়োজন? ব্যাখ্যা কর। (প্রয়োগ)

Created: 7 months ago | Updated: 5 months ago
Updated: 5 months ago
Ans :

আলমগীর হত্যা মামলায় সুষ্ঠু বিচার পেতে বিচার বিভাগে যেসব সংস্কার প্রয়োজন তা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-

বিচারকদের নিয়োগের ব্যাপারে আইনসভা, জনগণ ও শাসন বিভাগের কর্তত্বের সমন্বয় থাকতে হবে। যে পদ্ধতিতেই বিচাবক নিয়োগ করা হোক না কেন বিচারাসনে তাদেব সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ হতে হবে। আইনজ্ঞ, সৎ, নির্ভীক, প্রতিশ্রুতিশীল এবং দলীয় রাজনীতির সাথে সম্পর্কহীন বিচারকদের নিয়োগ করা উচিত। অযোগ্য ও দুর্নীতিপরায়ণ লোক নিযুক্ত হলে ন্যায়বিচার থেকে জনগণ বঞ্চিত। হবে। নির্দিষ্ট বয়সসীমা পর্যন্ত বিচারকদের স্থায়িভাবে নিযুক্ত করা উচিত। তাই সময়সীমার মধ্যে কোনো রাজনৈতিক উত্থানপতনের শিকার হয়ে যেন তারা অপসারিত না হন সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। বিচার নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে বিচারকের গুরুতর/মারাত্মক চারিত্রিক দোষ প্রমাণিত হলে অনাস্থা প্রস্তাবের মাধ্যমে সাংবিধানিক নিয়মে অপসারণ করতে হবে। এতে বিচারকগণ আরও বেশি দায়িত্ববান ও কর্তব্যনিষ্ঠ হবেন। জোটনীতির ভিত্তিতে পদোন্নতির ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি বিশেষ ক্ষেত্রে কর্মক্ষমতা এবং মেধা পদোন্নতির ভিত্তি হিসেবে রাখতে হবে। বিচারকদের আকর্ষণীয় হারে বেতনভাতা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা থাকতে হবে এবং উচ্চহারে অবসরজনিত ভাতার সুব্যবস্থা থাকতে হবে। এর ফলে তারা সৎ ও নির্লোভ হবে। ঘুষ বা অন্য পন্থায় বেশি আয়ের পথ খুঁজবে না। হীনমন্যতা তাদের স্পর্শ করতে পারবে না। আর এতে ভবিষ্যতে সৎ মেধাবী আইনজ্ঞ এবং প্রতিশ্রুতিশীল যুবকরা এ পদে আকৃষ্ট হবে। শাসন বিভাগের একচ্ছত্র আধিপত্য রোধ করতে বিচার বিভাগকে অন্যান্য বিভাগ থেকে স্বাধীন ও নিয়ন্ত্রণমুক্ত রাখা একান্ত আবশ্যক। অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদের পুনরায় সরকারি বা বেসরকারি পদে নিয়োগের বিধান থাকতে দেওয়া যাবে না। কারণ পুনরায় নিয়োগপ্রাপ্ত হলে বিচারকগণ শাসন বিভাগের প্রতি দুর্বল থাকবে এবং লোভের বশবর্তী হয়ে নিরপেক্ষ বিচার নাও করতে পারে। উপরিউক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করবে। বিচার বিভাগ এরশাদ শিকদারের মতো হীন ব্যক্তিদের পভাবে প্রভাবিত হবে না এবং আলমগীর হত্যা মামলায় সুষ্ঠু বিচার গাওয়া সম্ভব হবে।

7 months ago

পৌরনীতি ও সুশাসন

**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View More

গণচীনে সমাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রচলিত।

বিচার বিভাগ জনগণের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করে। কিন্তু যদি এটি স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারে, তবে অনেক ক্ষেত্রেই নিরপেক্ষভাবে কাজ সম্পন্ন করতে পারে না। বিচার বিভাগকে অনেক সময় সরকারের বিরুদ্ধে রায় দিতে হয়। সরকারের অন্য কোনো বিভাগের অধীনে থেকে কাজ করলে সব সময় সরকারের বিরুদ্ধে যাওয়া সম্ভব হয় না। এজন্য ন্যায়বিচারের স্বার্থে বিচার বিভাগকে স্বাধীন রাখতে হয়।

A চিহ্নিত সংস্থাটি আইন প্রণয়নকারী সংস্থা বা আইনসভা।
রাষ্ট্রের তিনটি মৌলিক অঙ্গের মধ্যে আইনসভা বা আইন বিভাগ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি শাখা। সংসদীয় সরকারব্যবস্থাতে আইনবিভাগের গুরুত্ব ও ভূমিকা অনেক বেশি। আইন বিভাগের প্রধান কাজ হলো আইন প্রণয়ন করা। সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় আইনসভা শাসন বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করে। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট তাদের কাজের জন্য দায়ী থাকে। আইনসভা এখানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল অংশের কাজ করে। জনপ্রতিনিধিরা আইনসভায় জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন। আইন প্রণয়ন ছাড়াও সংবিধান প্রণয়ন, সংশোধন, আলোচনা, বিতর্ক, জনমত গঠন, আর্থিক বিবৃতি প্রণয়ন, তু রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, বিচারসংক্রান্ত কাজ, শাসনসংক্রান্ত কাজ, সমালোচনামূলক কাজ ইত্যাদি করে থাকে। সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় আইনসভা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

সরকারের তিনটি মৌলিক বিভাগের মধ্যে কাজ সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে। রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা আইন বিভাগের কাজ। আইন অনুসারে দেশ পরিচালনা করা শাসন বিভাগের কাজ এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা বিচার বিভাগের কাজ।

উদ্দীপকে চিহ্নিত A এবং B-তে যথাক্রমে আইন ও শাসন বিভাগের কথা বলা হয়েছে। একটি দেশ পরিচালনা তথা নিয়ন্ত্রণের মূল দায়িত্বে থাকে এই দুটি বিভাগ। একটি দেশের শাসন বিভাগ ব্যাপক অর্থে রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে গ্রামের চৌকিদার পর্যন্ত বিস্তৃত কর্মী বাহিনী নিয়ে গঠিত। শাসনকার্য পরিচালনা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, দেশরক্ষা, দেশের উন্নয়নমূলক কার্যাবলি পরিচালনা সবই শাসন বিভাগের হাতে ন্যস্ত। শাসন বিভাগ এসব কার্যাবলি সম্পন্ন করে আইন বিভাগ প্রণীত আইন অনুসারে।

শাসন বিভাগ তাদের কাজের জন্য আইন বিভাগের নিকট জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকে। শাসন বিভাগের কার্যাবলিকে বিভিন্নভাবে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে আইন বিভাগ। অন্যদিকে বিচার বিভাগ ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার জন্য বিচার করে থাকে। কিন্তু বিচার বিভাগের রায়কে বাস্তবায়ন করার দায়িত্বও থাকে শাসন বিভাগের হাতে। আবার বিচার বিভাগের প্রদত্ত রায় বা শাস্তিকে মওকুফ বা মার্জনার ক্ষমতা শাসন বিভাগের হাতে আছে। এ দিক থেকে দেখা যায়, রাষ্ট্রীয় কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণে আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগ মূল নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় থাকে। শাসন বিভাগের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়লে একটি রাষ্ট্র বিপন্ন হতে বাধ্য। আবার আইন বিভাগের নিয়ন্ত্রণ না থাকলে শাসন বিভাগ বেপরোয়া হয়ে যেতে পারে।

এদিক থেকে শাসন বিভাগ ও আইন বিভাগ পরস্পর পরস্পরের পরিপূরক, নিয়ন্ত্রক এবং সমন্বয় সাধনকারী। রাষ্ট্র পরিচালনায় এই দুটি বিভাগের ভূমিকাও অনেকটা তত্ত্বাবধায়কের ন্যায়। তাই আমি মনে করি, একটি রাষ্ট্র উদ্দীপকে চিহ্নিত A এবং B দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

5 ব্রিটেনের আইনসভার নাম কী? (জ্ঞানমূলক)

Created: 7 months ago | Updated: 5 months ago
Updated: 5 months ago

ব্রিটেনের আইনসভার উচ্চকক্ষের নাম হাউস অব লর্ডস এবং নিম্নকক্ষের নাম হাউস অব কমন্স।

6 শাসন বিভাগ বলতে কী বোঝায়? (অনুধাবন)

Created: 7 months ago | Updated: 5 months ago
Updated: 5 months ago

সরকারের যে বিভাগ আইনসভা প্রণীত আইন অনুসারে রাষ্ট্রীয় শাসনকার্য পরিচালনা করে, তাকে শাসন বিভাগ বলে। অর্থাৎ আইন বিভাগ প্রণীত আইন অনুসারে যে বিভাগ দেশ শাসন বা পরিচালনা করে থাকে, তাই শাসন বিভাগ। সংকীর্ণ অর্থে শাসন বিভাগ হলো প্রজাতন্ত্রের নীতি ও কার্যক্রম নির্ধারণের দায়িত্ব প্রাপ্ত অংশ যেমন- প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রীবর্গ, আমলারা। আর ব্যাপক অর্থে আইন ও বিচার বিভাগ ব্যতীত প্রজাতন্ত্রের সকল অংশীজন শাসন বিভাগের আওতাভুক্ত।

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...