আশরাফ সাহেব ব্যবসা করতে বাংলাদেশ থেকে আফ্রিকার একটি দেশে যান এবং সেখানে একটি কোম্পানি গড়ে তোলেন। বাংলাদেশের আরেক ব্যবসায়ী সাহাবুদ্দীনও ঐ দেশটিতে পৃথক একটি কোম্পানি গঠন করেন। কিন্তু সাহাবুদ্দীন ঐ দেশটির শাসকের দরবারে বাণিজ্যিক সুযোগ-সুবিধা লাভে ব্যর্থ হন। পরে তিনি আশরাফ সাহেবের সাথে যুক্ত হয়ে একটি যৌথ কোম্পানির মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করতে থাকেন। সেই সময় এই কোম্পানি আফ্রিকার দেশটির শাসকের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে এবং বিনাশুল্কে বাণিজ্যিক সনদ লাভ করে।
উদ্দীপকে বর্ণিত আফ্রিকার দেশটিতে পাঠ্যপুস্তকের ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ব্যবসার প্রতিচ্ছবি প্রকাশিত হয়েছে।
ইংল্যান্ডের রানি প্রথম এলিজাবেথের (Elizabeth I of England) কাছ থেকে সনদ নিয়ে ১৬০০ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতে বাণিজ্য করতে আসে। মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের এক ফরমানবলে ইংরেজ বণিকরা সুরাটে (বর্তমান গুজরাটে) বাণিজ্যকুঠি স্থাপনের অনুমতি পায়। তারা ক্রমে উড়িষ্যার হরিহরপুর, বালাসোর, বিহারের পাটনা এবং পশ্চিমবঙ্গের কাশিমবাজারে বাণিজ্যকুঠি স্থাপন করে। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাৎসরিক ১২০০ টাকার বিনিময়ে কলকাতা, সুতানটি এবং গোবিন্দপুর নামের তিনটি গ্রামের জমিদারি লাভ করে।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাণিজ্যিক সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে ১৬৯৮ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে স্যার উইলিয়াম নরিসের নেতৃত্বে অপর একটি নতুন কোম্পানি গঠন করা হয়। উইলিয়াম নরিসের নেতৃত্বে গঠিত নতুন কোম্পানি ভারতীয় উপমহাদেশে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে। কিন্তু উইলিয়াম নরিস মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের দরবারে বাণিজ্যিক সুযোগ-সুবিধা লাভে ব্যর্থ হন। পরে ইংল্যান্ডের মন্ত্রিসভার চাপে নতুন ও পুরাতন কোম্পানি দুটি একত্রিত করে একটি যৌথ কোম্পানি গঠন করা হয়। এ নতুন কোম্পানি 'The Urfited Company of Merchants of England Trading to the East India' নামে পরিচিতি লাভ করে। এ যৌথ কোম্পানি ১৭৯৩ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত উপমহাদেশে একচেটিয়া বাণিজ্যিক সুযোগ-সুবিধা লাভ করে।
সম্রাট ফররুখশিয়ারের ফরমান ভারতবর্ষের স্বাধীনতার জন্য হুমকিস্বরূপ ছিল কেন ?
(অনুধাবন)আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?