আশরাফ সাহেব ব্যবসা করতে বাংলাদেশ থেকে আফ্রিকার একটি দেশে যান এবং সেখানে একটি কোম্পানি গড়ে তোলেন। বাংলাদেশের আরেক ব্যবসায়ী সাহাবুদ্দীনও ঐ দেশটিতে পৃথক একটি কোম্পানি গঠন করেন। কিন্তু সাহাবুদ্দীন ঐ দেশটির শাসকের দরবারে বাণিজ্যিক সুযোগ-সুবিধা লাভে ব্যর্থ হন। পরে তিনি আশরাফ সাহেবের সাথে যুক্ত হয়ে একটি যৌথ কোম্পানির মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করতে থাকেন। সেই সময় এই কোম্পানি আফ্রিকার দেশটির শাসকের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে এবং বিনাশুল্কে বাণিজ্যিক সনদ লাভ করে।
উদ্দীপকের বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের গঠিত বাণিজ্য কোম্পানির প্রতি আফ্রিকার দেশটির শাসকরা উদারতা দেখিয়েছেন। তবে এর সুযোগে ওই কোম্পানির প্রতিনিধিরা সংশ্লিষ্ট দেশটিতে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও রাষ্ট্রবিরোধী কাজে আগ্রহী হতে পারে বলে আমি মনে করি।
উদ্দীপকের এ বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের দিয়ে ভারতে বাণিজ্য করতে আসা চতুর ব্রিটিশ বণিকদের কার্যকলাপের প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে। ইংরেজ বণিকদের গঠিত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতীয় উপমহাদেশে বাণিজ্য করার জন্যেই এসেছিল। পরে ভারতীয় শাসকদের উদারতা ও দুর্বলতার সুযোগে তারা উচ্চাভিলাষী হয়ে ওঠে চূড়ান্ত পর্যায়ে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করে বসে।
ইংরেজদের প্রতি দিল্লি ও বাংলার আঞ্চলিক শাসকরা উদার ছিলেন। তাদের উদারতার সুযোগ নিয়ে ইংরেজ ব্যবসায়ীরা ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও
ফরমানবলে সুরাটে ইংরেজদের বাণিজ্যকুঠি নির্মাণের অনুমতি দেন। মুঘল সম্রাট ফররুখশিয়ারও ইংরেজদের প্রতি উদারতা প্রদর্শন করেন। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধি জন সুরম্যান বাণিজ্যিক সুযোগ-সুবিধা
রাষ্ট্রবিরোধী কাজকর্মে লিপ্ত হয়। মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর এক লাভের জন্য মুঘল সম্রাট ফররুখশিয়ারের দরবারে হাজির হন। এ সময় সম্রাট অসুস্থ ছিলেন। ইংরেজ চিকিৎসক হ্যামিলটনের চিকিৎসায় সম্রাট ফররুখশিয়ার সুস্থ হন। এতে তিনি ইংরেজদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে তাদের বাংলা, বিহার, মাদ্রাজ এবং বোম্বাইয়ে বিনাশুল্কে বাণিজ্য করার সনদ প্রদান করেন। বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা ইংরেজদের অনেক অন্যায়-আচরণ ও ষড়যন্ত্রের বিষয়ে অবহিত হওয়ার পরও সময়মতো যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারেননি। এ সব কারণে ইংরেজরা ধীরে ধীরে বাংলা তথা গোটা ভারতে নিজেদের শক্তি বাড়ায় এবং ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করতে থাকে। এর ধারাবাহিকতায়ই তারা ষড়যন্ত্র করে প্রহসনমূলক পলাশী যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলার ক্ষমতা নিজেদের হাতে নিতে সক্ষম হয়।
পরিশেষে পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বলা যায়, আফ্রিকার দেশটির শাসকদের উদারতা উচ্চাভিলাষী ইংরেজ বণিকদের মতোই আশরাফ ও সাহাবুদ্দীন সাহেবদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও রাষ্ট্রবিরোধী আচরণে উৎসাহিত করতে পারে
সম্রাট ফররুখশিয়ারের ফরমান ভারতবর্ষের স্বাধীনতার জন্য হুমকিস্বরূপ ছিল কেন ?
(অনুধাবন)আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?