এইচএসসি পাস করে মৌনিতা ও আশু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাক্রমে বিজ্ঞান বিভাগ এবং মানবিক বিভাগের দুটি বিষয়ে ভর্তি হয়েছে। একদিন ক্লাসের ফাঁকে তারা তাদের পাঠ্যবিষয় নিয়ে আলাপ করছিল। মৌনিতা বলল, আমাদের পড়ার চাপ খুব বেশি, তোমাদের তো কোনো চাপ নেই শুধু মুখস্ত করলেই হয়। জবাবে আশু বলল, সৃজনশীল পদ্ধতিতে মুখস্ত করার কোনো দাম নেই, আর আমরাও এমন বিষয় পড়ি যা পদ্ধতিগত দিক থেকে বিজ্ঞানের মর্যাদা পেয়েছে। যে সমাজে আমরা বেড়ে উঠছি তার গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে জানতে হলে পদার্থবিজ্ঞান না পড়লেও চলবে কিন্তু এ বিষয়টা অবশ্যই পড়তে হবে।
উদ্দীপকের আশুর বক্তব্যে সমাজবিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজনীয়তা ফুটে উঠেছে।
সমাজবিজ্ঞান বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান দান করে। সামাজিক জীব হিসেবে আমাদের সমাজ সম্পর্কে ধারণা লাভ করা প্রয়োজন। আর সমাজবিজ্ঞান পাঠের মাধ্যমে এ সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করা যায়। সমাজের সুযোগ-সুবিধা ও অধিকার কারা কতটা এবং কীভাবে ভোগ করছে, আর কারাইবা সমাজের সম্পদ ও সুযোগ- সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তা সমাজবিজ্ঞান পাঠের মাধ্যমে জানা যায়।
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল ও কৃষিপ্রধান দেশ। এ দেশের কৃষির বৈশিষ্ট্য, সম্পর্ক, কাঠামো ইত্যাদি বিষয়ে জ্ঞান লাভের মাধ্যমে কৃষি উন্নয়নের সমস্যা দূরীকরণে সমাজবিজ্ঞান পথ নির্দেশ করে। বাংলাদেশে দারিদ্র্য, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, জন অসন্তোষ, সম্পদহীনতা, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ইত্যাদি বিষয়গুলো সম্পর্কে অনুসন্ধান, বিশ্লেষণ ও সম্ভাব্য সমাধান সূত্র নির্ণয়ে সমাজবিজ্ঞান বিশেষ ভূমিকা পালন করে। সমাজ যেহেতু প্রধানত স্তৱায়িত, তাই সমাজ উন্নয়নে কোন শ্রেণির বা অর্থনৈতিক ও সামাজিক গোষ্ঠীর কী ভূমিকা থাকে তা নিয়ে সমাজবিজ্ঞান অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে আলোচনা করে।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, সমাজকে জানতে ও বুঝতে হলে সমাজবিজ্ঞান পাঠের বিকল্প নেই। কারণ একমাত্র সমাজবিজ্ঞানই সমাজকে নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা করে।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?