মানবসভ্যতার বিবর্তনের ধারাবাহিক বিবরণ হচ্ছে ইতিহাস।
ইতিহাস শব্দের অর্থ হলো 'ঐতিহ্য'। গ্রিক শব্দ 'Historia' থেকে ইংরেজি 'History' শব্দটির উৎপত্তি। যার সহজ-সরল অর্থ হলো 'সত্যানুসন্ধান' বা 'গবেষণা'। বস্তুত ইতিহাস হচ্ছে মানব কর্মকাণ্ড, সমাজ ও পারিপার্শ্বিকতা সম্পৃক্ত সত্যানুসন্ধান। আমেরিকান ইতিহাসবিদ ড. জনসন ঘটে যাওয়া ঘটনাকেই ইতিহাস বলেছেন। অর্থাৎ মানবসমাজের ক্রমবিবর্তনের বস্তুনিষ্ঠ বিবরণই হচ্ছে ইতিহাস।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশে মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়। নয় মাস পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রাণপণ লড়াই করে ১৬ ডিসেম্বর আমাদের দেশ শত্রুমুক্ত হয়। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের গর্বের, গৌরবের কাহিনি। বাঙালি জাতির এমন অনেক গৌরবের কাহিনি আছে। সেসব জানতে হলে ইতিহাস পড়তে হবে, চর্চা করতে হবে। ইতিহাস সত্য ঘটনা উপস্থাপন করে। ইতিহাস সম্পর্কে গভীর অনুসন্ধান করতে হলে ইতিহাসের উপাদান, প্রকারভেদ সম্পর্কে অবহিত হতে হবে।
এজন্য আগে আমাদের নামতে হবে ইতিহাস কী? জানতে হবে কত ধরনের ইতিহাস লেখা যার যা ইতিহাস কত ধরনের হয়। ইতিহাস পাঠের প্রয়োজনীয়তাই বা কী? এই অধ্যায়ে এসব বিষয় নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে। সুতরাং
এই অধ্যায় শেষে আমরা -
• ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারণা, স্বরূপ ও পরিসর ব্যাখ্যা করতে পারব;
• ইতিহাসের উপাদান ও প্রকার বর্ণনা করতে পারব;
• ইতিহাস পাঠের প্রজোজনীয়তা আলোচনা করতে পারব;
• ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতি আগ্রহী হব ।
Related Question
View Allসময়ের বিবর্তনে মানুষের কর্মকাণ্ডের পরিধি বৃদ্ধির ফলে ইতিহাসের পরিসর বিস্তৃত হচ্ছে।
সভ্যতার অগ্রগতি ও সময়ের বিবর্তনে ইতিহাসচর্চায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসৃত হচ্ছে। ফলে ইতিহাস বিষয়ে শাখা-প্রশাখার সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এভাবেই ইতিহাসের পরিসর বিস্তৃত হচ্ছে।
সজল জাতীয় গণগ্রন্থাগারে ইতিহাসের লিখিত উপাদান দেখতে পায়।
ইতিহাস রচনার লিখিত উপাদানের মধ্যে সাহিত্য, নথিপত্র, জীবনী, রূপকথা, কিংবদন্তি, গল্পকাহিনি ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সাহিত্য কর্মেও তৎকালীন সময়ের অনেক তথ্য পাওয়া যায়। এসব সাহিত্য কর্মের মধ্যে রয়েছে অর্থশাস্ত্র, তবকাত-ই-নাসিরী, আইন-ই- আকবরী ইত্যাদি।
এছাড়াও ইতিহাস রচনার লিখিত উপাদানের মধ্যে বৈদেশিক বিবরণসমূহও অন্তর্ভুক্ত। এ লিখিত উপাদানগুলোর মাধ্যমে আমরা সমকালীন সময়ের অনেক তথ্য পেয়ে থাকি।
উদ্দীপকের সজল গণগ্রন্থাগারে বিভিন্ন বইপত্র পড়ে। সে বিজ্ঞানের ছাত্র হলেও বিভিন্ন উৎস থেকে ইতিহাসের বইপত্র সংগ্রহ করে। পূর্বোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, সজলের পঠিত বিষয়গুলো ইতিহাসের লিখিত উপাদানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
না, সজলের বন্ধুর মানসিকতার সাথে আমি একমত নই। কেননা নিজেকে বিকশিত করতে ইতিহাস পাঠের প্রয়োজন আছে।
ইতিহাস পাঠের তাৎপর্য অনেক। কেননা এটি মানুষকে অতীতের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান অবস্থা বুঝতে এবং ভবিষ্যৎ অনুমান করতে সাহায্য করে। ইতিহাস পাঠের ফলে মানুষের পক্ষে নিজ সম্পর্কে ও নিজ দেশ সম্পর্কে মঙ্গল-অমঙ্গলের পূর্বাভাস পাওয়া সম্ভব হয়। এছাড়াও ইতিহাস পাঠ মানুষের জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। আর এ বিবরণ যদি হয় নিজ দেশ, জাতির সফল সংগ্রাম ও গৌরবময় ঐতিহ্যের, তাহলে তা মানুষকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে। একই সঙ্গে আত্মপ্রত্যয়ী, আত্মবিশ্বাসী হতে সাহায্য করে। তাছাড়াও ইতিহাস পাঠ মানুষকে সচেতন করে তোলে। বিভিন্ন মানবগোষ্ঠীর উত্থান-পতন এবং সভ্যতার বিকাশ ও পতনের কারণগুলো জানতে পারলে মানুষ ভালো- মন্দের পার্থক্য সহজেই বুঝতে পারে। ফলে সে তার কর্মের পরিণতি সম্পর্কে সচেতন থাকে। সর্বোপরি মানুষ ইতিহাস পাঠ করে অতীত ঘটনাবলির দৃষ্টান্ত থেকে শিক্ষা নিতে পারে।
পরিশেষে বলা যায় যে, ইতিহাস সম্পর্কে সজলের বন্ধুর নেতিবাচক মন্তব্যটি গ্রহণযোগ্য নয়।
যেসব বস্তু বা উপাদান থেকে আমরা বিশেষ সময়, স্থান বা ব্যক্তি সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের ঐতিহাসিক তথ্য পাই সে সব বস্তু বা উপাদানই ইতিহাসের অলিখিত উপাদান। ইতিহাসের অলিখিত উপাদানকে আবার প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদানও বলে। মুদ্রা, শিলালিপি, স্তম্ভলিপি, তাম্রলিপি ইত্যাদি হলো ইতিহাসের অলিখিত উপাদানের উদাহরণ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!