কোনো নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত এক বছরে) একটি দেশের ভৌগোলিক সীমারেখার মধ্যে যেসব দ্রব্য ও সেবাকর্ম উৎপন্ন হয় তার আর্থিক মূল্যকে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বলে।
ব্যক্তি তার আয়ের সম্পূর্ণ অংশ ভোগ করতে পারে না, বরং ব্যয়যোগ্য আয় থেকে সে ভোগ করে। একটি নির্দিষ্ট সময়ে ব্যক্তি তার আয়ের যে অংশটুকু ব্যয় করতে সক্ষম হয়, তাকে ব্যয়যোগ্য আয় বলে। সাধারণত, ব্যক্তিগত আয় থেকে সরকারকে প্রদেয় কর ও নিট ব্যবসায় সঞ্চয় বাদ দিয়ে হস্তান্তর পাওনা যোগ করলে তার ব্যয়যোগ্য আয় পাওয়া যায়। আর দেশের একজন নাগরিক হিসেবে কর প্রদান বাধ্যতামূলক হওয়ায় ব্যক্তি তার আয়ের সম্পূর্ণ অংশ ভোগ করতে পারে না। তাই বলা হয়, ব্যক্তির ভোগ তার আয় নয়, বরং ব্যয়যোগ্য আয়ের ওপর নির্ভর করে।
উদ্দীপকের তথ্য ব্যবহার করে ভোগ সূচি তৈরি করে প্রয়োজনীয় পরিমাপ গ্রহণ করে নিচে ভোগ অপেক্ষকটির রেখা অঙ্কন করা হলো
জাতীয় আয় (Y)
ভোগ ব্যয়বিন্দু (Y, C)
বিন্দু (Y, C)
০
১০০
a
১০০
১৯০
b
২০০
২৮০
c
৩০০
৩৭০
d
৪০০
৪৬০
e
উপরের সূচিতে লক্ষ করা যায়, জাতীয় আয় (Y) শূন্য হলে ভোগ ব্যয় (C) 100 একক হয় যা বিন্দু নির্দেশ করে। একইভাবে, জাতীয় আয় 100, 200, 300 ও 400 একক হলে ভোগ ব্যয় যথাক্রমে 190, 280, 370 ও 460 একক হয়। যা চিত্রে যথাক্রমে b, c, d ও বিন্দু দ্বারা নির্দেশিত হয়েছে। এখন প্রাপ্ত এই বিন্দুগুলো যোগ করলে পাওয়া যায় ভোগ রেখা। এটি হলো প্রদত্ত ভোগ অপেক্ষকের চিত্ররূপ।
উদ্দীপকে আয়স্তর শূন্য হলেও স্বয়ম্ভূত ভোগ ব্যয় বিদ্যমান থাকায় ভোগস্তর হবে 100 একক। নিচে তা উদ্দীপক অনুযায়ী বিশ্লেষণ করা হলো: যে ভোগ ব্যয় আয়ের ওপর নির্ভর করে না তাকে স্বয়ম্ভূত ভোগ ব্যয় বলে। অর্থাৎ, আয় শূন্য হলেও এ ভোগ ব্যয় বজায় থাকে। সাধারণত, একটি নির্দিষ্ট বছরের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যে আয় হয় তা থেকে ভোগ ব্যয় সম্পন্ন হয়। এখন বিবেচ্য বছরের পূর্বে কোনো সময়ে জমানো অর্থ থেকে ভোক্তা কিছু ভোগ ব্যয় করে থাকে। এই ভোগ ব্যয়কেই বিবেচ্য বছরের স্বয়ম্ভূত ভোগ বলে।
প্রদত্ত ভোগ অপেক্ষকে Y = 0 হলে,
C = ১০০ + ০.৯Y
বা, C =১০০ +০.৯ ০ [*: Y = ০ ]
বা, C = ১০০ + ০
বা, C = ১০০
C = ১০০একক।
এটিই হলো চলতি বছরের স্বয়ম্ভূত ভোগ ব্যয়। আর যেহেতু স্বয়ম্ভূত ভোগ ব্যয় আয়ের ওপর নির্ভর করে না, তাই আয়স্তর শূন্য হলেও ভোগ ব্যয় ১০০ এককে বজায় থাকে।
একটি দেশে একটি নির্দিষ্ট সময়ে সাধারণত একটি আর্থিক বছরে অসংখ্য দ্রব্যসামগ্রী ও সেবাকর্ম উৎপাদিত হয়, এগুলোর জন্য ভোক্তা সাধারণ, বিনিয়োগকারী ও সরকার যে ব্যয় করতে প্রস্তুত থাকে তার সমষ্টিই হলো সামগ্রিক ব্যয়।
প্রবাসীরা নিজ দেশের ভৌগোলিক সীমার বাইরে কর্মরত থাকে বিধায় তাদের আয় নিজ দেশের GDP-তে অন্তর্ভুক্ত হয় না। কোনো নির্দিষ্ট সময়ে একটি দেশের ভৌগোলিক সীমারেখার মধ্যে দেশি-বিদেশি জনগণ মিলে যে পরিমাণ চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবা উৎপাদন করে তার আর্থিক মূল্যের সমষ্টিকে মোট দেশজ উৎপাদন বা GDP বলে। আর প্রবাসীরা দেশের ভৌগোলিক সীমারেখার বাইরে কর্মরত থাকে বিধায় GDP-এর সংজ্ঞা অনুসারে তাদের আয় GDP-তে অন্তর্ভুক্ত হয় না। বরং তাদের আয় GNP-তে অন্তর্ভুক্ত হয়।
উদ্দীপকের তথ্যের আলোকে প্রয়োজনীয় পরিমাপ গ্রহণ করে নিচে সঞ্চয় রেখা অঙ্কন করা হলো- সাধারণত সঞ্চয় রেখা বলতে এমন একটি রেখাকে বোঝায়, যার প্রতিটি বিন্দু বিভিন্ন আয়ের প্রেক্ষিতে সঞ্চয়ের পরিমাণ নির্দেশ করে।
উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, সামগ্রিক আয় বা জাতীয় আয় (Y) 300 কোটি টাকা হলে মোট সঞ্চয় হয় ৪০ কোটি টাকা। যা উপরের চিত্রে। বিন্দু দ্বারা নির্দেশিত হয়েছে। একইভাবে, জাতীয় আয় 400 এবং 600 কোটি টাকা হলে সঞ্চয়ের পরিমাণ হয় যথাক্রমে 130 এবং 230 কোটি টাকা। যা চিত্রে যথাক্রমে ৮ এবং বিন্দু দ্বারা নির্দেশিত হয়েছে। চিত্রে প্রাপ্ত a, ৮৩০ বিন্দুগুলো যোগ করে SS সঞ্চয় রেখা পাওয়া যায়। এটিই হলো প্রদত্ত তথ্যের আলোকে অঙ্কিত সঞ্চয় রেখা।