মল্লিকা সপ্তম শ্রেণিতে নতুন একটি বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। শিক্ষক জাহিদা খানম তাকে ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। ওর বাবা কৃষক। পাহাড়ে জুম চাষ করে জীবিকানির্বাহ করে। দরিদ্রতার মধ্যেও তিনি মল্লিকাকে স্কুলে পড়তে দিয়েছেন। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী বলে এখন আর তারা পিছিয়ে নেই। সব ক্ষেত্রেই রয়েছে তাদের সফল পদচারণা। বিশেষ করে গারোদের গীতবাদ্য ও নৃত্য আমাদের সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। উপজাতি বা ভিন্ন জাতিসত্তা বলে তোমরা মল্লিকাকে অবহেলা করবে না।

Created: 9 months ago | Updated: 8 months ago
Updated: 8 months ago
Ans :

'জুম' হলো পাহাড়ে চাষাবাদের বিশেষ পদ্ধতি।

9 months ago

বহু জাতিসত্তার দেশ- বাংলাদেশ

আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি এই বাংলাদেশ বহু জাতি, বহু ভাষা ও বহু সংস্কৃতির একটি দেশ। এখানে প্রধান জনগোষ্ঠী বাঙালির পাশাপাশি রয়েছে প্রায় অর্ধশত জাতিসত্তার মানুষ। দেশের প্রধান ও রাষ্ট্রভাষা বাংলার পাশাপাশি রয়েছে অনেক ভাষা এবং ঐসব জাতিগোষ্ঠীর নানা বর্ণের বিচিত্র সংস্কৃতিও। তারপরও আমরা সবাই জাতীয়তার পরিচয়ে এক এবং দেশকে ভালোবাসার ক্ষেত্রেও ঐক্যবদ্ধ। বৈচিত্র্যের মধ্যেও এই যে একতার শক্তি, এটিই আমাদের বাংলাদেশকে সুন্দর ও বর্ণময় করে তুলেছে।

বাঙালি ছাড়া বাংলাদেশে বসবাসরত অন্যান্য জাতিসত্তার সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে। তবে সাধারণভাবে এই সংখ্যা ৪৬টি বলে অনুমিত। পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের বিভিন্ন পাহাড়ি জনপদ ছাড়াও দেশের সমতলভূমি যেমন কক্সবাজার, পটুয়াখালি, বরগুনা, ময়মনসিংহ, জামালপুর, টাঙ্গাইল, বগুড়া, রাজশাহী, পাবনা, দিনাজপুর ও সিলেট অঞ্চলে প্রধানত এদের বসতি। এইসব জনগোষ্ঠী শত শত বছর ধরে এই ভূখণ্ডে বসবাস করছে। তাদের প্রায় প্রত্যেকেরই রয়েছে নিজস্ব ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি। প্রতিটি জাতিগোষ্ঠীর কাছে তাদের ভাষা ও সংস্কৃতি খুবই প্রিয়।

বাংলাদেশে যেসব সংখ্যাস্বল্প জাতিসত্তার বাস তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো, সাঁওতাল, মণিপুরি, খাসি, স্রো, রাখাইন, হাজং, তঞ্চঙ্গ্যা, বম, কোচ, পাহাড়িয়া, রাজবংশী, মালো, ওঁরাও ইত্যাদি। এদের মধ্যে প্রধান কয়েকটি জনগোষ্ঠীর জীবন ও সংস্কৃতির পরিচয় সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো।

চাকমা

মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর অন্তর্গত চাকমাদের প্রধান বসতি পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায়। নিজেদের মধ্যে তারা 'চাঙমা' নামে পরিচিত। তারা আর্য ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। তাদের নিজস্ব হরফও আছে। চাকমারা পিতৃতান্ত্রিক। পিতাই পরিবারের প্রধান। চাকমা সমাজের প্রধান হলেন রাজা। গ্রামের প্রধান হলেন কারবারি। গ্রামের যাবতীয় সমস্যা তিনিই নিষ্পত্তি করেন। চাকমারা প্রধানত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। তবে তার পাশাপাশি এখনও তারা কিছু কিছু প্রকৃতিপূজাও করে থাকে। চাকমা পুরুষেরা 'ধুতি' ও মহিলারা 'পিনন' পরিধান করে থাকে। পুরুষেরা নিজেদের তাঁতে তৈরি 'সিলুম' (জামা) পরে। মেয়েরা 'খাদি'কে ওড়না হিসেবে ব্যবহার করে।

চাকমাদের প্রধান খাদ্য ভাত, মাছ, মাংস ও শাক-সবজি। চাকমা-জীবনের নানা পর্যায়ে বিভিন্ন লৌকিক আচার অনুষ্ঠান থাকে। বিয়ের সময় ছেলের অভিভাবককে ঘটকসহ কনের বাড়িতে কমপক্ষে তিনবার যাওয়া-আসা করতে হয়। প্রতিবার চুয়ানি, পান-সুপারি ও পিঠা নিয়ে যেতে হয়। বিজু উৎসব চাকমাদের একটি প্রধান উৎসব। চৈত্রের শেষ দুইদিন 'ফুলবিজু' ও 'মূলবিজু' এবং পহেলা বৈশাখকে 'গ্যাপৰ্য্যা' বলে আখ্যায়িত করে থাকে তারা। লোকনৃত্যগীত হিসেবে 'জুমনাচ' ও 'বিজুনাচ' বেশ জনপ্রিয়।

গারো

গারো জনগোষ্ঠীর প্রধান বসতি ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও সিলেট অঞ্চলে। মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর অন্তর্গত গারোরা মাতৃসূত্রীয়। মেয়েরা পরিবারের সম্পত্তির মালিক হয়। বিবাহের পর বর স্ত্রীর বাড়িতে গিয়ে বসবাস করে থাকে। সন্তান-সন্ততিরা মায়ের পদবি ধারণ করে। তবে পরিবার, সমাজ পরিচালনা ও শাসনে পুরুষেরাই দায়িত্ব পালন করে থাকে। একই গোত্রে বিবাহ গারো সমাজে নিষিদ্ধ। গারোদের নিজস্ব ধর্ম আছে। এটি এক ধরনের প্রকৃতি-পূজা। গারোরা প্রধানত কৃষিজীবী। পাহাড়ে বসবাসকারীরা জুম চাষ করে। আর সমতলভূমির গারোরা নারী ও পুরুষ একসাথে সাধারণ নিয়মে কৃষিকাজ করে। গারোরা জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি জীবনের নানা পর্যায়ে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান পালন করে। অলঙ্কারও ব্যবহার করে থাকে। গারো সংস্কৃতিতে গীতবাদ্য ও নৃত্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাদের নিজস্ব কিছু বাদ্যযন্ত্রও আছে। ফসল বোনা, নবান্ন, নববর্ষ ইত্যাদি উপলক্ষ্যে বিভিন্ন উৎসবের আয়োজন হয়। 'ওয়ানগালা' গারোদের একটি জনপ্রিয় উৎসব।

মারমা

মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর অন্তর্গত মারমাদের প্রধান বসতি পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে। মারমা ভাষাও মঙ্গোলীয় ভাষা পরিবারের। তাদের নিজস্ব বর্ণমালাও আছে। মারমারা প্রাচীনকাল থেকেই বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। তারা বিয়ের সময় ধর্মীয় ও লোকাচার মিলিয়ে নানা অনুষ্ঠান পালন করে। নিজেদের গোত্রে বিবাহকে মারমা সমাজে উৎসাহিত করা হয়। মারমারা পিতৃতান্ত্রিক। সম্পত্তির উত্তরাধিকারে ছেলে ও মেয়েদের সমান অধিকারের কথা বলা আছে। তবে পরিবার ও সমাজজীবনে পুরুষেরই প্রাধান্য থাকে। বিয়ের পর নারী-পুরুষ ইচ্ছে করলে মা-বাবার বাড়ি কিংবা শ্বশুরবাড়িতে স্থায়িভাবে বসবাস করতে পারে। মারমাদের সামাজিক শাসনব্যবস্থায় রাজা প্রধান। মারমারা জুম চাষ করে এবং বনজ সম্পদ আহরণের মাধ্যমে জীবিকানির্বাহ করে।

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী হলেও মারমারা এখনও বিভিন্ন দেব-দেবীর পূজা এবং নানা আচার-অনুষ্ঠানাদি পালন করে। তাদের সবচেয়ে বড়ো উৎসব হলো নববর্ষে সাংগ্রাই দেবীর পূজা এবং এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত সাংগ্রাই উৎসব তিন দিন ধরে চলে।

মণিপুরি

মণিপুরিদের আদি নিবাস ভারতের মণিপুর রাজ্য। এদের মধ্যে কোনো কোনো সম্প্রদায়ের নিজস্ব বর্ণমালাও আছে। মণিপুরিরা যেখানেই বসতি স্থাপন করে সেখানে কয়েকটি পরিবার মিলে গড়ে তোলে পাড়া। প্রতিটি পাড়াতেই থাকে দেবমন্দির ও মণ্ডপ। ঐ মন্দির ও মণ্ডপকে ঘিরেই আবর্তিত হয় ঐ পাড়ার যাবতীয় ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ড। মণিপুরি সমাজে পাড়া বা গ্রাম ও 'পানচায়' বা পঞ্চায়েতের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

মণিপুরি জনগোষ্ঠী সাতটি গোত্রে বিভক্ত। মণিপুরিদের প্রাচীন ধর্মের নাম 'আপোকপা'। তবে মণিপুরিদের অধিকাংশই এখন সনাতন ধর্মের চৈতন্যমতের অনুসারী। মণিপুরিদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ইসলাম ধর্মাবলম্বী। সনাতন ধর্মাবলম্বী মণিপুরিদের প্রধান উৎসব রাস উৎসব, রথযাত্রা ইত্যাদি। রাস উৎসব উপলক্ষ্যে রাসনৃত্য ও মেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে। মণিপুরিরা প্রধানত কৃষিজীবী। ভাত, মাছ, শাক-সবজি মণিপুরিদের প্রধান খাদ্য। মণিপুরি পুরুষেরা সাধারণত ধুতি, গামছা, জামা ইত্যাদি পরিধান করে। আর মেয়েরা পরে নিজেদের তৈরি বিশেষ ধরনের পোশাক।

ত্রিপুরা

পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি, রামগড়, রাঙামাটি, কাপ্তাই এবং চট্টগ্রাম জেলা, বৃহত্তর কুমিল্লা, নোয়াখালি ও সিলেট অঞ্চলে বসবাসকারী ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী মঙ্গোলীয় মহাজাতির অংশ। তাদের ভাষার নাম 'ককবরক'। এদের নিজস্ব কোনো বর্ণমালা নেই। ত্রিপুরা সমাজব্যবস্থা পিতৃতান্ত্রিক। ছেলেরাই সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়। ত্রিপুরারা বর্তমানে সাধারণভাবে সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বী। কিন্তু তারা এখনও তাদের প্রাচীন লোকজ ধর্মের নানা দেব-দেবীর পূজা-অর্চনা এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানাদি করে।

ত্রিপুরা মেয়েরা কাপড় বয়নে খুবই দক্ষ। তারা নিজেদের পরনের কাপড় নিজেরাই তাঁতে তৈরি করে। পুরুষেরা পরিধান করে নিজেদের তৈরি গামছা ও ধুতি। ত্রিপুরারা কৃষিজীবী। তারা পাহাড়ে জুম চাষ করে। ত্রিপুরাদের সংগীত ও নৃত্য খুবই সমৃদ্ধ। তাদের মধ্যে বিভিন্ন সংগীতের প্রচলন যেমন আছে, তেমনি আছে নানা প্রকারের নৃত্যও। ত্রিপুরাদের প্রধান উৎসব নববর্ষ বা বৈসু। ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর 'বৈসু', মারমাদের 'সাংগ্রাই' ও চাকমাদের 'বিজু' উৎসবের প্রথম অক্ষর নিয়ে 'বৈসাবি' উৎসব এখন নববর্ষ উপলক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের জাতীয় উৎসব।

সাঁওতাল

সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর লোক প্রধানত উত্তরবঙ্গ ও সিলেটের চা বাগানে বসবাস করে। তাদের ভাষা অস্ট্রিক পরিবারের। সাঁওতাল সমাজ পিতৃতান্ত্রিক। সম্পত্তির মালিকানায় এবং সমাজ ও পরিবারে পুরুষই প্রধান। সাঁওতালদের নিজস্ব ধর্ম আছে। কিন্তু কোনো ধর্মগ্রন্থ নেই। পেশার দিক থেকে সাঁওতাল জনগোষ্ঠী প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত - কৃষক ও শ্রমিক। অনেকের জন্যে কৃষি যেমন প্রধান জীবিকা তেমনি অনেকে আবার শ্রমিক হিসেবে বিভিন্ন জায়গায় কাজ করে থাকে। ব্রিটিশ-বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে সাঁওতালদের সংগ্রামী ভূমিকা, বিশেষ করে 'সাঁওতাল বিদ্রোহ' ও 'নাচোল কৃষক বিদ্রোহ' ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছে।

সাঁওতালরা খুবই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে। বাড়িঘর লেপে মুছে পরিষ্কার রাখা হয় এবং দেয়ালে নানা রঙ দিয়ে ছবি আঁকা হয়। 'সোহরাই' হচ্ছে সাঁওতাল সমাজের শ্রেষ্ঠ উৎসব। এটা অনেকটা পৌষ-পার্বণের মতো। সাঁওতাল নৃত্যে মেয়ে-পুরুষ দলবদ্ধ হয়ে নাচে। তাদের ঝুমুর নাচ খুবই জনপ্রিয়।

বাংলাদেশের এইসব ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জাতিসত্তার জীবন ও সংস্কৃতি আমাদের জাতীয় সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে-বর্ণিল ও বৈচিত্র্যপূর্ণ করেছে। দেশের সামগ্রিক উন্নয়নেও রয়েছে তাদের বিরাট অবদান। তারা আজ জাতীয় মূলধারারই অংশ।

(সংক্ষেপিত)

Content added By

Related Question

View More

চাকমারা পহেলা বৈশাখকে 'গ্যাপর্য্যা' বলে আখ্যায়িত করে।'

গ্রামীণ সমাজের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হওয়ায় পঞ্চায়েতের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

পঞ্চায়েত গ্রামীণ স্বায়ত্ত শাসনব্যবস্থার মূল ভিত্তি। পাঁচজন সদস্য নিয়ে যে স্বশাসিত স্বনির্ভর গ্রামীণ পরিষদ গঠিত হয়, তাই পঞ্চায়েত। কয়েকটি গ্রাম নিয়ে প্রশাসনিক, জনকল্যাণমূলক, বিচার বিভাগীয় ও প্রতিনিধিত্বমূলক- এ স্বায়ত্ত শাসনব্যবস্থা গ্রামীণ ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হওয়াতে গ্রামীণ উন্নয়নে এবং গ্রামের যাবতীয় সমস্যা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

উদ্দীপকের প্রথম স্থানটি রচনার মারমা জাতিসত্তাকে নির্দেশ করে।

বাংলাদেশে বসবাসকারী নানা ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে মারমা অন্যতম। রচনায় মারমা জনগোষ্ঠীর জীবন কাঠামো তুলে ধরা হয়েছে। মারমাদের ভাষা, বর্ণমালা, পোশাক, শাসনব্যবস্থা, পারিবারিক জীবন, খাদ্য, ধর্ম, লোকাচার, উৎসব সম্পর্কে বলা হয়েছে। রচনার এই অংশ থেকে আমরা জানতে পারি, মারমাদের নববর্ষের উৎসবকে সাংগ্রাই বলে। তারা দেব-দেবীর পূজা করে। আলোচ্য রচনার ও উদ্দীপকের এই অংশটি অভিন্ন।

উদ্দীপকের প্রথম অংশে বাহার ও সঞ্জীব যে পার্বত্য অঞ্চলে বেড়াতে যায়, সেখানকার স্থানীয় লোকজন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী এবং পিতৃতান্ত্রিক। তারা দেব-দেবীর পূজা করে এবং নববর্ষে 'সাংগ্রাই' উৎসব পালন করে। ঠিক একই রকম বৈশিষ্ট্য আমরা দেখতে পাই 'বহু জাতিসত্তার দেশ-বাংলাদেশ' রচনার মারমা জনগোষ্ঠীর মধ্যে। সে বিবেচনায় উদ্দীপকের প্রথম স্থানটি 'বহু জাতিসত্তার দেশ-বাংলাদেশ' রচনার মারমা জাতিগোষ্ঠীকে নির্দেশ করে।

উদ্দীপকের শেষ স্থানটি বাংলাদেশের চাকমা জাতিসত্তার বৈশিষ্ট্যকে ধারণ করে।

প্রাবন্ধিক 'বহু জাতিসত্তার দেশ-বাংলাদেশ' রচনায় এ দেশের বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি অন্যান্য ক্ষুদ্র জাতিসত্তার সাথে সাথে চাকমাদেরও বৈচিত্র্যময় জীবন ও তাদের জাতিসত্তার বৈশিষ্ট্যকে তুলে ধরেছেন।

উদ্দীপকের শেষ স্থানটি অর্থাৎ বাহার ও তার বন্ধু সঞ্জীব যেখানে বেড়াতে যায় সেখানকার জাতিসত্তার বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছে। সেখানে সমাজের প্রধান হলেন রাজা। গ্রামের প্রধান হলেন কারবারি। সেখানকার পুরুষেরা 'ধুতি' ও মহিলারা 'পিনন' পরিধান করে। পুরুষেরা নিজেদের তৈরি 'সিলুম' বা জামা পরে আর মেয়েরা খাদিকে ওড়না হিসেবে ব্যবহার করে। উদ্দীপকের এই বর্ণনা মূলত চাকমা জাতিসত্তার বৈশিষ্ট্যকে ধারণ করে।

'বহু জাতিসত্তার দেশ-বাংলাদেশ' রচনায় চাকমা জাতিসত্তার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে তুলে ধরা হয়েছে। আলোচ্য রচনায় চাকমাদের ভাষা, পারিবারিক কাঠামো, খাদ্য, ঐতিহ্য, আচার-অনুষ্ঠান, ধর্ম, উৎসব সর্বোপরি তাদের জীবনযাত্রা সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়েছে। এখানে আমরা দেখতে পাই, চাকমাদের সমাজের প্রধান হলেন রাজা। গ্রামের প্রধান হলেন কারবারি। সেখানকার পুরুষেরা 'ধুতি' ও মহিলারা 'পিনন' পরিধান করে। পুরুষেরা নিজেদের তাঁতে তৈরি 'সিলুম' বা জামা পরে। প্রাবন্ধিক চাকমাদের সংস্কৃতি ও জীবনাচারের এক অনবদ্য চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন, যার প্রতিচ্ছবি আমরা উদ্দীপকের শেষাংশে দেখতে পাই। এদিক বিবেচনায়, উদ্দীপকের শেষ অংশে বাংলাদেশের যে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার বৈশিষ্ট্যকে তুলে ধরা হয়েছে তা চাকমা জনগোষ্ঠীর।

6 . সংস্কৃতি' বলতে কী বোঝায়? (অনুধাবন)

Created: 9 months ago | Updated: 8 months ago
Updated: 8 months ago

ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের আত্মপরিচয় পাওয়া যায় এমন সব বৈশিষ্ট্যকে বলা হয় সংস্কৃতি।

পৃথিবীতে মানুষের মাঝে আছে নানা ধরনের বৈচিত্র্য। পৃথিবীর বিশাল এই জনসমষ্টি আবার অসংখ্য জাতি, গোষ্ঠী, সম্প্রদায় ইত্যাদিতে বিভক্ত। এক একটি জনসমষ্টির আচার-আচরণ, জীবিকার ধরন, শিল্প-সাহিত্য, সামাজিক সম্পর্ক, রীতিনীতি ইত্যাদি একেক রকম। এ বিষয়গুলোর সম্মিলিত নামই সংস্কৃতি, যার মাধ্যমে আমরা নির্দিষ্ট একটি জনগোষ্ঠীর পরিচয় পেয়ে থাকি।

শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...