স্বর্ণালি ব্যাংক লি. ঢাকার মতিঝিলে অবস্থিত। ব্যাংকটি এক ধরনের বাণিজ্যিক দলিলি ঋণ ইস্যু করে। এটি আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আস্থার সৃষ্টি করে। সম্প্রতি গ্রাহকদের সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ব্যাংকটি লেনদেন সম্পাদনের জন্য কম্পিউটার প্রযুক্তি, অনলাইন ব্যাংকিং ও ATM ব্যবহার করছে। ফলে দিন দিন গ্রাহকসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
গ্রাহকের কোনো হিসাব ক্রোক বা বন্ধ করা বা লেনদেন স্থগিত করার জন্য আদালত কর্তৃক ব্যাংকের ওপর গারনিশি অর্ডার জারি করা হয়। পাওনাদারের পাওনা অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে আদালত ব্যাংকের প্রতি এরূপ আদেশ জারি করে। পাওনাদারের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত যদি প্রমাণ পায় যে, আমানতকারী আবেদনকারীর কাছে দায়গ্রস্থ তবেই এরূপ নির্দেশ দিয়ে থাকে।
উদ্দীপকের বর্ণিত 'ক' ব্যাংকটি হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল উদ্দেশ্য জনকল্যাণ নিশ্চিত করা। এ ব্যাংককে কেন্দ্র করে দেশের ব্যাংক ব্যবস্থা গড়ে উঠে। এ ব্যাংক দেশের মুদ্রা বাজার ও ঋণ সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে। প্রত্যেকটি স্বাধীন দেশে একটি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আছে।
উদ্দীপকের 'ক' ব্যাংকটির মূল উদ্দেশ্য জনকল্যাণ নিশ্চিত করা। দেশে দ্রব্য সামগ্রীর দাম বৃদ্ধি পেতে থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে 'ক' ব্যাংক হস্তক্ষেপ করে। সাধারণত কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের মুদ্রা সরবরাহ ও ঋণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। এ কাজে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অন্যান্য তালিকাভুক্ত ব্যাংকের সহায়তায় ঋণনীতি বাস্তবায়ন করে। সর্বোপরি দেশের দ্রব্য সামগ্রীর দাম কাম্য স্তরে রাখে। আর এসব কাজের মূল উদ্দেশ্যই জনকল্যাণ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের 'ক' ব্যাংকটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
উদ্দীপকে 'ক' নামক কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও 'খ' নামক বাণিজ্যিক ব্যাংকের কার্যাবলি সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির।
বাণিজ্যিক ব্যাংকের মূল উদ্দেশ্য মুনাফা অর্জন করা। এ উদ্দেশ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংক আমানত সংগ্রহ ও ঋণদান করে থাকে। এ ব্যাংকই জনগণকে সকল প্রকার ব্যাংকিং সেবা প্রদান করে। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক নোট ইস্যু, মুদ্রাবাজার নিয়ন্ত্রণ, ঋণ নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক নীতি প্রণয়ন ইত্যাদি কাজ করে থাকে। উদ্দীপকে 'ক' ব্যাংকের প্রধান উদ্দেশ্য জনকল্যাণ। অন্যদিকে 'খ' ব্যাংকের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মুনাফা অর্জন করা। 'খ' ব্যাংক বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যে সহায়তা করে। দেশে দ্রব্য সামগ্রীর দাম বৃদ্ধি পেলে উভয় ব্যাংক সহায়তা করে।
উদ্দীপকের 'ক' ব্যাংক হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং 'খ' ব্যাংক হলো বাণিজ্যিক ব্যাংক। 'ক' ব্যাংক জনকল্যাণে কাজ করলেও 'খ' ব্যাংক মুনাফা অর্জনে কাজ করে। 'ক' ব্যাংক ঋণ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন নীতি প্রণয়ন করে। অন্যদিকে 'খ' ব্যাংক উক্ত নীতি বাস্তবায়নে 'ক' ব্যাংকে সহায়তা করে। 'ক' ব্যাংক সরকার ও অন্যান্য ব্যাংককে প্রয়োজনে ঋণ সরবরাহ করে। আর 'খ' ব্যাংক মূলত সাধারণ জনগণকে ঋণ সরবরাহ করে অর্থনীতির চাকা সচল রাখে। দেশের যাবতীয় আর্থিক নীতিমালা প্রণয়ন করে 'ক' ব্যাংক। আর তা বাস্তবায়ন করা হয় 'খ' ব্যাংকের সহায়তায়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের বাণিজ্যিক ব্যাংক ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যাবলি সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির।
পরের অর্থ নিয়ে ব্যবসায় করে বলে ব্যাংককে ঋণের ব্যবসায়ী বলা হয়।
ব্যাংক প্রথমে কম সুদে আমানত সংগ্রহ করে এবং বেশি সুদে ঋণ হিসেবে গ্রাহকদের দেয়। ফলে একই সাথে ব্যাংক দেনাদার ও পাওনাদারের ভূমিকা পালন করে। তাই বলা যায়, ব্যাংক আমানত সংগ্রহ করে তা ঋণ হিসেবে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার মাধ্যমে নিজেকে ঋণের ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত করে।