'নিমগাছ' গল্পের লেখকের প্রকৃত নাম বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়।
"মাটির ভিতরে শিকড় অনেক দূরে চলে গেছে" বলতে প্রতীকার্থে লক্ষ্মীবউটার সংসারজালে চারিদিকে আবদ্ধ হওয়াকে বোঝানো হয়েছে।
নিমগাছ একটি ঔষধি বৃক্ষ। অথচ কেউ তার যত্ন নেয় না। একদিন এক লোক এসে শুধু এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল এবং নিমের ফুলগুলোকে এক ঝাঁক নক্ষত্রের সঙ্গে তুলনা করল। তাঁর প্রশংসায় মুগ্ধ নিমগাছটি তাঁর সঙ্গে চলে যেতে চাইল। কিন্তু শেকড়ের বিস্তৃতির কারণে যাওয়া হয় না। বস্তুত এখানে নিমগাছের প্রতীকী অর্থে গৃহকর্ম-নিপুণা লক্ষ্মীবউটির সংসারের প্রাত্যহিক কর্তব্য, দায়িত্ব ও মায়ায় জড়িয়ে যাওয়া বোঝানো হয়েছে। মাটির নিচে গাছের শিকড় যেমন অনেক দূর বিস্তৃত তেমনই বিস্তৃত গৃহবধূর কর্মপরিধি ও মমত্ববোধ।
উদ্দীপকের ভাববস্তু 'নিমগাছ' গল্পের গৃহকর্ম-নিপুণা লক্ষ্মীবউটির প্রতি বাড়ির লোকদের অবহেলা ও অমর্যাদার দিকটিকে নির্দেশ করে।
সাধারণত পুরুষশাসিত সমাজে নারীদের যথার্থ মূল্যায়ন করা হয় না। সংসারে নারীর যে অবদান রয়েছে তা স্বীকার করতে অনেকে কুণ্ঠিত হয়। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে সংসার, সমাজ তথা রাষ্ট্রের উন্নয়ন সম্ভব নয়।
উদ্দীপকের কবিতাংশে প্রাণ পুড়িয়ে আলো দানকারীর প্রতি অন্যদের স্নেহ-মমতা, ভালোবাসা এবং মানবিক আচরণ না করার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কবি। কারণ প্রয়োজনে কাছে টেনে, আবার প্রয়োজন শেষ হলেই পদাঘাতে তাকে দূরে ঠেলে দেওয়া অমানবিক ও অন্যায়। উদ্দীপকের এই বিষয়টি 'নিমগাছ' গল্পের নিমগাছের প্রতীকীরূপে গৃহকর্ম-নিপুণা লক্ষ্মীবউটির উটির প্রতি পরিবারের অন্যদের অমানবিক আচরণের দিকটিকে নির্দেশ করে। একজন গৃহবধূ সংসারের সবার জন্য পরিশ্রম করলেও বধূটির প্রতি কেউ যত্নবান হয় না, কেউ তার শ্রমের মূল্য ও মর্যাদা দেয় না। উদ্দীপকের কবিতাংশে প্রকাশিত বক্তব্য আলোচ্য গল্পের এমন অবহেলার দিকটি নির্দেশ করে।
'আমাদের সমাজে এখনও নারীরা তাদের যোগ্য সম্মান ও অধিকার থেকে বঞ্চিত।'- 'নিমগাছ' গল্প ও উদ্দীপকের আলোকে মন্তব্যটি যথার্থ।
'সংসারের সার্বিক উন্নয়নে একজন পুরুষের পাশাপাশি নারীরও রয়েছে সমান অবদান। তার কাজের হয়তো হিসাব থাকে না, কিন্তু তার ক্লান্তিহীন ও বিরতিহীন কাজের যদি হিসাব রাখা হতো তবে দেখা যেত পুরুষের তুলনায় তার কাজের পরিমাণ অনেক বেশি। অথচ তাদের কাজের কোনো মূল্যায়ন করা হয় না।
উদ্দীপকের কবিতাংশে প্রাণ পুড়িয়ে আলো প্রদানের বিষয়টির মাধ্যমে উদ্দীপকের কবি সূর্যকে বুঝিয়েছেন। সূর্য নিজেকে পুড়িয়ে আলো দানের মাধ্যমে অন্ধকার দূর করে পৃথিবীকে আলোকিত করে। কিন্তু সূর্য যেমন দিনের শুরুতে উদিত হয় তেমনই দিনের শেষে অস্তমিতও হয়ে যায়। তার দহন জ্বালা কেউ অনুধাবন করে না। অপরদিকে 'নিমগাছ' গল্পে আমরা নিমগাছের প্রতীকী রূপে বাড়ির গৃহকর্ম-নিপুণা লক্ষ্মীবউটিকে দেখতে পাই। বাড়ির বউ সকাল থেকে রাত অবধি বিরামহীন কাজ করে চলে। কোনোকিছুতে তাদের ক্লান্তি নেই, বিরক্তি নেই। তবুও তারা আমাদের পরিবারে, সমাজে, দেশে খুবই অবহেলিত।
'নিমগাছ' একটি প্রতীকী গল্প। লেখক নিমগাছের প্রতীকে সংসারে নারীর অবস্থান ও কর্মকাণ্ড তুলে ধরেছেন। সকাল থেকে মধ্যরাত অবধি আমাদের পরিবারের নারীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে আমাদের সার্বিক দেখাশোনার কাজ করে। কিন্তু দিন শেষে তাদের খবর কেউ রাখে না। তাদের শ্রমের কেউ মূল্যায়ন করে না। আলোচ্য উদ্দীপকেও এমন বিষয় ফুটে উঠেছে। তাই বলা যায়, 'নিমগাছ' গল্প ও উদ্দীপকের আলোকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allনিমগাছের প্রশংসায় পঞ্চমুখ কবিরাজরা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!