'ইমানিয়া বেকারি লি.' এর মালিক নিজেই তার উৎপাদিত পণ্য নিজস্ব ভ্যানের মাধ্যমে শহরের বিভিন্ন কনফেকশনারীতে সরবরাহ এবং বিক্রয় করেন। তিনি তার পণ্যকে স্বাস্থ্যসম্মত ও টাটকা রাখার জন্য উৎপাদনের তারিখ ও মেয়াদসহ আকর্ষণীয় পলিপ্যাকের মাধ্যমে বিপণন করেন। ফলে প্রতিষ্ঠানটি ক্রেতা ও ভোক্তাদের নিকট থেকে আশানুরূপ সাড়া পায়। অল্পদিনের মধ্যে তাদের সুনাম বাজারে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি তাদের উৎপাদিত পণ্য সারাদেশে বিপণনের চিন্তাভাবনা করছে। এতে তারা নৈর্ব্যক্তিক উপায়ে স্বীকৃত প্রচার মাধ্যমে পণ্যের গুণাগুণ জনসাধারণের নিকট উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
পণ্যের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিক্রেতা যে প্রক্রিয়া অবলম্বন করে তাই হলো মূল্য নির্ধারণ। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে পণ্যমূল্য নির্ধারণ একটি জটিল ও স্পর্শকাতর বিষয়। পণ্যের মূল্য একদিকে যেমন ক্রেতাদের পণ্য ক্রয় সিদ্ধান্তে সহায়তা করে অন্যদিকে তা আবার বিক্রেতার লাভ-লোকসানের সাথেও জড়িত। এছাড়া প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায়ে টিকে থাকা, পণ্য মানে নেতৃত্ব দান, মুনাফা সর্বোচ্চকরণ, নগদ প্রবাহ নিশ্চিতকরণ, বিক্রয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি, বাজার শেয়ার বৃদ্ধি 'ইত্যাদি লক্ষ্যে মূল্য নির্ধারণ অতীব গুরুত্বপূর্ণ।
ঢাকা ইলেকট্রনিক্স পণ্য বিক্রয়ের ক্ষেত্রে মধ্যস্থ কারবারি হিসেবে বিক্রয় প্রতিনিধির সহযোগিতা গ্রহণ করেছে। উৎপাদনকারী দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবেশক বা বিক্রয় প্রতিনিধি নিয়োগ করে তাদের মাধ্যমে সরাসরি ভোক্তাদের নিকট পণ্য বিক্রয় করতে পারে। এতে বাজারের ওপর উৎপাদনকারীর নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকে এবং নিজস্ব বিক্রয় কেন্দ্র খোলার বা লোক নিয়োগের ঝামেলা থেকেও উৎপাদনকারী রক্ষা পায়। বিক্রয় প্রতিনিধিরা বিক্রয়মূল্যের 'ওপর কমিশন পায়। উদ্দীপকে ঢাকা ইলেকট্রনিক্স মালয়েশিয়া হতে ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীর যন্ত্রাংশ আমদানি করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রয় করে থাকে। প্রতিষ্ঠানটি সারা দেশে পণ্য বিক্রয়ের কিছু প্রতিনিধির সহায়তা নেয়। তারা ঢাকা ইলেকট্রনিক্স এর নিকট হতে পণ্য সংগ্রহ করে নিজস্ব নিজস্ব কোনো বিক্রয় কেন্দ্র খোলার প্রয়োজন পড়ে না। উক্ত গুদামে রেখে বিক্রয় করে। অর্থাৎ এক্ষেত্রে ঢাকা ইলেকট্রনিক্স এর প্রতিনিধিরাই কমিশনের বিনিময়ে পণ্য বিক্রয় করে থাকে। সুতরাং ঢাকা ইলেকট্রনিক্স পণ্য বিক্রয়ের ক্ষেত্রে, বিক্রয় প্রতিনিধির সহযোগিতা গ্রহণ করেছে
উদ্দীপকে ঢাকা ইলেকট্রনিক্স এর ব্যাপক প্রসারমূলক কার্যক্রম গ্রহণ তথা বিপণন প্রসারের ব্যবস্থা গ্রহণ সঠিক ও যুক্তিসঙ্গত।
বিপণন প্রসার হলো এক ধরনের যোগাযোগ প্রক্রিয়া যা প্রতিষ্ঠানের পণ্য, সেবা অথবা ধারণা সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করে, পুনঃপুন স্মরণ করায় এবং ক্রয়ে উদ্বুদ্ধ করে। বিপণন প্রসারের লক্ষ্য নির্দিষ্ট বাজারের ক্রেতাদেরকে পণ্য বা সেবা গ্রহণের জন্য উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করা এবং এ লক্ষ্যে বিপণন-প্রসারের মাধ্যমে ক্রেতাদের কাছে পণ্য বা সেবার বৈশিষ্ট্য ও প্রাপ্তির সম্ভাব্যতা তুলে ধরা হয়। উদ্দীপকে ঢাকা ইলেকট্রনিক্স মালয়েশিয়া হতে ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীর যন্ত্রাংশ আমদানি করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে ক্রেতা ও ভোক্তাদের নিকট বিক্রয় করে থাকেন। বিক্রয়
প্রতিনিধিরা প্রতিষ্ঠানটির নিকট থেকে পণ্য সংগ্রহ করে নিজস্ব গুদামে রেখে বিক্রয় করে এবং অনাদায়ি পাওনা আদায়ে সহায়তা করে। এতে ব্যয় আনুপাতিক হারে অনেক কম হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি ব্যাপক 'হারে প্রসারমূলক কার্যক্রম গ্রহণ অর্থাৎ বিপণন প্রসারের কথা ভাবছে। পণ্য বা সেবার চাহিদা সৃষ্টিতে এ প্রসার মুখ্য ভূমিকা পালন করবে। বিপণন প্রসার কার্যাবলির দ্বারা পণ্যের বিক্রয় বৃদ্ধির প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হয়। এর ফলে উৎপাদনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং সেই সাথে এককপ্রতি উৎপাদন ব্যয় হ্রাসে সহায়ক হয়। এর ফলে মুনাফার পরিমাণও বেড়ে যায়। এছাড়া চাহিদার স্থিতিশীলতা রক্ষা, বাজার সম্প্রসারণ, পণ্যের উন্নয়ন, ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠা প্রভৃতিতে বিপণন প্রসার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। পরিশেষে বলা যায়, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিপণন ব্যবস্থায় কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রসার কার্যাবলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং উদ্দীপকে ঢাকা ইলেকট্রনিক্স এর ব্যাপক প্রসারমূলক কার্যক্রম গ্রহণ সম্পূর্ণ যুক্তিসঙ্গত বলে আমি মনে করি।
উৎপাদক ও পাইকারি ব্যবসায়িগণ কর্তৃক নিয়োজিত হয়ে যে প্রতিনিধি বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে নিয়োগকর্তার পক্ষে পণ্যের অর্ডার সংগ্রহ করেন তাদেরকে ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি বলা হয়।
ভোগ্যপণ্যের বণ্টনপ্রণালি সাধারণত দীর্ঘ হয়। শিল্পপণ্যের ব্যবহারকারীর সংখ্যা যেখানে সীমিত সেখানে ভোগ্যপণ্যের ভোক্তা বা ব্যবহারকারীর সংখ্যা অনেক বেশি। তাই অধিকসংখ্যক ক্রেতাদের চাহিদা মোতাবেক পণ্য সরবরাহ দেওয়ার জন্য স্বাভাবিকভাবেই ভোগ্যপণ্যের বণ্টনপ্রণালি দীর্ঘ করার প্রয়োজন পড়ে। আবার একটি নির্দিষ্ট এলাকায় শিল্পপণ্যের ক্রেতারা অবস্থান করলেও ভোগ্যপণ্যের ক্রেতারা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করে। এ কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বা বিদেশে অবস্থানরত প্রতিটি ভোক্তার নিকট ভোগ্যপণ্য সরবরাহ দেওয়ার জন্য এরূপ পণ্যের বণ্টন ব্যবস্থায় মধ্যস্থব্যবসায়ীদের সংখ্যা অধিক হয়। তাই ভোগ্যপণ্যের বণ্টনপ্রণালি শিল্পপণ্যের তুলনায় সাধারণত দীর্ঘ হয়।