'ধ্বজা' শব্দের অর্থ- পতাকা বা নিশান।
পৃথিবীতে মানুষকে নানা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে বাঁচতে হয়। তাই কবি মানুষকে জীবন চলার পথে ভয়ে ভীত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
মানুষের জীবন-সংসার সহজ নয়। এখানে নিজেকে টিকিয়ে রাখতে হলে প্রতিনিয়ত নানা সমস্যা-সংকট মোকাবিলা করতে হয়। এ ধারণাই ব্যক্ত হয়েছে 'জীবন-সঙ্গীত' কবিতায়। পৃথিবীতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে প্রতিনিয়ত সব প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে হয়, তাহলেই জীবন সার্থকতা লাভ করে। পৃথিবীর এই যুদ্ধ-বিগ্রহ দেখে কবি তাই মানুষকে ভীত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
উদ্দীপকটিতে 'জীবন-সঙ্গীত' কবিতার সময়ের গুরুত্বের বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে।
পৃথিবী তার আপন গতিতেই চলমান। সময় তার নিয়মেই প্রবাহিত হয়। এই সময়ের প্রবাহে একদিকে যেমন সৃষ্টি হয়, অন্যদিকে তেমনই ধ্বংস হচ্ছে। তাই প্রত্যেকের উচিত সময়ের কাজ সময়ে করা।
উদ্দীপকে সময়ের কাজ সময়ের শেষ করার কথা বলা হয়েছে। সময়ের কাজ সময়ে না করলে জীবনে সাফল্য অর্জন করা যায় না। জীবিত অবস্থায় ভালো কর্ম না করলে মানুষকে পরকালে শাস্তি ভোগ করতে হয়। উদ্দীপকের সময়ের গুরুত্বের এই বিষয়টি 'জীবন- সঙ্গীত' কবিতার সময়ের গুরুত্বের বিষয়টির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এই কবিতায় কবি বলেছেন- সময় কারও জন্য অপেক্ষা করে না। তাই সময়ের কাজ সময়ের মধ্যে করতে হয়। মানুষকে মহৎ মানুষ হতে হলে আয়ু থাকা অবস্থায় সময়ের প্রতি যত্নশীল হতে হবে। উদ্দীপকের কবিতার এই বিষয়টিই প্রতিফলিত হয়েছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়টি ছাড়াও 'জীবন-সঙ্গীত' কবিতায় উঠে এসেছে জীবনকে সমৃদ্ধ করার একাধিক পরামর্শ। মন্তব্যটি প্রাসঙ্গিক।
জীবন স্বপ্নের মতো অলীক নয়। পৃথিবী মায়ার জগৎ নয়। তাই দুঃখে বিচলিত হওয়া উচিত নয়। সংসার নামক সমরাঙ্গনে যুদ্ধ করে জীবনকে সমৃদ্ধ করতে হবে। মহামানবরা যেভাবে অমরত্ব লাভ করেছেন, আমাদেরও উচিত সেভাবে কাজের মাধ্যমে জীবনকে তাৎপর্যময় করে তোলা।
উদ্দীপকে জীবনকে সমৃদ্ধ করার একটি মাত্র উপায়ের কথা বলা হয়েছে; আর তা হলো সময়ের গুরুত্ব। আর 'জীবন-সঙ্গীত' কবিতায় কবি সময়ের গুরুত্বের পাশাপাশি জীবনকে সার্থক করে তোলার আরও পরামর্শ দিয়েছেন। কবি মনে করেন বৈরাগ্যে কোনো মুক্তি নেই। আমাদের জীবন শৈবালের উপরের শিশিরবিন্দুর মতো ক্ষণস্থায়ী, অথচ মহামূল্যবান। তাই মানুষকে এই পৃথিবীতে সাহসী যোদ্ধার মতো সংগ্রাম করে বেঁচে থাকতে হবে।
'জীবন-সঙ্গীত' কবিতায় কবি বলেছেন, সংসারে বাস করতে হলে সংসারের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। কারণ সংসারেই নানা সমস্যা-সংকট দেখা দেয়। চলার পথে জীবনের সেসব সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হয়। অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয়, পারিবারিক ইত্যাদি নানা প্রকার প্রতিবন্ধকতা প্রতিদিন সামনে আসে। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে পারলেই সামনে এগিয়ে যাওয়া যায়। 'জীবন-সঙ্গীত' কবিতার কবি এ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। কিন্তু উদ্দীপকে এর বহিঃপ্রকাশ ঘটেনি। উদ্দীপকে শুধু 'জীবন- সঙ্গীত' কবিতার সময় কারও জন্য থেমে না থাকার দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। তাই আমরা মন্তব্যটিকে যথার্থ বলতে পারি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!