আসসালামু ওয়ালাইকুম, আশাকরি ভালো আছে সকলে আজকে আমি আপনাদের সামনে নিয়ে এসেছি ট্রান্সফরমার টেস্ট এর বিস্তারিত আলোচনা নিয়ে, তো চলুন শুরু করা যাক ।
ট্রান্সফরমার বিদ্যুৎ ব্যবস্থার প্রাণ। এটি ছাড়া ভোল্টেজ কমানো বা বাড়ানো সম্ভব নয়। কিন্তু ফ্যাক্টরি থেকে বের হওয়ার পর যদি এটি সঠিকভাবে কাজ না করে, তাহলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট, শর্ট সার্কিট এমনকি ভয়াবহ দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে। তাই প্রতিটি ট্রান্সফরমার বাজারে ছাড়ার আগে বা সাবস্টেশনে বসানোর আগে নির্দিষ্ট কিছু টেস্ট করা বাধ্যতামূলক।
নিচে আমরা ৭টি গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট ধাপে ধাপে আলোচনা করব।
এটা কি:
উইন্ডিং ও আর্থিংয়ের মধ্যে ইনসুলেশনের মান পরীক্ষা করার পদ্ধতি।

কেন করা হয়:
উচ্চ ভোল্টেজে কাজ করার সময় উইন্ডিং থেকে কারেন্ট লিক হচ্ছে কিনা তা জানতে। যদি ইনসুলেশন দুর্বল হয়, তবে শর্ট সার্কিট বা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
পদ্ধতি:
মেগার নামক একটি যন্ত্র ব্যবহার করা হয়।
সাধারণত 500V, 1000V বা 5000V DC প্রয়োগ করা হয়।
উইন্ডিং ও আর্থ টার্মিনালের মধ্যে রেসিস্ট্যান্স মাপা হয়।
ফলাফল:
যদি রেসিস্ট্যান্স শত মেগাঅহম (MΩ)-এর উপরে থাকে তবে ইনসুলেশন ভালো ধরা হয়। কম রেসিস্ট্যান্স মানে ইনসুলেশন দুর্বল।
এটা কি:
প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি উইন্ডিংয়ের ভোল্টেজ অনুপাত সঠিক আছে কিনা তা যাচাই করা।

কেন করা হয়:
ট্রান্সফরমার ভোল্টেজ কমানো বা বাড়ানোর কাজ করে। যদি টার্নস রেশিও ডিজাইনের সঙ্গে না মেলে, তবে আউটপুট ভোল্টেজ ভুল আসবে।
পদ্ধতি:
টার্নস রেশিও টেস্টার দিয়ে প্রাইমারিতে একটি ছোট ভোল্টেজ দেওয়া হয়।
সেকেন্ডারি ভোল্টেজ মেপে ডিজাইন ভ্যালুর সঙ্গে তুলনা করা হয়।
ফলাফল:
±0.5% এর মধ্যে পার্থক্য থাকলে টেস্ট পাস। বেশি হলে ট্রান্সফরমার ত্রুটিপূর্ণ।
এটা কি:
উচ্চ ভোল্টেজে ইনসুলেশন ভেঙে যায় কিনা তা পরীক্ষার প্রক্রিয়া।
কেন করা হয়:
বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় মাঝে মাঝে সার্জ বা ওভারভোল্টেজ হয়। ট্রান্সফরমার যেন সেই ভোল্টেজ সহ্য করতে পারে সেটি নিশ্চিত করা।
পদ্ধতি:
প্রাইমারি উইন্ডিং-এ নির্দিষ্ট সময়ের জন্য (সাধারণত ১ মিনিট) কয়েক কেভি ভোল্টেজ দেওয়া হয়।
সেকেন্ডারি ওপেন রাখা হয়।
ফলাফল:
ব্রেকডাউন বা ফ্ল্যাশওভার না হলে টেস্ট পাস।
এটা কি:
ট্রান্সফরমারের শর্ট সার্কিট ইম্পিডেন্স ও ফুল-লোড লস নির্ধারণের পদ্ধতি।
কেন করা হয়:
সাবস্টেশনে শর্ট সার্কিট হলে কারেন্ট সীমিত রাখার জন্য ইম্পিডেন্স দরকার। ইম্পিডেন্স না থাকলে কারেন্ট বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছে যেতে পারে।
পদ্ধতি:
সেকেন্ডারি উইন্ডিং শর্ট করে দেওয়া হয়।
প্রাইমারিতে ধীরে ধীরে ভোল্টেজ বাড়ানো হয় যতক্ষণ না রেটেড কারেন্ট পাওয়া যায়।
প্রয়োগ করা ভোল্টেজকে রেটেড ভোল্টেজের সঙ্গে তুলনা করে % Impedance নির্ধারণ করা হয়।
ফলাফল:
সাধারণত ৪%–১২% ইম্পিডেন্স মান গ্রহণযোগ্য।
এটা কি:
ট্রান্সফরমারের হাই-ভোল্টেজ উইন্ডিং পরীক্ষা করার টেস্ট।
কেন করা হয়:
হাই-ভোল্টেজ সিস্টেমে ইনসুলেশন ব্রেকডাউন ঠেকাতে।
পদ্ধতি:
সেকেন্ডারি শর্ট করে প্রাইমারিতে উচ্চ ভোল্টেজ (যেমন 28–35 kV) প্রয়োগ করা হয়।
নির্দিষ্ট সময় ধরে ভোল্টেজ দেওয়া হয়।
ফলাফল:
কোনো ব্রেকডাউন না হলে টেস্ট সফল।
এটা কি:
লো ভোল্টেজ উইন্ডিংয়ের ইনসুলেশন টেস্ট।
কেন করা হয়:
লো-ভোল্টেজ সাইডে কোনো ইনসুলেশন সমস্যা আছে কিনা যাচাই করতে।
পদ্ধতি:
সাধারণত 2 kV AC for 1 minute প্রয়োগ করা হয়।
ফলাফল:
কোনো ব্রেকডাউন না হলে টেস্ট পাস।
এটা কি:
ট্রান্সফরমার অয়েলের ডাই-ইলেকট্রিক শক্তি (insulating strength) পরীক্ষা করার পদ্ধতি।
কেন করা হয়:
ট্রান্সফরমার তেল কেবল কুলিং নয়, ইনসুলেশন হিসেবেও কাজ করে। তেলের মান খারাপ হলে শর্ট সার্কিট বা ফ্ল্যাশওভার হতে পারে।
পদ্ধতি:
একটি কাঁচের পাত্রে তেল রাখা হয়।
দুটি ইলেক্ট্রোডের মধ্যে ধীরে ধীরে ভোল্টেজ বাড়ানো হয় যতক্ষণ না স্পার্ক হয়।
ফলাফল:
30–60 kV (প্রতি 2.5 mm গ্যাপে) মান ভালো ধরা হয়। এর কম হলে তেল পরিবর্তন করতে হয়।
ট্রান্সফরমার টেস্ট করা কেবল একটি রুটিন কাজ নয়, বরং এটি বিদ্যুৎ ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। প্রতিটি টেস্টের মাধ্যমে আলাদা আলাদা ত্রুটি ধরা পড়ে এবং সঠিকভাবে যাচাই হলে ট্রান্সফরমার দীর্ঘদিন নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ করতে পারে।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?