ইলেকট্রনিক্সের ভূমিকা
ইলেকট্রনিক্স বর্তমান যুগের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। এটি আধুনিক প্রযুক্তি, যোগাযোগ, চিকিৎসা, এবং বিনোদনসহ নানাবিধ ক্ষেত্রের জন্য অপরিহার্য। ইলেকট্রনিক্সের প্রধান কিছু ভূমিকা নিচে আলোচনা করা হলো:
1. যোগাযোগ: ইলেকট্রনিক ডিভাইস যেমন মোবাইল ফোন, রেডিও, টেলিভিশন এবং ইন্টারনেট আমাদের যোগাযোগ সহজ করে তুলেছে। স্যাটেলাইট যোগাযোগ, ওয়্যারলেস নেটওয়ার্কিং, এবং মোবাইল কমিউনিকেশন ইলেকট্রনিক্সের অবদানের অন্যতম উদাহরণ।
2. অটোমেশন এবং উৎপাদন: উৎপাদন শিল্পে স্বয়ংক্রিয় মেশিন ব্যবহার এখন একটি সাধারণ বিষয়। ইলেকট্রনিক্সের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট প্রোগ্রাম এবং সেন্সর ব্যবহারের ফলে উৎপাদন প্রক্রিয়ার মান ও গতি বৃদ্ধি পেয়েছে।
3. চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা: বিভিন্ন মেডিকেল ইকুইপমেন্ট যেমন ইসিজি মেশিন, এমআরআই স্ক্যানার, আল্ট্রাসাউন্ড মেশিন, এবং ইনফিউশন পাম্প ইলেকট্রনিক্সের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা এবং সার্জারির জন্য ইলেকট্রনিক্স অপরিহার্য।
4. শিক্ষা ও গবেষণা: বিভিন্ন গবেষণাগারে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়। এছাড়া, কম্পিউটার, প্রজেক্টর, এবং স্মার্টবোর্ড শিক্ষায় ইলেকট্রনিক্সের ব্যাপক ভূমিকা রাখে।
5. বিনোদন: ইলেকট্রনিক্স আমাদের জীবনে বিনোদনের সুযোগ বৃদ্ধি করেছে। যেমন টিভি, ভিডিও গেম, মিউজিক সিস্টেম, এবং ভার্চুয়াল রিয়ালিটি সিস্টেম আমাদের বিনোদনের অভিজ্ঞতা উন্নত করেছে।
ইলেকট্রনিক্সের প্রাথমিক ধারণা
ইলেকট্রনিক্স হল সেই শাখা যেখানে বৈদ্যুতিক স্রোত এবং ভোল্টেজ ব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন ডিভাইস ও সার্কিট ডিজাইন, নিয়ন্ত্রণ এবং পরিচালনা করা হয়। এটি মূলত তিনটি মূল ধারায় বিভক্ত:
1. অ্যানালগ ইলেকট্রনিক্স: যেখানে সংকেতগুলি অবিরত থাকে এবং সাধারণত ভোল্টেজের একটি অবিরত পরিবর্তন থাকে। উদাহরণ: রেডিও, টেলিভিশন, এবং কিছু সেন্সর ডিভাইস।
2. ডিজিটাল ইলেকট্রনিক্স: এখানে সংকেতগুলি মূলত বাইনারি (0 এবং 1) আকারে থাকে। অধিকাংশ কম্পিউটার, মাইক্রোকন্ট্রোলার, এবং অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস ডিজিটাল ইলেকট্রনিক্সের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
3. মাইক্রোইলেকট্রনিক্স: যেখানে ইলেকট্রনিক উপাদান এবং সার্কিটগুলি অত্যন্ত ছোট আকারে ডিজাইন করা হয়। এটি মূলত কম্পিউটার চিপ এবং অন্যান্য ছোট ইলেকট্রনিক ডিভাইস তৈরির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
প্রাথমিক কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধারণা:
1. বৈদ্যুতিক স্রোত (Current): এটি ইলেকট্রনের প্রবাহ যা সার্কিটে প্রবাহিত হয়। এটি অ্যাম্পিয়ারে (A) মাপা হয়।
2. ভোল্টেজ (Voltage): এটি বিদ্যুৎ প্রবাহের জন্য প্রয়োজনীয় প্রণোদনা যা দুই পয়েন্টের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে। এটি ভোল্ট (V) এককে পরিমাপ করা হয়।
3. প্রতিরোধ (Resistance): এটি স্রোতের প্রবাহকে প্রতিহত করে। ওহম’স ল’ অনুসারে রেজিস্ট্যান্সের জন্য একটি সূত্র রয়েছে, যা বৈদ্যুতিক সার্কিটের নকশায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
4. ওহম’স ল’ (Ohm’s Law): এটি বলে যে স্রোত (I), ভোল্টেজ (V) এবং প্রতিরোধের (R) মধ্যে সম্পর্ক হলো: V=IRV=IR। এই সূত্রটি ইলেকট্রনিক সার্কিট ডিজাইনের একটি মৌলিক সূত্র।
5. পাওয়ার (Power): এটি হলো শক্তির ব্যবহার বা সঞ্চালন যা বর্তনীতে প্রবাহিত স্রোত এবং ভোল্টেজের উপর নির্ভর করে। পাওয়ার ওয়াট (W) এককে পরিমাপ করা হয়, এবং এটি P=VIP=VI সূত্র দ্বারা গণনা করা হয়।
সারসংক্ষেপ
ইলেকট্রনিক্স বর্তমান বিশ্বে যোগাযোগ, স্বাস্থ্য, অটোমেশন, শিক্ষা এবং বিনোদনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর প্রাথমিক ধারণাগুলি যেমন ভোল্টেজ, স্রোত, প্রতিরোধ এবং ওহম’স ল’ ইলেকট্রনিক্সের ভিত্তি তৈরি করে। এ ধারণাগুলি জানার মাধ্যমে ইলেকট্রনিক্সের জটিল বিষয়গুলি সহজে বোঝা সম্ভব হয় এবং বিভিন্ন ডিভাইস ও সার্কিট তৈরিতে দক্ষ হওয়া যায়।
ভোল্টেজ, কারেন্ট এবং রেজিস্ট্যান্স—এই তিনটি ধারণা বিদ্যুৎ এবং ইলেকট্রনিক্সের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক উপাদান। এদের ব্যাখ্যা করা হলো:
1. ভোল্টেজ (Voltage):
ভোল্টেজ হল বৈদ্যুতিক স্থিতি বা পটেনশিয়াল পার্থক্য, যা বৈদ্যুতিক চার্জকে এক বিন্দু থেকে আরেক বিন্দুতে স্থানান্তরিত করতে প্রয়োজন হয়। একে বৈদ্যুতিক চাপও বলা হয় এবং ভোল্ট (Volt, V) এককে মাপা হয়।
- কার্যপ্রণালী: ভোল্টেজ হল ইলেকট্রনগুলিকে সঞ্চালিত করার জন্য প্রয়োজনীয় বল। যেমন, একটি ব্যাটারি যখন দুটি বিন্দুর মধ্যে পটেনশিয়াল পার্থক্য সৃষ্টি করে, তখন বৈদ্যুতিক চার্জ এক বিন্দু থেকে অন্য বিন্দুতে সঞ্চালিত হয়।
- ধারণা: সহজভাবে, ভোল্টেজ হল একটি বিদ্যুতের উৎস থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ শক্তি, যা সার্কিটে ইলেকট্রন সঞ্চালনের জন্য প্রয়োজন।
2. কারেন্ট (Current):
কারেন্ট হল চার্জের প্রবাহের হার, যা কোনো নির্দিষ্ট সময়ে একটি নির্দিষ্ট বিন্দু দিয়ে প্রবাহিত হয়। কারেন্টের একক হল অ্যাম্পিয়ার (Ampere, A)।
- কার্যপ্রণালী: কারেন্ট তখনই তৈরি হয় যখন ইলেকট্রনগুলি ভোল্টেজের প্রভাবে একটি বন্ধ সার্কিটের মধ্যে চলাচল করে। কারেন্টের দিককে সাধারণত ধনাত্মক দিক হিসেবে ধরা হয়, যদিও ইলেকট্রনের প্রবাহ বাস্তবে বিপরীত দিকে চলে।
- ধারণা: কারেন্টের ধারণাকে এমনভাবে বোঝা যায় যে এটি হল কত দ্রুত ইলেকট্রন একটি নির্দিষ্ট বিন্দুর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এটি একটি নদীর জলের প্রবাহের মত, যেখানে কত দ্রুত পানি প্রবাহিত হচ্ছে তা কারেন্টের সাথে তুলনীয়।
3. রেজিস্ট্যান্স (Resistance):
রেজিস্ট্যান্স হল একটি বৈদ্যুতিক উপাদানের বৈশিষ্ট্য যা কারেন্টের প্রবাহকে বাধা প্রদান করে। এর একক ওহম (Ohm, Ω)।
- কার্যপ্রণালী: সার্কিটে রেজিস্ট্যান্স বাড়ালে কারেন্টের প্রবাহ হ্রাস পায়, আর রেজিস্ট্যান্স কমালে কারেন্টের প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। রেজিস্ট্যান্স নির্ভর করে উপাদানের আকার, আকৃতি এবং যে উপাদান দিয়ে তৈরি সে উপাদানের বৈশিষ্ট্যের উপর।
- ধারণা: রেজিস্ট্যান্স হল এমন এক শক্তি যা কারেন্ট প্রবাহের গতিকে বাধা প্রদান করে। যেমন, যদি একটি সরু পাইপের মধ্য দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়, তখন পাইপের সরুতা জল প্রবাহে বাধা প্রদান করবে—এই সরুতা এখানে রেজিস্ট্যান্সের সাথে তুলনীয়।
সম্পর্ক (ওহমের সূত্র - Ohm's Law)
ভোল্টেজ, কারেন্ট এবং রেজিস্ট্যান্সের মধ্যে সম্পর্ক বোঝাতে ওহমের সূত্র (Ohm's Law) ব্যবহার করা হয়। ওহমের সূত্র অনুযায়ী:
V=I×R
যেখানে:
- V হল ভোল্টেজ (Volt),
- I হল কারেন্ট (Ampere),
- R হল রেজিস্ট্যান্স (Ohm)।
ওহমের সূত্র থেকে বোঝা যায়, যদি রেজিস্ট্যান্স স্থির থাকে এবং ভোল্টেজ বাড়ানো হয়, তবে কারেন্টও বাড়বে। আবার, ভোল্টেজ যদি কমানো হয়, তবে কারেন্টও কমবে।
ওহমের সূত্র
ওহমের সূত্র (Ohm's Law) হলো বৈদ্যুতিক স্রোতের (Current), ভোল্টেজের (Voltage), এবং রেজিস্ট্যান্সের (Resistance) মধ্যে সম্পর্ক বোঝানোর একটি মৌলিক সূত্র। এটি জার্মান বিজ্ঞানী জর্জ সাইমন ওহম ১৮২৭ সালে আবিষ্কার করেন। ওহমের সূত্রটি এভাবে প্রকাশ করা হয়:
\[
V = I \times R
\]
এখানে:
- \( V \) = ভোল্টেজ (Voltage), যা ভোল্টে (V) মাপা হয়
- \( I \) = বৈদ্যুতিক স্রোত (Current), যা অ্যাম্পিয়ারে (A) মাপা হয়
- \( R \) = রেজিস্ট্যান্স (Resistance), যা ওহমে (\( \Omega \)) মাপা হয়
ওহমের সূত্রের ব্যবহার
ওহমের সূত্র বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক সার্কিট বিশ্লেষণ ও ডিজাইন করতে সহায়ক:
ভোল্টেজ নির্ণয়: যদি বৈদ্যুতিক স্রোত ও রেজিস্ট্যান্স জানা থাকে, তবে ভোল্টেজ নির্ণয়ে ওহমের সূত্র ব্যবহার করা যায়। উদাহরণস্বরূপ, II এবং RR এর মান জানা থাকলে V=I×RV=I×R সূত্র ব্যবহার করে ভোল্টেজ বের করা সম্ভব।
স্রোত নির্ণয়: যদি ভোল্টেজ ও রেজিস্ট্যান্স জানা থাকে, তবে বৈদ্যুতিক স্রোত নির্ণয়ে ওহমের সূত্র ব্যবহার করা যায়। স্রোত নির্ণয়ের জন্য সূত্রটি হবে:
\[
I = \frac{V}{R}
\]
রেজিস্ট্যান্স নির্ণয়: যদি ভোল্টেজ ও স্রোতের মান জানা থাকে, তবে রেজিস্ট্যান্স নির্ণয়ের জন্য সূত্রটি হবে:
\[
R = \frac{V}{I}
\]
সার্কিট ডিজাইন: ইলেকট্রনিক্সে ওহমের সূত্র বিভিন্ন সার্কিট ডিজাইনে সহায়ক। সার্কিটে উপাদানগুলোর সঠিক মান নির্ধারণে এবং ভোল্টেজ ড্রপ হিসাব করতে এটি ব্যবহৃত হয়।
পাওয়ার হিসাব: পাওয়ার PP (ওয়াটে) হিসাব করতে ওহমের সূত্র ব্যবহার করা যায়:
\[
P = V \times I = I^2 \times R = \frac{V^2}{R}
\]
এই সূত্রের মাধ্যমে পাওয়ার বা শক্তি নির্ধারণ করে ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ক্ষমতা বোঝা যায় এবং এর জন্য যথাযথ সরঞ্জাম ব্যবহার করা যায়।
ইলেকট্রনিক্সে বর্তনী গঠন করার সময় মূলত দুটি ভিন্ন সংযোগ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়: সিরিজ বর্তনী এবং প্যারালাল বর্তনী। এই দুটি পদ্ধতিতে উপাদানগুলি সংযুক্ত করার ফলে বৈদ্যুতিক স্রোতের প্রবাহ এবং ভোল্টেজ বিভাজন ভিন্নভাবে ঘটে।
১. সিরিজ বর্তনী (Series Circuit)
সিরিজ বর্তনীতে উপাদানগুলি এমনভাবে সংযুক্ত থাকে যে একটির শেষে অন্যটি যুক্ত থাকে, অর্থাৎ স্রোতের জন্য শুধুমাত্র একটি পথ থাকে।
বৈশিষ্ট্য:
- সিরিজ বর্তনীতে, বৈদ্যুতিক স্রোত প্রতিটি উপাদানে সমান হয়।
- মোট রেজিস্ট্যান্স যোগ করে সহজেই হিসাব করা যায়: \( R_{total} = R_1 + R_2 + R_3 + ... \)
- ভোল্টেজ প্রতিটি উপাদানে আলাদা হতে পারে, তবে মোট ভোল্টেজ সম্পূর্ণ বর্তনীর সমান হয়।
ব্যবহার:
- সিরিজ বর্তনী সাধারণত যেখানে সমান কারেন্ট সরবরাহের প্রয়োজন হয়, যেমন ফিউজ এবং সিরিজ রেজিস্টর ডিভাইসে ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ: যদি একটি সিরিজ বর্তনীতে তিনটি রেজিস্টর থাকে যার রেজিস্ট্যান্স যথাক্রমে \(10 \Omega\), \(20 \Omega\), এবং \(30 \Omega\), তাহলে মোট রেজিস্ট্যান্স হবে:
\[
R_{total} = 10 + 20 + 30 = 60 \Omega
\]
---
২. প্যারালাল বর্তনী (Parallel Circuit)
প্যারালাল বর্তনীতে প্রতিটি উপাদান একই দুটি পয়েন্টের সাথে সংযুক্ত থাকে, ফলে স্রোতের জন্য একাধিক পথ তৈরি হয়।
বৈশিষ্ট্য:
- প্রতিটি উপাদানের ভোল্টেজ সমান হয়।
- মোট রেজিস্ট্যান্সের মান আলাদা হয় এবং নিচের সূত্রে বের করা যায়:
\[
\frac{1}{R_{total}} = \frac{1}{R_1} + \frac{1}{R_2} + \frac{1}{R_3} + ...
\]
- সিরিজের তুলনায় প্যারালাল সংযোগে মোট রেজিস্ট্যান্স কম হয়।
ব্যবহার:
- প্যারালাল বর্তনী সাধারণত যেখানে প্রতিটি ডিভাইসের জন্য আলাদা ভোল্টেজ প্রয়োজন হয়, যেমন ঘরের লাইট, ফ্যান ইত্যাদির সংযোগে ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ: যদি প্যারালাল বর্তনীতে তিনটি রেজিস্টর থাকে যার রেজিস্ট্যান্স যথাক্রমে \(10 \Omega\), \(20 \Omega\), এবং \(30 \Omega\), তাহলে মোট রেজিস্ট্যান্স হবে:
\[
\frac{1}{R_{total}} = \frac{1}{10} + \frac{1}{20} + \frac{1}{30}
\]
এই মান বের করার মাধ্যমে \( R_{total} \) নির্ণয় করা যায়।
তুলনামূলক চার্ট
| বৈশিষ্ট্য | সিরিজ বর্তনী | প্যারালাল বর্তনী |
|---|---|---|
| স্রোতের প্রবাহ | স্রোত সমান থাকে | স্রোত বিভক্ত হয় |
| ভোল্টেজ | বিভিন্ন উপাদানে বিভক্ত হয় | প্রতিটি উপাদানে সমান থাকে |
| মোট রেজিস্ট্যান্স | সরাসরি যোগ করা হয় | বিপরীত রেজিস্ট্যান্স যোগ করা হয় |
| ব্যবহারের উদাহরণ | ফিউজ, সিরিজ লাইট | লাইট, ফ্যান, গৃহস্থালী যন্ত্র |
সারসংক্ষেপ
সিরিজ এবং প্যারালাল বর্তনী উভয়ই বৈদ্যুতিক বর্তনী সংযোগের গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি। সিরিজ বর্তনীতে স্রোত এক পথে প্রবাহিত হয়, যেখানে প্যারালাল বর্তনীতে স্রোত বিভক্ত হয়।
কারেন্ট (Current) এবং ভোল্টেজ (Voltage) মাপার জন্য বেশ কিছু বিশেষ ধরনের যন্ত্র ব্যবহৃত হয়। এই যন্ত্রগুলো বৈদ্যুতিক সার্কিটে প্রবাহিত কারেন্টের পরিমাণ এবং বিভিন্ন বিন্দুর মধ্যে ভোল্টেজের মাত্রা নির্ধারণ করতে সাহায্য করে। এখানে কিছু সাধারণ যন্ত্রের আলোচনা করা হলো:
1. অ্যামিটার (Ammeter)
- ব্যবহার: অ্যামিটার হলো এমন একটি যন্ত্র, যা বৈদ্যুতিক সার্কিটে প্রবাহিত কারেন্ট পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়।
- কার্যপদ্ধতি: এটি সার্কিটে সিরিজে যুক্ত করা হয়, এবং সার্কিট দিয়ে প্রবাহিত কারেন্ট এটির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়।
- ধরন: ডিজিটাল এবং অ্যানালগ উভয় ধরনের অ্যামিটার পাওয়া যায়।
- ইউনিট: অ্যামিটার কারেন্টকে অ্যাম্পিয়ার (Ampere) এককে মাপা হয়।
2. ভোল্টমিটার (Voltmeter)
- ব্যবহার: ভোল্টমিটার হলো একটি যন্ত্র, যা সার্কিটের দুটি বিন্দুর মধ্যে বিদ্যুতের সম্ভাব্যতার পার্থক্য (ভোল্টেজ) পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়।
- কার্যপদ্ধতি: এটি সার্কিটে প্যারালেলে যুক্ত করা হয়, যাতে এটি সার্কিটের অবশিষ্ট অংশে প্রভাব না ফেলে।
- ধরন: ডিজিটাল এবং অ্যানালগ ভোল্টমিটার পাওয়া যায়।
- ইউনিট: ভোল্টমিটার ভোল্টেজকে ভোল্ট (Volt) এককে মাপা হয়।
3. মাল্টিমিটার (Multimeter)
- ব্যবহার: মাল্টিমিটার একটি বহুমুখী যন্ত্র যা একই সাথে কারেন্ট, ভোল্টেজ এবং রেজিস্ট্যান্স পরিমাপ করতে পারে।
- কার্যপদ্ধতি: এটি সার্কিটে সিরিজ বা প্যারালেল সংযোগ করে বিভিন্ন পরিমাপ নিতে পারে, যা নির্ভর করে আপনি কোন পরিমাপ নিতে চান।
- ধরন: ডিজিটাল এবং অ্যানালগ মাল্টিমিটার উভয়ই পাওয়া যায়।
- ইউনিট: মাল্টিমিটার অ্যাম্পিয়ার, ভোল্ট এবং ওহম এককে বিভিন্ন পরিমাপ করে।
4. অসিলোস্কোপ (Oscilloscope)
- ব্যবহার: অসিলোস্কোপ মূলত ভোল্টেজ পরিবর্তনের একটি চিত্র প্রদর্শন করতে ব্যবহৃত হয়, বিশেষত দ্রুত পরিবর্তনশীল ভোল্টেজ সিগন্যাল বিশ্লেষণে।
- কার্যপদ্ধতি: এটি ভোল্টেজের পরিবর্তন একটি স্ক্রিনে গ্রাফ আকারে প্রদর্শন করে, যা সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তন দেখে বোঝা যায়।
- ধরন: সাধারণত ডিজিটাল অসিলোস্কোপ ব্যবহার করা হয়, তবে কিছু এনালগ মডেলও পাওয়া যায়।
- ইউনিট: ভোল্টেজকে সাধারণত ভোল্ট এককে মাপা হয় এবং সময়ের সাথে ভোল্টেজ পরিবর্তনের গ্রাফ দেখায়।
5. ক্ল্যাম্প মিটার (Clamp Meter)
- ব্যবহার: ক্ল্যাম্প মিটার কারেন্ট পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়, বিশেষ করে বেশি কারেন্ট প্রবাহিত সার্কিটে যেখানে সরাসরি সংযোগ ঝুঁকিপূর্ণ।
- কার্যপদ্ধতি: ক্ল্যাম্প মিটার সার্কিটে কারেন্টের প্রবাহকে স্পর্শ না করে মাপতে পারে। এটি কেবল কন্ডাক্টরের চারপাশে ক্ল্যাম্প (চাবুক) আকারে রাখা হয়।
- ধরন: সাধারণত ডিজিটাল ক্ল্যাম্প মিটার ব্যবহৃত হয়।
- ইউনিট: অ্যাম্পিয়ার (Ampere) এককে কারেন্ট পরিমাপ করে।
6. পাওয়ার মিটার (Power Meter)
- ব্যবহার: পাওয়ার মিটার একটি যন্ত্র যা সার্কিটে ব্যবহৃত শক্তি বা পাওয়ার পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়। এটি ভোল্টেজ এবং কারেন্ট একসাথে মেপে পাওয়ার (ওয়াট) হিসেব করে।
- কার্যপদ্ধতি: এটি সাধারণত প্যারালেল ও সিরিজে সংযোগ করে ভোল্টেজ এবং কারেন্টের মাধ্যমে পাওয়ার পরিমাপ করে।
- ধরন: ডিজিটাল পাওয়ার মিটার বেশি জনপ্রিয়।
- ইউনিট: পাওয়ারকে সাধারণত ওয়াট (Watt) এককে মাপা হয়।
এই যন্ত্রগুলির মাধ্যমে বৈদ্যুতিক সার্কিটের কারেন্ট ও ভোল্টেজসহ অন্যান্য বৈদ্যুতিক পরিমাপ করা যায়, যা বিভিন্ন বৈদ্যুতিক কাজ বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস তৈরিতে সহায়ক।
Read more