বিভিন্ন জাতের রাজহাঁসের বৈশিষ্ট্য (Characteristics of different species of Goose )
টাউলোজ রাজহাঁস (Toulouse Goose)
- এদের উৎপত্তি ফ্রান্সে।
- এরা মাংসল ও বড় আকারের রাজহাঁস ।
- দেহ লম্বা, প্রশস্থ ও গভীর বা মাটির সমান্তরাল করে রাখে।
- টাউলোজ রাজনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এদের বুক উঁচু, পুরু ও গভীর।
- ডানা লম্বা, লেজ খাটো, মাথা বড়, ঠোঁট মজবুত, গলা লম্বা ও পুরু এবং পা মজবুত।
- পালকের রঙে গাঢ় ও হালকা ধূসরের মিশ্রণ দেখা যায় ।
- ঠোঁট, পা ও পায়ের পাতা কমলা এবং চোখ খোলা বাদামি রঙের।
- প্রাপ্তবয়স্ক হাঁসা ও হাঁসীর ওজন যথাক্রমে ১২.৭-১৩.০ কেজি ৩৯১ - ১০০ কেজি হয়ে থাকে।
অ্যাম্বডেন রাজহাঁস (Embdan Goose)
- এ জাতের রাজহাঁসের উৎপত্তি জার্মানিতে।
- এদের দেহ প্রশস্থ, পুরু ও গোলাকার।
- পিঠ লম্বা, সোজা ও মজবুত।
- ডানা দুটো আকারে লম্বা।
- মাথা লম্বা ও সোজা, ঠোঁট মজবুত ।
- চোখ খুবই উচ্ছ্বল হয়ে থাকে। পা খুব খাটো, পালক শক্ত ও সুবিন্যস্থ।
- হাঁসা ও হাঁসী উভয়েই সাদা রঙের।
- ঠোঁট কমলা এবং চোখ হালকা নীল।
- পা ও পায়ের পাতা কমলা রঙের।
- প্রাপ্ত বয়স্ক হাঁসা ও হাঁসীর ওজন যা ১৩.৬ - ১৫.৪ কেজি ও ১১ - ১০.০ কেজি হয়ে থাকে।
আফ্রিকান রাজহাঁস (African Goose)
- এরা আকারে বেশ বড় ও লম্বা।
- মাথা প্রশস্থ ও গভীর।
- মাধায় বড় ধরনের গুটি থাকে।
- মাথা খাঁড়া করে চলাফেরা করে।
- পিঠ প্রশস্থ, চ্যাপ্টা ও লম্বা, বুক গোলাকার ।
- ডানা বড় ও মজবুত এবং লেজ বড়।
- এদের গলকমল রয়েছে যা পুরু ও বড়।
- পা মাঝারি পদ্মা।
- হাঁসা ও হাঁসী উভয়ের মাথার রঙ হালকা বাদামি, ডোরাকাটা দাগ থাকে।
- প্রাপ্তবয়স্ক হাঁসা ও হাঁসীর ওজন যথাক্রমে ৯.১০ ও ৮১৫ কেজি হয়ে থাকে।
আমেরিকান ধূসর রাজহাঁস (American Gray Goose)
- এরা আকারে মাঝারি। বুক প্রশস্থ ও গভীর।
- ঘাড় থেকে লেজ পর্যন্ত পালক ধনুক আকৃতির ।
- লেজে চ্যাপ্টা খাড়া পালক থাকে।
- মাথা আকারে মাঝারি ও ডিম্বাকৃতির।
- খাঁড়া ও মাঝারি লম্বা গলাটি চলাফেরার সময় উঁচু করে রাখে ।
- মাথার পালক ফ্যাকাসে ধূসর এবং তা বুক পর্যন্ত বিস্তৃত। শরীরের পালক হালকা ধূসর রঙের এবং তা ক্রমশ ফ্যাকাসে হয়ে পেট, পিঠ ও লেজে সাদা পালকে রূপান্তরিত হয়েছে।
- লেজের পালকে বাদামি ও সাদার মিশ্রণ হলেও প্রান্তগুলো ফ্যাকাশে ধূসর।
- ঠোঁট, পা এবং পায়ের পাতা কমলা রঙের, চোখ ঘোলাটে কালো।
- প্রাপ্ত বয়স্ক হাঁসা ও হাঁসীর ওজন যথাক্রমে ৮.১৫ ও ৭.২৫ কেজি হয়ে থাকে।
ধূসর ব্রেকন রাজহাঁস (Gray Bracken Goose )
উৎপত্তিঃ এ জাতের রাজহাঁসের উৎপত্তিস্থল বৃটেনে।
সাধারণ বৈশিষ্ট্য:
- এরা আকারে মাঝারি এবং অত্যন্ত মাংসল ।
- এ জাত খুবই প্রাণচঞ্চল এবং উর্বর ডিম উৎপাদক হিসেবে পরিচিত।
- এদের শরীর প্রশস্থ, বুক গোলাকার, ডানা বড় ও মজবুত, গলা চিকন ও লম্বা ৷
- এ জাতের রাজহাঁসের পা খাটো ও পালক আঁটোসাটো হয়।
- হাসা ও হাঁসি উভয়ের পালক ঘন ধূসর রঙের ।
- পা ও ঠোঁট লালচে এবং চোখ গাঢ় বাদামি।
- হাঁসা ও হাঁসীর ওজন যথাক্রমে ৮.৯০ ও ৭.২৫ কেজি হয়ে থাকে ।
ধূসর পিঠওয়ালা রাজহাঁস (Gray-backed Goose)
উৎপত্তিস্থল: এ জাতের উৎপত্তি ইউরোপে।
- শরীর মাটির সমান্তরাল।
- আকারে মাঝারি । পিঠ বাঁকানো, লম্বা ডানা লেজের পালককে অতিক্রম করে।
- মাথা প্রশস্ত ও সুন্দর ।
- বড় বড় চোখ, মাথার পালক ধূসর।
- গলার উপরের পালক ধূসর, নিচের পালক সাদা ।
- পিঠের ধূসর পালকের প্রান্ত সাদা। বুক, শরীর, পাখা, লেজ সাদা। তবে ডানার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পালকের মাথাগুলো ধূসর রঙের।
- ঠোঁট কমলা, চোখ নীল, পা ও পায়ের পাতা কমলা রঙের ।
- প্রাপ্তবয়ষ্ক হাঁসা ও হাঁসীর ওজন যথাক্রমে ৭.৭ ও ৬.৮ কেজি হয়ে থাকে ।
চীনা রাজহাঁস (Chinese Goose)
- চীনা রাজহাঁস আকারে ছোট ।
- এরা খুবই উর্বর জাতের রাজহাঁস।
- এদের দেহ সুঠাম ও খাড়া। এরা অত্যন্ত তৎপর ।
- এদের পিঠ বেশ খাটো ও প্রশস্ত। বুক গোলাকার, ডানা লম্বা ও মজবুত এবং তা শরীরের সাথে মজবুতভাবে এটে থাকে ।
- এদের মাঝারি আকারের মাথায় বড় আকারের গুটি থাকে।
- গলা খুব লম্বা, অনেকটা সোয়ানের মতো ।
- পা খাটো ও মজবুত; দুপায়ের মাঝখানের দূরত্ব বেশি।
- চীনা রাজহাঁস দুই ধরনের হয়ে থাকে, যেমন-সম্পূর্ণ সাদা ও বাদামি ধূসর রঙের।
- প্রাপ্ত বয়স্ক হাঁসা ও হাঁসীর ওজন যথাক্রমে ৪.৫ - ৫.৪৫ কেজি ও ৩.৬০ - ৪.৫৫ কেজি হয়ে থাকে ।
ছাই রঙের পিঠওয়ালা রাজ (Ash-backed Goose)
- এদের উৎপত্তি আমেরিকায়।
- এরা আকারে মাঝারি ।
- এদের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো ৰুক পুরু ও মাংসল, পিঠ বাঁকা, মাথা বড় ও বাঁকানো।
- মাথার রঙ সাদা।
- গলার উপরের রঙ ছাই এবং নিচের রঙ সাদা।
- পিঠের রঙ সাদা।
- ঠোঁট লালচে, চোখ নীল এবং পা ও পায়ের পাতা লালচে।
- প্রাপ্তবয়স্ক হাঁস ও হাঁসীর ওজন যথাক্রমে ৭.৭ ও ৬.৮ কেজি।
পিল গ্রীমস (Pill Grimes )
- এ জাতের উৎপত্তি বৃটেনে।
- এদের বুক গভীর, পুরু ও মাংসল।
- ডানা লম্বা ও মজবুত। দেহ সামান্য খাড়া।
- মাঝারি আকারের মাথাটি ডিম্বাকৃতির।
- পালক শক্ত, উজ্জ্বল আঁটোসাটো।
- হাঁসা সাদা রঙের, তবে এর ডানা ও পিঠে ধূসর রঙের দাগ আছে।
- হাঁসির মাথায় সাদা ও ধূসর রঙের মিশ্রণ।
- গলা ও বুকের ধূসর রংয়ের পালক ক্রমশ পেছন দিকে ফ্যাকাশে হতে হতে সাদা রঙে পরিণত হয়েছে।
- ঠোঁট কমলা
- চোখ ঘোলা বাদামি রঙের।
- পা ও পায়ের পাতা কমলা রঙের।
- প্রাপ্তবয়স্ক হাঁসা ও হাঁসীর ওজন যথাক্রমে ৩.৩৫ ও ৫৯০ কেজি হয়ে থাকে।
রোমান রাজহাঁস ( Roman Goose)
- এদের উৎপত্তি ভূমধ্যসাগরীয় এলাকায়।
- এরা আকারে ছোট, উজ্জ্বল সাদা রঙের।
- রাজহাঁসের দেহ সুঠাম গতীর ও গোলাকার।
- এরা শান্ত স্বভাবের।
- দেহে হাড়ের তুলনায় আনুপাতিক হারে মাংসের পরিমাণ বেশি। পলা খাড়া। পা খাটো।
- ঠোঁট, পা ও পায়ের পাতা কমলা এবং চোখ হালকা নীল রঙের।
- প্রাপ্তবয়স্ক হাঁসীর ওজন যথাক্রমে ৫.৪৫ - ৬.৩৫ কেজি ও ৪.৫৫ - ৫.৪৫ কেজি হয়ে থাকে।
- রোমান রাজহাঁস আকারে ছোট।
- উজ্জ্বল সাদা রঙের এ রাজহাঁসের দেহ সুঠাম, গভীর ও গোলাকার।
সিবাস্টোপল রাজহাঁস (Sebastopol Goose)
- এ জাতের উৎপত্তি পূর্ব ইউরোপে ।
- এ জাতের রাজহাঁসের দেহ খাড়া, পেচানো ও অবিন্যস্ত সাদা পালকে আবৃত।
- এরা আকারে মাঝারি।
- ওজনের তুলনায় এদেরকে দেখতে অনেক বড় মনে হয়।
- বেশ মাংসল হয়ে থাকে।
- বুক বেশ পুরু ও গভীর।
- পা খাটো ও মজবুত।
- পা ও পায়ের পাতা কমলা রংয়ের চোখ উজ্জ্বল নীল রঙের।
- প্রাপ্তবয়স্ক হাঁসা ও হাঁসির ওজন যথাক্রমে ৬.৩৫ ও ৫.৪৪ কেজি হয়ে থাকে।
দেশী রাজহাঁস :
বাংলাদেশে রাজহাস পালন তেমন জনপ্রিয় নয়। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এদেশে রাজহাঁস পোষা হয় না। তবে অনেকে সখ করে পুষে থাকেন । দেশী রাজহাঁসগুলোর মধ্যে দু'ধরনের রঙ দেখা যায়। একটির দেহের রঙ কিছুটা আফ্রিকান রাজহাঁসের রঙের ন্যায়। অন্যটি পুরোপুরি সাদা।
Read more