Pivot Table (পিভট টেবিল) হল একটি শক্তিশালী ডেটা অ্যানালাইসিস টুল, যা মাইক্রোসফট এক্সেল (Microsoft Excel) এবং অন্যান্য স্প্রেডশিট সফটওয়্যারে পাওয়া যায়। এটি ডেটা সংগঠিত, বিশ্লেষণ এবং উপস্থাপন করতে ব্যবহৃত হয়। পিভট টেবিল মূলত বড় ডেটাসেট থেকে অর্থবহ তথ্য উপস্থাপন এবং বিশ্লেষণের জন্য ব্যবহার করা হয়।
Pivot Table কি?
Pivot Table একটি ইন্টারেকটিভ টুল, যা বড় আকারের ডেটাকে গ্রুপিং, ফিল্টারিং, এবং সারসংক্ষেপের মাধ্যমে উপস্থাপন করে। এটি বিভিন্ন ফিল্ড বা কোলামকে ঘুরিয়ে (pivot) বিভিন্ন কোণ থেকে দেখতে দেয়, যাতে ডেটা অ্যানালাইসিস সহজ হয়। উদাহরণস্বরূপ, বিক্রয় ডেটার উপর ভিত্তি করে অঞ্চল, পণ্য বা সময় অনুসারে মোট বিক্রয় বের করা যেতে পারে।
Pivot Table এর বৈশিষ্ট্য
- ডেটা সারসংক্ষেপ: পিভট টেবিল সহজেই বড় ডেটাসেটের সারসংক্ষেপ তৈরি করতে পারে, যেমন গড় (average), মোট (sum), গণনা (count), সর্বোচ্চ (max) এবং সর্বনিম্ন (min)।
- ড্র্যাগ অ্যান্ড ড্রপ ইন্টারফেস: এর ব্যবহারকারী-বান্ধব ইন্টারফেস ব্যবহার করে সহজেই ফিল্ড গুলোকে ড্র্যাগ অ্যান্ড ড্রপ করে কাঠামো পরিবর্তন করা যায়।
- ডাইনামিক রিপোর্ট: এটি ডাইনামিকভাবে ডেটা পরিবর্তনের সাথে সাথেই রিপোর্ট আপডেট করে।
- গ্রুপিং এবং ফিল্টারিং: ডেটা নির্দিষ্ট গ্রুপে ভাগ করে বা ফিল্টার করে দেখানো সম্ভব।
- চার্ট তৈরির সুবিধা: পিভট টেবিল থেকে সহজেই পিভট চার্ট তৈরি করা যায়।
Pivot Table কেন প্রয়োজন?
Pivot Table ডেটা বিশ্লেষণে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এটি নিম্নোক্ত পরিস্থিতিতে কার্যকরী:
- বৃহৎ ডেটাসেট থেকে নির্দিষ্ট প্যাটার্ন বা ট্রেন্ড বের করা।
- কম সময়ে একটি রিপোর্ট বা বিশ্লেষণ তৈরি করা।
- ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য বিশ্লেষণ সহজ করা।
- ডেটা ভিজ্যুয়ালাইজেশনের জন্য দ্রুত চার্ট তৈরি করা।
Pivot Table তৈরির সাধারণ ধাপ
১. ডেটা নির্বাচন: পিভট টেবিল তৈরি করতে প্রথমে ডেটা সিলেক্ট করতে হবে। ডেটাতে কোনো খালি কলাম বা সারি থাকা উচিত নয়।
২. Insert Pivot Table অপশন ব্যবহার: এক্সেলে Insert ট্যাব থেকে Pivot Table অপশন নির্বাচন করতে হবে।
৩. পিভট টেবিলের অবস্থান নির্ধারণ: একটি নতুন শিট বা একই শিটে পিভট টেবিল রাখার অবস্থান নির্বাচন করতে হবে।
৪. ফিল্ড সাজানো: ড্র্যাগ অ্যান্ড ড্রপ করে Rows, Columns, Values, এবং Filters সেকশনে ফিল্ডগুলো সাজিয়ে কাঙ্ক্ষিত রিপোর্ট তৈরি করা।
Pivot Table উদাহরণ
ধরা যাক, একটি ডেটাসেটে বিভিন্ন প্রোডাক্টের বিক্রয় এবং অঞ্চল সম্পর্কিত ডেটা আছে। পিভট টেবিল ব্যবহার করে আপনি সহজেই বের করতে পারবেন:
- প্রতিটি অঞ্চলের মোট বিক্রয়।
- পণ্যের উপর ভিত্তি করে বিক্রয় পরিসংখ্যান।
- সময় অনুসারে বিক্রয়ের পরিবর্তন।
Pivot Table ডেটা অ্যানালাইসিসকে সহজতর করে, এবং এটি একজন ব্যবহারকারীকে তার প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত খুঁজে বের করার সুযোগ দেয়।
Pivot Table (পিভট টেবিল) হল একটি ডেটা অ্যানালাইসিস টুল, যা বড় ডেটাসেটকে সহজে বিশ্লেষণ, সংগঠিত এবং উপস্থাপন করতে সহায়তা করে। এটি মাইক্রোসফট এক্সেল (Microsoft Excel) এবং অন্যান্য স্প্রেডশিট সফটওয়্যারে পাওয়া যায়। পিভট টেবিলের মাধ্যমে ব্যবহারকারী বড় পরিমাণের ডেটা থেকে নির্দিষ্ট প্যাটার্ন, ট্রেন্ড বা রিপোর্ট দ্রুত তৈরি করতে পারেন।
Pivot Table এর মূল কাজ
- ডেটা সারসংক্ষেপ করা: পিভট টেবিল নির্দিষ্ট ডেটা ফিল্ডের মোট (sum), গড় (average), সর্বোচ্চ (maximum), সর্বনিম্ন (minimum), অথবা গণনা (count) করতে পারে।
- ডেটা গ্রুপ করা: ডেটা বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ করে (যেমন তারিখ, অঞ্চল, বা প্রোডাক্ট) বিশ্লেষণ করা সহজ হয়।
- ডেটা ফিল্টার করা: নির্দিষ্ট ডেটা ফিল্টার করে প্রাসঙ্গিক তথ্য বের করা যায়।
- রিপোর্ট তৈরি করা: ডেটার উপর ভিত্তি করে দ্রুত একটি কাস্টমাইজড রিপোর্ট তৈরি করা সম্ভব।
Pivot Table এর ব্যবহার
ধরা যাক, একটি কোম্পানির বিক্রয় ডেটাসেটে পণ্যের নাম, অঞ্চল, এবং বিক্রয়ের পরিমাণ উল্লেখ আছে। পিভট টেবিল ব্যবহার করে আপনি সহজেই বের করতে পারবেন:
- প্রতিটি অঞ্চলের মোট বিক্রয়।
- পণ্যের উপর ভিত্তি করে বিক্রয়ের গড়।
- নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিক্রয়ের প্রবণতা।
Pivot Table হল এমন একটি টুল, যা জটিল ডেটাকে সহজে বিশ্লেষণযোগ্য আকারে উপস্থাপন করে, ফলে এটি ব্যবসায়িক এবং ব্যক্তিগত ডেটা অ্যানালাইসিসের ক্ষেত্রে অপরিহার্য।
Pivot Table-এর ধারণা প্রথমে ১৯৮০-এর দশকে চালু হয়। এটি ডেটা বিশ্লেষণ সহজ করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল। পিভট টেবিল মূলত বড় ডেটাসেট থেকে অর্থপূর্ণ রিপোর্ট তৈরি করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।
- প্রথম পর্যায়: পিভট টেবিলের ধারণা ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত "Pitos Table" থেকে উদ্ভূত। এটি একটি ডেটা বিশ্লেষণ সফটওয়্যার ছিল, যা পরবর্তীতে লোটাস ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের লোটাস ইমপ্রোভ (Lotus Improv) সফটওয়্যারে ব্যবহৃত হয়।
- মাইক্রোসফট এক্সেলে অন্তর্ভুক্তি: মাইক্রোসফট এক্সেল প্রথমবার ১৯৯৩ সালে পিভট টেবিল অন্তর্ভুক্ত করে, এক্সেল ৫.০ সংস্করণে।
- উন্নয়ন: সময়ের সঙ্গে, এক্সেলে পিভট টেবিল আরও উন্নত হয়, বিশেষত ভিজ্যুয়ালাইজেশন, ড্র্যাগ-ড্রপ ইন্টারফেস, এবং পিভট চার্ট যোগ হওয়ার মাধ্যমে এটি আরও কার্যকর হয়ে ওঠে।
Excel এ Pivot Table এর গুরুত্ব
Pivot Table মাইক্রোসফট এক্সেলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং জনপ্রিয় ফিচার। এটি বিশেষত বড় ডেটাসেটের কার্যকর ব্যবস্থাপনা এবং বিশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়। এর কয়েকটি গুরুত্ব নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ডেটা বিশ্লেষণে সহজতা
Pivot Table ব্যবহার করে ব্যবহারকারী সহজেই ডেটা সারসংক্ষেপ করতে পারেন। বড় ডেটাসেটের বিভিন্ন অংশ থেকে দ্রুত রিপোর্ট তৈরি করা যায়।
২. দ্রুত রিপোর্ট তৈরি
ডেটা ফিল্টারিং, গ্রুপিং, এবং ড্রিল-ডাউন অপশনের মাধ্যমে রিপোর্ট তৈরি করা দ্রুত এবং সহজ হয়। এটি ব্যবহারকারীকে সময় বাঁচাতে সহায়তা করে।
৩. মাল্টি-ডাইমেনশনাল অ্যানালাইসিস
Pivot Table মাল্টি-ডাইমেনশনাল ডেটা বিশ্লেষণের জন্য কার্যকর। উদাহরণস্বরূপ, পণ্য, অঞ্চল, এবং সময়ের ভিত্তিতে বিক্রয় তথ্য বিশ্লেষণ করা যায়।
৪. ডায়নামিক রিপোর্টিং
Pivot Table ডেটা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে রিপোর্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপডেট করে। এটি ব্যবহারকারীকে সর্বশেষ ডেটার উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে।
৫. পিভট চার্ট তৈরির সুবিধা
Pivot Table থেকে সরাসরি পিভট চার্ট তৈরি করা যায়, যা ডেটার ভিজ্যুয়ালাইজেশন আরও সহজ করে তোলে।
৬. ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক
Pivot Table ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় ডেটা বিশ্লেষণকে সহজ করে, যেমন বিক্রয় প্রবণতা, লাভজনক পণ্য বা এলাকাগুলি সনাক্ত করা।
Pivot Table এর উদ্ভাবনী বৈশিষ্ট্য এবং ডেটা অ্যানালাইসিস সহজ করার ক্ষমতা এক্সেলে এর জনপ্রিয়তা এবং গুরুত্ব বৃদ্ধি করেছে। এটি শুধুমাত্র একটি ফিচার নয়, বরং ব্যবসা, শিক্ষা এবং গবেষণায় ডেটা ব্যবস্থাপনার জন্য অপরিহার্য একটি টুল।
Excel Pivot Table (এক্সেল পিভট টেবিল) হল একটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং কার্যকরী টুল যা ব্যবহারকারীদের ডেটা বিশ্লেষণ, সারসংক্ষেপ, এবং ভিজ্যুয়ালাইজেশনে সহায়তা করে। এটি ডেটাকে পুনরায় সাজানো, গ্রুপিং এবং ফিল্টারিংয়ের মাধ্যমে ডেটার গুণগত বিশ্লেষণ সহজতর করে তোলে। নিচে পিভট টেবিলের সুবিধা এবং কেন এটি ব্যবহার করা উচিত তা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।
Pivot Table এর সুবিধা
১. ডেটা বিশ্লেষণে দ্রুততা
Pivot Table ব্যবহার করে দ্রুত এবং সহজে ডেটার উপরের সারাংশ এবং বিশ্লেষণ তৈরি করা যায়। ডেটার বিশাল ভলিউম থেকে শুধুমাত্র গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো আলাদা করে দেখা সম্ভব, যা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
২. সহজ এবং ব্যবহারকারী-বান্ধব ইন্টারফেস
Pivot Table এর ড্র্যাগ-এন্ড-ড্রপ ফিচার ব্যবহার করে ব্যবহারকারী খুব সহজেই প্রয়োজনীয় ফিল্ডগুলো যোগ বা সরিয়ে নিতে পারেন। এটি নতুন বা অল্প অভিজ্ঞ ব্যবহারকারীদের জন্যও খুব সহজ করে তোলে।
৩. ডাইনামিক এবং ইন্টারঅ্যাকটিভ রিপোর্ট
Pivot Table স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডেটা পরিবর্তন বা আপডেট হলে রিপোর্ট আপডেট করে, যা এটি ডাইনামিক এবং ইন্টারঅ্যাকটিভ করে তোলে। এর ফলে যে কোনো সময়ে তথ্যের সঠিক অবস্থান পাওয়া যায়।
৪. ডেটা ফিল্টার এবং গ্রুপিং
Pivot Table এ ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন ফিল্টার প্রয়োগ করে নির্দিষ্ট ডেটার উপর ফোকাস করতে পারেন এবং ডেটাকে বিভিন্ন বিভাগে (যেমন তারিখ, অঞ্চল, পণ্য ইত্যাদি) গ্রুপ করে বিশ্লেষণ করতে পারেন।
৫. বিভিন্ন ধরনের ডেটা সংক্ষেপ (Summarization)
Pivot Table বিভিন্ন ডেটা সংক্ষেপ পদ্ধতি প্রদান করে যেমন গড় (average), মোট (sum), গণনা (count), সর্বোচ্চ (max), সর্বনিম্ন (min) ইত্যাদি। এসব পদ্ধতি ডেটাকে সহজে এবং কার্যকরভাবে বিশ্লেষণ করতে সহায়ক।
৬. ভিজ্যুয়াল রিপোর্ট তৈরি করা সহজ
Pivot Table থেকে সরাসরি Pivot Charts তৈরি করা যায়, যা ডেটার ভিজ্যুয়াল উপস্থাপন করতে সহায়তা করে। এটি বিশেষত ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক।
৭. ডেটা স্লাইসিং (Data Slicing)
Pivot Table ব্যবহারকারীকে ডেটা স্লাইসিংয়ের সুবিধা দেয়, যার মাধ্যমে একাধিক ভিন্ন ভিন্ন প্যারামিটার বা ফিল্ডের উপর ভিত্তি করে ডেটা বিশ্লেষণ করা সম্ভব। উদাহরণস্বরূপ, সময়, অঞ্চল, পণ্য ইত্যাদির ভিত্তিতে একাধিক রিপোর্ট তৈরি করা যেতে পারে।
কেন Pivot Table ব্যবহার করা হয়?
১. বৃহৎ ডেটা সেটের দ্রুত বিশ্লেষণ
বৃহৎ ডেটাসেটে সঠিক তথ্য বের করা অনেক সময় জটিল হতে পারে। Pivot Table ডেটাকে সহজভাবে সংগঠিত এবং বিশ্লেষণ করতে সাহায্য করে, যাতে প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত পাওয়া যায়।
২. ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তে সহায়তা
ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য পিভট টেবিলের মাধ্যমে সহজেই বিক্রয় প্রবণতা, লাভজনক পণ্য, বাজারের চাহিদা ইত্যাদি বিশ্লেষণ করা যায়, যা সিদ্ধান্ত নিতে সহায়ক হয়।
৩. বিশ্লেষণের মধ্যে নমনীয়তা
Pivot Table ব্যবহারকারীদের ডেটার বিভিন্ন দিক থেকে বিশ্লেষণ করার সুযোগ দেয়। যেমন, এক্সেল পিভট টেবিলের মাধ্যমে আপনি একদিকে বিক্রয়ের পরিমাণ দেখতে পারেন এবং অন্যদিকে বিক্রয়ের গড় মূল্য বা অন্যান্য মেট্রিক্স বিশ্লেষণ করতে পারেন।
৪. ডেটার সঠিক উপস্থাপনা
Pivot Table স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডেটা সংক্ষেপ এবং সঠিকভাবে উপস্থাপন করে, যার ফলে ডেটার কোনো অংশ বাদ পড়ে না এবং পুরো ডেটার একটি পরিষ্কার চিত্র পাওয়া যায়।
৫. ডেটা অডিটিং এবং রিভিউ
Pivot Table ব্যবহার করে আপনি ডেটার অন্তর্নিহিত প্যাটার্ন এবং ত্রুটি খুঁজে বের করতে পারেন, যা ডেটা অডিটিং এবং রিভিউ প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে।
৬. সহজ ভিজ্যুয়ালাইজেশন
Pivot Table থেকে তৈরি করা পিভট চার্ট বা গ্রাফ ব্যবহার করে ডেটার ভিজ্যুয়াল উপস্থাপন আরও সহজ হয়ে ওঠে, যা পেশাদার রিপোর্টে খুবই কার্যকরী।
Pivot Table এক্সেলে ডেটা বিশ্লেষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ টুল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি ব্যবসায়িক, আর্থিক এবং অন্যান্য ডেটা বিশ্লেষণকারী কাজে দ্রুত, কার্যকর এবং নির্ভুল ফলাফল প্রদান করে।
Excel Pivot Table এর কাজ করতে গিয়ে চারটি মূল উপাদান ব্যবহৃত হয়— Rows, Columns, Values, এবং Filters। এগুলোর মাধ্যমে ডেটাকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ এবং উপস্থাপন করা হয়। নিচে এই চারটি উপাদান বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।
Rows (রো)
Pivot Table এর Rows অংশে এমন ফিল্ডগুলো রাখা হয় যেগুলি ডেটার বিভিন্ন সারির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই ফিল্ডগুলোকে আপনি সেগ্রিগেট বা গ্রুপ করে বিভিন্ন বিভাগে ভাগ করতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনার ডেটাতে বিক্রয়ের তথ্য থাকে, তাহলে আপনি Product Name (পণ্যের নাম) বা Region (অঞ্চল) ফিল্ডটি Rows-এ রাখতে পারেন।
কীভাবে কাজ করে:
- আপনি Rows অংশে ফিল্ডগুলি টেনে আনলে, প্রতিটি ভিন্ন মান (unique value) আলাদা আলাদা সারিতে বিভক্ত হবে।
- উদাহরণ: যদি আপনি "Region" ফিল্ডটি Rows-এ রাখেন, তাহলে আপনার পিভট টেবিলের প্রতিটি সারি আলাদা আলাদা অঞ্চলের বিক্রয় তথ্য দেখাবে।
Columns (কলাম)
Pivot Table এর Columns অংশে ফিল্ডগুলো এমনভাবে রাখা হয় যাতে ডেটার হেডিং হিসেবে দেখানো যায়। এখানে আপনি সাধারণত মুল্যবোধক (categorical) বা সময়ভিত্তিক ফিল্ড ব্যবহার করতে পারেন যা কলামে বিভক্ত হয়ে প্রতিটি কলামে আলাদা আলাদা মান উপস্থাপন করবে।
কীভাবে কাজ করে:
- Columns অংশে ফিল্ডগুলো টেনে আনার মাধ্যমে ডেটার বিভাজন করা হয়। আপনি যে কোনো ফিল্ড, যেমন "Month" (মাস) বা "Salesperson" (বিক্রয় প্রতিনিধি), এখানে রাখলে, পিভট টেবিলের প্রতিটি কলামে সংশ্লিষ্ট মান দেখাবে।
- উদাহরণ: যদি আপনি "Month" ফিল্ডটি Columns-এ রাখেন, তাহলে আপনার পিভট টেবিলের প্রতিটি কলাম আলাদা মাসের বিক্রয় তথ্য দেখাবে।
Values (ভ্যালু)
Pivot Table এর Values অংশে ফিল্ডগুলো থাকে, যেগুলি সংখ্যাগত ডেটা যেমন গড় (average), মোট (sum), গুণফল (product), গণনা (count) ইত্যাদি উপস্থাপন করে। এই অংশে আপনি সাধারণত সংখ্যামূলক ডেটা যেমন বিক্রয় পরিমাণ, পরিমাণ, লাভ ইত্যাদি রাখবেন।
কীভাবে কাজ করে:
- Values অংশে টেনে আনা ফিল্ডগুলো সাধারণত গাণিতিক অপারেশন যেমন sum, average, count, max, min ইত্যাদি প্রদান করবে।
- উদাহরণ: যদি আপনি "Sales Amount" (বিক্রয়ের পরিমাণ) ফিল্ডটি Values অংশে রাখেন, পিভট টেবিল আপনার পছন্দসই অপারেশন (যেমন মোট বিক্রয় বা গড় বিক্রয়) অনুযায়ী ফলাফল দেখাবে।
Filters (ফিল্টার)
Pivot Table এর Filters অংশে আপনি ডেটাকে নির্দিষ্ট মান বা শর্তের ভিত্তিতে ফিল্টার করতে পারেন। এটি আপনাকে নির্দিষ্ট কোনো ডেটা শো করতে বা বাদ দিতে সাহায্য করে। Filters অংশে সাধারণত এমন ফিল্ড থাকে যা দিয়ে আপনি পিভট টেবিলের ডেটা সীমাবদ্ধ করতে পারেন, যেমন: "Year" (বছর), "Category" (শ্রেণী), "Region" (অঞ্চল) ইত্যাদি।
কীভাবে কাজ করে:
- Filters অংশে ফিল্ড টেনে আনার মাধ্যমে আপনি নির্দিষ্ট মান বা শর্তের ভিত্তিতে ডেটা ফিল্টার করতে পারবেন। যেমন, আপনি শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল বা বছরে বিক্রয় ডেটা দেখতে পারেন।
- উদাহরণ: যদি আপনি "Year" (বছর) ফিল্ডটি Filters অংশে রাখেন, আপনি তখন শুধু একটি নির্দিষ্ট বছরের বিক্রয় পরিসংখ্যান দেখতে পারবেন।
এক্সেল পিভট টেবিলের উপাদানগুলোর মধ্যে সম্পর্ক
- Rows এবং Columns এর মধ্যে একটি সম্পর্ক থাকে, যা আপনার ডেটাকে সারি এবং কলামে গ্রুপ করে।
- Values অংশে ডেটার গাণিতিক এবং পরিমাণগত বিশ্লেষণ করা হয়, যা Rows এবং Columns-এর উপর ভিত্তি করে উপস্থাপিত হয়।
- Filters অংশ দিয়ে আপনি পিভট টেবিলের ডেটা নির্দিষ্ট শর্তের অধীনে প্রদর্শন করতে পারেন, যেমন একটি নির্দিষ্ট পণ্যের বিক্রয় বা নির্দিষ্ট সময়ের ডেটা।
Excel Pivot Table এর এই উপাদানগুলো ব্যবহার করে আপনি আপনার ডেটাকে সহজে এবং কার্যকরভাবে বিশ্লেষণ করতে পারেন এবং ফলস্বরূপ, তথ্যের উপর ভিত্তি করে ভালো সিদ্ধান্ত নিতে সহায়ক হতে পারেন।
Read more