বাংলায় তুর্কি শাসনের ইতিহাস

মধ্যযুগের বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস (১২০৪ - ১৭৫৭ খ্রিষ্টাব্দ) - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা - এসএসসি | NCTB BOOK

4.6k

বাংলায় মুসলমান শাসন প্রতিষ্ঠার সূচনা করেন বখতিয়ার খলজি । এ পর্বের প্রথম পর্যায় ছিল ১২০৪ থেকে ১৩৩৮ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত । এ যুগের শাসনকর্তাদের পুরোপুরি স্বাধীন বলা যাবে না। তাঁদের কেউ ছিলেন বখতিয়ারের সহযোদ্ধা খলজি মালিক, আবার কেউ কেউ তুর্কি বংশের শাসক । শাসকদের সকলেই দিল্লির সুলতানদের অধীনে বাংলার শাসনকর্তা হয়ে এসেছিলেন । পরবর্তীকালে অনেক শাসনকর্তাই দিল্লির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে স্বাধীন হতে চেয়েছেন । তবে তাঁদের বিদ্রোহ শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি । দিল্লির আক্রমণের মুখে তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে । মুসলিম শাসনের এ যুগ ছিল বিদ্রোহ-বিশৃঙ্খলায় পূর্ণ । তাই ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দিন বারানী বাংলাদেশের নাম দিয়েছিলেন 'বুলগাকপুর' । এর অর্থ ‘বিদ্রোহের নগরী' ।

বখতিয়ার খলজির মৃত্যুর পর তাঁর সহযোদ্ধাদের মধ্যে শুরু হয় ক্ষমতার দ্বন্দ্ব । তাঁর সহযোদ্ধা তিনজন খলজি মালিকের নাম জানা যায় । তাঁরা হচ্ছেন- মুহম্মদ শিরান খলজি, আলি মর্দান খলজি এবং হুসামউদ্দিন ইওজ খলজি । অনেকেরই ধারণা ছিল আলী মর্দান খলজি বখতিয়ার খলজির হত্যাকারী। এ কারণে খলজি আমির ও সৈন্যরা তাঁদের নেতা নির্বাচিত করেন মুহম্মদ শিরান খলজিকে । তিনি কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হন। আলি মর্দান খলজিকে বন্দী করা হয় । পরে আলি মর্দান পালিয়ে যান এবং দিল্লির সুলতান কুতুবউদ্দিনের সহযোগিতা লাভ করেন । শিরান খলজির শাসনকাল মাত্র এক বছর স্থায়ী ছিল। এরপর ১২০৮ খ্রিষ্টাব্দে দেবকোটের শাসনকর্তার দায়িত্ব গ্রহণ করেন হুসামউদ্দিন ইওজ খলজি । দিল্লির সহযোগিতায় দুই বছর পর ফিরে আসেন আলি মর্দান খলজি । ইওজ খলজি স্বেচ্ছায় তাঁর হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেন । আলি মর্দান খলজি ১২১০ খ্রিষ্টাব্দে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং নিজের নাম নেন আলাউদ্দিন আলি মদান খলজি । খুব কঠোর শাসক ছিলেন তিনি। তাই তাঁর বিরুদ্ধে ক্রমে বিক্ষোভ বাড়তে থাকে। খলজি মালিকরা একজোট হয়ে বিদ্রোহ করে । তাঁদের হাতে নিহত হন আলি মর্দান খলজি । ইওজ খলজি দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় আসেন । তিনি এ পর্যায়ে গিয়াসউদ্দিন ইওজ খলজি নাম নিয়ে স্বাধীন সুলতান হিসেবে বাংলা শাসন করেন। ১২১২ থেকে ১২২৭ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় ১৫ বছর তিনি বাংলার সুলতান ছিলেন ।

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

জনগণের উচ্ছৃঙ্খল আচরণ
দুর্বল কেন্দ্রীয় শাসন
কেন্দ্রের বিরুদ্ধে স্থানীয় শাসকদের পুনঃপুন বিদ্রোহ ঘোষণা.
বিভিন্ন পরগনার জমিদারদের অন্তর্দ্বন্দ্ব
জনগণের রাজনৈতিক অধিকার উপেক্ষিত থাকায়
বিভিন্ন অঞ্চলে দক্ষ প্রশাসক না থাকায়
শাসকদের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব থাকায়
অঞ্চলটি বিদ্রোহ ও বিশৃংখলাপূর্ণ থাকায়
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...