যখন আপনি একটি ওয়েবসাইট তৈরি করেন, তখন আপনি হয়তো সাইটের বিভিন্ন বিভাগ বা পৃষ্ঠা আলাদা করতে চান। এর জন্য সাবডোমেইন (subdomain) এবং সাবডিরেক্টরি (subdirectory) ব্যবহার করা হয়। এগুলো মূল ডোমেইনের অধীনে আলাদা আলাদা সেকশন তৈরি করতে সাহায্য করে। এখানে সাবডোমেইন এবং সাবডিরেক্টরি সেটআপের পদ্ধতি এবং তাদের মধ্যে পার্থক্য আলোচনা করা হয়েছে।
1. সাবডোমেইন এবং সাবডিরেক্টরি কী?
- সাবডোমেইন: সাবডোমেইন একটি প্রধান ডোমেইনের অধীনে তৈরি করা একটি আলাদা ডোমেইন নাম। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনার মূল ডোমেইন হয়
example.com, তাহলে একটি সাবডোমেইন হতে পারেblog.example.comবাshop.example.com। - সাবডিরেক্টরি: সাবডিরেক্টরি হলো মূল ডোমেইনের ভিতরে একটি ফোল্ডার, যার মাধ্যমে আপনি ওয়েবসাইটের একটি নির্দিষ্ট বিভাগ আলাদা করে রাখতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ,
example.com/blogবাexample.com/shop।
2. সাবডোমেইন সেটআপ
সাবডোমেইন সাধারণত আলাদা পণ্য, সেবা, বা বিভাগ প্রদর্শন করতে ব্যবহৃত হয় এবং এটি একে একে সম্পূর্ণ একটি আলাদা সাইটের মতো কাজ করতে পারে। সাবডোমেইন তৈরির জন্য আপনাকে ওয়েব হোস্টিং বা ডোমেইন ম্যানেজমেন্ট প্যানেল ব্যবহার করতে হবে।
সাবডোমেইন তৈরি করার পদ্ধতি (cPanel ব্যবহার করে):
- cPanel-এ লগইন করুন।
- Domains সেকশনে যান এবং Subdomains অপশনটি নির্বাচন করুন।
- এখানে আপনি সাবডোমেইন নাম লিখবেন, যেমন
blog,shopবা আপনার পছন্দসই নাম। - সাবডোমেইনের জন্য একটি ডিরেক্টরি তৈরি হবে, যেটি সাধারণত public_html এর ভিতরে থাকবে।
- Create বাটনে ক্লিক করলে আপনার সাবডোমেইন তৈরি হয়ে যাবে।
- এবার, আপনি নতুন সাবডোমেইন এ ওয়ার্ক করতে পারেন বা আলাদা ওয়েবসাইট বা কনটেন্ট আপলোড করতে পারেন।
সাবডোমেইনে সাইট ইনস্টল করা:
- সাবডোমেইন তৈরি হওয়ার পর, আপনি File Manager বা FTP ব্যবহার করে আপনার সাবডোমেইনে সাইট ফাইল আপলোড করতে পারবেন।
- যদি আপনি WordPress বা অন্য কোনো CMS ইনস্টল করতে চান, তাহলে Softaculous বা One-click Install টুল ব্যবহার করে সেটি ইনস্টল করতে পারেন।
3. সাবডিরেক্টরি সেটআপ
সাবডিরেক্টরি মূল ডোমেইনের ভিতরে একটি ফোল্ডার তৈরি করে, যেটি নির্দিষ্ট বিভাগ বা কন্টেন্ট গ্রুপের জন্য ব্যবহার করা হয়। এটি সাবডোমেইনের মতো আলাদা অনুভূতি দেয় না, তবে মূল সাইটের মধ্যে একত্রিত থাকে। সাধারণত এটি ছোট সাইট বা কনটেন্টের জন্য ব্যবহার করা হয়।
সাবডিরেক্টরি তৈরি করার পদ্ধতি (cPanel ব্যবহার করে):
- cPanel-এ লগইন করুন।
- File Manager এ যান এবং public_html ফোল্ডারে একটি নতুন ডিরেক্টরি তৈরি করুন। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি একটি ব্লগ তৈরি করতে চান, তাহলে একটি ডিরেক্টরি
blogনামে তৈরি করুন। - নতুন ডিরেক্টরির ভিতরে প্রয়োজনীয় ফাইল আপলোড করুন বা CMS ইনস্টল করুন (যেমন WordPress)।
- আপনি চাইলে Softaculous এর মাধ্যমে WordPress ইনস্টল করে সাবডিরেক্টরিতে একটি নতুন সাইট তৈরি করতে পারেন।
সাবডিরেক্টরিতে WordPress ইনস্টলেশন:
- Softaculous বা অন্য কোনো ইনস্টলেশন টুল ব্যবহার করে WordPress ইনস্টল করুন এবং সাবডিরেক্টরি (
example.com/blog) এ ফাইলগুলো আপলোড করুন। - ইনস্টলেশন শেষ হলে, আপনি example.com/blog-এ গিয়ে WordPress ড্যাশবোর্ড অ্যাক্সেস করতে পারবেন।
4. সাবডোমেইন এবং সাবডিরেক্টরি এর মধ্যে পার্থক্য
| বৈশিষ্ট্য | সাবডোমেইন | সাবডিরেক্টরি |
|---|---|---|
| প্রতিষ্ঠান | একক ডোমেইন নামের অধীনে একটি আলাদা সাইট। | মূল ডোমেইনের মধ্যে একটি ফোল্ডার। |
| SEO ইফেক্ট | সাধারণত আলাদা সাইট হিসেবে পরিগণিত হয়। | মূল ডোমেইনের অংশ হিসেবে গণনা করা হয়। |
| ইন্সটলেশন | সাবডোমেইনে আলাদা ওয়েবসাইট ইনস্টল করা যায়। | মূল সাইটের অধীনে কন্টেন্ট বা সিস্টেম ইনস্টল হয়। |
| ব্যবহার | বড় ব্যবসা বা আলাদা বিভাগ বা সেবার জন্য উপযুক্ত। | ছোট সাইট বা কনটেন্টের জন্য উপযুক্ত। |
5. সাবডোমেইন এবং সাবডিরেক্টরি নির্বাচন
- সাবডোমেইন ব্যবহার করুন যদি:
- আপনার সাইটের একটি আলাদা সেকশন বা সম্পূর্ণ আলাদা ওয়েবসাইট তৈরি করতে চান।
- SEO এর জন্য সাইটের পৃথক ভূমিকা রাখতে চান।
- সাবডিরেক্টরি ব্যবহার করুন যদি:
- আপনি একটি নির্দিষ্ট বিভাগ বা সাইটের অংশ আলাদা করতে চান কিন্তু মূল ডোমেইন এর অধীনে রাখতে চান।
- SEO এর জন্য মূল সাইটের সাথে সংযুক্ত থাকতে চান।
এইভাবে আপনি সাবডোমেইন এবং সাবডিরেক্টরি সেটআপ করতে পারেন, যা আপনার ওয়েবসাইটের কাঠামো এবং SEO কৌশল অনুযায়ী আপনার প্রয়োজন মেটাতে সাহায্য করবে।
Read more