'আমলার মামলা' নাটকের রচয়িতা কে?
'আমলার মামলা' নাটকের রচয়িতা কে?
-
ক
সেলিনা কবির
-
খ
রোকেয়া হোসেন
-
গ
আবু ইসহাক
-
ঘ
শওকত ওসমান
'আমলার মামলা' নাটকের রচয়িতা শওকত ওসমান। তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলোঃ
| উপন্যাস | জাহান্নাম হইতে বিদায়, জননী, দুই সৈনিক, নেকড়ে অরণ্যে, জলাঙ্গী, ক্রীতদাসের হাসি, বনি আদম, আর্তনাদ ইত্যাদি। |
| নাটক | আমলার মামলা, তস্কর ও লস্কর, কাকড়মনি, বাগদাদের কবি ইত্যাদি। |
| গল্প | জন্ম যদি তব বঙ্গে, ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী, পিজরাপোল ইত্যাদি। |
| প্রবন্ধ | সংস্কৃতির চড়াই উৎরাই, মুসলিম মানসের রূপান্তর। |
| শিশুতোষ | ওটেন সাহেবের বাংলো, পঞ্চসন্দী। |
বাংলাদেশের বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার ও প্রাবন্ধিক শওকত ওসমানের সাহিত্যকর্মে তাঁর তীক্ষ্ণ সমাজসচেতন ও প্রগতিশীল ভাবধারার শৈল্পিক ফসল। মুক্তিযুদ্ধ ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে তিনি ছিলেন উচ্চকিত কন্ঠের অধিকারী।
১৫ আগস্ট, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হলে তিনি স্বেচ্ছায় ৫ বছর কলকাতায় নির্বাসনে ছিলেন। ১৯৫৮ সাল থেকে তিনি ঢাকা কলেজে অধ্যাপনা করেন এবং ১৯৭২ সালে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন।
- শওকত ওসমান ২ জানুয়ারি, ১৯১৭ সালে হুগলীর সবল সিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান।
- বর্তমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান তাঁর ছেলে।
- প্রয়াত হুমায়ুন আজাদ শওকত ওসমানকে 'অগ্রবর্তী আধুনিক মানুষ' নামে অভিহিত করেন।
- জীবনের শেষ প্রান্তে আত্মজীবনী 'রাহনামা' লেখা শুরু করেন কিন্তু শেষ করতে পারেননি।
- তিনি কিছুদিন 'কৃষক' পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন।
- তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২), আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৬), একুশে পদক (১৯৮৩), ফিলিপস পুরস্কার (১৯৯১), স্বাধীনতা পুরস্কার (১৯৯৭) পান।
- তিনি ১৪ মে, ১৯৯৮ সালে ঢাকায় মারা যান।
শওকত ওসমানের গ্রন্থাকারে প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থঃ
'জননী' (১৯৫৮): এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস। সন্তানের মঙ্গলাকাঙ্ক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য একজন মা গোপনে যে কোনো পথ অবলম্বন করতে পারেন, শওকত ওসমান সে কথাই এ উপন্যাসে ব্যক্ত করেছেন। মহেশডাঙ্গার দরিয়াবিবি সন্তান মোনাদি'কে আর্থিক সহায়তা দেয়ার জন্য ইয়াকুবের শয্যাসঙ্গিনী হয়। ইয়াকুবের ঔরষে তার গর্ভে সন্তান এলেও সামাজিক সকল বিপত্তি এড়িয়ে অসীম মমতায় তাকে লালন-পালন করে। এ উপন্যাসে ফুটে উঠেছে মুসলিম সমাজের শরিয়তি দ্বন্দ্ব, বিত্তবানদের স্বার্থপরতা, গ্রামের দরিদ্র মানুষদের পারস্পরিক বিবাদ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি। ওসমান জামাল এটি ইংরেজিতে 'জননী' (১৯৯৩) নামেই অনুবাদ করে অক্সফোর্ড থেকে প্রকাশ করেন। চরিত্র: দরিয়া বিবি, আজহার, মোনাদি, ইয়াকুব, চন্দ্রকোটাল।
তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসসমূহঃ
'জাহান্নম হইতে বিদায়' (১৯৭১): 'দেশ' পত্রিকার সম্পাদক শ্রী সাগরময় ঘোষের অনুরোধে শওকত ওসমান উপন্যাসটি সাতটি পর্বে সেপ্টেম্বর, ১৯৭১ সালে কলকাতায় বসে লেখেন। 'দেশ' পত্রিকার শারদীয় সংখ্যায় এটি প্রকাশিত হয়। এতে মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সময়কার চালচিত্র ফুটে উঠেছে। কেন্দ্রীয় চরিত্র: শিক্ষক গাজী রহমান।
'দুই সৈনিক' (১৯৭৩), 'নেকড়ে অরণ্য' (১৯৭৩), 'জলাঙ্গী' (১৯৭৬)।
| জননী (উপন্যাস) | শওকত ওসমান |
| জননী (উপন্যাস) | মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় |
তাঁর অন্যান্য উপন্যাসসমূহ:
'বনি আদম': এটি ১৯৪৬ সালে দৈনিক আজাদের সাহিত্য সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়।
'ক্রীতদাসের হাসি' (১৯৬২): এটি তাঁর প্রতীকাশ্রয়ী উপন্যাস। উপন্যাসটি আরব্য রজনী 'আলিফ লায়লা ওয়া লায়লা' এর শেষ গল্প 'জাহাকুল আবদ' এর অনুবাদ কিন্তু সর্বাংশে নয়। এ উপন্যাসে বাগদাদের বাদশা হারুন অর রশিদের মাধ্যমে তৎকালীন পাকিস্তানিদের বিরূপ শাসনের সমালোচনা করা হয়েছে। বাগদাদের বাদশা হারুন অর রশিদ অত্যাচারী। সে ক্রীতদাস তাতারি ও বাঁদি মেহেরজানের প্রণয়ে বাঁধা সৃষ্টি এবং তাতারিকে গৃহবন্দী ও অত্যাচার করে। তাতারি আমৃত্যু বাদশা হারুনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করে যায়। এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক। এর জন্য ১৯৬৬ সালে তিনি 'আদমজী সাহিত্য পুরস্কার' লাভ করেন। কবির চৌধুরী এটি ইংরেজিতে 'এ স্লেভ লাফস' (১৯৭৬) নামে অনুবাদ করে দিল্লি থেকে প্রকাশ করেন।
'আর্তনাদ' (১৯৮৫): ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস। চরিত্র: জাফর আলী।
'সমাগম' (১৯৬৭), 'চৌরসন্ধি' (১৯৬৮), 'রাজা উপাখ্যান' (১৯৭১), 'পতঙ্গ পিঞ্জর' (১৯৮৩), 'রাজপুরুষ' (১৯৯২)।
তাঁর অন্যান্য রচনাবলি:
নাটক: 'আমলার মামলা' (১৯৪৯), 'কাঁকড়মনি' (১৯৫২), 'তস্কর ও লস্কর' (১৯৫৩), 'বাগদাদের কবি' (১৯৫৩), 'জন্ম জন্মান্তর' (১৯৬০), 'পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা' (১৯৯০)।
গল্প:
'জন্ম যদি তব বঙ্গে' (১৯৭৫): এটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক।
'তোলপাড়': মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্প।
'সৌদামিনী মালো': গল্পে আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে নিয়ত মানবাত্মার যে অবমাননা চলছে, তারই চিত্র ফুটে উঠেছে।
'ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী' (১৯৯০): এর জন্য তিনি ১৯৯১ সালে ফিলিপস পুরস্কার পান।
'পিঁজরাপোল' (১৯৫১), 'জুনু আপা ও অন্যান্য গল্প' (১৯৫২), 'প্রস্তর ফলক' (১৯৬৪), 'নেত্রপথ' (১৯৬৮), 'মনিব ও তাহার কুকুর' (১৯৮৬), 'পুরাতন খঞ্জর' (১৯৮৭)।
প্রবন্ধ: 'ভাব ভাষা ও ভাবনা' (১৯৭৪), 'সংস্কৃতির চড়াই উৎরাই' (১৯৮৫), 'মুসলিম মানসের রূপান্তর' (১৯৮৬)।
শিশুতোষ: 'ওটেন সাহেবের বাংলো' (১৯৪৪), 'মস্কুইটোফোন' (১৯৫৭), 'ক্ষুদে সোশালিস্ট' (১৯৭৩), 'পঞ্চসঙ্গী' (১৯৮৭)।
রম্যরচনা: 'নিজস্ব সংবাদদাতা প্রেরিত' (১৯৮২)।
স্মৃতিকথা: 'স্বজন সংগ্রাম' (১৯৮৬), 'কালরাত্রি খণ্ডচিত্র' (১৯৮৬), 'অনেক কথন' (১৯৯১), 'মুজিবনগর' (১৯৯৩), 'অস্তিত্বের সঙ্গে সংলাপ' (১৯৯৪), 'সোদরের খোঁজে স্বদেশের সন্ধানে' (১৯৯৫), 'মৌলবাদের আগুন নিয়ে খেলা' (১৯৯৬), 'আর এক ধারাভাষ্য' (১৯৯৬)।
অনুবাদ: 'নিশো' (১৯৪৮-৪৯), 'লুকনিতশি' (১৯৪৮), 'বাগদাদের কবি' (১৯৫৩), 'টাইম মেশিন' (১৯৫৯), 'ডাক্তার আবদুল্লাহর কারখানা' (১৯৭৩), 'সন্তানের স্বীকারোক্তি' (১৯৮৫)।
Related Question
View All'মৌন নয়' ছোটগল্পটি কার লেখা?
-
ক
শওকত ওসমান
-
খ
মুনীর চৌধুরী
-
গ
জহির রায়হান
-
ঘ
রাবেয়া খাতুন
'ক্রীতদাসের হাসি' কার রচনা?
-
ক
হাসান আজিজুল হক
-
খ
আলাউদ্দীন আল আজাদ
-
গ
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
-
ঘ
শওকত ওসমান
'ক্রীতদাসের হাসি' একটি-
-
ক
নাটক
-
খ
কবিতা
-
গ
ছোটগল্প
-
ঘ
উপন্যাস
'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাসের লেখক কে?
-
ক
আহসান হাবীব
-
খ
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
-
গ
শওকত ওসমান
-
ঘ
আবুল ফজল
'ক্রীতদাসের হাসি' একটি-
-
ক
রচনাসমগ্র
-
খ
উপন্যাস
-
গ
কাব্যগ্রন্থ
-
ঘ
নাটক
'জননী' উপন্যাসের লেখক কে?
-
ক
আবুল ফজল
-
খ
শওকত ওসমান
-
গ
জহির রায়হান
-
ঘ
আবুল মনসুর
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
Related Question
Question Analytics
মোট উত্তরদাতা
জন