উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নের উত্তর দাও

ইঙ্গিতকৃত বিষয়টি একটি রাষ্ট্রে নিশ্চিত করা গেলে কী প্রতিষ্ঠিত হবে?

Updated: 1 year ago
  • ক
    সার্বজনিন শিক্ষা
  • খ
    আমলাতান্ত্রিকতা
  • গ
    সামাজিকতা
  • ঘ
    আইনের শাসন
60
ব্যাখ্যাঃ

উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়গুলো হলো সরকারের জবাবদিহিতা, বিকেন্দ্রীকরণ, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা। একটি আধুনিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সুশাসন (Good Governance) প্রতিষ্ঠার জন্য এই নীতিগুলো অপরিহার্য। এই নীতিগুলো সমষ্টিগতভাবে আইনের শাসন (Rule of Law) নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।

        
  • সরকারের জবাবদিহিতা (Government Accountability): আইনের শাসনের একটি মৌলিক উপাদান হলো সরকার তার সকল কর্মকাণ্ডের জন্য জনগণের কাছে এবং আইনের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে। এটি নিশ্চিত করে যে সরকার স্বেচ্ছাচারীভাবে কাজ করতে পারবে না, বরং প্রতিষ্ঠিত আইন ও নিয়মের অধীনে চলবে।
  •     
  • বিকেন্দ্রীকরণ (Decentralization): ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখে কারণ এটি ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ রোধ করে এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রশাসনকে জনগণের কাছে আরও দায়বদ্ধ ও স্বচ্ছ করে তোলে। এটি জনগণের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করে এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ কমায়।
  •     
  • গণমাধ্যমের স্বাধীনতা (Freedom of the Press/Media): স্বাধীন গণমাধ্যম সরকারের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করে, তথ্য প্রকাশ করে এবং জনগণের কাছে তুলে ধরে। এর ফলে সরকার জবাবদিহি করতে বাধ্য হয় এবং ক্ষমতার অপব্যবহার বা আইন লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো জনসম্মুখে আসে, যা আইনের শাসনকে শক্তিশালী করে।
  •     
  • বিচার বিভাগের স্বাধীনতা (Independence of the Judiciary): আইনের শাসনের মূল ভিত্তি হলো একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগ। এটি নিশ্চিত করে যে সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং কোনো প্রকার প্রভাবমুক্ত হয়ে আইন প্রয়োগ ও বিচার কার্য পরিচালনা করা হয়। বিচার বিভাগ স্বাধীন না হলে আইন প্রয়োগে পক্ষপাতিত্ব হতে পারে এবং আইনের শাসন বিঘ্নিত হতে পারে।

এই চারটি বৈশিষ্ট্যই সরাসরি আইনের শাসনের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং একে অপরের পরিপূরক। যখন একটি রাষ্ট্রে এই বিষয়গুলো নিশ্চিত করা হয়, তখন ব্যক্তি স্বাধীনতা সুরক্ষিত হয়, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয় এবং সরকার আইনের অধীনে কাজ করতে বাধ্য হয়, যা সামগ্রিকভাবে আইনের শাসনকে শক্তিশালী করে।

অন্যান্য বিকল্পগুলো হলো:

        
  • সার্বজনিন শিক্ষা: এটি সমাজের উন্নতি ও অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়গুলো সরাসরি আইনের শাসনের সাথে জড়িত, শিক্ষার সাথে নয়।
  •     
  • আমলাতান্ত্রিকতা: এটি একটি প্রশাসনিক ব্যবস্থা যা আইনের শাসনের পরিপন্থী হতে পারে যদি আমলাতন্ত্র জবাবদিহিহীন ও দুর্নীতিগ্রস্ত হয়। উদ্দীপকের বিষয়গুলো আমলাতান্ত্রিকতা কমানো বা জবাবদিহি নিশ্চিত করার সহায়ক।
  •     
  • সামাজিকতা: এটি একটি ব্যাপক ধারণা যা সামাজিক সম্পর্ক ও মিথস্ক্রিয়াকে বোঝায়। উদ্দীপকের বিষয়গুলো রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক স্তম্ভের সাথে সম্পর্কিত, সামাজিকতার সাথে সরাসরি নয়।

অতএব, ইঙ্গিতকৃত বিষয়গুলো একটি রাষ্ট্রে নিশ্চিত করা গেলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।

Satt AI
Satt AI
3 months ago

(Rule of Law)

নাগরিক জীবনে আইনের শাসন

আইনের শাসনের মূল কথা হল আইনের দৃষ্টিতে সকলে সমান। অর্থাৎ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ব্যক্তি থেকে সাধারণ নাগরিক পর্যন্ত সকলের জন্য আইন একইভাবে প্রযোজ্য হবে। একটি গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা টিকে থাকার জন্য আইনের শাসন অপরিহার্য। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আইনের শাসন একটি অপরিহার্য অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে। রাষ্ট্র সঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা অপরিহার্য। আইনের শাসনের একটি অর্থ হচ্ছে নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজ থেকে অন্যায়, বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য দূর হয়। ফলে সমাজে স্থিতিশীলতা আসে। আইনের শাসন না থাকলে সবল-দুর্বল, ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান প্রকট হতে থাকে। আইনের শাসনের অভাবে রাজনৈতিক কারণে বিচার ব্যবস্থাও প্রভাবিত হয়।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার উপায়সমূহ নিম্নরূপ:

আইন মান্য করা: রাষ্ট্রের বিদ্যমান আইন মেনে চলা প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য। পৃথিবীর প্রত্যেক সভ্য জাতিই আইন মেনে চলে। আইন মেনে চলা, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন উন্নত জাতিরই বহিঃপ্রকাশ।

যথাযথভাবে আইনের প্রয়োগ: আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অপরাধীর সার্বিক অপরাধ বিবেচনায় নিয়ে যে আইনটি তার জন্য প্রযোজ্য তাই প্রয়োগ করা উচিত। আইন প্রয়োগে আবেগের কোন স্থান দেয়া উচিত নয়।

যুক্তিসংগত ও যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন: সেকেলে আইন সংস্কার করা এবং বাস্তবসম্মত ও সুদূরপ্রসারী আইন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উনবিংশ শতাব্দীর সকল আইন একবিংশ শতাব্দীতে প্রযোজ্য নাও হতে পারে। তাই নিয়মিতভাবে আইনের সংস্কার জরুরি।

বিদ্যমান আইন সম্পর্কে নাগরিকদের সচেতন করা: সচেতন নাগরিক সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রথম শর্ত। আইন সম্পর্কে নাগরিকগণ যদি সচেতন হয় তাহলে অপরাধ প্রবণতা কমে আসে এবং রাষ্ট্রে শান্তি শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সহজ হয়। তাই রাষ্ট্রে বিদ্যমান আইন এবং নতুন প্রণিতব্য আইন সম্পর্কে নাগরিকদেরকে সচেতন করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

যথাসময়ে আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করা: ইংরেজিতে বলা হয় Justice delayed, justice denied. অর্থাৎ, বিচার বিলম্বিত হওয়া মানে বিচার না হওয়া। যখন যে অপরাধ সংঘটিত তখনই তার বিচার করাই উত্তম। কখনো-কখনো দেখা যায় যে, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সুবাদে অপরাধকারী ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়ানো থেকে রেহাই পেয়ে যায়। তাই আইনের শাসন নিশ্চিত করার জন্য যথাসময়ে বিচারকার্য সম্পাদন করা একান্ত প্রয়োজন।

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিক কর্তব্য

আইন রাষ্ট্র কর্তৃক প্রণীত ও বাস্তবায়িত হলেও, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকদেরও দায়িত্ব রয়েছে। তাই নাগরিকগণ যদি বিদ্যমান আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে নিজের বিবেক-বুদ্ধি দিয়ে কাজ করে তবেই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। যেমন, রাস্তায় কোন চুরি-ছিনতাই হতে দেখলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যদি তার কাছে কোন তথ্য জানতে চায় তবে তা জানিয়ে দেয়াটা নাগরিক কর্তব্য। প্রত্যেক নাগরিকের মাঝে এ বোধ আসতে হবে যে, আইনের শাসনের মাধ্যমেই তারা সবচেয়ে বেশি লাভবান হতে পারে।

আইন মান্য করার কারণ

আইনের শাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্ত হল আইন মান্য করা। আইনের যথাযথ প্রয়োগ যেমন জরুরি তেমনি আইন মান্য করাটাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেক আইনেই কিছু নির্দেশনা এবং তা অমান্য করলে শাস্তির ব্যবস্থা থাকে। তারপরও দেখা যায় কিছু কিছু ক্ষেত্রে আইন ভঙ্গ হয়। উন্নত দেশগুলোতে অধিকাংশ জনগণই আইন মেনে চলে এবং আইনকে শ্রদ্ধা করে। আইন মান্য করার অনেকগুলো কারণ আছে। তার মধ্যে একটি হল আইনের উপযোগিতা। জনগণ এটি বুঝতে পারে যে, আইন অধিকার রক্ষা করে, দুর্বলকে সবলের অত্যাচার থেকে রক্ষা করে এবং সমাজে শৃঙ্খলা রক্ষা করে। লর্ড ব্রাইস আইন মান্য করার কারণগুলোকে পাঁচ ভাগে ভাগ করেনঃ (ক) যৌক্তিকতার উপলব্ধি (খ) অপরের প্রতি শ্রদ্ধা (গ) নির্লিপ্ততা (ঘ) সহানুভূতি (ঙ) শাস্তির ভয়

সার-সংক্ষেপ
রাষ্ট্র সঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা অপরিহার্য। আইনের শাসনের অর্থ হচ্ছে আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের সমতা অর্থাৎ সকল নাগরিকের জন্য সমানভাবে আইন প্রয়োগ। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিক ও রাষ্ট্র উভয়েরই দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। নাগরিক আইনের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করবে। রাষ্ট্র যথাযথ আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করবে, সময়মতো বিচার করবে এবং সময়ে-সময়ে আইন সংস্কার করবে।

মূল্যবোধ, আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য-প্রথম পত্র-উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখকে বই

Related Question

View All
  • ক

    আক্ষরিক

  • খ

    রাষ্ট্রীয়

  • গ

    ব্যক্তিক

  • ঘ

    নৈর্ব্যক্তিক

127
Updated: 5 months ago
  • ক
    অধ্যাপক ডাইসি
  • খ
    অধ্যাপক গার্নার
  • গ
    লাস্কি
  • ঘ
    ব্রাইস
31
Updated: 1 year ago
  • ক
    চার বিভাগের স্বাধীনতা খর্ব হয়
    0%
    0 votes
  • খ
    কদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়
    0%
    0 votes
  • গ
    ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে
    0%
    0 votes
  • ঘ
    সু-শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়
    100%
    1 votes
603
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews

Question Analytics

মোট উত্তরদাতা

জন

সঠিক
ভুল
উত্তর নেই