উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও

উক্ত চিত্রটি সাধারণত কোথায় আঁকা হয়?

Updated: 6 months ago
  • রাজপথে
  • কাপড়ে
  • দেয়ালে
  • কাগজে
174
ব্যাখ্যাঃ

উদ্দীপকের চিত্রটি একটি দেয়াল চিত্র (Wall painting) বা গ্রাফিতি (Graffiti)। এই ধরনের চিত্র সাধারণত জনসমক্ষে কোনো দেয়াল বা প্রাচীরের উপর আঁকা হয়। এটি বিশেষত কোন সামাজিক বা রাজনৈতিক বার্তা প্রকাশ করতে ব্যবহৃত হয়। ছবিতে প্রদর্শিত "ফেব্রুয়ারি ১৯৫২" লেখাটি ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে এবং এমন চিত্রগুলো প্রায়শই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দেয়াল, রাস্তার পাশের দেয়াল বা ঐতিহাসিক স্থানে দেখা যায়।

অন্যান্য অপশনগুলো এই ধরনের চিত্রের জন্য প্রযোজ্য নয়:

        
  • রাজপথে: রাজপথে সাধারণত যান চলাচলের জন্য রাস্তা থাকে, সেখানে চিত্র আঁকা হয় না।
  •     
  • কাপড়ে: কাপড়ে যে চিত্র আঁকা হয়, তাকে পোশাক ডিজাইন, চিত্রকর্ম বা ব্যানার বলা যেতে পারে, কিন্তু দেয়াল চিত্রের সাথে এর সম্পর্ক নেই।
  •     
  • কাগজে: কাগজে আঁকা চিত্র সাধারণত স্কেচ, ছবি বা পোস্টার হিসেবে পরিচিত এবং সেগুলোকে দেয়াল চিত্রের মতো খোলা জায়গায় প্রদর্শন করা হয় না।

সুতরাং, প্রদত্ত চিত্রটি একটি দেয়াল চিত্র এবং এটি দেয়ালে আঁকা হয়েছে।

Satt AI
Satt AI
3 weeks ago

আমরা নানাভাবে মতপ্রকাশ করি। কথা বলে, লিখে, ছবি এঁকে, গান গেয়ে আরো অনেক উপায়ে আমরা মনের ভাব প্রকাশ করতে পারি। কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টার এরকম কয়েকটি মাধ্যম। এগুলো নির্মল হাসির উপাদান হতে পারে, আবার হাসির মাধ্যমে সমাজের নানা অসংগতিও প্রকাশ করা যায়। শুধু তাই নয়, অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতেও কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টার ব্যবহার করা হয়। পৃথিবীর কোনো দেশে যখন বড়ো আন্দোলন হয়, তখন চিত্রশিল্পীরা কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টার আঁকার মাধ্যমে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। এগুলোকে বলা যায় রাজনৈতিক কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র বা পোস্টার। এগুলো আন্দোলনে শক্তি জোগায় এবং মানুষকে আরো উজ্জীবিত করে।

অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও অনেক বড়ো বড়ো আন্দোলন-সংগ্রাম হয়েছে, গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। নানা শ্রেণি-পেশা আর মতের মানুষ নেমে এসেছে রাস্তায়। তখন আমাদের চিত্রশিল্পীরাও এগিয়ে এসেছেন। তাঁরা মিছিল-মিটিং করেছেন, অন্যদের সাথে নানা কর্মসূচি পালন করেছেন। তবে অন্যদের চেয়ে আলাদা একটা কাজও করেছেন তাঁরা কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টার এঁকে আন্দোলনকে শক্তিশালী করেছেন।

একটা কার্টুনের ছোট্ট ছবিতে প্রতিবাদের বা বিদ্রোহের যে প্রকাশ ঘটে, অনেক সময় হাজার কথায় তা প্রকাশ করা যায় না। অনেক সময় কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র বা পোস্টারের ছবি আন্দোলনের প্রতীক হয়ে ওঠে। বহু মানুষ তাতে মনের ভাষা খুঁজে পায়। আন্দোলন গড়ে ওঠার জন্য সেগুলো শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত বারবার এটা দেখা গেছে। এসব আন্দোলন-সংগ্রামে বহু কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টার আঁকা হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সারা দেশের দেয়ালে দেয়ালে অসংখ্য গ্রাফিতি আঁকা হয়েছে।

ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের সময় শেখ তোফাজ্জল হোসেনের আঁকা একটি কার্টুনে দেখা যায়, একটি গরু ঘাস খাচ্ছে পূর্ব পাকিস্তানে, কিন্তু তার দুধ চলে যাচ্ছে পশ্চিম পাকিস্তানে। তখন আমাদের দেশের নাম ছিল পূর্ব পাকিস্তান। আমাদের দেশকে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকেরা শোষণ করতো। শোষণের কথাটা তিনি এভাবে প্রকাশ করেছেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় নিতুন কুণ্ডুর আঁকা একটি পোস্টার 'সদা জাগ্রত বাংলার মুক্তিবাহিনী' বিভিন্ন স্থানে লাগানো দেখলে সাধারণ মানুষ আশার আলো দেখতে পেত, আর পাকিস্তানি সৈন্যরা ভয় পেত।

১৯৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের আগে 'দেশ আজ বিশ্ব বেহায়ার খপ্পরে' শিরোনামে একটা ব্যঙ্গচিত্র এঁকেছিলেন পটুয়া কামরুল হাসান। সেটা তখন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছিল। একটি ছবি আর একটিমাত্র বাক্য দেশের মানুষের জন্য অসাধারণ প্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছিল।

গণবিরোধী শাসকেরা কার্টুন আঁকার জন্য অনেক সময় শিল্পীদের নির্যাতন করে, জেলখানায় বন্দি করে রাখে, এমনকি হত্যাও করে। এইসব ভয়ভীতি উপেক্ষা করেও অনেক চিত্রশিল্পী ছবি ও কার্টুন আঁকেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগে একটি কার্টুনের শিরোনাম লিখেছিলেন বলে লেখক মুশতাক আহমেদকে জেলখানায় নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছিল। গণঅভ্যুত্থানের সময় চিত্রশিল্পী দেবাশিস চক্রবর্তী অনেক কার্টুন ও পোস্টার এঁকেছেন। এগুলো গণঅভ্যুত্থানের প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

তবে ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে নাম-না-জানা শিল্পীরাই সবচেয়ে বেশি কার্টুন আর ব্যঙ্গচিত্র এঁকেছেন। আন্দোলন চলার সময়ে এঁকেছেন, আন্দোলনের পরেও এঁকেছেন। সবচেয়ে বেশি এঁকেছেন সারাদেশের দেয়ালে। এগুলোকে গ্রাফিতি বলা হয়। এর পাশাপাশি শিল্পীরা বিপুল ব্যঙ্গচিত্র ও মিম প্রচার করেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। স্বৈরশাসক সবার মুখ বন্ধ করে দিয়েছিল, কিন্তু কার্টুন-ব্যঙ্গচিত্র আর পোস্টার-মিমের মধ্য দিয়ে তার বিরুদ্ধে কথা বলা সম্ভব হয়েছিল। সারা দেশের দেয়াল জুড়ে আঁকা অসংখ্য গ্রাফিতি হয়ে উঠেছিল প্রতিবাদের ভাষা।

তাই আমাদের মনে রাখতে হবে, অন্যায়ের প্রতিবাদ শুধু লিখে বা কথা বলে নয় ছবি এঁকে, গান গেয়ে, এমনকি নৃত্য করেও করা যায়। এদেশের মানুষ যুগে যুগে নানা আন্দোলন-সংগ্রামে এমন প্রতিবাদ করেছেন। এইসব কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টার তাই আমাদের ইতিহাসের সম্পদ। এগুলো আন্দোলনের স্মৃতি ধরে রাখবে, নতুন দিনের নতুন প্রয়োজনে আমাদের নতুনভাবে জাগিয়ে তুলবে।

Related Question

View All
  • শেখ তোফাজ্জল হোসেন
  • নিতুন কুণ্ডু
  • পটুয়া কামরুল হাসান
  • মুশতাক আহমেদ
151
Updated: 6 months ago
  • গ্রাফিতি
  • ব্যঙ্গচিত্র
  • পোস্টার
  • মিম
219
Updated: 6 months ago
  • পোস্টার
  • গ্রাফিতি
  • কার্টুন
  • ব্যঙ্গচিত্র
202
Updated: 1 year ago
  • গ্রাফিতি
  • ব্যঙ্গচিত্র
  • পোস্টার
  • কার্টুন
260
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews

Question Analytics

মোট উত্তরদাতা

জন

সঠিক
ভুল
উত্তর নেই