নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ো এবং প্রশ্নের উত্তর দাও:

জনাব ইমতিয়াজ স্যার ক্লাসে বলেন, ঢাকার বাইরে এই নারীই সর্বপ্রথম ভাষা আন্দোলনে যোগ দেন। তিনি আরো বলেন, এই নারী প্রায় ৩০০ ছাত্রী নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় হাজির হন। অবশেষে ভাষা আন্দোলনের জন্য তিনি সংসারও হারিয়েছেন।

উক্ত নারী ভাষাসৈনিকের অন্যতম অবদান হচ্ছে- 

i. বাঙালি সংস্কৃতির সংরক্ষণ 

ii. বাঙালি ঐতিহ্যের রক্ষণ 

iii. বাংলা ভাষার মর্যাদা বৃদ্ধিকরণ 

নিচের কোনটি সঠিক?

Updated: 1 year ago
  • ক
    i ও ii
  • খ
    i ও iii
  • গ
    ii ও iii
  • ঘ
    i, ii ও iii
520
ব্যাখ্যাঃ

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালি জাতির আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠার এক অবিস্মরণীয় সংগ্রাম। এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দান এবং এর সম্মান ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা। অনুচ্ছেদে বর্ণিত নারী ভাষাসৈনিকের ভূমিকা থেকে বোঝা যায়, তিনি ভাষা আন্দোলনের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ছিলেন। তাঁর অবদানগুলো নিম্নরূপ:

        
  • iii. বাংলা ভাষার মর্যাদা বৃদ্ধিকরণ: ভাষা আন্দোলনের প্রধান উদ্দেশ্যই ছিল বাংলা ভাষার যথাযথ মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা। ভাষা সৈনিকদের আত্মত্যাগ ও আন্দোলনের ফলেই বাংলা ভাষা রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা লাভ করে, যা ভাষার মর্যাদা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এক অনন্য অবদান। উক্ত নারী ভাষাসৈনিকের সক্রিয় অংশগ্রহণ এই লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক ছিল।
  •     
  • i. বাঙালি সংস্কৃতির সংরক্ষণ: ভাষা শুধুমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি একটি জাতির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে বাঙালি সংস্কৃতিকে দমন করতে চেয়েছিল। বাংলা ভাষার পক্ষে আন্দোলন করার মধ্য দিয়ে বাঙালিরা তাদের নিজস্ব সংস্কৃতিকে রক্ষার সংগ্রাম করেছিল। তাই, ভাষা সৈনিকরা পরোক্ষভাবে বাঙালি সংস্কৃতি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
  •     
  • ii. বাঙালি ঐতিহ্যের রক্ষণ: বাঙালি জাতিসত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো এর ভাষা ও ঐতিহ্য। ভাষা আন্দোলন ছিল সেই ঐতিহ্যকে রক্ষা করার একটি প্রয়াস। বাংলা ভাষার স্বীকৃতির মাধ্যমে বাঙালিরা তাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য ও স্বতন্ত্র পরিচয়কে টিকিয়ে রাখতে পেরেছিল। উল্লিখিত নারী ভাষাসৈনিকের অংশগ্রহণ তাই বাঙালি ঐতিহ্য রক্ষণেরও অংশ ছিল।

উপরে উল্লিখিত আলোচনা থেকে দেখা যায় যে, উক্ত নারী ভাষাসৈনিকের অবদান বাংলা ভাষার মর্যাদা বৃদ্ধি, বাঙালি সংস্কৃতির সংরক্ষণ এবং বাঙালি ঐতিহ্যের রক্ষণ—এই তিনটি বিষয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। কারণ, ভাষা আন্দোলন এই তিনটি লক্ষ্যকে কেন্দ্র করেই পরিচালিত হয়েছিল।

অতএব, i, ii ও iii তিনটিই সঠিক।

Satt AI
Satt AI
3 months ago

ভারতবর্ষের সর্বশেষ ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন-এর পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান এবং ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীনতা লাভ করে। তখন থেকে ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়কালকে বাংলাদেশের ইতিহাসে পাকিস্তানি আমল বলা হয়। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর বিতর্কিত দ্বি-জাতিতত্ত্বের ওপর ভিত্তি করেই পূর্ব বাংলা ও পশ্চিম পাকিস্তান নিয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়। একমাত্র ধর্ম ব্যতীত দুই অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান, ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, সভ্যতা ও আচার-অনুষ্ঠানের ছিল বিরাট ব্যবধান। অথচ পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অগণতান্ত্রিক মনোভাবের জন্য বিচ্ছিন্ন দুই অঞ্চলকে একত্রিত করে একটি রাষ্ট্র গঠন করা হয়, যার পরিণতি শুভ হয়নি। পরবর্তী ইতিহাস সে প্রমাণ বহন করে।

১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দের ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবে পাকিস্তানের যে রূপরেখা গ্রহণ করা হয়েছিল তাতে ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্ব অঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল নিয়ে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের কথা ছিল। লাহোর প্রস্তাবের উত্থাপক এ.কে. ফজলুল হক বলেছিলেন, "বাংলার শাসন ক্ষমতা কোনো মতেই কোনো কাল্পনিক ও অজানা কেন্দ্রীয় কর্তৃত্বের হাতে তুলে দিতে পারি না।" মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ কিন্তু প্রথম থেকেই অখণ্ড পাকিস্তানের চিন্তায় বিভোর ছিলেন। ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দে মুসলিম লীগের দিল্লি কনভেনশনে সুকৌশলে লাহোর প্রস্তাব সংশোধনপূর্বক Independent states-এর স্থলে state করে এককেন্দ্রিক পাকিস্তান কাঠামো গ্রহণ করা হয়। এর ব্যাখ্যায় মি. জিন্নাহ বলেন, state শব্দটি ভুলক্রমে states হয়েছে। এভাবে তৎকালীন রাজনৈতিক ঘটনা প্রবাহের দোলা চলে শেষ পর্যন্ত পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে বহুরকম পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও ১৫০০ মাইল দূরত্ব ব্যবধানে দুটি ভূখণ্ড নিয়ে একটি রাষ্ট্র 'পাকিস্তান' জন্ম লাভ করে। জন্মলগ্ন থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসক চক্র পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ শুরু করে। আর তারই প্রথম নজির লক্ষ করা যায় বাঙালির মাতৃভাষা কেড়ে নেওয়ার হীন প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে। কিন্তু তাদের সে প্রচেষ্টা সফল হতে দেয়নি বাংলার দামাল ছেলেরা।

পাকিস্তানি আমলে বাংলা ভাষা আন্দোলন ও এর গতি-প্রকৃতি -ড. মোঃ ওয়াহেদুল ইসলাম স্যার এর লেখা বই

Related Question

View All
  • ক
    হালিমা খাতুনের
  • খ
    হামিদা খাতুনের
  • গ
    সুফিয়া আহমেদের
  • ঘ
    মমতাজ বেগমের
836
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews

Question Analytics

মোট উত্তরদাতা

জন

সঠিক
ভুল
উত্তর নেই