নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও:

এলাকার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রক্ষার দায়িত্ব নবনির্বাচিত কমিশনার কাইউম সাহেবের ওপর ন্যস্ত করে সবাই যখন নিশ্চিত তখন কাইউম সাহেব এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে বললেন, 'আপনাদেরও এ ক্ষেত্রে সজাগ থাকতে হবে।'

উদ্দীপকের কাইউম সাহেবের সাথে মিল আছে 'আমার পথ' প্রবন্ধের-

Updated: 1 year ago
  • লেখকের
  • সারথীর
  • মহাত্মা গান্ধীর
  • পথ-প্রদর্শকের
879
ব্যাখ্যাঃ

কাজী নজরুল ইসলামের 'আমার পথ' প্রবন্ধে লেখক আত্মনির্ভরশীলতা, আত্মোপলব্ধি এবং নিজস্ব সত্যের ওপর দাঁড়ানোর কথা বলেছেন। তিনি মনে করেন, কোনো বাইরের নেতা বা পথ-প্রদর্শক নয়, বরং নিজের ভেতরের সত্যই মানুষকে সঠিক পথ দেখায়। প্রবন্ধের মূল কথা হলো, মিথ্যাকে পরিহার করে সত্যের পথ অনুসরণ করা এবং অপরের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজের বিচার-বুদ্ধি ও বিবেক দ্বারা চালিত হওয়া।

উদ্দীপকে নবনির্বাচিত কমিশনার কাইউম সাহেব এলাকার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব পাওয়ার পরও এলাকাবাসীর উদ্দেশে বলেছেন যে, 'আপনাদেরও এ ক্ষেত্রে সজাগ থাকতে হবে।' এই উক্তির মাধ্যমে তিনি এলাকাবাসীকে শুধু তাঁর (নেতার) ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজেদেরও দায়িত্বশীল ও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এটি কাজী নজরুল ইসলামের 'আমার পথ' প্রবন্ধের মূল সুরের সাথে মিলে যায়, যেখানে লেখক (নজরুল) নিজে কোনো পথ-প্রদর্শক বা নেতার অনুসারী না হয়ে নিজস্ব সত্যকে আঁকড়ে ধরার কথা বলেছেন এবং অন্যদেরও আত্মসচেতন হওয়ার বার্তা দিয়েছেন। অর্থাৎ, কাইউম সাহেবের এই মনোভাব 'আমার পথ' প্রবন্ধের লেখকের (কাজী নজরুল ইসলাম) দর্শনের প্রতিফলন ঘটায়, যেখানে আত্মসচেতনতা এবং স্বাবলম্বীতার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে, এবং অন্যের ওপর নির্ভরশীলতাকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

অন্যান্য অপশন ভুল হওয়ার কারণ:

        
  • সারথীর: সারথী পথনির্দেশনা দেয়। 'আমার পথ' প্রবন্ধের লেখক সারথীর মতো বাইরের কোনো নির্দেশনা বা পথ-প্রদর্শককে অনুসরণ করার পরিবর্তে নিজের ভেতরের সত্যকে অনুসরণ করতে বলেছেন। কাইউম সাহেবের উক্তিও অন্যের ওপর নির্ভর না হয়ে নিজেদের সজাগ থাকার কথা বলে, যা সারথীর ভূমিকার বিপরীত।
  •     
  • মহাত্মা গান্ধীর: মহাত্মা গান্ধী স্বাবলম্বীতা ও সত্যের কথা বললেও, 'আমার পথ' প্রবন্ধে কাজী নজরুল ইসলাম যে বিপ্লবী ও আত্মনির্ভরশীলতার বাণী দিয়েছেন, তা সরাসরি লেখকের নিজস্ব কণ্ঠস্বর ও দর্শনের সঙ্গে সম্পর্কিত, যা উদ্দীপকের সঙ্গে সরাসরি মিলে যায়। এখানে প্রবন্ধের ভেতরের চরিত্রের সাথে তুলনা করা হচ্ছে, বহিরাগত কোনো চরিত্রের সাথে নয়।
  •     
  • পথ-প্রদর্শকের: 'আমার পথ' প্রবন্ধে লেখক স্পষ্টতই বলেছেন যে, তিনি কোনো পথ-প্রদর্শক নন এবং তাঁর পথ দেখাবে তাঁরই সত্য। অর্থাৎ, তিনি পথ-প্রদর্শকের ওপর নির্ভরশীলতার ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। কাইউম সাহেবের উক্তিও এলাকাবাসীকে শুধুমাত্র তাঁর (নেতার বা পথ-প্রদর্শকের) ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজেদের সচেতন থাকার কথা বলে, যা পথ-প্রদর্শকের ভূমিকার সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক।
Satt AI
Satt AI
2 months ago


প্রবন্ধটি কাজী নজরুল ইসলামের সুবিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ 'রুদ্র-মঙ্গল' থেকে সংকলিত হয়েছে। “আমার পথ” প্রবন্ধে নজরুল এমন এক ‘আমি’র আবাহন প্রত্যাশা করেছেন যার পথ সত্যের পথ; সত্য প্রকাশে তিনি নিৰ্ভীক অসংকোচ । তাঁর এই ‘আমি’-ভাবনা বিন্দুতে সিন্ধুর উচ্ছ্বাস জাগায়। নজরুল প্রতিটি মানুষকে পূর্ণ এক ‘আমি’র সীমায় ব্যাপ্ত করতে চেয়েছেন; একইসঙ্গে, এক মানুষকে আরেক মানুষের সঙ্গে মিলিয়ে ‘আমরা’ হয়ে উঠতে চেয়েছেন। স্বনির্ধারিত এই জীবন-সংকল্পকে তিনি তাঁর মতো আরও যারা সত্যপথের পথিক হতে আগ্রহী তাদের উদ্দেশে ছড়িয়ে দিতে চান। এই সত্যের উপলব্ধি কবির প্রাণপ্রাচুর্যের উৎসবিন্দু। তিনি তাই অনায়াসে বলতে পারেন, ‘আমার কর্ণধার আমি। আমার পথ দেখাবে আমার সত্য।' রুদ্র-তেজে মিথ্যার ভয়কে জয় করে সত্যের আলোয় নিজেকে চিনে নিতে সাহায্য করে নজরুলের এই 'আমি' সত্তা। তাঁর পথনির্দেশক সত্য অবিনয়কে মেনে নিতে পারে কিন্তু অন্যায়কে সহ্য করে না। সমাজ ও সমকাল পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়ে প্রাবন্ধিক দেখেছেন যে, সুস্পষ্টভাবে নিজের বিশ্বাস আর সত্যকে প্রকাশ করতে না জানলে তৈরি হয় পরনির্ভরতা, আহত হয় আমাদের ব্যক্তিত্ব। নজরুলের কাছে এই ভগ্ন আত্মবিশ্বাসের গ্লানি গ্রহণযোগ্য নয়। এর পরিবর্তে তিনি প্রয়োজনে দাম্ভিক হতে চান; কেননা তাঁর বিশ্বাস – সত্যের দম্ভ যাদের মধ্যে রয়েছে তাদের পক্ষেই কেবল অসাধ্য সাধন করা সম্ভব।
নজরুল এই প্রবন্ধে দেখিয়েছেন যে, তিনি ভুল করতে রাজি আছেন কিন্তু ভণ্ডামি করতে প্রস্তুত নন । ভুল জেনেও তাকে ঠিক বলে চালিয়ে দেবার কপটতা কিংবা জেদ তাঁর দৃষ্টিতে ভণ্ডামি। এই ভুল ব্যক্তির হতে পারে, সমাজের হতে পারে কিংবা হতে পারে কোনো প্রকার বিশ্বাসের। তবে তা যারই হোক আর যেমনই হোক এর থেকে বেরিয়ে আসাই নজরুলের একান্ত প্রত্যাশা । তিনি জানেন, এই বেরিয়ে আসা সম্ভব হলেই মানুষের সঙ্গে মানুষের প্রাণের সম্মিলন ঘটানো সম্ভব হবে। মনুষ্যত্ববোধে জাগ্রত হতে পারলেই ধর্মের সত্য উন্মোচিত হবে, এক ধর্মের সঙ্গে অপর ধর্মের বিরোধ মিটে যাবে। সম্ভব হবে গোটা মানব সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করা; আর এই ঐক্যের মূল শক্তি হলো সম্প্রীতি। এই সম্প্রীতির বন্ধন শক্তিশালী হলে মানুষের মধ্যে সহনশীলতা বাড়ে। ভিন্ন ধর্ম-মত-পথের মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগে । আর এই সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে উৎকৃষ্ট মানব সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

Related Question

View All
  • তিনি আত্মসত্য আবিষ্কার করতে পারেননি
  • তিনি আত্মনির্ভরতা অর্জন করতে পারেননি
  • তিনি আত্মসচেতনতা লাভ করতে পারেননি
  • তিনি আত্মোপলব্ধি করতে পারেননি
28
  • স্বাবলম্বন
  • সত্যের উপলব্ধি
  • আগুনের সম্মার্জনা
  • সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি
24
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র

Related Question

মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews

Question Analytics

মোট উত্তরদাতা

জন

সঠিক
ভুল
উত্তর নেই