“এতক্ষণে- অরিন্দম কহিলা বিষাদে”, আলোচ্য কবিতাংশে কোন জাতীয় অনুভব প্রাধান্য পেয়েছে?

Updated: 6 months ago
  • সাহস ও উদ্যম
  • ভয় ও হিংসা
  • আনন্দ ও হতাশা
  • বিপন্ন ও বিস্ময়
831
ব্যাখ্যাঃ

আলোচ্য কবিতাংশটি মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'মেঘনাদ বধ কাব্য' থেকে নেওয়া হয়েছে। এখানে 'বিষাদে' শব্দটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 'বিষাদ' অর্থ গভীর দুঃখ, শোক, হতাশা বা অবসাদ। যখন কোনো চরিত্র 'বিষাদে' কথা বলে, তখন সে একটি গভীর প্রতিকূল বা হতাশাজনক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়।

প্রদত্ত বিকল্পগুলো বিশ্লেষণ করা যাক:

        
  • ১. সাহস ও উদ্যম: 'বিষাদ' শব্দটির সাথে 'সাহস' বা 'উদ্যম' সম্পূর্ণ বিপরীতার্থক। তাই এটি সঠিক নয়।
  •     
  • ২. ভয় ও হিংসা: 'বিষাদ' থেকে ভয় আসতে পারে, কিন্তু 'হিংসা' সরাসরি এর অনুভব নয়। বরং এটি হতাশা বা দুঃখের গভীরতম প্রকাশ।
  •     
  • ৩. আনন্দ ও হতাশা: 'আনন্দ' এবং 'বিষাদ' পরস্পর বিরোধী অনুভব। একটি বাক্যে একই সাথে 'আনন্দ' ও 'বিষাদ' প্রকাশ পাওয়া সম্ভব নয়। যদিও 'হতাশা' বিষাদের কাছাকাছি, কিন্তু 'আনন্দ' থাকার কারণে এই বিকল্পটি সঠিক নয়।
  •     
  • ৪. বিপন্ন ও বিস্ময়: 'বিপন্ন' অর্থ বিপদগ্রস্ত, দুর্দশাগ্রস্ত বা হতাশাগ্রস্ত। যখন কেউ গভীর বিষাদে মগ্ন থাকে, তখন সে নিজেকে বিপন্ন ও প্রতিকূল অবস্থায় অনুভব করে। 'এতক্ষণে' শব্দটি একটি উপলব্ধির মুহূর্তকে নির্দেশ করে, যেখানে অপ্রত্যাশিত বা খারাপ কিছুর উপলব্ধি ঘটলে বিস্ময় বা হতবাক হওয়া স্বাভাবিক। এই বিস্ময় দুঃখের কারণ হতে পারে বা দুঃখের গভীরতাকে বাড়িয়ে তুলতে পারে। তাই, 'বিপন্ন' এবং 'বিস্ময়' উভয় অনুভবই 'বিষাদ'-এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। চরিত্রটি তার বিপন্ন অবস্থা উপলব্ধি করে বিস্ময় ও গভীর দুঃখের সাথে কথা বলছে।

সুতরাং, 'বিষাদ' অনুভবের সাথে 'বিপন্ন' (distressed) এবং 'বিস্ময়' (surprise/astonishment) এই দুটি অনুভূতির প্রাধান্য পরিলক্ষিত হয়, যা পরিস্থিতির গভীরতা ও অপ্রত্যাশিত মোড়কে নির্দেশ করে।

Satt AI
Satt AI
1 month ago


“এতক্ষণে”- অরিন্দম কহিলা বিষাদে-
“জানিনু কেমনে আসি লক্ষ্মণ পশিল
 রক্ষঃপুরে! হায়, তাত, উচিত কি তব
 এ কাজ, নিকষা সতী তোমার জননী,
 সহোদর রক্ষঃশ্রেষ্ঠ? শূলিশম্ভুনিভ
 কুম্ভকর্ণ? ভ্রাতৃপুত্র বাসববিজয়ী! 
নিজগৃহপথ, তাত, দেখাও তস্করে?
 চণ্ডালে বসাও আনি রাজার আলয়ে?
 কিন্তু নাহি গঞ্জি তোমা, গুরু জন তুমি
 পিতৃতুল্য। ছাড় দ্বার, যাব অস্ত্রাগারে,
পাঠাইব রামানুজে শমন-ভবনে,
লঙ্কার কলঙ্ক আজি ভঞ্জিব আহবে।”
উত্তরিলা বিভীষণ, “বৃথা এ সাধনা,
ধীমান্! রাঘবদাস আমি; কী প্রকারে
 তাঁহার বিপক্ষ কাজ করিব, রক্ষিতে 
অনুরোধ?” উত্তরিলা কাতরে রাবণি;-
“হে পিতৃব্য, তব বাক্যে ইচ্ছি মরিবারে!
 রাঘবের দাস তুমি? কেমনে ও মুখে
 আনিলে এ কথা, তাত, কহ তা দাসেরে ! 
স্থাপিলা বিধুরে বিধি স্থাণুর ললাটে;
 পড়ি কি ভূতলে শশী যান গড়াগড়ি
 ধূলায়? হে রক্ষোরথি, ভুলিলে কেমনে
 কে তুমি? জনম তব কোন মহাকুলে?
 কে বা সে অধম রাম? স্বচ্ছ সরোবরে 
করে কেলি রাজহংস পঙ্কজ-কাননে; 
যায় কি সে কভু, প্ৰভু, পঙ্কিল সলিলে,
 শৈবালদলের ধাম? মৃগেন্দ্র কেশরী,
 কবে, হে বীরকেশরী, সম্ভাষে শৃগালে 
মিত্রভাবে? অজ্ঞ দাস, বিজ্ঞতম তুমি,
 অবিদিত নহে কিছু তোমার চরণে ।
 ক্ষুদ্রমতি নর, শূর, লক্ষ্মণ; নহিলে 
অস্ত্রহীন যোধে কি সে সম্বোধে সংগ্রামে? 
কহ, মহারথী, এ কি মহারথীপ্রথা ?
 নাহি শিশু লঙ্কাপুরে, শুনি না হাসিবে
 এ কথা! ছাড়হ পথ; আসিব ফিরিয়া
 এখনি! দেখিব আজি, কোন্ দেববলে,
 বিমুখে সমরে মোরে সৌমিত্রি কুমতি! 
দেব-দৈত্য-নর-রণে, স্বচক্ষে দেখেছ, 
রক্ষঃশ্রেষ্ঠ, পরাক্রম দাসের! কী দেখি 
ডরিবে এ দাস হেন দুর্বল মানবে?
নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে প্রগভে পশিল 
দম্ভী; আজ্ঞা কর দাসে, শাস্তি নরাধমে । 
তব জন্মপুরে, তাত, পদার্পণ করে
বনবাসী! হে বিধাতঃ, নন্দন-কাননে
 ভ্রমে দুরাচার দৈত্য? প্ৰফুল্ল কমলে
 কীটবাস? কহ তাত, সহিব কেমনে 
হেন অপমান আমি,— ভ্রাতৃ-পুত্র তব?
 তুমিও, হে রক্ষোমণি, সহিছ কেমনে?”
 মহামন্ত্র-বলে যথা নম্রশিরঃ ফণী, 
মলিনবদন লাজে, উত্তরিলা রথী
রাবণ-অনুজ, লক্ষি রাবণ-আত্মজে;
“নহি দোষী আমি, বৎস; বৃথা ভর্ৎস মোরে 
তুমি! নিজ কর্ম-দোষে, হায়, মজাইলা 
এ কনক-লঙ্কা রাজা, মজিলা আপনি! 
বিরত সতত পাপে দেবকুল; এবে 
পাপপূর্ণ লঙ্কাপুরী; প্রলয়ে যেমতি 
বসুধা, ডুবিছে লঙ্কা এ কালসলিলে !
 রাঘবের পদাশ্রয়ে রক্ষার্থে আশ্রয়ী 
তেঁই আমি । পরদোষে কে চাহে মজিতে?”
 রুষিলা বাসবত্রাস। গম্ভীরে যেমতি 
নিশীথে অম্বরে মন্দ্রে জীমূতেন্দ্ৰ কোপি, 
কহিলা বীরেন্দ্র বলী,—“ধর্মপথগামী, 
হে রাক্ষসরাজানুজ, বিখ্যাত জগতে 
তুমি; – কোন্ ধর্ম মতে, কহ দাসে, শুনি,
 জ্ঞাতিত্ব, ভ্রাতৃত্ব, জাতি,—এ সকলে দিলা 
জলাঞ্জলি? শাস্ত্রে বলে, গুণবান্ যদি 
পরজন, গুণহীন স্বজন, তথাপি 
নির্গুণ স্বজন শ্রেয়ঃ, পরঃ পরঃ সদা! 
এ শিক্ষা, হে রক্ষোবর, কোথায় শিখিলে? 
কিন্তু বৃথা গঞ্জি তোমা! হেন সহবাসে,
 হে পিতৃব্য, বর্বরতা কেন না শিখিবে ? 
গতি যার নীচ সহ, নীচ সে দুর্মতি।” 
[নির্বাচিত অংশ]


 

Related Question

View All
  • বীর, বেগ

  • পিতৃব্য, নীচ

  • দেব, নীচ

  • রাক্ষসরাজ, তীব্র

75
  • মেঘনাদ
  • বিভীষণ
  • রাবণ
  • লক্ষ্মণ
100
Updated: 4 days ago
  • রক্ষঃপুর
  • নন্দন কানন
  • লঙ্কাপুরী
  • নিকুম্ভিলা
92
Updated: 6 months ago
  • বিভীষণ
  • লক্ষ্মণ
  • রাম
  • ইন্দ্র
168
  • রাবণের পুত্র মেঘনাদকে
  • রাবণের অনুজ বিভীষণকে
  • রাবণের মধ্যম সহোদর কুম্ভকর্ণকে
  • উপরের সবগুলোই অশুদ্ধ
110
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews

Question Analytics

মোট উত্তরদাতা

জন

সঠিক
ভুল
উত্তর নেই