কর্মীদের দিক বিবেচনায় নেতার কাজ কোনটি?

Updated: 1 year ago
  • ক
    কর্মী নির্বাচন
  • খ
    প্রেষণাদান
  • গ
    নির্দেশ প্রদান
  • ঘ
    কার্যকর নিয়ন্ত্রণ
702

Functions of Leader

নেতার কাজ হলো তার সদস্যদের লক্ষ্যের দিকে পরিচালিত করা। এজন্য নেতাকে প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি অধীনস্থদের স্বার্থও রক্ষা করতে হয়। তাই তাকে নিচের কার্যাবলি সম্পাদন করতে হয়-

ক. মুখ্য কার্যাবলি (Basic Functions)

নেতা প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব হিসেবে নিচের মৌলিক কাজগুলো করেন-

  • নীতিনির্ধারণ ও পরিকল্পনা প্রণয়ন (Formulating policy and plan): সাংগঠনিক কাজ সঠিকভাবে সম্পাদন
    করার জন্য নেতাকে আগে থেকেই নীতিমালা তৈরি ও পরিকল্পনা করতে হয়। কে, কখন, কোন কাজ কীভাবে সম্পাদন করবেন, তা শুরু থেকেই নির্ধারণ করতে হয়। তাই, সময়মতো সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সেগুলো বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া নেতার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। এতে ভুল হলে সব কাজেই ভুল থেকে যাবে।
  • সাংগঠনিক কাঠামো নির্ধারণ (Determining organizational structure): প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কাজ সঠিক ও সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য নেতাকে যথাযথ সংগঠন কাঠামো নির্ধারণ করতে হয়। তাই তাকে সাংগঠনিক লক্ষ্য, অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যাবলি শনাক্ত করতে হয়। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত কর্মীদের দায়িত্ব-কর্তব্য সংজ্ঞায়িতকরণ ও বণ্টন, কর্মীদের কাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ প্রভৃতি কাজ করতে হয়।
  • উপযুক্ত কর্মী নির্বাচন (Selecting proper employees): প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জনে যোগ্য কর্মী আবশ্যক। এই কর্মী খুঁজে বের করার দায়িত্ব নেতাকেই পালন করতে হয়। এজন্য নেতা বিভিন্ন উৎস থেকে কর্মী সংগ্রহ করে তাদের মধ্য থেকে যোগ্য কর্মী নির্বাচন করে মানোন্নয়নের ব্যবস্থা করে থাকেন।
  • নির্দেশনা দান (Directing): নেতার কাজ হলো অধীনস্থ কর্মীদের কর্মপ্রচেষ্টাকে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনে নিয়োজিত করা। কর্মীদের কাছ থেকে কাজ আদায় করে নেওয়ার জন্য তাদের প্রয়োজনীয় আদেশ-নির্দেশ, পরামর্শ দিতে হয়। নেতার কাছ থেকে নির্দেশনা পেয়েই কর্মীরা কাজে নিয়োজিত হন। তাই, কর্মী বা অনুসারীদের নির্দেশনাদান নেতার একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
  • যোগাযোগ রক্ষা (Maintaining communication): সফল নেতৃত্বের লক্ষ্যে নেতাকে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক বিভিন্ন পক্ষের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করতে হয়। একজন নেতাকে বিভিন্ন ব্যক্তি ও বিভাগের সাথে সব সময় যোগাযোগ রক্ষার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ, আদেশ-নির্দেশ প্রদান, কাজের মধ্যে সমন্বয়সাধন প্রভৃতি কাজ করতে হয়। তাই, সংশ্লিষ্ট পক্ষের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা নেতার অন্যতম কাজ।
  • তত্ত্বাবধান (Supervision): প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপক বা নেতার অধীনে নির্দিষ্ট সংখ্যক কর্মী কাজ করে। নির্দেশনা অনুযায়ী তারা কাজ করছে কি না, সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় তদারকি ও তত্ত্বাবধান করতে হয়। যথাযথ তদারকির মাধ্যমে তাদের কাজের ভুল-ত্রুটি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
  • সমন্বয়সাধন (Coordination): সাংগঠনিক উদ্দেশ্য অর্জনের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত বিভিন্ন ব্যক্তি ও বিভাগের কাজের মধ্যে সমন্বয়সাধনের দায়িত্ব নেতাকেই পালন করতে হয়। নেতা সব কাজের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যান। এভাবে নেতা সুষ্ঠু সমন্বয় নিশ্চিত করেন।
  • পুরস্কার ও শাস্তির ব্যবস্থা (Arrangement of reward and punishment): নেতা তার কর্তৃত্বের বলে অধস্তন কর্মীদের সাফল্য বা ভালো কাজের পুরস্কার দেন। আবার ব্যর্থতা বা মন্দ কাজের জন্য তিরস্কার বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে থাকেন। মূলত পুরস্কার দেওয়া ও শাস্তিদান নেতার ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ, যা তিনি কাজ আদায়ে প্রয়োগ করেন।
  • মধ্যস্থতাকরণ (Mediation): নেতা তার অনুসারী এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধ মীমাংসায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে থাকেন। তার হস্তক্ষেপের মাধ্যমে অনেক জটিল সমস্যারও সহজ সমাধান হয়ে থাকে বা ভুল-বোঝাবুঝি দূর হয়। তাই, প্রয়োজনে মধ্যস্থতা করাও নেতার একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
  • নিয়ন্ত্রণ (Controlling): গৃহীত পরিকল্পনা অনুযায়ী যাবতীয় কাজ সম্পাদিত হচ্ছে কি না, তা দেখাও নেতার দায়িত্ব। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ না হলে তার কারণ খুঁজে বের করে প্রয়োজনীয় সংশোধনীমূলক ব্যবস্থা নেওয়া অর্থাৎ নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগও নেতাকেই নিতে হয়।

খ. আনুষঙ্গিক কার্যাবলি (Assistancy Functions)
উল্লিখিত কার্যাবলি ছাড়াও নেতাকে প্রাসঙ্গিক আরও অনেক কাজ সম্পাদন করতে হয়। এসব আনুষঙ্গিক কার্যাবলি নেতার নেতৃত্বকে সফলতা দেয়। এগুলো হলো-

  • দলীয় প্রচেষ্টা জোরদারকরণ (Maximizing group effort): দলীয় প্রচেষ্টা বাড়ানোর মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠান তার
    লক্ষ্যের দিকে দ্রুত এগিয়ে যেতে পারে। এজন্য কর্মীদের মধ্যে আন্তঃব্যক্তিক সম্পর্ক তথা পারস্পরিক সম্পর্ক বাড়ানোর দরকার হয়। এতে দলগত প্রচেষ্টা উন্নয়নের মাধ্যমে নেতা প্রাতিষ্ঠানিক কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করে থাকেন।
  • উৎসাহ সৃষ্টি (Creating inspiration): প্রত্যেকের মধ্যে কাজ করার ক্ষমতা বা যোগ্যতা আছে। এ সুপ্ত ক্ষমতাকে জাগিয়ে তোলার জন্য নেতাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হয়। এজন্য বিভিন্ন প্রণোদনা, উদ্দীপনা বা সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে নেতাকে তার কর্মীদের কাজের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে হয়।
  • নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ (Ensuring security): নেতাকে তার কর্মীদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা বিধান করতে হয়। যথাযথ কাজের পরিবেশ, চাকরির নিরাপত্তা, ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা, দুর্ঘটনা থেকে জীবনের নিরাপত্তা, সামাজিক নিরাপত্তা প্রভৃতির মাধ্যমে নেতা কর্মীদের নিরাপত্তা বিধানের চেষ্টা করে থাকেন।
  • কার্য পরিবেশ সৃষ্টি (Creating work environment): কর্মীদের জন্য সুষ্ঠু ও অনুকূল কাজের পরিবেশ সৃষ্টি
    করাও নেতার আনুষঙ্গিক কাজের মধ্যে অন্যতম। এটি ছাড়া অনুসারীদের ওপর কার্যকর নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা ও লক্ষ্যের দিকে আগানো সম্ভব হয় না। তাই, যেকোনো উপায়েই হোক নেতাকে উপযুক্ত কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
  • অবহিতকরণ (Informing): প্রতিষ্ঠান এবং অনুসারীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে নেতার অনুসারীদেরকে নিয়মিত অবহিত করতে হয়। প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিধি-নিষেধ অনুসারীদের জানিয়ে দেওয়া নেতার একটি নৈতিক ও সাংগঠনিক দায়িত্ব বলে বিবেচিত।
  • অনুসারীদের সম্পর্কে ধারণা (Knowledge about followers): একজন আদর্শ নেতার অপরিহার্য দায়িত্ব হলো অনুসারীদের সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা রাখা। অধীনস্থদের চাওয়া-পাওয়া, সুখ-দুঃখ সম্পর্কে নেতা অবগত থাকলে তাদেরকে উৎসাহ-উদ্দীপনা দিয়ে পরিচালনা করা তার জন্য সহজ হয়।
  • আস্থা অর্জন (Creating trust): নেতাকে অবশ্যই কর্মীদের মধ্যে নিজের সম্পর্কে আস্থা সৃষ্টি করতে হবে। কর্মীরা নেতার প্রতি আস্থাশীল হলে নেতার যেকোনো নির্দেশনাই তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালন করবেন। এজন্য নেতাকে তার আচার-আচরণ, কথাবার্তা ও কাজকর্ম দ্বারা আস্থা অর্জনের চেষ্টা করতে হবে।
  • বিরোধ নিষ্পত্তিকরণ (Settlement of dispute): প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মধ্যে অনেক কারণেই বিরোধপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হতে পারে। এরূপ বিরোধ নিষ্পত্তির দায়িত্বও নেতাকে পালন করতে হয়। এর ফলে অনুকূল কাজের পরিবেশ তৈরি হয়। উপসংহারে বলা যায়, নেতা হলেন একটি সংগঠনের মূল সঞ্চালক। তার কার্যকর নেতৃত্বের ওপরই প্রতিষ্ঠানের সাফল্য নির্ভর করে। এজন্য নেতাকে উল্লিখিত কাজগুলো সম্পাদন করতে হয়।

 

 নেতৃত্ব - মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান স্যার এর লেখা বই

Related Question

View All
  • ক
    জনবল
  • খ
    সাংগঠনিক কাঠামো
  • গ
    কর্মসূচী
  • ঘ
    অর্থ
111
Updated: 1 year ago
  • ক
    যোগাযোগ দক্ষতা
    0%
    0 votes
  • খ
    আস্থা তৈরি
    100%
    1 votes
  • গ
    দলগত প্রচেষ্টা উন্নয়ন
    0%
    0 votes
  • ঘ
    সমস্যা অনুধাবন করা
    0%
    0 votes
35
  • ক
    নির্দেশ দান
  • খ
    নিয়ন্ত্রণ
  • গ
    দলগত প্রচেষ্টার উন্নয়ণ
  • ঘ
    কোম্পানির কার্যকর তত্ত্বাবধান ও সমন্বয়সাধন
811
  • ক
    কর্মীদের মনোবল উন্নয়ন
  • খ
    দলগত প্রচেষ্টার উন্নয়ন
  • গ
    উপযুক্ত সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি
  • ঘ
    আস্থা সৃষ্টি
740
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews

Question Analytics

মোট উত্তরদাতা

জন

সঠিক
ভুল
উত্তর নেই